উৎসবমুখর পরিবেশে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬ । ৪:১৫ অপরাহ্ণ

রাজধানীর অন্যতম উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে পালিত হচ্ছে। দুই দশক পার করে বিশ্ববিদ্যালয়টি তার সফল যাত্রার ২২ বছরে পদার্পণ করলো। এই বিশেষ দিনটিকে ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ। শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে ক্যাম্পাস পরিণত হয়েছে মিলনমেলায়।

সোমবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার চত্বরে বর্ণাঢ্য আয়োজনের সূচনা হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে পতাকোত্তোলন করা হয়। জাতীয় পতাকার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে দিবসটির আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। এরপরই বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সদস্যরা আনন্দ র‌্যালিতে অংশ নেন, যা ক্যাম্পাসের গণ্ডি পেরিয়ে পুরান ঢাকার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। র‌্যালিতে শিক্ষার্থীদের হাতে থাকা নানা প্ল্যাকার্ড ও ফেস্টুন ক্যাম্পাসটিকে এক আনন্দঘন রূপ দিয়েছে।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে চারুকলা প্রদর্শনীসহ বিভিন্ন বিভাগ ও অনুষদের উদ্যোগে আয়োজিত হয়েছে নানা কর্মসূচি। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা তাদের সৃজনশীল কাজের প্রদর্শনী তুলে ধরছেন। দিনের অন্যান্য কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এসব আয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘ পথচলার সাফল্য ও সংকট নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়েও কথা বলছেন সংশ্লিষ্টরা। দীর্ঘ সময় ধরে শিক্ষা ও গবেষণায় প্রতিষ্ঠানটি যে অবদান রেখে চলেছে, তা এই আয়োজনে বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে।

প্রতিষ্ঠার পর থেকেই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় নিজস্ব স্বকীয়তা বজায় রেখে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। সাধারণ একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর ও উত্তরণের এই দীর্ঘ যাত্রায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অর্জন আজ দেশজুড়ে প্রশংসিত। বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের পুনর্মিলন এই প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে আরও বেশি প্রাণবন্ত করে তুলেছে। ক্যাম্পাসের প্রতিটি কোণে এখন প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের স্মৃতিচারণ ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের উচ্ছ্বাস।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কেবল আনুষ্ঠানিকতার মধ্যেই নয়, বরং এই দিনটিকে জ্ঞানচর্চা ও সৃজনশীলতার প্রসারের দিন হিসেবে উদযাপন করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের মেধা ও মননের বিকাশে বিশ্ববিদ্যালয়টি যে প্রতিশ্রুতি নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল, সেই লক্ষ্য অর্জনে বরাবরের মতো এখনো অবিচল রয়েছে কর্তৃপক্ষ। দিনব্যাপী আয়োজিত এসব অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, প্রথিতযশা শিক্ষাবিদ ও বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখা প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা উপস্থিত রয়েছেন। তাদের উপস্থিতি নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করছে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রযাত্রাকে আরও বেগবান করার অনুপ্রেরণা জোগাচ্ছে।

  • সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মোঃ রাসেল মিয়া

প্রিন্ট করুন