খুঁজুন
, ,

আদালত চত্বরে মেজাজ হারালেন পরীমণি

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ১:১৫ অপরাহ্ণ
আদালত চত্বরে মেজাজ হারালেন পরীমণি

রাজধানীর আদালত পাড়ায় বৃহস্পতিবার এক ভিন্নধর্মী পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। চিত্রনায়িকা পরীমণি একটি মামলার আইনি মোকাবিলায় আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। মারধর, ভাঙচুর এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে দায়ের করা এই মামলায় শুনানি শেষে বিচারক তার জামিন মঞ্জুর করেন। ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহফুজুর রহমানের আদালতে শুনানিটি অনুষ্ঠিত হয়। বিচারক সব পক্ষের বক্তব্য শোনার পর পাঁচ শত টাকার মুচলেকায় পরীমণির জামিন আবেদন মঞ্জুর করেছেন। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই তিনি আদালতে হাজির হয়েছিলেন বলে জানা গেছে। আদালতের কার্যক্রম শেষে তার আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত সুরভী বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তবে জামিন পাওয়ার পর আদালত চত্বরে বের হওয়ার মুহূর্তটি ছিল বেশ নাটকীয়। চিত্রনায়িকা আদালত প্রাঙ্গণ ত্যাগ করার সময় উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মী এবং কৌতূহলী সাধারণ মানুষের ভিড়ের কবলে পড়েন। এমন পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়েই একপর্যায়ে তিনি মেজাজ হারিয়ে ফেলেন। বেশ উত্তেজিত কণ্ঠে তাকে কথা বলতে দেখা যায়। অনেক সময় তারকাদের ঘিরে এ ধরনের বিড়ম্বনা সাধারণ ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে, কিন্তু আদালতের মতো সংবেদনশীল স্থানে এমন উত্তেজনা উপস্থিত জনতাকে হতবাক করে দেয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, পরিস্থিতির চাপ থেকেই হয়তো তিনি সাময়িকভাবে নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিলেন।

পরীমনির বিরুদ্ধে মামলাটির প্রেক্ষাপট বেশ পুরোনো। ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল বেশ কিছুদিন আগে, যখন তার বিরুদ্ধে ভাঙচুর ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ আনা হয়। আইনি লড়াইয়ের এই পর্যায়টি তার জন্য বেশ চাপের ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। আদালতের বারান্দা এবং আদালত চত্বরে সাধারণত ভিড় লেগেই থাকে। বিশেষ করে যখন কোনো তারকা সেখানে উপস্থিত হন, তখন সাধারণ মানুষের মধ্যে ছবি তোলার বা দেখার আগ্রহ বেড়ে যায়। এই ধরনের জনাকীর্ণ পরিবেশে স্বাভাবিক মেজাজ বজায় রাখা অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। মামলার বিষয়গুলো যেখানে আইনগতভাবে নিষ্পত্তি হওয়ার কথা, সেখানে আদালতের বাইরের এই উত্তেজনাকে অনেকেই অনাকাঙ্ক্ষিত বলে মনে করছেন।

আইনজীবীদের মতে, জামিন পাওয়া একটি আইনি প্রক্রিয়ারই অংশ। কিন্তু আদালত চত্বরে আবেগ বা উত্তেজনার বহিঃপ্রকাশ অনেক সময় আইনি লড়াইয়ের চেয়েও বেশি আলোচনায় চলে আসে। পরীমণির ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটেছে। জামিন পাওয়ার আনন্দের চেয়ে তার মেজাজ হারানোর বিষয়টিই যেন মুহূর্তের মধ্যে প্রধান আলোচনার বিষয়ে পরিণত হয়। মামলার পরবর্তী কার্যক্রম বা আইনি লড়াইয়ের অন্যান্য ধাপ এখনো বাকি আছে। সেগুলোর ক্ষেত্রে কোনো পক্ষ যেন আইন নিজের হাতে তুলে না নেয় বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না করে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়ে থাকেন বিশেষজ্ঞরা।

