সোনিয়া আক্তারের আবেগঘন ‘প্রেমের কবিতা’
তোমার স্মৃতিতে আমি
কলমে: সোনিয়া আক্তার
যদি হঠাৎ একদিন শোনো—আমি আর নেই,
সেদিন কি তোমার শুকিয়ে যাওয়া চোখের নদী বেয়ে
দু’ফোঁটা জলও গড়াবে?
মনে পড়বে কি সেদিন—
যেদিন প্রথম দেখা হয়েছিল আমাদের,
অষ্টদুপুরের এক লাজুক তরী
ভেঙে দিয়েছিল চোখের নীরবতা?
মনে পড়বে কি—
আমার বুকের বিষাদের পাথর
ভেঙে গিয়েছিল তোমার এক মৃদু ছোঁয়ায়?
স্মরণে আসবে কি
আমার বুকের সেই তীব্র ব্যথা,
যেটা ভাদর মাসের রোদ্দুরের মতো
দগদগে আর ছ্যানছ্যান করত?
যখন তুমি একা,
জ্বরে কাঁপতে কাঁপতে নিঃসঙ্গতায় ভেসে যেতে,
তখন আমার স্নিগ্ধ পরশ
তোমার কপালে শান্তি ছুঁয়ে দিত,জড়িয়ে দিতো মায়া—
তা কি মনে পড়বে?
তোমার সাথে অভিমানের পাহাড় পেরিয়ে
ভালোবেসে ফিরে আসার যে গল্প ছিল—
তা কি সত্যিই মনে থাকবে?
যখন ঘর ছেড়ে,
অকূল পাথারে তোমার ভালোবাসার ভিখারি হয়ে
দাঁড়িয়ে ছিলাম আমি প্রতীক্ষায়—
তা কি ভুলে যাবে?
রাতের সমস্ত নির্জনতায়
তুমি এসে দাঁড়িয়েছিলে আপন হয়ে,
ভর দিয়েছিলে আমার বুকের গভীরে—
সেই মুহূর্ত কি হারিয়ে যাবে?
আর ভাঙা কাঁচ জোড়া দিতে গিয়ে
আমার যে বুকের ভিতর রক্তক্ষরণ হয়েছিল—
তা কি সত্যিই মনে পড়বে?
ফাগুনের কালে,
আমার প্রথম কৈশোরে
তুমি বসন্ত হয়ে যে পাশে বসেছিলে—
তা কি মন থেকে মুছে যাবে?
রোদ্দুরের মতো মিষ্টি পরশে মাখিয়ে দিতে আমায়,
তা কি মনে পড়বে?
তোমার মুখের কটু কথায়
যেদিন আমার আকাশ টুকরো টুকরো হয়ে
বুকের ভিতর বজ্রপাত নেমে এসেছিল—
সেই অন্ধকার মুখখানার ছবি কি থাকবে স্মৃতিতে?
আমার ছেঁড়া শাড়ির গিঁট দিয়ে
তোমার মন বাঁধার যে ব্যর্থ চেষ্টা করেছিলাম,
তা কি মনে পড়বে?
সমাজের চোখে তুমি বীরদর্পে চলে গেলে,
আর আমার চোখে তখন তুমি হয়ে উঠেছিলে
একজন কাপুরুষ—
সেই দৃশ্য কি আজও তোমার স্মরণে আছে?
মনে কি পড়বে তোমার?
কি তুচ্ছ বিষয়ে ছেড়ে গিয়েছিলে আমায়?
নাকি সেদিনও তুমি হেলা করেই আমার লাশের গন্ধ নিবে?
বুকের ভিতর শক্ত লোহার বেড়িটা আরও শক্ত করে বাঁধবে?
তবে যাই করো, মনে রেখো—
ভালো আমি বেসেছিলাম তোমায়
নীরবে, নিঃশব্দে।
আমার সমস্ত হৃদয় নিংড়ে,
আমার অস্তিত্ব বিসর্জন দিয়ে।
তা তুমি একদিন খুঁজবে!



আপনার মতামত লিখুন