খুঁজুন
, ,

উৎসবমুখর পরিবেশে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ৪:১৫ অপরাহ্ণ
উৎসবমুখর পরিবেশে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

রাজধানীর অন্যতম উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে পালিত হচ্ছে। দুই দশক পার করে বিশ্ববিদ্যালয়টি তার সফল যাত্রার ২২ বছরে পদার্পণ করলো। এই বিশেষ দিনটিকে ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ। শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে ক্যাম্পাস পরিণত হয়েছে মিলনমেলায়।

সোমবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার চত্বরে বর্ণাঢ্য আয়োজনের সূচনা হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে পতাকোত্তোলন করা হয়। জাতীয় পতাকার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে দিবসটির আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। এরপরই বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সদস্যরা আনন্দ র‌্যালিতে অংশ নেন, যা ক্যাম্পাসের গণ্ডি পেরিয়ে পুরান ঢাকার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। র‌্যালিতে শিক্ষার্থীদের হাতে থাকা নানা প্ল্যাকার্ড ও ফেস্টুন ক্যাম্পাসটিকে এক আনন্দঘন রূপ দিয়েছে।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে চারুকলা প্রদর্শনীসহ বিভিন্ন বিভাগ ও অনুষদের উদ্যোগে আয়োজিত হয়েছে নানা কর্মসূচি। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা তাদের সৃজনশীল কাজের প্রদর্শনী তুলে ধরছেন। দিনের অন্যান্য কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এসব আয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘ পথচলার সাফল্য ও সংকট নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়েও কথা বলছেন সংশ্লিষ্টরা। দীর্ঘ সময় ধরে শিক্ষা ও গবেষণায় প্রতিষ্ঠানটি যে অবদান রেখে চলেছে, তা এই আয়োজনে বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে।

প্রতিষ্ঠার পর থেকেই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় নিজস্ব স্বকীয়তা বজায় রেখে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। সাধারণ একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর ও উত্তরণের এই দীর্ঘ যাত্রায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অর্জন আজ দেশজুড়ে প্রশংসিত। বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের পুনর্মিলন এই প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে আরও বেশি প্রাণবন্ত করে তুলেছে। ক্যাম্পাসের প্রতিটি কোণে এখন প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের স্মৃতিচারণ ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের উচ্ছ্বাস।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কেবল আনুষ্ঠানিকতার মধ্যেই নয়, বরং এই দিনটিকে জ্ঞানচর্চা ও সৃজনশীলতার প্রসারের দিন হিসেবে উদযাপন করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের মেধা ও মননের বিকাশে বিশ্ববিদ্যালয়টি যে প্রতিশ্রুতি নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল, সেই লক্ষ্য অর্জনে বরাবরের মতো এখনো অবিচল রয়েছে কর্তৃপক্ষ। দিনব্যাপী আয়োজিত এসব অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, প্রথিতযশা শিক্ষাবিদ ও বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখা প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা উপস্থিত রয়েছেন। তাদের উপস্থিতি নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করছে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রযাত্রাকে আরও বেগবান করার অনুপ্রেরণা জোগাচ্ছে।

রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমিতে রঙিন মাছের মেলায় উপচে পড়া ভিড়

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ৪:১৫ অপরাহ্ণ
   
রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমিতে রঙিন মাছের মেলায় উপচে পড়া ভিড়

রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হয়ে গেল তিন দিনের এক ব্যতিক্রমী আয়োজন ‘অ্যাকুয়ারিয়াম ফিশ ফেয়ার ২০২৬’। ২৯ থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত আয়োজিত এই মেলায় চারপাশ সেজেছিল এক অপূর্ব রঙিন আবহে। কাঁচের ঘেরাটোপে বন্দি ছিল দেশি-বিদেশি নানা প্রজাতির মাছ, যা দেখতে ভিড় জমিয়েছিলেন শৌখিন মৎস্যপ্রেমী থেকে শুরু করে উৎসুক নগরবাসী। মেলায় ৪৫টিরও বেশি স্টল বসেছিল, যেখানে বাহারি সব রঙিন মাছের পাশাপাশি অ্যাকুয়ারিয়াম ও জলজ গাছপালা সাজানোর সরঞ্জামের এক বিশাল সংগ্রহ ছিল। মেলা প্রাঙ্গণে প্রবেশ করতেই মনে হচ্ছিল যেন পানির নিচের এক আশ্চর্য জগতের ভেতর ঢুকে পড়েছি। স্টলগুলোতে শোভা পাচ্ছিল বাহারি রঙের মাছের মেলা। কেউ খুঁজছিলেন দুর্লভ প্রজাতির মাছ, আবার কেউবা বাড়িতে ছোট পরিসরে অ্যাকুয়ারিয়াম তৈরির পরামর্শ নিচ্ছিলেন বিক্রেতাদের কাছ থেকে।

