খুঁজুন
, ,

শিশুর কথা বলা: স্বাভাবিক ও অস্বাভাবিক উচ্চারণের ফারাক বোঝার উপায়

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:১৪ অপরাহ্ণ
শিশুর কথা বলা: স্বাভাবিক ও অস্বাভাবিক উচ্চারণের ফারাক বোঝার উপায়

একটি শিশুর কথা বলা শেখার পর্যায়টি বাবা-মায়ের জন্য যেমন আনন্দের, তেমনি অনেক ক্ষেত্রে চিন্তারও কারণ হয়ে দাঁড়ায়। শিশুরা যখন নতুন নতুন শব্দ শেখে, তখন সেগুলোর উচ্চারণ সব সময় নির্ভুল হয় না। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, একটি নির্দিষ্ট বয়সের শিশু কিছু কিছু বর্ণ বা শব্দ বিকৃত করে উচ্চারণ করছে। অভিভাবকরা সাধারণত এ ধরনের পরিস্থিতি দেখে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন যে, তাদের সন্তান হয়তো কথা বলার ক্ষেত্রে কোনো প্রতিবন্ধকতার শিকার হচ্ছে। তবে শিশু বিশেষজ্ঞ ও ভাষা নিয়ে কাজ করা বিশেষজ্ঞদের মতে, কথা বলার প্রাথমিক পর্যায়ে শিশুরা ভুল করবে এটাই স্বাভাবিক। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বেশিরভাগ শিশু নিজেরাই ধীরে ধীরে সঠিকভাবে শব্দ উচ্চারণ করতে শিখে যায়।

শিশুর ভাষা বিকাশের যাত্রা শুরু হয় একেবারে জন্মের পর থেকে। প্রথমে তারা শুধু কান্না বা অস্পষ্ট আওয়াজ দিয়ে মনের ভাব প্রকাশ করে। এরপর ধীরে ধীরে তারা একেকটি শব্দের অর্থ বুঝতে শেখে এবং সেগুলো অনুকরণ করতে চেষ্টা করে। এই অনুকরণ প্রক্রিয়ার মধ্যেই ভুল উচ্চারণের সূত্রপাত হয়। শিশুরা সাধারণত বড়দের মুখ থেকে শব্দ শুনে তা আয়ত্ত করে। তাদের বাকযন্ত্র তখনও পুরোপুরি তৈরি থাকে না, যার ফলে উচ্চারণে জড়তা বা ত্রুটি থাকা খুবই সাধারণ একটি ঘটনা। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সময়ের সাথে সাথে শিশুর বাকযন্ত্র পরিপক্ক হয় এবং উচ্চারণে স্পষ্টতা আসে। তাই কোনো শিশু একটি নির্দিষ্ট শব্দ বা বর্ণ ভুলভাবে উচ্চারণ করলেই তাকে সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করার প্রয়োজন নেই।

তবে মা-বাবার মনে প্রশ্ন আসা স্বাভাবিক যে, কখন এই ভুল উচ্চারণকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভাষা বিকাশের একটি নির্দিষ্ট গতিধারা রয়েছে। সাধারণত দুই বছর বয়সের দিকে শিশুরা ছোট ছোট বাক্য তৈরি করতে শুরু করে এবং অপরিচিত ব্যক্তিরাও তাদের কথা অনেকটা বুঝতে পারে। যদি তিন বা চার বছর বয়সের পরেও শিশুর কথা অধিকাংশ মানুষ বুঝতে না পারে, তবে সেটি ভাববার বিষয় হতে পারে। এছাড়া যদি দেখা যায় যে, শিশুটি বয়সের তুলনায় অনেক কম শব্দ জানে, নির্দেশ বুঝতে সমস্যা হচ্ছে অথবা কথা বলার সময় প্রচণ্ড অস্বস্তিতে ভুগছে, তবে দেরি না করে অভিজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।

