দেশে ডেঙ্গুতে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৩৭৩ জন। এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৬৪। ২১ অক্টোবর প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্যে এই হিসাব পাওয়া গেছে।
নতুন মৃত্যুর সাতটি এবং হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ১ হাজার ৩৭৩ জনের হিসাব একই ২৪ ঘণ্টার সময়সীমার। এর মধ্যে মৃত্যুর সংখ্যা চলতি বছরের মোট মৃতের সংখ্যার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। ফলে বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে প্রাণহানির মোট হিসাব ৩৬৪। এই দুই পরিসংখ্যানের সময়সীমা আলাদা করে বোঝা জরুরি: সাতজনের মৃত্যু সাম্প্রতিক এক দিনের, আর ৩৬৪ জনের সংখ্যা পুরো বছরের সঞ্চিত হিসাব।
এক দিনে ১ হাজার ৩৭৩ জনের হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার তথ্য ওই সময়ের নতুন ভর্তি হওয়া রোগীদের সংখ্যা নির্দেশ করে। এটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সব রোগীর মোট সংখ্যা নয়। একইভাবে, ৩৬৪ জনের মৃত্যুর হিসাবকে গত ২৪ ঘণ্টার প্রাণহানি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। সংখ্যাগুলো ভিন্ন সময়সীমার হওয়ায় সেগুলো পাশাপাশি উল্লেখ করলেও তাদের অর্থ এক নয়।
সর্বশেষ হিসাব থেকে দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতির দুটি দিক সামনে এসেছে—এক দিনে কতজন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং চলতি বছরে এ রোগে মোট কতজনের মৃত্যু হয়েছে। নতুন ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যা দৈনিক প্রবাহের চিত্র দেয়; আর বছরজুড়ে মৃত্যুর সংখ্যা দীর্ঘ সময়ের সামগ্রিক প্রাণহানির হিসাব জানায়। এই পরিসংখ্যান দুটি পরিস্থিতি বোঝার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও, একা এগুলো দিয়ে রোগের বিস্তার বা সব এলাকার অবস্থা নির্ধারণ করা যায় না।
প্রকাশিত তথ্যের সংক্ষিপ্ত বিবরণে সাতজন মৃত ব্যক্তির পরিচয়, বয়স, লিঙ্গ কিংবা তাঁরা কোন এলাকার বাসিন্দা—সে বিষয়ে বিস্তারিত নেই। ১ হাজার ৩৭৩ জন নতুন রোগীর ক্ষেত্রেও জেলা বা হাসপাতালভিত্তিক বিভাজন উল্লেখ করা হয়নি। ফলে কোন এলাকায় রোগী বেশি ভর্তি হয়েছেন, কিংবা কোন বয়সের মানুষের মধ্যে আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা বেশি—এ বিষয়ে এই সংখ্যাগুলো থেকে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়।
হাসপাতালে ভর্তি হওয়া মানুষের সংখ্যা বাড়া বা কমার অর্থ বুঝতে একাধিক দিনের তথ্য তুলনা করা প্রয়োজন। এখানে কেবল গত ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যা দেওয়া হয়েছে; আগের দিনের ভর্তি, ছাড়পত্র পাওয়া রোগী কিংবা বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মানুষের সংখ্যা নেই। তাই নতুন ভর্তির হিসাবকে হাসপাতালের মোট রোগী বা চিকিৎসাসেবার ওপর সামগ্রিক চাপের পরিমাপ হিসেবে উপস্থাপন করা ঠিক হবে না।
মৃত্যুর সংখ্যা নিয়েও একই সতর্কতা প্রযোজ্য। সাতজনের মৃত্যু সাম্প্রতিক এক দিনের হিসাব, আর ৩৬৪ জনের মৃত্যু চলতি বছরের মোট সংখ্যা। আগের দিনের মৃত্যুর সংখ্যা বা একই সময়ের আগের বছরের তুলনামূলক হিসাব না থাকায় মৃত্যুর দৈনিক ওঠানামা কিংবা বছরওয়ারি পরিবর্তন নির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না। তবু নতুন মৃত্যুর সংখ্যা বছরের মোট প্রাণহানির হিসাবকে আরও বাড়িয়েছে—এটাই সর্বশেষ তথ্যে নিশ্চিত।
রোগীদের চিকিৎসা কোথায় হয়েছে, তাঁদের মধ্যে কতজন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন এবং কতজন এখনো হাসপাতালে আছেন—এসব প্রশ্নের উত্তরও এই পরিসংখ্যানে নেই। আক্রান্তদের অবস্থা বা মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে আলাদা কোনো বিবরণ দেওয়া হয়নি। তাই সাতটি মৃত্যুর পেছনে কোনো নির্দিষ্ট কারণ, এলাকা বা রোগীর বৈশিষ্ট্যকে দায়ী করা যায় না। যাচাই করা তথ্যের বাইরে অনুমান যোগ না করাই এই হিসাব ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয়।
সর্বশেষ হিসাবে এক দিনের নতুন ভর্তি ১ হাজার ৩৭৩ জন এবং চলতি বছরের মোট মৃত্যু ৩৬৪ জন। এর সঙ্গে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও সাতজনের মৃত্যুর তথ্য যুক্ত হয়েছে। পরবর্তী সময়ে পরিস্থিতির পরিবর্তন বুঝতে দৈনিক ভর্তি ও মৃত্যুর পাশাপাশি অঞ্চলভিত্তিক এবং হাসপাতালভিত্তিক পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রয়োজন হবে। তবে বর্তমান তথ্যে নিশ্চিতভাবে বলা যায়, ডেঙ্গুতে নতুন প্রাণহানির পাশাপাশি এক দিনে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মানুষ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং এ বছর মোট মৃতের সংখ্যা ৩৬৪-এ পৌঁছেছে।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬ । ৪:১৪ পূর্বাহ্ণ