খুঁজুন
, ,

তারেক রহমান নির্বাচনের মাঠে নামা ও ভোটের সমীকরণে পরিবর্তন

আলোকিত সারাদেশ
প্রকাশিত: Thursday, 29 January, 2026, 8:27 pm
তারেক রহমান নির্বাচনের মাঠে নামা ও ভোটের সমীকরণে পরিবর্তন

বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রতিটি জাতীয় নির্বাচনই নতুন বাস্তবতা ও নতুন সমীকরণ তৈরি করে। তবে আগামীর ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে যে বিষয়টি সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে, তা হলো ভোটের মাঠে সরাসরি প্রচারণা শুরুর সঙ্গে সঙ্গেই বিএনপির চেয়ারপারসন তারেক রহমানের উপস্থিতি এবং এর ফলে সাধারণ মানুষের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে দৃশ্যমান পরিবর্তন। বিশেষ করে দলীয় রাজনীতির বাইরে থাকা বিপুল সংখ্যক নিরপেক্ষ ভোটারের মনোভাব বদলের ইঙ্গিত এখন রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচিত বাস্তবতা।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি বড় অংশের মানুষ কোনো নির্দিষ্ট দল বা মতাদর্শের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে সম্পৃক্ত রাখেননি। এই ‘নিরপেক্ষ’ বা ‘অনির্ধারিত’ ভোটাররাই প্রায়শই সরকার গঠনের ক্ষেত্রে নির্ধারক ভূমিকা পালন করে থাকেন। আগামীর নির্বাচনে এই শ্রেণির ভোটারদের আস্থা অর্জন করাই বড় রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দলীয় ভোটব্যাংক ধরে রাখার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জনই হবে দূরদর্শী রাজনীতির প্রকৃত পরীক্ষা।

এই প্রেক্ষাপটে বিএনপি তুলনামূলকভাবে এগিয়ে রয়েছে বলেই মনে করছেন অনেক পর্যবেক্ষক। এর প্রধান কারণ হিসেবে উঠে আসছে তারেক রহমানের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ভূমিকা ও ব্যক্তিগত ইমেজ। দেশে প্রত্যাবর্তনের পর থেকেই তিনি অতিরঞ্জিত বক্তব্য ও সংঘাতমুখী রাজনীতি পরিহার করে একটি সংযত, বাস্তববাদী ও পরিবর্তনের বার্তাবাহী রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরছেন। ঐতিহাসিক সংবর্ধনার মধ্য দিয়ে দেশে ফেরার পর তার প্রতিটি রাজনৈতিক কার্যক্রমে পরিবর্তনের স্পষ্ট ইঙ্গিত লক্ষ্য করা যাচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

যেখানে অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলো অধিকাংশ সময় বিএনপির সমালোচনায় ব্যস্ত, সেখানে তারেক রহমান নিজেকে উপস্থাপন করছেন কর্মসূচি, সংলাপ ও মানুষের সঙ্গে সরাসরি সংযোগের মাধ্যমে। তার বক্তব্যে যেমন ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র পরিচালনার ইঙ্গিত রয়েছে, তেমনি রয়েছে সাধারণ মানুষের দুঃখ-দুর্দশা বোঝার চেষ্টা। এই ভিন্নধর্মী কৌশলই জনমনে নতুন আস্থা তৈরি করছে বলে রাজনৈতিক মহলের অভিমত।

আন্তর্জাতিক পরিসরেও তারেক রহমানের গ্রহণযোগ্যতার বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। দেশে ফেরার পর বিভিন্ন বিদেশি দেশের প্রতিনিধিদের তার সঙ্গে আলোচনার আগ্রহ রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে দেশের ভেতরেও তিনি নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করছেন। কখনো রিকশাচালকদের সঙ্গে মতবিনিময়, কখনো কাকরাইল বস্তিতে গিয়ে সাধারণ মানুষের কথা শোনা, কখনো সামাজিক ও গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ—এসব কর্মকাণ্ড তার রাজনৈতিক অবস্থানকে আরও মানবিক ও গ্রহণযোগ্য করে তুলছে।

