খুলনা ও মোংলা সফরে প্রধানমন্ত্রী: বন্দর ও জ্বালানি অবকাঠামো পরিদর্শনে বিশেষ গুরুত্ব
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামীকাল গুরুত্বপূর্ণ সফরে খুলনা ও মোংলায় যাচ্ছেন। দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা অনুযায়ী দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বেগবান করতে এবং অবকাঠামোগত অগ্রগতি মূল্যায়নের লক্ষ্যে এই সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের মূল আলোচ্যসূচির মধ্যে রয়েছে বন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্প পরিদর্শন, জ্বালানি অবকাঠামোর উন্নয়ন পর্যালোচনা এবং নতুন বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টির সম্ভাবনা যাচাই করা।
সফরসূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী প্রথমে খুলনায় পৌঁছাবেন। সেখানে স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময়ের পাশাপাশি তিনি উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেবেন। এরপর তার মোংলা বন্দরে যাওয়ার কথা রয়েছে। মোংলা বন্দর বর্তমানে দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বন্দরটির সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আধুনিকায়নের কাজ চলমান থাকায় প্রধানমন্ত্রী সরাসরি তা পর্যবেক্ষণে বেশ কিছু নির্দেশনা দিতে পারেন বলে সরকারি সূত্রে জানা গেছে।
দক্ষিণাঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্পায়নের প্রসারে মোংলা বন্দরের গুরুত্ব অপরিসীম। বিশেষ করে পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর সঙ্গে কানেক্টিভিটি বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে বন্দরটির আধুনিকায়ন সরকারের উচ্চ অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে। আগামীকাল বন্দর এলাকায় চলমান বিভিন্ন প্রকল্পের মাঠ পর্যায়ের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখবেন প্রধানমন্ত্রী।
জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বর্তমান সরকার যে মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে, তার অন্যতম অংশ হলো খুলনাকেন্দ্রিক জ্বালানি অবকাঠামো। এই সফরে প্রধানমন্ত্রী বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা পরিদর্শনের পাশাপাশি জ্বালানি খাতের বর্তমান অবস্থা এবং ভবিষ্যৎ চাহিদা মেটানোর কৌশল নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী মহল ও সাধারণ মানুষের মধ্যে এই সফরকে ঘিরে বেশ উৎসাহ দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে নতুন বিনিয়োগের সম্ভাবনা এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির যে প্রতিশ্রুতি সরকার দিয়ে আসছে, তা বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া আরও গতিশীল হবে বলে স্থানীয়রা প্রত্যাশা করছেন। এছাড়া, বন্দর সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের কিছু দাবি-দাওয়ার বিষয়েও প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে কোনো নির্দেশনা আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর সফরকে সফল করতে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। কোনো প্রকার বিঘ্ন ছাড়াই যাতে সরকারি সব কর্মসূচি সুষ্ঠুভাবে শেষ হয়, সেদিকে সর্বোচ্চ সতর্কতা রাখা হয়েছে। সফরের পুরো প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও নিয়োজিত রয়েছেন।
সফর শেষে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনৈতিক জোনগুলোতে নতুন করে বিনিয়োগের ঘোষণা আসার সম্ভাবনা রয়েছে। দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে সরকার সম্প্রতি যে নীতিমালা নিয়েছে, তার ইতিবাচক প্রভাব খুলনার শিল্পাঞ্চলগুলোতে দৃশ্যমান করতে প্রধানমন্ত্রী বিশেষ নির্দেশনা দিতে পারেন। সবকিছু মিলিয়ে এই সফর দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে স্থানীয় নীতিনির্ধারকরা আশাবাদী।




আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]