খুঁজুন
, ,

৩৪ বছরে পদার্পণ করলো জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ১:১৫ অপরাহ্ণ
৩৪ বছরে পদার্পণ করলো জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়

বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষার বিশাল এক ক্ষেত্র জুড়ে থাকা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় আজ সাফল্যের ৩৪ বছর পূর্ণ করলো। ১৯৯২ সালের ২০ অক্টোবর এই পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু হয়েছিল, যা আজ দেশের শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার অন্যতম প্রধান ভরসার জায়গা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ৩৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিশেষ আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিবসটি উদযাপন করছে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে মূল ক্যাম্পাসসহ এর আওতাধীন নগর কার্যালয়গুলোতে বর্ণাঢ্য সাজসজ্জার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ক্যাম্পাসের প্রধান ভবনগুলোতে শোভা পাচ্ছে শুভেচ্ছা সংবলিত ব্যানার ও ফেস্টুন। দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া, বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতের আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে প্রতিষ্ঠানের উত্তরোত্তর সাফল্য ও সমৃদ্ধি কামনা করা হবে।

দেশের উচ্চশিক্ষার প্রসারে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা অনস্বীকার্য। প্রতিষ্ঠার পর থেকে দীর্ঘ তিন দশকের বেশি সময় ধরে এটি লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থীকে উচ্চশিক্ষার সুযোগ করে দিয়েছে। গ্রাম ও শহরের সাধারণ পরিবারের শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন পূরণে এই বিশ্ববিদ্যালয়টি এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে কাজ করছে। প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়টি তার নিজস্ব লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে এগিয়ে চলছে, যেখানে দেশের প্রতিটি প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা সরকারি ও বেসরকারি কলেজগুলোকে একটি প্রশাসনিক কাঠামোর মধ্যে এনে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে আজ পর্যন্ত অনেক চড়াই-উতরাই পেরিয়ে এটি আজকের অবস্থানে এসে পৌঁছেছে। বর্তমানে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে সারা দেশে অসংখ্য অধিভুক্ত কলেজ রয়েছে, যেখানে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে লাখো শিক্ষার্থী তাদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা গ্রহণ করছেন। সময়ের সাথে সাথে ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ, ভর্তি প্রক্রিয়া এবং প্রশাসনিক কাজের আধুনিকায়ন করায় শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি অনেক কমেছে।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই দিনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সংশ্লিষ্ট সকলেই আনন্দঘন পরিবেশে দিনটি উদযাপন করছেন। তবে শুধু আনন্দ আয়োজনই নয়, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়টি তাদের বিগত দিনের অর্জনগুলো পর্যালোচনা করার পাশাপাশি আগামীর চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেছে। দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও যুগোপযোগী করা এবং বিশ্বমানের শিক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে তারা এগিয়ে যেতে চায়।

এই বিশেষ দিনে বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট সকলেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে শুভেচ্ছা বিনিময় করছেন। ক্যাম্পাসের আঙিনায় শিক্ষার্থীদের পদচারণা এবং প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আমেজ এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি করেছে। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই আনন্দঘন মুহূর্ত দেশের উচ্চশিক্ষা খাতে নতুন প্রেরণা যোগাবে বলে প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাংলাদেশি রোগীদের জাপানে চিকিৎসার সুযোগ সহজ করতে সমঝোতা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ২:১৫ অপরাহ্ণ
   
বাংলাদেশি রোগীদের জাপানে চিকিৎসার সুযোগ সহজ করতে সমঝোতা

বাংলাদেশি রোগীদের জাপানে চিকিৎসা নেওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করা এবং উন্নত চিকিৎসাসেবার সুযোগ বাড়ানোর লক্ষ্যে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট সংগঠনের মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। বাংলাদেশ মেডিক্যাল ট্যুরিজম অ্যাসোসিয়েশন (বিএমটিএ) এবং জাপানের ইন্টারন্যাশনাল মেডিক্যাল কো-অর্ডিনেটর কোম্পানিজ অ্যাসোসিয়েশন (জিমকা) এ সমঝোতায় যুক্ত হয়েছে। মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে স্মারকটি সই করা হয়।

এই সমঝোতার মূল লক্ষ্য বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে চিকিৎসা পর্যটন এবং চিকিৎসাসেবা-সংক্রান্ত সহযোগিতা বাড়ানো। বিশেষ করে বাংলাদেশি রোগীদের জাপানে চিকিৎসা গ্রহণের পথ আরও সহজ করার বিষয়টি উদ্যোগের কেন্দ্রে রয়েছে। উন্নত চিকিৎসাসেবার সুযোগ বাড়ানোর কথাও এর উদ্দেশ্যের মধ্যে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে উদ্যোগটি বাস্তবে কীভাবে পরিচালিত হবে, তা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর সমন্বয় ও পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর।