আদালত প্রাঙ্গণ একটি বিচারিক ক্ষেত্র, যেখানে শান্ত থাকাটাই বাঞ্ছনীয়। গণমাধ্যমের উপস্থিতি এবং জনসমাগমের কারণে পরিস্থিতি অনেক সময় নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। পরীমণির মেজাজ হারানোর ঘটনাটিও হয়তো সেই পরিস্থিতিরই একটি প্রতিফলন। তবে যেকোনো ব্যক্তি, তিনি তারকা হোন বা সাধারণ নাগরিক, আদালতের মর্যাদা বজায় রাখার দায়বদ্ধতা সবারই রয়েছে। মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে এখন। আশা করা হচ্ছে, আগামী দিনগুলোতে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই জটিলতার সুষ্ঠু সমাধান হবে এবং একই সাথে সব পক্ষ আইনি শিষ্টাচার বজায় রাখতে সচেষ্ট হবেন। এই ঘটনার পর আদালতের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং তারকাদের জনসমক্ষে যাতায়াতের বিষয় নিয়েও নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

আমুসহ সাতজনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গ্রহণ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ২:১৪ অপরাহ্ণ
   
আমুসহ সাতজনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গ্রহণ

চব্বিশ সালের জুলাই ও আগস্ট মাসে সংঘটিত ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান চলাকালীন সময়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় আমির হোসেন আমুসহ সাতজন নেতার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ বা ফরমাল চার্জ আমলে নিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারিক প্যানেল এই আদেশ প্রদান করেন। এর মাধ্যমে জুলাই-আগস্টের সেই উত্তাল সময়ে সংঘটিত সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে এই নেতাদের বিরুদ্ধে বিচারিক কার্যক্রম এক ধাপ এগিয়ে গেল।

আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী, মামলার অভিযুক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে ছয়জনকে আগামী ২২ নভেম্বরের মধ্যে ট্রাইব্যুনালে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মামলার পরবর্তী কার্যক্রম ও আইনি প্রক্রিয়াকে গতিশীল করার লক্ষ্যেই আদালত এই সময়সীমা নির্ধারণ করেছেন। এই দিনের হাজিরার বিষয়টি মামলার পরবর্তী শুনানির ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তবে মামলার সাতজন অভিযুক্তের মধ্যে মির্জা আজমের বিষয়টি নিয়ে আদালত কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছেন। তিনি বর্তমানে পলাতক থাকায় এবং বিচারিক প্রক্রিয়ায় সশরীরে উপস্থিত না থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। আদালত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্দেশনা দিয়েছেন যেন দ্রুত সময়ের মধ্যে তাকে গ্রেফতার করে বিচারের মুখোমুখি করা হয়। পলাতক আসামিদের আইনের আওতায় আনা এবং প্রতিটি অভিযুক্তের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে শুনানি এগিয়ে নেওয়াই বর্তমান বিচার প্রক্রিয়ার অন্যতম লক্ষ্য।

উল্লেখ্য, জুলাই-আগস্টের সেই অস্থির সময়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছিল এবং অনেকেই মানবতাবিরোধী অপরাধের শিকার হয়েছিলেন। সেই সময় যারা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন বা সিদ্ধান্ত গ্রহণের দায়িত্বে ছিলেন, তাদের কর্মকাণ্ড নিয়ে দায়ের হওয়া মামলাগুলোর বিষয়ে বর্তমানে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল অত্যন্ত তৎপর। অভিযোগ রয়েছে যে, রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করে বা রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে যারা এসব অপরাধ সংঘটনে সহায়তা করেছেন বা সরাসরি জড়িত ছিলেন, তাদের প্রত্যেককে যথাযথ বিচারের আওতায় আনা হবে।

আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দেশের ইতিহাসের এই গুরুত্বপূর্ণ বিচারপ্রক্রিয়াটি অত্যন্ত সংবেদনশীল। গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী পরিস্থিতিতে এই ট্রাইব্যুনাল ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় একটি বড় প্লাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে। প্রতিটি মামলার তদন্ত ও অভিযোগ গঠনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে, যাতে কোনো নির্দোষ ব্যক্তি হয়রানির শিকার না হন এবং অপরাধীরা অবশ্যই যেন তাদের কর্মের শাস্তি পায়। আজকের এই আদেশের মাধ্যমে এটি স্পষ্ট হলো যে, ট্রাইব্যুনাল এখন মামলার মূল শুনানির দিকে মনোনিবেশ করছে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিচার শেষ করার আইনি বাধ্যবাধকতা মাথায় রেখে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। আগামী ২২ নভেম্বর সংশ্লিষ্টদের হাজির হওয়ার পর মামলার পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ কী হবে, সেদিকে এখন সবার নজর রয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষ জানিয়েছে, তারা অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগগুলো এনেছে, তা সাক্ষ্য-প্রমাণসহ আদালতে উপস্থাপনের জন্য প্রস্তুত রয়েছে।

ইলেকট্রোলাইট পানীয়: উপকারের আশায় পান করছেন কি বাড়তি বিপদ?

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ২:১৪ অপরাহ্ণ
   
ইলেকট্রোলাইট পানীয়: উপকারের আশায় পান করছেন কি বাড়তি বিপদ?

ক্লান্তি কাটাতে কিংবা নিজেকে চাঙ্গা রাখতে বর্তমান সময়ে সাধারণ পানির বিকল্প হিসেবে ইলেকট্রোলাইট পানীয়ের বোতল হাতে নেওয়াটা এক ধরনের ফ্যাশনে পরিণত হয়েছে। জিম, অফিস কিংবা রাস্তার ধারের দোকানে সহজেই মিলছে নানা রঙের ও স্বাদের এসব পানীয়। চটকদার বিজ্ঞাপন আর সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রভাবশালীদের প্রচারণায় সাধারণ মানুষের মধ্যে একটি ধারণা তৈরি হয়েছে যে, শরীরকে কর্মক্ষম রাখতে ইলেকট্রোলাইট পানীয়ের কোনো বিকল্প নেই। এতে থাকা খনিজ ও ভিটামিন শরীরের অভাব পূরণ করে বলে দাবি করা হয়। কিন্তু প্রশ্ন হলো, সুস্থ থাকতে কি আসলেই প্রতিদিন এসব কৃত্রিম পানীয় গ্রহণ করা জরুরি?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইলেকট্রোলাইট বলতে মূলত সোডিয়াম, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম ও ক্যালসিয়ামের মতো খনিজ উপাদানকে বোঝায়, যা আমাদের শরীরের স্নায়বিক ও পেশির স্বাভাবিক কার্যকারিতার জন্য অপরিহার্য। স্বাভাবিক ও সুষম খাবার গ্রহণ করলে একজন সুস্থ মানুষ প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় এসব খনিজ খাবারের মাধ্যমেই পেয়ে থাকেন। তাই সাধারণ জীবনযাত্রায় যারা খুব একটা কঠোর পরিশ্রম বা তীব্র শারীরিক কসরত করেন না, তাদের জন্য আলাদাভাবে ইলেকট্রোলাইট পানীয় গ্রহণের প্রয়োজন পড়ে না।