মেলায় প্রদর্শিত মাছের বৈচিত্র্য ছিল চোখে পড়ার মতো। পরিচিত গাপ্পি, বেলুন মলি, ব্ল্যাক মলি থেকে শুরু করে ব্লু পান্ডা, অ্যাভাটার ও গোল্ডফিশের মতো মাছের চাহিদা ছিল তুঙ্গে। তবে দর্শনার্থীদের সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছিল বিচিত্র সব প্রজাতির মাছ। বিশেষ করে ফ্লাওয়ার হর্ন মাছটি ছিল অন্যতম আকর্ষণ। মাথায় ঝুটির মতো বিশাল এক উঁচু অংশ নিয়ে মাছটির স্বভাব ছিল অত্যন্ত চঞ্চল। কাঁচের বাইরে কেউ আঙুল নাড়ালে মাছটিও তার পিছু ছুটছিল। মাছটির এমন অদ্ভুত আচরণের কারণে দামেও ছিল বেশ চড়া; আকার ও গুণমান ভেদে একেকটি ফ্লাওয়ার হর্ন ১২ হাজার টাকা পর্যন্ত দরে বিক্রি হচ্ছিল। মাছের এই বিশাল সমাহারে বাদ যায়নি সিনেমাখ্যাত চরিত্রের মাছেরাও। বিশ্বখ্যাত অ্যানিমেশন মুভি ‘ফাইন্ডিং নিমো’-এর সেই কমলা-সাদা ক্লাউনফিশ দেখতে স্টলগুলোতে মানুষের লাইন ছিল দীর্ঘ। স্টলভেদে এক জোড়া ক্লাউনফিশের দাম হাঁকা হচ্ছিল ১৪ থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত।

মেলায় বিচিত্র সব মাছের নামের তালিকায় যুক্ত ছিল ‘বাবল আই গোল্ডফিশ’। এদের চোখের দুপাশে বেলুনের মতো দুটি থলে থাকে, যা বেশ কৌতূহলোদ্দীপক। এই মাছগুলো দেড় থেকে দুই হাজার টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছিল। আবার বাজেট সাশ্রয়ী শৌখিনদের জন্য ছিল নানা চমক। যেমন ‘২৪ ক্যারেট গোল্ড’ নামের এক জোড়া মাছ বিক্রি হচ্ছিল মাত্র ৪০০ টাকায়। নাম শুনে মনে হতে পারে এটি কোনো গয়না, কিন্তু আসলে এটি ছিল চমৎকার সোনালি রঙের এক ধরণের মাছ। মাছের পাশাপাশি মেলায় ক্রেফিশ ও নানা প্রজাতির রঙিন চিংড়িও ছিল আকর্ষণের কেন্দ্রে।

দর্শনার্থীদের উচ্ছ্বাস ছিল দেখার মতো। বিশেষ করে শিশুদের নিয়ে অভিভাবকেরা মেলায় ভিড় করেছিলেন। প্রযুক্তির এই যুগে ডিজিটাল স্ক্রিন থেকে চোখ সরিয়ে বাস্তব কোনো রঙিন মাছের জগৎ দেখার অভিজ্ঞতা শিশুদের জন্য ছিল নতুন ও আনন্দদায়ক। অনেকেই প্রিয়জনকে ভিডিও কলে সরাসরি মেলা দেখাচ্ছিলেন। এই মেলার আয়োজন যে কেবল বাণিজ্য ছিল না, বরং শৌখিন মাছ পালন ও জলজ অরণ্য তৈরির শিল্পকে সাধারণ মানুষের কাছে আরও জনপ্রিয় করে তুলেছে, তা স্পষ্ট। অ্যাকুয়ারিয়াম এখন কেবল শখ নয়, বরং ঘর সাজানোর এবং মানসিক প্রশান্তি পাওয়ার এক মাধ্যম হয়ে উঠছে। তিন দিনের এই মেলা শেষ হলেও দর্শনার্থীদের মনে রঙিন মাছের সেই স্মৃতি দীর্ঘস্থায়ী হবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ধর্মীয় পোশাকের আড়ালে অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার প্রবণতা বাড়ছে: জহির উদ্দিন স্বপন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ৪:১৫ অপরাহ্ণ
   