বিদেশে চিকিৎসা নিতে আগ্রহী রোগীর জন্য চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ, প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়া এবং চিকিৎসার পরিকল্পনা বোঝা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। দুই সংগঠনের সমঝোতা এ ধরনের যোগাযোগে সহায়তার একটি কাঠামো তৈরির সম্ভাবনা তৈরি করে। তবে স্মারক সই হওয়া নিজে থেকেই কোনো নির্দিষ্ট রোগীর চিকিৎসা নিশ্চিত করে না। রোগীর প্রয়োজন, চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের সিদ্ধান্ত এবং সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করেই ব্যক্তিগত চিকিৎসার ব্যবস্থা নির্ধারিত হবে।

চিকিৎসা পর্যটন বলতে সাধারণভাবে নিজ দেশের বাইরে গিয়ে চিকিৎসা গ্রহণের বিষয়টি বোঝায়। এ ক্ষেত্রে রোগী ও চিকিৎসাসেবা প্রদানকারীর মধ্যে তথ্যের আদান-প্রদান এবং সমন্বয় গুরুত্বপূর্ণ। বিএমটিএ ও জিমকার মধ্যে সমঝোতার ঘোষিত উদ্দেশ্য সেই সহযোগিতাকে এগিয়ে নেওয়া। দুই দেশের সংগঠনগুলোর মধ্যে যোগাযোগ বাড়লে রোগীদের জন্য জাপানে চিকিৎসা নেওয়ার সম্ভাব্য পথ সম্পর্কে তথ্য পাওয়া সহজ হতে পারে—এটাই উদ্যোগটির প্রত্যাশিত দিক।

তবে সমঝোতার ফলে কোন কোন চিকিৎসাক্ষেত্রে সহযোগিতা হবে, রোগী বাছাই বা যোগাযোগের পদ্ধতি কী হবে, কিংবা চিকিৎসার খরচ ও সময়সংক্রান্ত কোনো ব্যবস্থা থাকবে কি না—এসব বিষয়ে ঘোষিত সংক্ষিপ্ত তথ্যে বিস্তারিত উল্লেখ নেই। তাই স্মারকটিকে চিকিৎসার নিশ্চয়তা, নির্দিষ্ট সুবিধা বা নির্ধারিত সেবামূল্যের ঘোষণা হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। এর তাৎপর্য আপাতত দুই সংগঠনের মধ্যে সহযোগিতা গড়ে তোলার আনুষ্ঠানিক উদ্যোগ হিসেবে বোঝা যায়।

এ ধরনের উদ্যোগ কার্যকর করতে রোগীদের কাছে নির্ভরযোগ্য ও স্পষ্ট তথ্য পৌঁছানো জরুরি। চিকিৎসার ধরন, সম্ভাব্য ব্যয়, প্রয়োজনীয় নথি, যোগাযোগের ধাপ এবং চিকিৎসা-পরবর্তী ব্যবস্থার মতো বিষয় সম্পর্কে পরিষ্কার নির্দেশনা থাকলে রোগীরা সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে নিজেদের পরিস্থিতি বিবেচনা করতে পারবেন। একই সঙ্গে কোনো সেবা বা চিকিৎসার নিশ্চয়তা নিয়ে ভুল প্রত্যাশা তৈরি না করাও গুরুত্বপূর্ণ। সমঝোতার বাস্তব প্রয়োগে এসব তথ্য কীভাবে দেওয়া হবে, তা ভবিষ্যৎ সহযোগিতার ক্ষেত্রে তাৎপর্যপূর্ণ হবে।

বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে চিকিৎসা পর্যটন-সংক্রান্ত সহযোগিতা বাড়ানোর এই উদ্যোগের পরবর্তী অগ্রগতি নির্ভর করবে সমঝোতার লক্ষ্যকে বাস্তব কার্যক্রমে রূপ দেওয়ার ওপর। দুই সংগঠনের যোগাযোগ ও সমন্বয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশি রোগীদের জন্য জাপানে চিকিৎসা গ্রহণের প্রক্রিয়া সহজ করার যে উদ্দেশ্য জানানো হয়েছে, তার বাস্তব ফল দেখতে হলে রোগীকেন্দ্রিক তথ্য ও সহায়তা কতটা কার্যকরভাবে দেওয়া হয়, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। মঙ্গলবারের অনুষ্ঠানে স্মারক সইয়ের মধ্য দিয়ে সেই সহযোগিতার একটি আনুষ্ঠানিক সূচনা হলো।