এছাড়াও দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মালিকদের সঙ্গে আলোচনা করে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার বার্তা দিচ্ছেন তিনি। বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সংলাপের মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বিষয়টিকেও গুরুত্ব দিচ্ছেন। এমনকি কিছুদিন আগে আন্দোলনে থাকা কারিগরি ও শিক্ষক সমাজের সঙ্গে রাস্তায় দাঁড়িয়ে কথা বলার ঘটনাও রাজনৈতিক অঙ্গনে ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে। সর্বশেষ দেখা গেছে দেশের বিভিন্ন পর্যায়ে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের সাথে দেশ গড়ার পরিকল্পনা নিয়ে মুখোমুখি হয়েছে শিক্ষার্থীদের সাথে। দেশের প্রতিটি শ্রেণি-পেশার মানুষকে সমান গুরুত্ব দেওয়ার এই প্রচেষ্টা তারেক রহমানের রাজনৈতিক অবস্থানকে সাধারণ মানুষের কাছে আরও দৃঢ় করেছে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

এরই ধারাবাহিকতায় সারাদেশব্যাপী নির্বাচনী সমাবেশে অংশগ্রহণের মাধ্যমে ভোটের মাঠে নতুন গতি সঞ্চার করেছেন তারেক রহমান।গত ২২ জানুয়ারি সিলেটে দলের নির্বাচনী প্রচারণায় অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে বিএনপির দেশব্যাপী প্রচার কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই সমাবেশের মাধ্যমেই রাজধানীর বাইরে থাকা মানুষের মধ্যে নতুন ভাবনার সৃষ্টি হয়েছে। তারেক রহমান যেখানেই যাচ্ছেন, সেখানেই জনসমাগম ও আগ্রহ বাড়ছে যা তার জনপ্রিয়তার ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতারই ইঙ্গিত।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এতদিন যারা কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতি দৃঢ় অবস্থান নেননি, সেই সাধারণ মানুষদের সিদ্ধান্ত এখন ধীরে ধীরে বদলাচ্ছে। মাঠপর্যায়ের আলোচনায় উঠে আসছে তারেক রহমানের সরাসরি প্রচারণা ও মানুষের সঙ্গে সংযোগ নিরপেক্ষ ভোটারদের একটি বড় অংশকে বিএনপির দিকে আকৃষ্ট করছে। এই পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে প্রচারণার শুরুর দিন থেকেই।

এবারের নির্বাচনে বিএনপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে ধরা হচ্ছিল কিছু এলাকায় বিদ্রোহী প্রার্থীর সম্ভাবনা। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা ধারণা করছিলেন, এই বিদ্রোহই বিএনপির জন্য বড় দুর্বলতা হয়ে দাঁড়াবে। তবে পরিস্থিতি ক্রমেই বদলাচ্ছে। তারেক রহমান সারাদেশে নির্বাচনী প্রচারণার পাশাপাশি তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা করছেন। দেশ গঠনের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি দলীয় ঐক্যের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন।

এর ফলশ্রুতিতে রাজনৈতিক অঙ্গনে গুঞ্জন উঠেছে হাতে গোনা কিছু আসন ছাড়া প্রায় সব এলাকাতেই বিদ্রোহী প্রার্থীরা শেষ পর্যন্ত নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে পারেন। এতে করে বিএনপির একক প্রার্থীর পক্ষে জনসমর্থন আরও সুসংহত হবে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। এই ঐক্যই ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তারেক রহমানের সিলেট বিভাগ দিয়ে শুরু হয়ে চট্টগ্রাম হয়ে উত্তরবঙ্গ অভিমুখে প্রচারণা চালানোর মধ্য দিয়ে সারাদেশেই এক ধরনের রাজনৈতিক বার্তা পৌঁছাচ্ছে। এই ধারাবাহিক প্রচারণা ভোটারদের মধ্যে দীর্ঘদিনের সিদ্ধান্তহীনতার অবসান ঘটাতে পারে। বিশেষ করে নিরপেক্ষ ভোটারদের ক্ষেত্রে ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে সমর্থন গড়ে ওঠার সম্ভাবনা ক্রমেই জোরালো হচ্ছে।