ইলেকট্রোলাইট পানীয় মূলত তৈরি করা হয়েছিল অ্যাথলেট বা খেলোয়াড়দের জন্য, যারা দীর্ঘক্ষণ তীব্র রোদ বা কঠোর পরিশ্রমের কারণে প্রচুর ঘামেন এবং শরীরের লবণ ও পানির ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন। তবে এখন দেখা যাচ্ছে, অলস সময় কাটানো বা সামান্য পরিশ্রমের পরেও অনেকে এই পানীয় পান করছেন। চিকিৎসকদের মতে, অকারণে এই পানীয় শরীরে প্রবেশ করালে হিতে বিপরীত হতে পারে। অধিকাংশ ইলেকট্রোলাইট পানীয়তে প্রচুর পরিমাণে সোডিয়াম এবং চিনি থাকে। যারা রক্তচাপের সমস্যায় ভুগছেন কিংবা কিডনির জটিলতা রয়েছে, তাদের জন্য অতিরিক্ত সোডিয়াম গ্রহণ মারাত্মক ঝুঁকির কারণ হতে পারে। এছাড়া ওজন নিয়ন্ত্রণে যারা সচেতন, তাদের জন্য এসব পানীয়ের বাড়তি ক্যালোরি কোনোভাবেই সুখবর নয়।

বাজারে পাওয়া ইলেকট্রোলাইট পানীয়গুলো অনেক ক্ষেত্রেই স্বাদ বাড়াতে কৃত্রিম সুগন্ধি ও প্রিজারভেটিভ ব্যবহার করা হয়, যা দীর্ঘমেয়াদে শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। শরীরচর্চা বা ঘাম ঝরানো পরিশ্রমের পর প্রাকৃতিকভাবে ডাবের পানি বা বাড়িতে তৈরি ফলের রস শরীরের খনিজের চাহিদা মেটাতে অনেক বেশি কার্যকর ও নিরাপদ। তাই বিজ্ঞাপন দেখে তাড়াহুড়ো করে ইলেকট্রোলাইট পানীয় কেনার আগে নিজের দৈনন্দিন কর্মকাণ্ডের ধরণ এবং শরীরের চাহিদার বিষয়ে সচেতন হওয়া জরুরি। কোনো বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ছাড়া নিয়মিত এই ধরনের পানীয় অভ্যাসে পরিণত করা থেকে বিরত থাকাই শ্রেয়। দিনশেষে সাধারণ পানির চাহিদা মেটানো এবং সঠিক খাদ্যাভ্যাসই শরীরকে সুস্থ ও চাঙ্গা রাখার সবচেয়ে নিরাপদ উপায়।

ব্যাটিংয়ের ছন্দ আর রেকর্ড ভাঙার নেশায় অদম্য বিরাট কোহলি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ২:১৪ অপরাহ্ণ
   
ব্যাটিংয়ের ছন্দ আর রেকর্ড ভাঙার নেশায় অদম্য বিরাট কোহলি

ক্রিকেট মাঠের বাইশ গজে যখন ব্যাট হাতে নামেন বিরাট কোহলি, তখন প্রতিপক্ষ বোলারদের মনে ভয় আর দর্শকদের মনে প্রত্যাশার পারদ তুঙ্গে থাকে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের দীর্ঘ যাত্রায় তিনি ৮৬টি সেঞ্চুরির মাইলফলক স্পর্শ করেছেন। ওয়ানডে ফরম্যাটে ১৫ হাজার রানের বিশাল পাহাড় পেরিয়ে গিয়েছেন বহু আগেই। বিশ্বকাপের মঞ্চেও এক আসরে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড গড়ে নিজের আধিপত্যের প্রমাণ রেখেছেন তিনি। কিন্তু এসব পরিসংখ্যান কেবলই সংখ্যা। কোহলির আসল পরিচয় লুকিয়ে আছে তার খেলার ধরনের মাঝে। কঠিন সময়ে দলের হাল ধরা, চাপের মুখে স্থির থেকে ম্যাচ বের করে আনা আর প্রতিটি ইনিংসে নতুন করে নিজেকে ছাড়িয়ে যাওয়ার প্রবল তাগিদই তাকে কোটি ক্রিকেটপ্রেমীর হৃদয়ে স্থান করে দিয়েছে।