দেশে ধর্মের নামে যেন কোনো বিভেদ না থাকে: প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ২:১৫ অপরাহ্ণ
   
দেশে ধর্মের নামে যেন কোনো বিভেদ না থাকে: প্রধানমন্ত্রী

ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে মানুষের মধ্যে বিভেদ তৈরি না করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, প্রত্যেকে নিজ নিজ ধর্ম পালন করলেও দেশের মানুষের অভিন্ন পরিচয় বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে। মঙ্গলবার রাতে চট্টগ্রামের রহমতগঞ্জের জেএম সেন পূজামণ্ডপে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় শেষে তিনি এ কথা বলেন।

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্যের মূল কথা ছিল, ধর্ম মানুষের ব্যক্তিগত বিশ্বাস ও চর্চার বিষয়; কিন্তু নাগরিক পরিচয়ের ক্ষেত্রে সবাই বাংলাদেশি। ধর্মের ভিন্নতাকে কেন্দ্র করে যেন দেশে কোনো বিভাজন না হয়, সে প্রত্যাশাও তুলে ধরেন তিনি।

পূজামণ্ডপে গিয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে কুশল বিনিময়ের মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তাঁদের উৎসবের শুভেচ্ছা জানান। এ সময় তাঁর বক্তব্যে ধর্মীয় পরিচয় ও জাতীয় পরিচয়ের পার্থক্য স্পষ্টভাবে উঠে আসে। ধর্ম যার যার নিজস্ব বিষয়—এই বক্তব্যের পাশাপাশি তিনি দেশের নাগরিক হিসেবে সবার পরিচয়কে এক জায়গায় দেখার কথা বলেন।

ধর্মীয় উৎসবের সময়ে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় এবং তাঁদের প্রতি সৌহার্দ্য প্রকাশের তাৎপর্য রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যেও সেই পারস্পরিক সম্মান ও অভিন্ন নাগরিক পরিচয়ের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। তিনি ধর্ম পালনের স্বাতন্ত্র্য স্বীকার করে বিভেদ এড়িয়ে চলার কথা বলেছেন; অর্থাৎ বিশ্বাসের ভিন্নতা যেন নাগরিকদের মধ্যে দূরত্বের কারণ না হয়, সেই বার্তাই দিয়েছেন।

বক্তব্যের আরেক পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী ১৯৭১ সালের প্রসঙ্গ তোলেন। তবে প্রকাশিত বক্তব্যের ওই অংশ অসম্পূর্ণ থাকায় তিনি মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গে ঠিক কী বলেছেন, তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। তাই তাঁর বক্তব্যের ওই অংশের বিস্তারিত এখানে উল্লেখ করা হলো না। নিশ্চিতভাবে জানা যায়, তিনি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় শুভেচ্ছা জানিয়েছেন এবং ধর্মীয় বিভেদ না রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।

চট্টগ্রামের রহমতগঞ্জে অবস্থিত জেএম সেন পূজামণ্ডপে এই কুশল বিনিময় অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সেখানে কারা উপস্থিত ছিলেন, তাঁদের পরিচয় কিংবা অনুষ্ঠানের অন্য কোনো বক্তব্য সম্পর্কে পাওয়া তথ্য থেকে বিস্তারিত জানা যায়নি। ফলে এ বিষয়ে অনুমানভিত্তিক কোনো তথ্য যোগ করা হচ্ছে না।

ধর্মীয় পরিচয় মানুষের ব্যক্তিগত বিশ্বাসের সঙ্গে যুক্ত, আর নাগরিক পরিচয় দেশের সঙ্গে সবার সম্পর্ককে নির্দেশ করে—প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে এই দুই দিকই এসেছে। তাঁর আহ্বান অনুযায়ী, ধর্মীয় বিশ্বাসের পার্থক্যকে সম্মান করার পাশাপাশি দেশের মানুষের পারস্পরিক সম্পর্কের ভিত্তি হওয়া উচিত অভিন্ন নাগরিক পরিচয়। বক্তব্যটি ছিল ধর্মের কারণে বিভক্তি নয়, বরং একই দেশের নাগরিক হিসেবে একসঙ্গে থাকার পক্ষে।