সব মিলিয়ে বলা যায়, ভোটের মাঠে তারেক রহমানের সক্রিয় উপস্থিতি শুধু বিএনপির প্রচারণায় গতি আনেনি, বরং দেশের রাজনীতিতে নতুন এক বাস্তবতার ইঙ্গি

 

লেখা-

মোঃ রায়হান রাহেল

সাংগঠনিক সম্পাদক

ডুয়েট ছাত্রদল

দৌড়ের ছন্দে ঠাকুরগাঁও—রাষ্ট্রপতিকে উৎসর্গ করে হাফ ম্যারাথন প্রতিযোগিতা

মোঃ সুজন আলী
প্রকাশিত: Friday, 28 August, 2026, 4:13 pm
   
দৌড়ের ছন্দে ঠাকুরগাঁও—রাষ্ট্রপতিকে উৎসর্গ করে হাফ ম্যারাথন প্রতিযোগিতা

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:  দৌড় শুধু শরীরকে সুস্থ রাখার জন্য নয়। কখনো কখনো দৌড় হয়ে ওঠে মানুষের সঙ্গে মানুষের বন্ধন তৈরির ভাষা। আর সেই দৌড়ের ছন্দেই এবার এক হলো দেশের ৩০ জেলার মানুষ।

রাষ্ট্রপতির জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে আয়োজিত হলো হাফ ম্যারাথন। যে আয়োজন উৎসর্গ করা হয়েছে বাংলাদেশের ২৩ তম নব নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে। স্বাস্থ্য, সম্প্রীতি আর বন্ধুত্বের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া এই আয়োজন ঘিরে ঠাকুরগাঁওয়ে ছিল উৎসবের আমেজ।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) ভোরের আলো তখনও পুরোপুরি ছড়িয়ে পড়েনি। নীরব শহরটায় হঠাৎই যেন ছন্দের জন্ম হলো। আব্দুর রশিদ ডিগ্রী কলেজ থেকে  কেউ ছুটছেন নিজের রেকর্ড ভাঙতে, কেউ ছুটছেন সুস্থ থাকার প্রত্যয়ে।

আবার কারও কাছে—এই দৌড়, মানুষের সঙ্গে মানুষের বন্ধুত্বের এক নতুন গল্পের সূচনা। দেশের ৩০ জেলা থেকে আসা দৌড়বিদদের পদচারণায় মুখর ঠাকুরগাঁও।

ম্যারাথনে অংশ নেয়া ঢাকা থেকে আসা কিশোরী জিন্নাথ পারভীন বলেন, এ ম্যারাথন শুধুই একটি প্রতিযোগিতা নয় একটি জেলার সঙ্গে আরেকটি জেলার,

একজন মানুষের সঙ্গে আরেকজন মানুষের হৃদয়ের সংযোগ। ‘সুস্থতা, সম্প্রীতি ও বন্ধুত্বের জয়গানে’—এই প্রত্যয়কে সামনে রেখে ঠাকুরগাঁও রানার্সের উদ্যোগে আয়োজিত হয়েছে ‘ঠাকুরগাঁও হাফ ম্যারাথন ২০২৬’। আর আয়োজনটির সার্বিক তত্ত্বাবধানে রয়েছে মেসার্স গার্ডেনিয়া। আমরা অত্যন্ত আনন্দিত।

এই আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আরও একটি আবেগের গল্প। রাষ্ট্রপতির জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে আয়োজিত এই হাফ ম্যারাথন উৎসর্গ করা হয়েছে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে

আয়োজকদের ভাষ্য—একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ হিসেবে যেমন তিনি দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়েছেন, তেমনি খেলাধুলার সঙ্গেও রয়েছে তার নিবিড় সম্পর্ক। সাবেক খেলোয়াড় ও ক্রীড়ামোদী রাষ্ট্রপতির প্রতি সম্মান জানাতেই এই আয়োজনকে উৎসর্গ করা হয়েছে।

তরুন রানার এলিন খান বলেন,  একজন দৌড়বিদের কাছে প্রতিটি কিলোমিটার মানে নতুন এক চ্যালেঞ্জ। শ্বাস ভারী হওয়া।পা ক্লান্ত হয়ে যাওয়া। কিন্তু থেমে যাওয়া না। কারণ গন্তব্য শুধু ফিনিশিং লাইন নয়—গন্তব্য নিজের সীমাবদ্ধতাকে জয় করা। আর সেই জয়কে উদযাপন করতেই যেন একসঙ্গে ছুটছি আমরা।

তবে ঠাকুরগাঁওয়ের এই আয়োজনের গল্প শুধু দৌড়েই শেষ হয়নি। অতিথি ও দৌড়বিদদের মন প্রফুল্ল রাখতে তাদের সামনে তুলে ধরা হয়েছে ঠাকুরগাঁওয়ের ইতিহাস, ঐতিহ্য আর প্রকৃতির সৌন্দর্য। আয়োজক কমিটি দৌড়ের পাশাপাশি দৌড়বিদদের ঘুরে দেখিয়েছে  ঠাকুরগাঁওয়ের ঐতিহ্যবাহী স্থানগুলো। একদিকে শরীরচর্চা,

অন্যদিকে একটি জনপদকে নতুন করে চেনানোর প্রয়াস থেকেই এ উদ্যোগ নিয়েছে কমিটি।

একজন মানুষ যখন অন্য জেলার মাটিতে দৌড়ান,

তখন শুধু তার পায়ের ছাপ পড়ে না সঙ্গে ছড়িয়ে পড়ে পরিচয়, বন্ধুত্ব আর ভালোবাসা। ঠাকুরগাঁও তাই এবার শুধু একটি ম্যারাথনের আয়োজক নয়;

৩২ জেলার মানুষের মিলনমেলারও সাক্ষী।

ঠাকুরগাঁও রানারের প্রধান পৃষ্ঠপোষক নুর ই শাহাদাত স্বজন বলেন, “আমরা চাই খেলাধুলার মাধ্যমে মানুষকে একত্রিত করতে। রাষ্ট্রপতির জেলা হিসেবে ঠাকুরগাঁওকে সামনে তুলে ধরতে এবং তরুণদের খেলাধুলায় উৎসাহিত করতেই আমাদের এই আয়োজন।”

পরে দৌড় প্রতিযোগিতা শেষে  বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার তুলে দেন l ইকো সোশ্যাল ডেভলপমেন্ট অর্গানাইজেশন(ইএসডিওর) নির্বাহী পরিচালক ড. শহীদ উজ জামান। এ সময় শহরের গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

ঠাকুরগাঁওয়ে ভূল্লী উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ বাবু

মোঃ সুজন আলী
প্রকাশিত: Thursday, 27 August, 2026, 9:37 pm
   
ঠাকুরগাঁওয়ে ভূল্লী উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ বাবু

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: ঠাকুরগাঁওয়ের নবগঠিত ভূল্লী উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন আবু সাঈদ নূর আলম বাবু। নতুন এই দায়িত্বের মধ্য দিয়ে ভূল্লী উপজেলার ক্রীড়াঙ্গনে সংগঠিত ও নিয়মিত ক্রীড়া কার্যক্রমের পথ আরও সুগম হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ভূল্লী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ঠাকুরগাঁও জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ পরিষদ গঠন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ভূল্লী উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আবু সাঈদ নূর আলম বাবুর নাম চূড়ান্ত করা হয়েছে।

