খুঁজুন
, ,

মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে শ্রমিক বিক্ষোভ: মহাসড়কে স্বাভাবিক যান চলাচল

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ১:১৫ অপরাহ্ণ
মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে শ্রমিক বিক্ষোভ: মহাসড়কে স্বাভাবিক যান চলাচল

ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা মাসিক মজুরির দাবিতে গাজীপুরের ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে দীর্ঘ পাঁচ ঘণ্টা ধরে চলা শ্রমিক অবরোধের অবসান হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সক্রিয় হস্তক্ষেপে সোমবার দুপুরে মহাসড়কটি যান চলাচলের জন্য পুনরায় উন্মুক্ত হয়। এর আগে সকাল থেকেই গাজীপুরের কোনাবাড়ী, সফিপুর, মৌচাক এবং পল্লী বিদ্যুৎসহ আশপাশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ শুরু করেন। তাদের এই আন্দোলনের ফলে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের এই গুরুত্বপূর্ণ অংশে দীর্ঘ সময় যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে পড়েছিল, যা চরম ভোগান্তিতে ফেলে সাধারণ যাত্রী ও পরিবহন চালকদের।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকাল থেকেই বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা তাদের দাবি আদায়ের লক্ষ্যে রাস্তায় জড়ো হতে থাকেন। একপর্যায়ে তারা মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে ব্যারিকেড দিয়ে যান চলাচল আটকে দেন। শ্রমিকদের অভিযোগ, বর্তমানে যে হারে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে, তাতে তাদের বর্তমান মজুরি দিয়ে সংসার চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তাই দীর্ঘদিনের বকেয়া দাবি পূরণ এবং নতুন কাঠামোতে ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা মজুরির নিশ্চয়তা চেয়ে তারা রাজপথে নামতে বাধ্য হয়েছেন। তাদের এই অবরোধ কর্মসূচির কারণে সকাল থেকেই মহাসড়কের উভয় পাশে কয়েক কিলোমিটার জুড়ে যানজটের সৃষ্টি হয়, যা দুপুর পর্যন্ত অব্যাহত ছিল।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে বিজিবি এবং পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিপুল সংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে এবং বারবার অনুরোধের পরও শ্রমিকরা সড়ক থেকে সরে যেতে অস্বীকৃতি জানালে একপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কঠোর অবস্থানে যায়। শ্রমিকদের সড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে বেশ কিছু সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করা হয়। এই আকস্মিক পদক্ষেপে পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যায় এবং শ্রমিকরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়লে মহাসড়কের ওপর থেকে প্রতিবন্ধকতা সরিয়ে নেওয়া হয়। বিকেলের দিকে পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়ে আসে এবং যান চলাচল আগের অবস্থায় ফিরে আসে।

স্থানীয় শিল্প পুলিশ জানিয়েছে, শ্রমিকদের এই অসন্তোষ নিরসনে মালিকপক্ষ ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের নিয়ে আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মহাসড়কের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং পুনরায় বিশৃঙ্খলা এড়াতে গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে বাড়তি পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে। শিল্পাঞ্চলের সামগ্রিক পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে এবং কারখানাগুলোতে উৎপাদন ব্যবস্থা পুনরায় চালু করার প্রক্রিয়া চলছে। কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে এলাকাগুলোতে কড়া নজরদারি বজায় রাখা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানানো হয়েছে। তবে এখনো অনেক শ্রমিক তাদের দাবি পূরণের আশ্বাসের অপেক্ষায় রয়েছেন বলে জানা গেছে। কারখানাগুলোতে উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে মালিকপক্ষের পক্ষ থেকে শ্রমিকদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানানো হয়েছে।