শিশুর কথা বলায় স্পষ্টতা আনার জন্য পরিবেশের ভূমিকা অনেক বড়। অভিভাবকদের উচিত শিশুর সাথে নিয়মিত কথা বলা। তাদের সঙ্গে খেলার ছলে ছোট ছোট গল্প করা বা ছড়া শোনানোর মাধ্যমে ভাষার দক্ষতা বাড়ানো সম্ভব। শিশু যখন ভুল শব্দ বলবে, তখন তাকে সরাসরি ধমক না দিয়ে বা ভুল ধরিয়ে না দিয়ে সঠিক শব্দটি বারবার তার সামনে উচ্চারণ করা যেতে পারে। এতে শিশু সঠিক উচ্চারণটি বারবার শোনার সুযোগ পাবে এবং একসময় সে নিজেই সেটি আয়ত্ত করবে। জোর করে বা চাপের মুখে কথা বলাতে গেলে অনেক সময় শিশুর মধ্যে জড়তা তৈরি হতে পারে, যা কথা বলাকে আরও জটিল করে তোলে।

একটি বিষয় মনে রাখা প্রয়োজন যে, প্রতিটি শিশুর বিকাশের গতি আলাদা। কেউ হয়তো খুব দ্রুত কথা বলতে শিখে যায়, আবার কেউ সময় নেয়। তুলনামূলক বিচার করে নিজের সন্তানকে পিছিয়ে আছে ভাবার কোনো যৌক্তিক কারণ নেই। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, পারিবারিকভাবে শিশুর সঙ্গে কথা বলার চর্চা কম থাকলে বা দীর্ঘক্ষণ ইলেকট্রনিক ডিভাইসের সঙ্গে সময় কাটালে শিশুর ভাষা বিকাশে কিছুটা ধীরগতি আসতে পারে। তাই প্রযুক্তির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে শিশুর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বৃদ্ধি করা জরুরি।

পরিশেষে, শিশুর কথা বলা বা ভাষা শেখার বিষয়টি ধৈর্য ও অভ্যাসের বিষয়। অভিভাবক হিসেবে আপনার দায়িত্ব হলো শিশুকে কথা বলার জন্য একটি নিরাপদ ও উৎসাহব্যঞ্জক পরিবেশ দেওয়া। যদি দীর্ঘ পর্যবেক্ষণের পর মনে হয় যে শিশুর ভাষার উন্নতি একেবারেই হচ্ছে না, তবেই কেবল চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। অহেতুক আতঙ্কিত না হয়ে ধৈর্য ধরলে এবং সঠিক দিকনির্দেশনা মেনে চললে বেশিরভাগ শিশুই সময়ের ব্যবধানে কথা বলার জড়তা কাটিয়ে ওঠে এবং স্বাভাবিকভাবে বড় হয়ে ওঠে। মনে রাখবেন, শৈশবে ভাষা বিকাশের ক্ষেত্রে একটুখানি সচেতনতা ও মমতা শিশুর ভবিষ্যতের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

জ্বর কমার পর ডেঙ্গুর আসল বিপদ: অসতর্কতায় ঝুঁকি বাড়ছে বহুগুণ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:১৪ অপরাহ্ণ
   
জ্বর কমার পর ডেঙ্গুর আসল বিপদ: অসতর্কতায় ঝুঁকি বাড়ছে বহুগুণ

ডেঙ্গু জ্বরের চরিত্র প্রতিনিয়ত বদলে যাচ্ছে। এক সময় সাধারণ জ্বর হিসেবে পরিচিত থাকলেও বর্তমানে এর ভয়াবহতা আগের চেয়ে অনেক বেশি অনুভূত হচ্ছে। চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেঙ্গুর ধরন সম্পর্কে সাধারণ মানুষের ভুল ধারণা এখনো রয়ে গেছে, যা অনেক সময় রোগীর জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায়। অনেকে মনে করেন জ্বর কমে যাওয়া মানেই রোগী সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠেছেন, কিন্তু প্রকৃত অর্থে এই সময় থেকেই ডেঙ্গুর মূল ঝুঁকি বা ক্রিটিক্যাল ফেজ শুরু হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায়, সাধারণত অসুস্থতার তৃতীয় দিন থেকে সপ্তম দিনের মধ্যবর্তী সময়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়ে শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিক হয়ে এলেও ভেতরের শারীরিক জটিলতা তৈরি হতে পারে। একেই চিকিৎসকরা ক্রিটিক্যাল ফেজ বা সংকটকাল বলে অভিহিত করেন। জ্বর চলে যাওয়ার পর রোগী যখন মনে করেন তিনি সুস্থ, তখনই শরীরে রক্তচাপ কমে যাওয়া বা রক্তনালী থেকে পানি বেরিয়ে আসার মতো পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। এই পর্যায়ে দ্রুত সঠিক চিকিৎসা না নিলে রোগীর অবস্থা দ্রুত অবনতির দিকে যেতে পারে।