ধর্মীয় পোশাকের আড়ালে অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার প্রবণতা বাড়ছে: জহির উদ্দিন স্বপন

বর্তমানে সমাজে এক শ্রেণির মানুষের মধ্যে ধর্মীয় লেবাস বা পোশাক ব্যবহার করে অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার প্রবণতা উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যকে পুঁজি করে রাজনৈতিক, সামাজিক এবং অর্থনৈতিক ফায়দা লোটার যে অসুস্থ প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে, তা দেশের সামগ্রিক নৈতিক কাঠামোর জন্য হুমকি স্বরূপ। প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও সংসদ সদস্য জহির উদ্দিন স্বপন এমন মন্তব্য করে এই প্রবণতার বিরুদ্ধে কঠোর সতর্কতা উচ্চারণ করেছেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, আজকাল অনেক ক্ষেত্রেই ধর্মের চর্চাকে প্রকৃত উপাসনা হিসেবে না দেখে একটি অভিনয় বা মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে, যা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।

সোমবার বরিশাল নগরীর একটি মিলনায়তনে আয়োজিত সম্প্রীতি বিষয়ক এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ধর্মীয় অনুভূতির সুযোগ নিয়ে অনেকে নিজের আখের গুছিয়ে নেওয়ার চেষ্টায় লিপ্ত। বিশেষ করে ওয়াজের ময়দানে ইসলাম ধর্মের প্রকৃত শিক্ষা প্রচারের পরিবর্তে অনেক ক্ষেত্রে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও বিকৃত কথাবার্তা ছড়ানো হচ্ছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড ধর্মের পবিত্রতাকে চরমভাবে ক্ষুণ্ণ করছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। ধর্মের মূল কথা হলো শান্তি, সততা ও মানবিকতা, অথচ বর্তমান সময়ে ধর্মের খোলস পরে যারা এসব কাজ করছে, তারা শুরু থেকেই মূল শিক্ষা ও আদর্শকে উপেক্ষা করে আসছে।

জহির উদ্দিন স্বপন উল্লেখ করেন যে, ধর্মীয় লেবাস কেবল পোশাকের ওপর নির্ভর করে না, এটি হৃদয়ের বিশ্বাসের বিষয়। যখন কোনো ব্যক্তি ধর্মীয় পোশাককে সামাজিক স্ট্যাটাস বা নিজের অন্ধকার জগৎ আড়াল করার ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেন, তখন তা পুরো ধর্মপ্রাণ জনগোষ্ঠীর জন্য অসম্মানের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে ধর্মকে পুঁজি করে স্বার্থসিদ্ধির এই অপচেষ্টা কেবল ব্যক্তিগত পর্যায়ে সীমাবদ্ধ নেই, বরং এটি একটি সামাজিক ব্যাধিতে রূপ নিচ্ছে। তিনি সমাজের সচেতন মহলকে এই ধরনের ভণ্ডামির বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত বক্তারাও বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করে বলেন, ধর্মের নামে উগ্রবাদ বা ব্যবসায়িক মনোভাব কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ধর্মচর্চার নামে যারা নাটকীয়তা করছে, তাদের শনাক্ত করে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনার দায়িত্ব রাষ্ট্রের পাশাপাশি পরিবারেরও রয়েছে। জহির উদ্দিন স্বপন তার বক্তব্যে আরও জোর দিয়ে বলেন, অশুভ শক্তির এই প্রতিযোগিতা রোধ করতে হলে ধর্মীয় শিক্ষার সঠিক প্রচার নিশ্চিত করতে হবে। ধর্মের অপব্যবহার বন্ধ করে সমাজে প্রকৃত ধর্মীয় মূল্যবোধ ও সহমর্মিতা ফিরিয়ে আনার বিকল্প নেই। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, সাধারণ মানুষ এখন অনেক বেশি সচেতন এবং তারা ধর্মের নামে যারা অসংলগ্ন বা অনৈতিক কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে, তাদের বয়কট করতে শুরু করেছে। ধর্মের পবিত্রতা বজায় রাখতে এবং যারা এটিকে পুঁজি করে ফায়দা লুটছে তাদের মুখোশ উন্মোচনে প্রশাসন ও সাধারণ মানুষকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড অবরোধ করে বিক্ষোভ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ৩:১৫ অপরাহ্ণ
   
ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড অবরোধ করে বিক্ষোভ

পোশাক শিল্পের শ্রমিকদের ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে নারায়ণগঞ্জ। সোমবার দুপুরে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের শিবু মার্কেট এলাকায় শত শত শ্রমিক জড়ো হয়ে সড়ক অবরোধ করেন। এ সময় তারা নিজেদের দাবি আদায়ের লক্ষ্যে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং সড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করে দেন। শ্রমিকের এই আকস্মিক কর্মসূচিতে সড়কের দুই পাশে আটকা পড়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়, যার ফলে সাধারণ যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্র জানায়, দুপুরের দিকে শ্রমিকরা লাঠিসোঁটা হাতে দলে দলে শিবু মার্কেট এলাকায় এসে অবস্থান নিতে শুরু করেন। এরপর তারা সড়ক আটকে দিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। শ্রমিকদের পক্ষ থেকে দাবি জানানো হয়, বর্তমান দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে প্রচলিত মজুরি দিয়ে জীবন ধারণ করা প্রায় অসম্ভব। তাই জীবনযাত্রার মান বজায় রাখতে এবং ন্যায্য পাওনা নিশ্চিত করতে ন্যূনতম মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা অপরিহার্য। তারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন যে, যৌক্তিক এই দাবি মেনে নেওয়া না হলে কঠোর কর্মসূচির দিকে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে, শ্রমিকদের এই অবরোধের ফলে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকায় স্থবিরতা নেমে আসে। অফিসগামী যাত্রী, শিক্ষার্থী এবং সাধারণ মানুষ তীব্র যানজটে আটকা পড়ে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে বাধ্য হন। অনেক যাত্রী বাস থেকে নেমে হেঁটে গন্তব্যে যাওয়ার চেষ্টা করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতির প্রয়োজন দেখা দেয়, তবে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার প্রক্রিয়া চলমান ছিল।

পোশাক খাতের শ্রমিকদের এই আন্দোলন নতুন নয়, তবে নারায়ণগঞ্জের মতো গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চলে এ ধরনের অবরোধ জনজীবনে ব্যাপক প্রভাব ফেলে। শিল্প মালিকপক্ষ এবং সরকার পক্ষ থেকে শ্রমিকদের এই দাবির বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনার খবর তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। শ্রমিকদের দাবি, তারা দীর্ঘ সময় ধরে বেতন বৈষম্য ও দ্রব্যমূল্যের চাপে পিষ্ট। তাই তাদের এই লড়াই কেবল মজুরি বৃদ্ধির জন্য নয়, বরং বেঁচে থাকার অধিকার আদায়ের একটি অংশ। সড়ক অবরোধে অংশ নেওয়া শ্রমিকদের বেশিরভাগই স্থানীয় বিভিন্ন পোশাক কারখানার কর্মী বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

বিক্ষোভের ফলে সৃষ্টি হওয়া যানজট নিরসন এবং পরিস্থিতি শান্ত রাখতে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে তৎপরতা চালানো হচ্ছে। শ্রমিকরা যাতে কোনো প্রকার বিশৃঙ্খলা তৈরি না করেন, সে বিষয়ে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন সতর্ক রয়েছে। তবে শ্রমিকরা তাদের অবস্থানে অনড় থেকে দাবি না মানা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। দিনব্যাপী এই অবরোধের ফলে স্থানীয় জনজীবনে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, শ্রমিকদের একটি অংশ সড়কে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে যাচ্ছিলেন এবং এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

সর্বশেষ
রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমিতে রঙিন মাছের মেলায় উপচে পড়া ভিড় ধর্মীয় পোশাকের আড়ালে অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার প্রবণতা বাড়ছে: জহির উদ্দিন স্বপন উৎসবমুখর পরিবেশে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড অবরোধ করে বিক্ষোভ খুলনায় তাঁতী দল নেতা হত্যায় ছাত্রদল নেতাসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেফতার ১ মিরপুরে শ্রমিক বিক্ষোভ: সংঘাতের জেরে ৫ মামলা ও গ্রেফতারের সংখ্যা বাড়ছে লাহোরে পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যা, আহত ৫ সন্তান ভূমিকম্প মোকাবিলায় সর্বোচ্চ সতর্কতার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের কর্মযজ্ঞ: এক অসামান্য সাহিত্যিক আড্ডার অন্দরে মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে শ্রমিক বিক্ষোভ: মহাসড়কে স্বাভাবিক যান চলাচল
Advertisement