একজন ক্রিকেটারের ক্যারিয়ারে ফর্মের ওঠানামা থাকা খুবই স্বাভাবিক। কিন্তু কোহলির ক্ষেত্রে বিষয়টি যেন একটু আলাদা। ক্যারিয়ারের পড়ন্ত বিকেলে এসেও তার ব্যাটে যে ধারাবাহিকতা আর রানের ক্ষুধা দেখা যায়, তা অনেকের জন্যই শিক্ষণীয়। তিনি প্রমাণ করেছেন যে, বয়সের হিসেবে তিনি হয়তো থিতু হচ্ছেন, কিন্তু মাঠের খেলায় তার নিবেদন এখনো নতুনের মতোই উজ্জ্বল। ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে বারবার ফিরে আসার গল্পগুলো কোহলির ক্যারিয়ারের অন্যতম বড় শক্তি। তিনি কেবল একজন ব্যাটার হিসেবেই নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখেননি, বরং দলের প্রয়োজনে একজন নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালনেও সমান পারদর্শী।

সমালোচকরা অনেক সময় তার ফর্ম নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, কিন্তু কোহলি সবসময়ই তার ব্যাট দিয়ে সব প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন। তার অনুশীলনের প্রতি একাগ্রতা এবং শারীরিক সক্ষমতা বজায় রাখার লড়াই আজও বহু তরুণ ক্রিকেটারের কাছে অনুপ্রেরণার উৎস। বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা অগণিত ভক্তের কাছে বিরাট মানেই একটি আস্থার নাম। যখনই দলের প্রয়োজন হয়, কোহলি তখন নিজেকে উজাড় করে দিতে দ্বিধা করেন না। এই যে হার না মানা মানসিকতা, এটাই তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করে তুলেছে।

বিরাটের এই ফর্ম বজায় রাখার রহস্য হয়তো লুকিয়ে আছে তার মানসিক শক্তিতে। ক্রিকেট খেলাকে তিনি কেবল পেশা হিসেবে দেখেন না, বরং এটিকে একটি সাধনা হিসেবে বিবেচনা করেন। প্রতিবার ক্রিজে নামার সময় এমনভাবে প্রস্তুতি নেন যেন এটিই তার জীবনের সেরা ইনিংস হতে যাচ্ছে। এই মানসিকতা তাকে ক্যারিয়ারের এই পর্যায়ে এসেও নতুন নতুন রেকর্ড গড়ার রসদ জোগাচ্ছে। রেকর্ড গড়া বা ভাঙা তার জীবনের নেশা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আগামী দিনগুলোতে তিনি ক্রিকেট বিশ্বকে আরও কি কি উপহার দেবেন, তা দেখার অপেক্ষায় আছেন বিশ্বের সব ক্রিকেটপ্রেমী। তার ক্যারিয়ারের এই সোনালী সময় আরও দীর্ঘায়িত হোক, এমনটাই প্রত্যাশা সবার। কোহলি যেন আরও বহুদিন এভাবেই মাঠ মাতাবেন এবং তার ব্যাটের জাদুতে মুগ্ধ করবেন বিশ্বকে, সেই কামনাই করেন ক্রিকেটবোদ্ধারা।

সর্বশেষ
আমুসহ সাতজনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গ্রহণ ইলেকট্রোলাইট পানীয়: উপকারের আশায় পান করছেন কি বাড়তি বিপদ? ব্যাটিংয়ের ছন্দ আর রেকর্ড ভাঙার নেশায় অদম্য বিরাট কোহলি আদালত চত্বরে মেজাজ হারালেন পরীমণি সালমান শাহ হত্যা মামলা: তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময় আবারো পিছিয়েছে বড় পর্দায় নতুন চমক: ফিরছেন নিশো-মেহজাবীন জুটি যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে নতুন মোড়: কংগ্রেসের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে বুদ্ধিজীবীদের দলবদলের সংস্কৃতি ও রাজনৈতিক বাস্তবতা নতুন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সফল পরীক্ষা চালালো উত্তর কোরিয়া রাউজানে আট পিস্তল প্রদর্শন করে ফের আলোচনায় ‘বুলেট হৃদয়’