ডেঙ্গুর এই পরিবর্তিত পরিস্থিতির দিকে নজর রেখে বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরেই জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর জোর দিয়ে আসছেন। মশাবাহিত এই রোগের প্রকোপ নির্দিষ্ট ঋতুতে সীমাবদ্ধ থাকছে না। বছরের বিভিন্ন সময়ে, বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমের পরবর্তী মাসগুলোতে মশা প্রজনন ও ডেঙ্গুর বিস্তার ব্যাপক আকার ধারণ করে। আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসের মতো মাসগুলোতে ডেঙ্গুর সংক্রমণ ভয়াবহ হয়ে ওঠার যে আশঙ্কা গবেষকরা আগেই ব্যক্ত করেছিলেন, বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে তা মিলে যাচ্ছে। মূলত জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং মশার বংশবিস্তার রোধে অকার্যকর ব্যবস্থাপনার কারণে ডেঙ্গুর মৌসুম এখন দীর্ঘায়িত হচ্ছে।

সাধারণ লক্ষণ হিসেবে প্রবল জ্বর, মাথাব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা বা শরীরে র‍্যাশ ওঠা থাকলেও বর্তমানে ডেঙ্গুর উপস্থাপনা অনেক ক্ষেত্রে ভিন্নতর হতে পারে। অনেক সময় রোগীর জ্বর খুব বেশি থাকে না, কিন্তু শারীরিক অবসাদ ও দুর্বলতা থাকে প্রচণ্ড। আবার অনেক ক্ষেত্রে রক্তপাতের মতো দৃশ্যমান লক্ষণ ছাড়াও অভ্যন্তরীণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই জ্বর হোক বা না হোক, মশার কামড় থেকে বাঁচতে মশারি ব্যবহার করা এবং বসতবাড়ির আশেপাশে স্বচ্ছ পানি জমতে না দেওয়া একান্ত প্রয়োজন।

বিশেষজ্ঞরা বারবার সতর্ক করে বলছেন, জ্বর কমার পরের দিনগুলোতে রোগীকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে। রোগী যদি হঠাৎ অতিরিক্ত দুর্বল অনুভব করেন, পেটে ব্যথা হয়, অনবরত বমি হতে থাকে, মাড়ি বা নাক দিয়ে রক্তপাত হয় কিংবা প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যায়, তবে দেরি না করে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি হওয়া জরুরি। সাধারণ জ্বরের ওষুধ বা ব্যথানাশক সেবনের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া বাধ্যতামূলক, কারণ ভুল ওষুধ রক্তক্ষরণের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।

ডেঙ্গু এখন কেবল চিকিৎসা খাতের সমস্যা নয়, এটি একটি জনস্বাস্থ্য সংকটে পরিণত হয়েছে। ব্যক্তিগত সচেতনতার পাশাপাশি সমষ্টিগত সচেতনতাও সমানভাবে প্রয়োজন। বাসার ফুলের টব, এসি কিংবা ফ্রিজের নিচে জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার রাখা মশার বংশবিস্তার রোধে কার্যকরী ভূমিকা রাখে। এছাড়া নগরজীবনে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং ডেঙ্গুর বিষয়ে সঠিক তথ্য জেনে রাখা এখন সময়ের দাবি। মনে রাখতে হবে, ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে অসতর্কতার কোনো জায়গা নেই এবং সঠিক সময়ে সচেতনতা অবলম্বনের মাধ্যমেই এই ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।