লাহোরে পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যা, আহত ৫ সন্তান

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ২:১৫ অপরাহ্ণ
   
লাহোরে পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যা, আহত ৫ সন্তান

পাকিস্তানের লাহোর শহরে একটি মর্মান্তিক ও নৃশংস পারিবারিক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় সময় রবিবার নিশতার কলোনি থানার অন্তর্গত হাকিম চকে এক ব্যক্তি পারিবারিক বিরোধের জেরে নিজের স্ত্রীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেছেন। এই হামলার সময় তার পাঁচ সন্তানও গুরুতর আহত হয়েছে। স্থানীয় পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দেওয়া প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে জানা গেছে, ঘটনার মূল অভিযুক্তের নাম আরশাদ। তাকে ঘটনাস্থল থেকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই ঘটনার কয়েকদিন আগে থেকেই অভিযুক্ত আরশাদের সঙ্গে তার স্ত্রীর কোনো একটি পারিবারিক বিষয়ে তীব্র মতবিরোধ বা ঝগড়া চলছিল। এই বিবাদের রেশ ধরেই রবিবার ওই ব্যক্তি রাগের মাথায় এই ভয়াবহ কাণ্ড ঘটান বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে যে, হামলার সময় আরশাদ ধারালো অস্ত্র ব্যবহার করে তার স্ত্রীর ওপর চড়াও হন। তাকে বাঁচাতে গেলে দম্পতির পাঁচ সন্তানও গুরুতর জখম হয়। স্থানীয়রা চিৎকার শুনে এগিয়ে এলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আগেই পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পরে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করে এবং অভিযুক্ত আরশাদকে গ্রেপ্তার করে। বর্তমানে আহত শিশুদের চিকিৎসা চলছে। তবে তাদের শারীরিক অবস্থার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। পুরো এলাকায় এই ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল ঘিরে ফেলে এবং আলামত সংগ্রহ শুরু করে। স্থানীয় থানায় ইতিমধ্যেই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত আরশাদকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের প্রক্রিয়া চলছে। এই নৃশংসতার পেছনে অন্য কোনো কারণ আছে কি না বা পূর্বপরিকল্পিত ছিল কি না, তা তদন্তসাপেক্ষ। পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ঠিক কী নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত হয়েছিল, সে বিষয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তারা বিস্তারিত তথ্য উদ্ঘাটনের চেষ্টা করছেন। প্রতিবেশী ও এলাকাবাসীরা জানিয়েছেন, অভিযুক্ত আরশাদ ও তার স্ত্রীর মধ্যে এর আগেও পারিবারিক বিভিন্ন বিষয়ে বনিবনা হচ্ছিল, তবে এমন ভয়াবহ পরিণতি কেউ কল্পনা করতে পারেননি। লাহোর পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে এবং যথাযথ বিচার নিশ্চিত করতে তারা কাজ করছেন। আইন অনুযায়ী অভিযুক্তের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে মামলার চার্জশিট তৈরির প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে আরশাদকে গ্রেফতারের পর থেকে ওই এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। শিশুদের স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে সেখানকার পরিবেশ। অপরাধ বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা ও কাউন্সিলিংয়ের অভাবই এমন পরিণতির জন্য অনেকাংশে দায়ী।

ভূমিকম্প মোকাবিলায় সর্বোচ্চ সতর্কতার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ২:১৪ অপরাহ্ণ
   
ভূমিকম্প মোকাবিলায় সর্বোচ্চ সতর্কতার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

ভূমিকম্পের মতো অনাকাঙ্ক্ষিত ও ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি এবং সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (২ নভেম্বর) দুপুরে সচিবালয়ে অবস্থিত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ সভায় তিনি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাদের এই নির্দেশনা প্রদান করেন। দেশের ভৌগোলিক অবস্থান এবং ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকাগুলো বিবেচনায় নিয়ে সরকার এখন থেকেই সব ধরনের আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে চায় বলে তিনি সভায় উল্লেখ করেন।

সভায় প্রধানমন্ত্রী স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, ভূমিকম্পের মতো দুর্যোগ থেকে ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনতে হলে কেবল তাৎক্ষণিক উদ্ধার তৎপরতাই যথেষ্ট নয়, বরং এর জন্য প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা এবং বাস্তবসম্মত প্রস্তুতি। বিশেষ করে রাজধানী ঢাকা এবং এর আশপাশের ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় থাকা পুরোনো ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো চিহ্নিত করার কাজকে তিনি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর মতে, অপরিকল্পিত নগরায়ণ এবং দুর্বল অবকাঠামো ভূমিকম্পের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। তাই জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের ভবনগুলোর বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সরকার যে বদ্ধপরিকর, তা প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে। তিনি উদ্ধারকারী দলগুলোর জনবল ও কারিগরি দক্ষতা বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন। আধুনিক যন্ত্রপাতি এবং প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহারের মাধ্যমে উদ্ধার কার্যক্রমকে কীভাবে আরও দ্রুততর ও কার্যকর করা যায়, সে বিষয়ে বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা তৈরির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর মতে, দুর্যোগের সময় প্রতিটি মুহূর্ত মূল্যবান এবং সঠিক প্রস্তুতির অভাবেই অনেক সময় বড় ধরনের ক্ষতি ঠেকানো সম্ভব হয় না। তাই প্রশিক্ষিত জনবল তৈরির পাশাপাশি নিয়মিত মহড়া আয়োজনের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

