ব্রাজিলের রাষ্ট্রক্ষমতায় প্রত্যাবর্তন: লুলা দা সিলভার জয়কে গণতন্ত্রের সুরক্ষা হিসেবে দেখছেন সমর্থকরা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬ । ১০:১৪ পূর্বাহ্ণ

ব্রাজিলের রাজনীতিতে এক অভাবনীয় পালাবদলের সাক্ষী হলো বিশ্ব। হাড্ডাহাড্ডি লড়াই ও তীব্র উত্তেজনার মধ্য দিয়ে শেষ হওয়া সাধারণ নির্বাচনের ফলাফলে শেষ পর্যন্ত বিজয় ছিনিয়ে নিয়েছেন বামপন্থী নেতা লুলা দা সিলভা। দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে আরেকটি বড় সাফল্যের মুকুট পরলেন তিনি। এবারের নির্বাচনটি ছিল অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। বিশেষ করে দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণে ব্রাজিলের রাজনৈতিক মেরুকরণ ছিল স্পষ্ট।

নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণার পর বিজয়ী ভাষণে লুলা দা সিলভা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। তবে তার ভাষণের মূল সুর ছিল রাজনৈতিক ঐক্যের বার্তা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ওপর গুরুত্বারোপ করা। সমর্থকদের সামনে দাঁড়িয়ে তিনি সরাসরি উল্লেখ করেছেন যে, এই জয় কেবল তার ব্যক্তিগত কোনো অর্জন নয়; বরং এটি ব্রাজিলের দীর্ঘস্থায়ী গণতন্ত্রকে সুরক্ষিত করার পথে একটি বড় পদক্ষেপ। তার এই বক্তব্যের মাধ্যমে মূলত গত কয়েক বছরে দেশটির রাজনীতিতে যে বিভাজন তৈরি হয়েছিল, তা কাটিয়ে ওঠার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

নির্বাচনে লুলার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন কট্টর ডানপন্থী নেতা ফ্লাভিও বলসোনারো। ভোটের লড়াইয়ে তাদের মধ্যে ব্যবধান ছিল খুবই সামান্য। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই সামান্য ব্যবধানই প্রমাণ করে যে ব্রাজিল বর্তমানে আদর্শগতভাবে কতটা দ্বিধাবিভক্ত। একদিকে বলসোনারোর জাতীয়তাবাদী ও কট্টরপন্থী মতাদর্শ, অন্যদিকে লুলার সামাজিক ও কল্যাণমুখী রাজনীতির আদর্শ—এই দুইয়ের লড়াইয়ে দেশটির ভোটাররা চূড়ান্তভাবে লুলার ওপর আস্থা রেখেছেন।

নির্বাচনী প্রচারণার সময় থেকেই লুলা দা সিলভা বারবার দেশটির সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাধীনতা ও স্বচ্ছতার ওপর জোর দিয়েছেন। তার সমর্থকদের মতে, লুলার এই প্রত্যাবর্তন দক্ষিণ আমেরিকার এই বিশাল দেশটিতে এক নতুন আশার সঞ্চার করেছে। তবে বিজয়ী হওয়ার পরপরই তার সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো বিভক্ত জাতিকে একত্রিত করা। তার আগের মেয়াদের অভিজ্ঞতা এবং সাধারণ মানুষের মাঝে তার জনপ্রিয়তা তাকে এই কঠিন সময়ে পথ দেখাতে সহায়তা করবে বলে মনে করছেন তার দলের নীতিনির্ধারকরা।

লুলার বিজয়ী ভাষণ শোনার জন্য রাজধানীসহ দেশটির বিভিন্ন শহরে অসংখ্য মানুষ জড়ো হয়েছিলেন। তাদের স্লোগান ও উচ্ছ্বাসে মুখরিত ছিল রাজপথ। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক ও রাজনৈতিক মহলের দৃষ্টি ছিল এই নির্বাচনের দিকে, কারণ ব্রাজিলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি দক্ষিণ আমেরিকার পুরো ভূ-রাজনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলে। লুলার এই বিজয় সে কারণেই বিশ্বজুড়ে সমাদৃত ও আলোচিত হচ্ছে।

এখন অপেক্ষা নতুন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের। লুলার সামনে এখন বড় দায়িত্ব হলো নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন করা এবং দেশজুড়ে বিরাজমান রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা দূর করা। ব্রাজিলের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে লুলার এই দ্বিতীয় ইনিংস কতটা সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলে, তা দেখার জন্য এখন অপেক্ষায় রয়েছে পুরো বিশ্ব।

  • সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মোঃ রাসেল মিয়া

প্রিন্ট করুন