মোজতবা খামেনির শারীরিক অবস্থা নিয়ে সব জল্পনার ইতি টানলেন ইরানি কূটনীতিক

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:১৪ অপরাহ্ণ
   
মোজতবা খামেনির শারীরিক অবস্থা নিয়ে সব জল্পনার ইতি টানলেন ইরানি কূটনীতিক

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনির শারীরিক অবস্থা এবং তাঁর জনসমক্ষে অনুপস্থিতি নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে নানা ধরনের আলোচনা ও জল্পনা চলছিল। বিশেষ করে যখন কোনো গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে তাঁর দেখা মিলছিল না, তখন থেকেই নানা মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। তবে অবশেষে এই বিষয়ে সরাসরি মুখ খুলেছেন একজন ইরানি কূটনীতিক। তিনি জানিয়েছেন, মোজতবা খামেনি কেবল সুস্থই নন, বরং তিনি নিয়মিত তাঁর ওপর অর্পিত দায়িত্বগুলো যথাযথভাবে পালন করে চলেছেন।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম এনডিটিভিকে দেওয়া একটি একান্ত সাক্ষাৎকারে ইরানের এই কূটনীতিক আবদুল মজিদ মোজতবা খামেনির বর্তমান অবস্থা নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেছেন। তিনি মোজতবার শারীরিক অবস্থা প্রসঙ্গে করা প্রশ্নের সরাসরি জবাব দিতে গিয়ে বলেন, মোজতবা অত্যন্ত সুস্বাস্থ্যের অধিকারী এবং তিনি শারীরিকভাবে খুব ভালো আছেন। কূটনীতিকের ভাষায়, তিনি খুব, খুব, খুব সুস্থ রয়েছেন। তাঁর এই বক্তব্য মোজতবার গুরুতর অসুস্থতা কিংবা জনসমক্ষে আসতে না পারার মতো শারীরিক সীমাবদ্ধতা থাকার যাবতীয় গুজবকে নাকচ করে দিয়েছে।

মোজতবা খামেনির জনসমক্ষে উপস্থিতি কম হওয়া কিংবা পর্দার আড়ালে থাকা নিয়ে অনেকের মনেই সংশয় ছিল। তবে সংশ্লিষ্ট কূটনীতিকের তথ্য অনুযায়ী, মোজতবা তাঁর বাবার জানাজায় অংশ নিয়েছেন, যা তাঁর শারীরিক সক্ষমতার বড় প্রমাণ। যদিও জানাজায় তাঁর উপস্থিতি নিয়ে কিছু বিভ্রান্তি বা অস্পষ্টতা তৈরি হয়েছিল, কিন্তু এখন তা পরিষ্কার হয়ে গেল। কূটনীতিকের বক্তব্য অনুযায়ী, কোনো গুরুতর অসুস্থতা বা অন্য কোনো শারীরিক জটিলতার কারণে তিনি লোকচক্ষুর অন্তরালে রয়েছেন—এমন তথ্য সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।

অনেকে মনে করেছিলেন, মোজতবা খামেনি হয়তো কোনো বিশেষ রাজনৈতিক বা নিরাপত্তা সংক্রান্ত কারণে নিজেকে গুটিয়ে রেখেছেন। তবে কূটনীতিক তাঁর বক্তব্যে জানিয়েছেন, তিনি অত্যন্ত সক্রিয় এবং দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ঘাটতি নেই। এর আগে বিভিন্ন পশ্চিমা সংবাদমাধ্যমে মোজতবার স্বাস্থ্য নিয়ে নানা উদ্বেগজনক খবর প্রকাশিত হয়েছিল, যা মূলত ছিল অনুমাননির্ভর। ইরানি এই কূটনীতিকের দেওয়া এই নতুন তথ্য সেই সব প্রতিবেদনের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সর্বোচ্চ নেতার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে এ ধরনের গোপনীয়তা বা গুঞ্জন নতুন কিছু নয়। তবে সরকারি পর্যায়ের কোনো কর্মকর্তার কাছ থেকে এমন স্পষ্ট বার্তা পাওয়া যাওয়ার ফলে এই মুহূর্তের জন্য মোজতবা সংক্রান্ত যাবতীয় ধোঁয়াশা দূর হলো বলেই মনে করা হচ্ছে। ইরান সরকার বা সংশ্লিষ্ট কোনো পক্ষ থেকে সরাসরি কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া না হলেও, কূটনীতিকের এই সাক্ষাৎকারটি মূলত সেই অভাবটি পূরণ করেছে।