শারদীয় শুভেচ্ছা জানাতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন এবং তাঁদের কুশল জানতে চান। এ ধরনের শুভেচ্ছা বিনিময়ের মধ্য দিয়ে উৎসবের সময়ে সম্প্রদায়গুলোর মধ্যে যোগাযোগ ও সৌজন্যের প্রকাশ ঘটে। তবে এই আয়োজনের পরিধি, অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা কিংবা সেখানে কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে কি না—এসব বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে তাই সবচেয়ে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে দুটি বিষয়: ধর্ম যার যার নিজস্ব বিশ্বাসের ক্ষেত্র, আর বাংলাদেশের নাগরিক পরিচয় সবার জন্য অভিন্ন। ধর্মীয় পরিচয়কে কেন্দ্র করে বিভেদ এড়িয়ে চলার আহ্বান জানিয়ে তিনি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উৎসবের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। চট্টগ্রামের জেএম সেন পূজামণ্ডপে তাঁর এই বার্তাই ছিল কুশল বিনিময় ও বক্তব্যের কেন্দ্রীয় বিষয়।

স্থানীয় নির্বাচনে গ্রহণযোগ্য ও বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনাময় প্রার্থী বাছাইয়ের আহ্বান তারেক রহমানের

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ২:১৪ অপরাহ্ণ
   
স্থানীয় নির্বাচনে গ্রহণযোগ্য ও বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনাময় প্রার্থী বাছাইয়ের আহ্বান তারেক রহমানের

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্যতা এবং ভোটে জয়ের সক্ষমতাকে গুরুত্ব দিতে নেতাকর্মীদের বলেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি জানান, বর্তমান সরকার অতীতের ফ্যাসিস্ট সরকারের মতো নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করবে না। এ অবস্থায় নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে এমন প্রার্থী বেছে নেওয়ার আহ্বান জানান, যিনি জনসমর্থন নিয়ে নির্বাচনে জয়ী হতে পারবেন।

২১ অক্টোবর রাতে চট্টগ্রামের র‍্যাডিসন ব্লু চট্টগ্রাম বে-ভিউয়ে বিএনপির এক সাংগঠনিক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ বার্তা দেন। স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে দলীয় প্রস্তুতি ও প্রার্থী নির্বাচনের প্রসঙ্গেই তার বক্তব্য আসে। তবে কোন কোন স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন আগে হতে পারে, প্রার্থী মনোনয়নের সময়সূচি কী হবে কিংবা বাছাইয়ের আনুষ্ঠানিক পদ্ধতি কী—এসব বিষয়ে বক্তব্যের সংক্ষিপ্ত বিবরণে নির্দিষ্ট তথ্য নেই।

তারেক রহমানের বক্তব্যে প্রার্থী বাছাইয়ের দুটি দিক স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে: সংশ্লিষ্ট এলাকায় গ্রহণযোগ্যতা এবং জনগণের ভোটে জয়ের সামর্থ্য। অর্থাৎ কেবল দলীয় পরিচয় বা সাংগঠনিক অবস্থান নয়, ভোটারদের সমর্থন পাওয়ার সক্ষমতাকেও সিদ্ধান্তের বিবেচনায় রাখার কথা বলেছেন তিনি। একই সঙ্গে নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে মনোনয়ন নিয়ে বিভক্তি এড়ানোর প্রয়োজনীয়তার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তবে প্রার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে এসব মানদণ্ড কীভাবে যাচাই করা হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি।

নির্বাচনে সরকারের হস্তক্ষেপ না করার কথা বলার মধ্য দিয়ে তারেক রহমান নির্বাচন পরিচালনায় সরকারের ভূমিকা সম্পর্কেও অবস্থান তুলে ধরেছেন। তিনি অতীতের সরকারের সঙ্গে বর্তমান সরকারের আচরণের তুলনা করে বলেছেন, স্থানীয় নির্বাচনেও আগের মতো হস্তক্ষেপ করা হবে না। বক্তব্যে এই আশ্বাসের বাইরে নির্বাচন পরিচালনা, প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা বা অন্য কোনো নির্দিষ্ট পদক্ষেপের বিবরণ দেওয়া হয়নি। তাই তাঁর বক্তব্যের মূল বিষয় হিসেবে সরকারি হস্তক্ষেপ না করার ঘোষণা এবং দলীয়ভাবে গ্রহণযোগ্য প্রার্থী বেছে নেওয়ার নির্দেশনাই সামনে এসেছে।

স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থী মনোনয়ন রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। এ নির্বাচনে ভোটাররা নিজ নিজ এলাকার প্রতিনিধিদের বেছে নেন। তারেক রহমানের বক্তব্যে তাই দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি ভোটারদের পছন্দ ও সমর্থনকে প্রার্থী বাছাইয়ের সময় গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান রয়েছে। তবে তাঁর বক্তব্য থেকে কোনো নির্দিষ্ট এলাকার সম্ভাব্য প্রার্থী, মনোনয়নপ্রত্যাশী কিংবা নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতার পরিস্থিতি সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায়নি। এসব বিষয়ে কোনো নাম বা সম্ভাবনার কথা নিশ্চিতভাবে বলার অবকাশ নেই।