নতুন দায়িত্ব পাওয়ায় উপজেলার ক্রীড়াপ্রেমী ও ক্রীড়া সংশ্লিষ্টদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, নতুন নেতৃত্বে ফুটবল, ক্রিকেটসহ বিভিন্ন খেলাধুলার আয়োজন বাড়ানোর পাশাপাশি ইউনিয়ন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পর্যায় থেকে প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের খুঁজে বের করা সম্ভব হবে।

ক্রীড়া সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নিয়মিত প্রতিযোগিতা, প্রশিক্ষণের সুযোগ এবং খেলোয়াড়দের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা নিশ্চিত করা গেলে ভূল্লী উপজেলা থেকেই ভবিষ্যতে জেলা ও জাতীয় পর্যায়ের মানসম্পন্ন খেলোয়াড় তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে তরুণদের খেলাধুলার সঙ্গে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে তাদের সুস্থ ও ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে যুক্ত রাখার সুযোগ তৈরি হবে।

ভূল্লী উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ নূর আলম বাবু বলেন, “আমাকে যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তা আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে পালনের চেষ্টা করব। সকলের সহযোগিতা নিয়ে ভূল্লী উপজেলার ক্রীড়াঙ্গনকে আরও প্রাণবন্ত ও সমৃদ্ধ করতে চাই। তরুণদের খেলাধুলায় সম্পৃক্ত করা, নিয়মিত প্রতিযোগিতার আয়োজন এবং প্রত্যন্ত এলাকার প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের খুঁজে বের করে তাদের সুযোগ করে দেওয়া হবে আমাদের অন্যতম লক্ষ্য। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ভূল্লী উপজেলা থেকে ভবিষ্যতে জেলা ও জাতীয় পর্যায়ের ভালো মানের খেলোয়াড় তৈরি হবে বলে আশা করি।”

ভূল্লী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি মোহাম্মদ সাদ্দাম হোসেন বলেন, “ভূল্লী উপজেলার ক্রীড়া কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও সুসংগঠিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ নূর আলম বাবুর নেতৃত্বে বিভিন্ন পর্যায়ের খেলোয়াড়দের সম্পৃক্ত করে নিয়মিত ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। তরুণদের খেলাধুলায় উৎসাহিত করার পাশাপাশি স্থানীয় প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের জেলা ও জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।”

ঠাকুরগাঁওয়ে ডিবির অভিযানে ক্যাসিনো সম্রাট নূর আলম গ্রেপ্তার

মোঃ সুজন আলী
প্রকাশিত: Thursday, 27 August, 2026, 3:16 pm
   
ঠাকুরগাঁওয়ে ডিবির অভিযানে ক্যাসিনো সম্রাট নূর আলম গ্রেপ্তার

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: ঠাকুরগাঁওয়ে অনলাইন ক্যাসিনো ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে মো. নূর আলম (৩৬) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গত ২৭ আগস্ট রাতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার নূর আলম ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার হাজীপাড়া-শিলুলতলা এলাকার মো. সুফিয়ার রহমানের ছেলে। ডিবি পুলিশ জানায়, তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে ক্যাসিনো সংক্রান্ত ২০টি অ্যাপ পাওয়া গেছে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, নূর আলমের বিরুদ্ধে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের একটি থানায় সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা রয়েছে। ওই মামলায় এর আগে তাকে রংপুরে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

ডিবি পুলিশ আরও জানায়, নূর আলম রংপুর, দিনাজপুর ও ঠাকুরগাঁও এলাকায় অনলাইন ক্যাসিনো ব্যবসার বিস্তার ঘটিয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে ঠাকুরগাঁও সদর থানায় জুয়া প্রতিরোধ আইন-২০২৬ অনুযায়ী মামলা করা হয়েছে। অনলাইন জুয়া ও ক্যাসিনো কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্তে ডিবি পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।