দেশের ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকাগুলোতে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার মধ্যে সমন্বিত কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছেন সরকারপ্রধান। তিনি বলেন, দুর্যোগ মোকাবিলায় শুধু সরকারি উদ্যোগ যথেষ্ট নয়, সচেতনতা তৈরির মাধ্যমে সাধারণ মানুষকেও প্রস্তুত থাকতে হবে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে বসবাসরত নাগরিকদের সচেতন করার পাশাপাশি ভবনের নির্মাণশৈলী এবং নিরাপত্তার বিষয়ে কঠোর নজরদারি বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও সভায় উঠে আসে।

এছাড়া, বৈঠকে দুর্যোগ পরবর্তী উদ্ধার কাজ এবং ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। ভূমিকম্পের মতো বড় কোনো পরিস্থিতির উদ্ভব হলে যোগাযোগ ব্যবস্থা যেন স্বাভাবিক থাকে এবং জরুরি সেবাগুলো নিরবচ্ছিন্ন থাকে, তা নিশ্চিত করতে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানি সরবরাহকারী সংস্থাগুলোকে বিশেষ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দুর্যোগের ঝুঁকি প্রশমনে সরকার যে দীর্ঘমেয়াদী কাজ করে যাচ্ছে, সেই ধারায় এটি আরও একটি বলিষ্ঠ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকরা। সবশেষে, প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন যে, সঠিক পরিকল্পনা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে ভূমিকম্পের মতো দুর্যোগের ঝুঁকি কমিয়ে একটি নিরাপদ ভবিষ্যৎ গড়া সম্ভব হবে।

শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের কর্মযজ্ঞ: এক অসামান্য সাহিত্যিক আড্ডার অন্দরে

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ২:১৪ অপরাহ্ণ
   
শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের কর্মযজ্ঞ: এক অসামান্য সাহিত্যিক আড্ডার অন্দরে

একজন লেখক যখন লিখতে বসেন, তখন তার চারপাশের জগৎটা পুরোপুরি বদলে যায়। অনেকের কাছেই কৌতূহল থাকে প্রিয় লেখকের কাজের জায়গাটি কেমন, কী কী অনুষঙ্গ তাকে ঘিরে থাকে। প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের লেখার টেবিল এবং তার আশেপাশের পরিবেশ ঠিক তেমনই এক অনন্য ক্যানভাস, যা কোনো সাধারণ আসবাবের চেয়ে অনেক বেশি অর্থবহ। তার লেখার কক্ষটি যেন এক নিভৃত রহস্যময় দ্বীপ, যেখানে আলো আর ছায়ার লুকোচুরি প্রতিনিয়ত চলে। এই কক্ষের সবচেয়ে বড় সাক্ষী সম্ভবত সেই টেবিলটি, যা প্রায় পঞ্চাশ বছর ধরে তার নিরলস সাধনার সঙ্গী। শালকাঠের এই পুরনো টেবিলটি কেবল একটি আসবাব নয়, বরং এটি অনেকগুলো কালজয়ী উপন্যাসের জন্মদাত্রী। দশকের পর দশক পার হয়ে গেলেও এই টেবিলের ওপরের জাদুকরী আবহাওয়া আজও অমলিন।

টেবিলের ওপর রাখা টেবিল ল্যাম্পটি যেন এই ক্ষুদ্র জগতের একচ্ছত্র অধিপতি। তার মৃদু আলো টেবিলের ওপর ছড়িয়ে পড়ে এক স্নিগ্ধতা তৈরি করে, যা লেখককে গভীর একাগ্রতায় ডুবিয়ে রাখতে সাহায্য করে। কিন্তু টেবিলের ওপরের দৃশ্যপটটি বেশ অদ্ভুত অথচ গভীর মানবিক। সেখানে একপাশে ওষুধের শিশি রাখা, তো অন্যপাশে পড়ে আছে জর্দা দেওয়া চুইংগামের প্যাকেট। নাহুমের বিস্কুটের কৌটোটিও টেবিলের এক কোণে বেশ আয়েশ করে ঠাঁই পেয়েছে। এসব টুকিটাকি জিনিস হয়তো বাইরের মানুষের কাছে গুরুত্বহীন, কিন্তু একজন লেখকের সৃজনশীল প্রক্রিয়ায় এগুলোই হয়তো তার সৃষ্টির ইন্ধন। কাগজ আর বইপত্রের স্তূপের মধ্যে এই দৈনন্দিন অনুষঙ্গগুলো লেখকের জীবনের এক অন্যরকম চিত্র তুলে ধরে।