সাংগঠনিক সভায় দেওয়া বার্তায় ঐক্যের বিষয়টিও প্রাধান্য পেয়েছে। নেতাকর্মীরা একসঙ্গে সিদ্ধান্ত নিয়ে গ্রহণযোগ্য প্রার্থী বাছাই করবেন—এমন আহ্বানই জানিয়েছেন তিনি। তবে ঐক্য প্রতিষ্ঠায় কী ধরনের সাংগঠনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে, সভায় কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে কি না, কিংবা মনোনয়ন নিয়ে মতপার্থক্য থাকলে তা কীভাবে মেটানো হবে—এসব তথ্য প্রকাশিত বিবরণে উল্লেখ নেই। ফলে বক্তব্যের এই অংশকে নেতাকর্মীদের প্রতি রাজনৈতিক আহ্বান হিসেবেই তুলে ধরা যায়; এর বাইরে কোনো নির্দিষ্ট সিদ্ধান্তের কথা বলা যায় না।

তারেক রহমানের বক্তব্যে স্থানীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দলের সম্ভাব্য প্রার্থী বাছাইয়ের দিকনির্দেশনা রয়েছে, কিন্তু নির্বাচন কবে হবে বা কোন পর্যায়ের নির্বাচন নিয়ে দলীয় প্রস্তুতি চলছে, তা নির্দিষ্ট করা হয়নি। একইভাবে প্রার্থী বাছাইয়ের জন্য জরিপ, কমিটি বা অন্য কোনো যাচাইব্যবস্থার কথা তিনি বলেছেন—এমন তথ্যও নেই। তাঁর ঘোষণার তাৎপর্য তাই এই পর্যায়ে সীমিত: সরকার হস্তক্ষেপ করবে না বলে জানিয়েছেন এবং দলীয় নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে জনসমর্থনসম্পন্ন প্রার্থী বেছে নিতে বলেছেন।

চট্টগ্রামের সভায় দেওয়া এই বার্তা স্থানীয় নির্বাচনের আগে দলীয় কর্মীদের জন্য একটি রাজনৈতিক নির্দেশনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এর বাস্তব প্রয়োগ নির্ভর করবে দল কীভাবে প্রার্থী বাছাই করে এবং সংশ্লিষ্ট এলাকায় ভোটারদের গ্রহণযোগ্যতা কীভাবে বিবেচনায় নেয়, তার ওপর। তবে এ বিষয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বা সিদ্ধান্তের কোনো অতিরিক্ত বিবরণ পাওয়া যায়নি। আপাতত তারেক রহমানের বক্তব্যের কেন্দ্রীয় আহ্বান হলো—নেতাকর্মীরা যেন বিভক্ত না হয়ে এমন প্রার্থীকে বেছে নেন, যিনি জনগণের ভোটে জয়ী হওয়ার মতো গ্রহণযোগ্যতা রাখেন।

সর্বশেষ
বাংলাদেশি রোগীদের জাপানে চিকিৎসার সুযোগ সহজ করতে সমঝোতা দেশে ধর্মের নামে যেন কোনো বিভেদ না থাকে: প্রধানমন্ত্রী স্থানীয় নির্বাচনে গ্রহণযোগ্য ও বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনাময় প্রার্থী বাছাইয়ের আহ্বান তারেক রহমানের ৩৪ বছরে পদার্পণ করলো জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় পিএসজির বিপক্ষে রক্ষণভাগের দুর্বলতায় মৌসুমের প্রথম হার বার্সেলোনার চ্যাম্পিয়নস লিগে গোল উৎসব: ফোডেনের হ্যাটট্রিকে বিধ্বস্ত এইকে এথেন্স অ্যানফিল্ডে লিভারপুলের রোমাঞ্চকর প্রত্যাবর্তন: পিছিয়ে পড়েও জয় ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে বিরোধী রাজনৈতিক নেতাদের ওপর গোয়েন্দা নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন তুললেন হাসনাত আবদুল্লাহ প্রবাসীদের রেমিট্যান্সে রাষ্ট্র চললেও তাদের অবহেলা গ্রহণযোগ্য নয়: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী হাজারীবাগে কুরিয়ার সার্ভিসের কার্যালয়ে ভাঙচুর ও চাঁদাবাজির অভিযোগ
Advertisement