আবদুল মজিদ তাঁর বক্তব্যে আরও ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, মোজতবা খামেনি ব্যক্তিগত জীবনের গোপনীয়তাকে গুরুত্ব দেন এবং তিনি ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে থেকেও সাধারণ সময়ের চেয়ে অনেক বেশি সময় নিজের কাজের পরিধিতে মগ্ন থাকেন। তাই জনসমক্ষে না আসাকে অসুস্থতার প্রমাণ হিসেবে দেখাটা ভুল। সার্বিক পরিস্থিতিতে মনে হচ্ছে, মোজতবা খামেনির সুস্থতা নিয়ে যে বিতর্ক বা শঙ্কা তৈরির চেষ্টা হয়েছিল, তা কূটনীতিকের এই স্পষ্ট বক্তব্যে কিছুটা হলেও স্তিমিত হবে।

ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এবং ক্ষমতার উত্তরাধিকার নিয়ে যারা পর্যবেক্ষণ করেন, তাদের কাছে মোজতবার শারীরিক অবস্থা সবসময়ই একটি কৌতূহলের বিষয়। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে কূটনীতিকের এই আশ্বস্তকর মন্তব্য বুঝিয়ে দিয়েছে যে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতার পরিবারে মোজতবা খামেনির অবস্থান এবং শারীরিক সুস্থতা নিয়ে উদ্বেগের কোনো কারণ নেই। আপাতত এই বিষয়টি নিয়ে চলমান যাবতীয় বিতর্কের ইতি টানার চেষ্টা করা হয়েছে বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে।

আগামী এক দশকেও শেখ হাসিনার ফেরার সম্ভাবনা নেই: স্পিকার

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:১৪ অপরাহ্ণ
   
আগামী এক দশকেও শেখ হাসিনার ফেরার সম্ভাবনা নেই: স্পিকার

জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম সম্প্রতি এক বিশেষ আলোচনায় শেখ হাসিনার দেশে ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে মন্তব্য করেছেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির বিচারে আগামী দশ বছরের মধ্যে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার কোনো অবকাশ নেই। রাজনীতির মাঠে চলমান অস্থিরতা এবং দেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির প্রেক্ষাপট বিবেচনা করেই তিনি এমন পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি এবং রাজনৈতিক মেরুকরণ নিয়ে বরাবরই সরব থাকেন বিভিন্ন রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও ব্যক্তিবর্গ। এই ধারাবাহিকতায় জাতীয় সংসদের দায়িত্বশীল পদে থাকা স্পিকারের এই বক্তব্য বেশ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচিত হচ্ছে। যদিও শেখ হাসিনার অবস্থান বা তার পরবর্তী রাজনৈতিক কার্যক্রম নিয়ে নানা সময়ে বিভিন্ন মহলে নানা গুঞ্জন শোনা যায়, তবে স্পিকারের এই বক্তব্য পরিস্থিতিকে এক নতুন মাত্রা দিয়েছে। তিনি দীর্ঘমেয়াদী একটি সময়ের কথা উল্লেখ করে এটি স্পষ্ট করতে চেয়েছেন যে, খুব সহসাই দেশে বড় কোনো রাজনৈতিক পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই, বিশেষ করে শেখ হাসিনার কেন্দ্রিক রাজনৈতিক মেরুকরণে।

স্পিকারের এমন মন্তব্যের পর রাজনৈতিক অঙ্গনে নানামুখী আলোচনার সূত্রপাত হয়েছে। অনেকেই একে বর্তমান সরকারের দৃঢ় অবস্থানের প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন। আবার অনেকের মতে, এটি একটি বাস্তবসম্মত বিশ্লেষণ, যা বর্তমান দেশের আইনি ও সামাজিক পরিবেশের ওপর ভিত্তি করেই করা হয়েছে। যদিও স্পিকার তার বক্তব্যের পেছনে বিস্তারিত আইনি বা রাজনৈতিক ব্যাখ্যা তাৎক্ষণিকভাবে প্রদান করেননি, তবে তার এই বক্তব্য জনমনে বেশ প্রভাব ফেলেছে।

