পোশাক শিল্পের শ্রমিকদের ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে নারায়ণগঞ্জ। সোমবার দুপুরে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের শিবু মার্কেট এলাকায় শত শত শ্রমিক জড়ো হয়ে সড়ক অবরোধ করেন। এ সময় তারা নিজেদের দাবি আদায়ের লক্ষ্যে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং সড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করে দেন। শ্রমিকের এই আকস্মিক কর্মসূচিতে সড়কের দুই পাশে আটকা পড়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়, যার ফলে সাধারণ যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্র জানায়, দুপুরের দিকে শ্রমিকরা লাঠিসোঁটা হাতে দলে দলে শিবু মার্কেট এলাকায় এসে অবস্থান নিতে শুরু করেন। এরপর তারা সড়ক আটকে দিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। শ্রমিকদের পক্ষ থেকে দাবি জানানো হয়, বর্তমান দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে প্রচলিত মজুরি দিয়ে জীবন ধারণ করা প্রায় অসম্ভব। তাই জীবনযাত্রার মান বজায় রাখতে এবং ন্যায্য পাওনা নিশ্চিত করতে ন্যূনতম মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা অপরিহার্য। তারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন যে, যৌক্তিক এই দাবি মেনে নেওয়া না হলে কঠোর কর্মসূচির দিকে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে, শ্রমিকদের এই অবরোধের ফলে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকায় স্থবিরতা নেমে আসে। অফিসগামী যাত্রী, শিক্ষার্থী এবং সাধারণ মানুষ তীব্র যানজটে আটকা পড়ে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে বাধ্য হন। অনেক যাত্রী বাস থেকে নেমে হেঁটে গন্তব্যে যাওয়ার চেষ্টা করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতির প্রয়োজন দেখা দেয়, তবে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার প্রক্রিয়া চলমান ছিল।
পোশাক খাতের শ্রমিকদের এই আন্দোলন নতুন নয়, তবে নারায়ণগঞ্জের মতো গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চলে এ ধরনের অবরোধ জনজীবনে ব্যাপক প্রভাব ফেলে। শিল্প মালিকপক্ষ এবং সরকার পক্ষ থেকে শ্রমিকদের এই দাবির বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনার খবর তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। শ্রমিকদের দাবি, তারা দীর্ঘ সময় ধরে বেতন বৈষম্য ও দ্রব্যমূল্যের চাপে পিষ্ট। তাই তাদের এই লড়াই কেবল মজুরি বৃদ্ধির জন্য নয়, বরং বেঁচে থাকার অধিকার আদায়ের একটি অংশ। সড়ক অবরোধে অংশ নেওয়া শ্রমিকদের বেশিরভাগই স্থানীয় বিভিন্ন পোশাক কারখানার কর্মী বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
বিক্ষোভের ফলে সৃষ্টি হওয়া যানজট নিরসন এবং পরিস্থিতি শান্ত রাখতে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে তৎপরতা চালানো হচ্ছে। শ্রমিকরা যাতে কোনো প্রকার বিশৃঙ্খলা তৈরি না করেন, সে বিষয়ে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন সতর্ক রয়েছে। তবে শ্রমিকরা তাদের অবস্থানে অনড় থেকে দাবি না মানা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। দিনব্যাপী এই অবরোধের ফলে স্থানীয় জনজীবনে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, শ্রমিকদের একটি অংশ সড়কে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে যাচ্ছিলেন এবং এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬ । ৩:১৫ অপরাহ্ণ