দেশের সকল ধর্মের নাগরিকদের জন্য সমান সুযোগ-সুবিধা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একটি জাতীয় কমিটি গঠনের ওপর জোর দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি। সাম্প্রতিক এক অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপ্রধান এই অভিমত ব্যক্ত করেন। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, রাষ্ট্র এবং এর প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার সুরক্ষায় সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে, যা যেকোনো মূল্যে সমুন্নত রাখা জরুরি।
রাষ্ট্রপতি তাঁর বক্তব্যে বলেন, এই রাষ্ট্রের প্রতিটি মানুষ সমান অধিকার পাওয়ার যোগ্য। জাতি, ধর্ম বা বর্ণ নির্বিশেষে প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা এবং ন্যায়বিচার পাওয়াটা তাদের ন্যায্য অধিকার। রাষ্ট্রের মূল ভিত্তিই হলো সমতা। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, সংবিধান প্রত্যেক নাগরিককে সমান মর্যাদা এবং নিজ নিজ ধর্মীয় রীতি পালনের পূর্ণ স্বাধীনতা প্রদান করেছে। এই অধিকারের সুরক্ষা দেওয়া রাষ্ট্রের দায়িত্ব এবং এর বাস্তবায়নে কোনো ধরনের শৈথিল্য প্রদর্শনের সুযোগ নেই।
তিনি আরও বলেন, আমাদের মূলমন্ত্র হওয়া উচিত ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার। এই দর্শনের ওপর ভিত্তি করেই জাতীয় সংহতি ও ঐক্য গড়ে তোলা সম্ভব। যখন রাষ্ট্রের প্রতিটি মানুষ অনুভব করবে যে তিনি সমান সুযোগ পাচ্ছেন এবং তার নিরাপত্তা নিশ্চিত আছে, তখনই দেশের প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব হবে। এই দর্শনকে কার্যকরভাবে রূপ দিতে একটি বিশেষায়িত জাতীয় কমিটি গঠনের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন তিনি।
রাষ্ট্রপতির মতে, মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানসহ এদেশে বসবাসরত প্রতিটি ধর্মাবলম্বী মানুষই এই রাষ্ট্রের অবিচ্ছেদ্য অংশ। নাগরিক হিসেবে প্রত্যেকের অবস্থান সমান। তিনি মনে করেন, একটি সঠিক কাঠামো বা কমিটির মাধ্যমে এই সমতার বিষয়টি তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত নিশ্চিত করা সম্ভব। এর ফলে ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় থাকবে এবং সমাজে বৈষম্য দূর হবে।
সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে এমন আহ্বান দেশে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও নাগরিকদের অধিকার রক্ষায় একটি ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দেবে। অতীতেও বিভিন্ন সময়ে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়েছে এবং রাষ্ট্রপতির এই সাম্প্রতিক বক্তব্য সেই ধারাবাহিকতারই অংশ। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই প্রস্তাব গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করবে এবং অচিরেই এর প্রতিফলন দেখা যাবে।
এই কমিটির রূপরেখা ও কার্যপরিধি কেমন হবে এবং কারা এর সদস্য হবেন, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা প্রয়োজন বলে মনে করছেন নীতি-নির্ধারক মহল। তবে মূল লক্ষ্য থাকবে ধর্মীয় ও জাতিগত পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে মানবিক অধিকার ও সাংবিধানিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা। রাষ্ট্রপতির এই আহ্বানকে সাধুবাদ জানিয়েছেন বিভিন্ন ধর্মের প্রতিনিধি এবং নাগরিক সমাজের সদস্যরা। তারা মনে করছেন, এটি দেশের সামগ্রিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য একটি সময়োপযোগী পদক্ষেপ।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬ । ৩:১৫ পূর্বাহ্ণ