উল্লেখ্য যে, ক্ষমতার পালাবদলের পর থেকেই দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এক বিশেষ সন্ধিক্ষণ পার করছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও পক্ষ তাদের নিজস্ব অবস্থানে অটল রয়েছে। এই অবস্থায় শেখ হাসিনার মতো একজন সাবেক রাষ্ট্রপ্রধানের ফিরে আসার সম্ভাবনা নিয়ে প্রায়শই বিভিন্ন মহলে জল্পনা-কল্পনা চলে। সেই সব জল্পনার বিপরীতে স্পিকারের এই স্পষ্ট অবস্থান সাধারণ মানুষকে একটি বড় ইঙ্গিত দিল যে, নিকট ভবিষ্যতে হয়তো এই পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হচ্ছে না।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বর্তমান স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রমের এই বক্তব্য দেশের বিদ্যমান রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে আরও সুসংহত করার একটি প্রয়াস হতে পারে। যেকোনো দেশের রাজনীতির মোড় ঘোরার পেছনে অনেক বড় ধরনের সামাজিক ও আইনি প্রক্রিয়া জড়িত থাকে। সেই প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে ১০ বছরের একটি দীর্ঘ সময়ের কথা উল্লেখ করা মোটেও সাধারণ বিষয় নয়। তিনি মূলত বোঝাতে চেয়েছেন, বর্তমান যে শাসনব্যবস্থা ও আইনি কাঠামো গড়ে উঠেছে, তাতে শেখ হাসিনার মতো শীর্ষ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের প্রত্যাবর্তন কার্যত অসম্ভব।

সব মিলিয়ে, শেখ হাসিনার রাজনীতিতে ফেরা না ফেরা নিয়ে যে ধোঁয়াশা ছিল, স্পিকারের এই মন্তব্যের পর তাতে কিছুটা হলেও স্পষ্টতা এসেছে। এখন দেখার বিষয়, বিরোধী দল কিংবা সংশ্লিষ্ট মহল এই বক্তব্যের বিপরীতে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায় কিনা। তবে আপাতত এটা স্পষ্ট যে, আগামী এক দশক বাংলাদেশের রাজনৈতিক মানচিত্রে বড় ধরনের কোনো উলটপালট হওয়ার সম্ভাবনা নেই বলে মনে করছেন নীতিনির্ধারকরা। সাধারণ জনগণের মধ্যেও এই আলোচনা এখন প্রধান টপিকে পরিণত হয়েছে এবং দেশের প্রতিটি প্রান্তে এই খবরটি সমানভাবে গুরুত্ব পাচ্ছে।

সর্বশেষ
জ্বর কমার পর ডেঙ্গুর আসল বিপদ: অসতর্কতায় ঝুঁকি বাড়ছে বহুগুণ মোজতবা খামেনির শারীরিক অবস্থা নিয়ে সব জল্পনার ইতি টানলেন ইরানি কূটনীতিক শিশুর কথা বলা: স্বাভাবিক ও অস্বাভাবিক উচ্চারণের ফারাক বোঝার উপায় আগামী এক দশকেও শেখ হাসিনার ফেরার সম্ভাবনা নেই: স্পিকার বরিশালের বাকেরগঞ্জে অটোরিকশা ও বাসের সংঘর্ষে ৬ জনের মৃত্যু শ্রীলঙ্কার নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত রনিল বিক্রমাসিংহে সংবাদপত্রের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নোয়াবের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় যেসব মেগা প্রকল্পের কাজ শুরু হয়নি, তা স্থগিতের পরামর্শ অর্থনীতিবিদের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী চেসি ত্রিপুরার মৃত্যু মহাসড়কে সড়ক দুর্ঘটনা ও নবজাতক উদ্ধার: চাঞ্চল্যকর দুই ঘটনা
Advertisement