ব্রাজিলের ক্ষমতায় ফিরলেন লুলা, নাটকীয় জয়ের মধ্য দিয়ে চতুর্থ মেয়াদের সূচনা
ব্রাজিলের রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। দীর্ঘ টানাপোড়েন এবং তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার অবসান ঘটিয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে নাটকীয় জয় তুলে নিয়েছেন লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা। দেশটির নির্বাচনী ফলাফল ঘোষণার পর এটি নিশ্চিত হয়েছে যে, তিনি চতুর্থবারের মতো ব্রাজিলের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে ফিরছেন। লুলার এই বিজয় কেবল তার ব্যক্তিগত রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের জন্য বড় অর্জন নয়, বরং এটি লাতিন আমেরিকার সর্ববৃহৎ দেশটির রাজনৈতিক দৃশ্যপটেও বড় ধরণের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
নির্বাচনী ফলাফল পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ব্রাজিলের ভোটাররা লুলার প্রতি তাদের আস্থা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। ভোটের লড়াইটি ছিল অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক। প্রচারণার শুরু থেকেই দুই মেরুর রাজনীতিতে বিভক্ত ছিল ব্রাজিল। একদিকে বর্তমান রাষ্ট্রক্ষমতার ধারা বজায় রাখার আকাঙ্ক্ষা, অন্যদিকে পুরোনো অভিজ্ঞ নেতৃত্বকে ফিরিয়ে আনার লড়াই। শেষ পর্যন্ত লুলার নীতি এবং তার অতীত উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের ওপর ভিত্তি করে সাধারণ মানুষ তার পক্ষে রায় দিয়েছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। এবারের নির্বাচনের আগে দেশটির রাজনৈতিক পরিমণ্ডল বেশ উত্তপ্ত ছিল। বিভিন্ন জনমত জরিপে ভিন্ন ভিন্ন চিত্র ফুটে উঠলেও নির্বাচনের দিন সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণের হার ছিল বেশ উল্লেখযোগ্য।
লুলা দা সিলভার এই ফেরা বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। এর আগে তিনি তিন মেয়াদে ব্রাজিলের রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। সেই সময়ে তার গৃহীত বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি এবং দারিদ্র্য বিমোচন নীতি দেশটিতে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল। আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ব্রাজিলের অবস্থানকে তিনি নতুন উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিলেন। এবার চতুর্থবারের মতো ক্ষমতায় আসার সুযোগ পাওয়ায় তিনি পুনরায় সেই ধারা অব্যাহত রাখতে পারবেন কি না, তা নিয়ে দেশি-বিদেশি সংবাদমাধ্যম ও পর্যবেক্ষকদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল কাজ করছে।
নির্বাচন পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় দেশটির বিভিন্ন প্রান্তে লুলার সমর্থকরা উল্লাসে ফেটে পড়েন। যদিও বর্তমান রাজনৈতিক মেরুকরণ বেশ স্পষ্ট, তবুও লুলার এই জয় একটি বড় অংশকে আশাবাদী করেছে। তবে তাকে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই বিভিন্ন অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ এবং সামাজিক বিভাজন দূর করার কঠিন কাজটির মুখোমুখি হতে হবে। ব্রাজিল বিশ্বের অষ্টম অর্থনীতির দেশ হওয়ার কারণে লুলার এই নতুন মেয়াদের নীতিগুলো বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে লুলা দা সিলভা শপথ গ্রহণ করবেন এবং তার নতুন মন্ত্রিসভা গঠন করবেন। ব্রাজিলের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি অনুযায়ী তার জন্য প্রথম বড় চ্যালেঞ্জ হবে জাতীয় ঐকমত্য গড়ে তোলা। ভোটের ব্যবধান খুব বেশি না হওয়ায় বিরোধী পক্ষগুলোর সঙ্গে সমন্বয় সাধনের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। সব মিলিয়ে, লুলার এই নাটকীয় প্রত্যাবর্তন ব্রাজিলের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে থাকবে। গণতন্ত্রের চর্চাকে আরও বেগবান করতে তিনি এবার কতটা সফল হন, সেটিই এখন দেখার অপেক্ষা।




আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]