কথাসাহিত্যিকের এই সাম্রাজ্যে এখন যুক্ত হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়া। বইপত্র আর পাণ্ডুলিপির ভিড়ে রাখা দুটি ট্যাব আজ তার লেখার প্রধান হাতিয়ার হয়ে উঠেছে। প্রথাগত কলম আর কাগজের সাথে প্রযুক্তির এই মিলন এক দারুণ বৈপরীত্য তৈরি করেছে। শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের মতো একজন লেখক, যিনি দশকের পর দশক ধরে বাংলা সাহিত্যে মনস্তাত্ত্বিক গল্পের পসরা সাজিয়েছেন, তার কাজের ধরনে প্রযুক্তির এই ব্যবহার বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। মনে হয়, তিনি যুগের সাথে তাল মিলিয়ে নিজের জগতকে সমৃদ্ধ করছেন, কিন্তু তার হৃদয়ে সেই পুরনো আবেগ আর শালকাঠের টেবিলের উষ্ণতা এখনো অটুট রয়েছে।

এই ঘরটি দেখলে মনে হয় সময় যেন এখানে এসে থমকে আছে। বাইরে আধুনিক পৃথিবীর ব্যস্ততা, যান্ত্রিক কোলাহল—সবকিছুই এই ঘরের দরজার বাইরে এসে লুটিয়ে পড়ে। ভেতরে শুধু লেখক আর তার কল্পনার চরিত্রদের কথোপকথন। টেবিল ল্যাম্পের আলো যখন ঘরে আবছা অন্ধকার তৈরি করে, তখন সেই আলো-আঁধারিতে বাস্তব আর কল্পনার সীমারেখা মুছে যায়। শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের এই কর্মস্থল কেবল একটি ঘর নয়, এটি যেন সৃজনশীলতার এক পরীক্ষাগার। সেখানে বই, ওষুধ, বিস্কুট আর ট্যাব—সবকিছু মিলেমিশে একাকার হয়ে আছে। পাঠকের কাছে এটি কেবল একটি সাধারণ ছবি মনে হতে পারে, কিন্তু সাহিত্যিক মানসে এটি এক গভীর সাধনার ক্ষেত্র। তার প্রতিটি শব্দের পেছনে এই নীরব নিস্তব্ধতা আর টেবিলের ওপর ছড়িয়ে থাকা এই জীবনের টুকরো স্মৃতিগুলোই হয়তো কাজ করে। যারা তার সাহিত্য পড়ে বড় হয়েছেন, তাদের কাছে এই ঘরের প্রতিটি কোণ যেন একেকটি গল্পের উৎস। এই আলো-আঁধার ঘরেই জন্ম নেয় হিরণ্ময় সব সৃষ্টি, যা পাঠককে নিয়ে যায় এক ভিন্ন ভুবনে।

সর্বশেষ
লাহোরে পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যা, আহত ৫ সন্তান ভূমিকম্প মোকাবিলায় সর্বোচ্চ সতর্কতার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের কর্মযজ্ঞ: এক অসামান্য সাহিত্যিক আড্ডার অন্দরে মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে শ্রমিক বিক্ষোভ: মহাসড়কে স্বাভাবিক যান চলাচল তৈরি পোশাকশিল্পের নতুন মজুরি জানুয়ারিতেই কার্যকর করার দাবি শ্রমিকনেতাদের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে সামরিক অভিযানের জন্য ট্রাম্পের ওপর চাপ বাড়াচ্ছেন নেতানিয়াহু ভাবুক সম্রাট: দৈনন্দিন যাতায়াত ও ভাড়ার অসামঞ্জস্য নিয়ে এক বিশ্লেষণ জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ: শুধু কি আনুষ্ঠানিক বক্তৃতার মঞ্চ রাজধানীতে পুলিশের বিশেষ অভিযান, গত ২৪ ঘণ্টায় গ্রেফতার ৪০৫ ফর্মুলা ওয়ান রেসিংয়ে জয়ী হতে এআই প্রযুক্তির নতুন দিগন্ত
Advertisement