নিহত তাহসিফের বাবার প্রশ্ন: চমৎকার সরকার থাকতে বিচার পেতে মামলা করতে হবে কেন
বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সাউরির মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় বিচার পাওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে জনমনে নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। এই অকাল মৃত্যুর পর আইনি লড়াইয়ের পথে না হেঁটে বরং রাষ্ট্রের ওপর পূর্ণ আস্থা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন নিহতের বাবা কে এম এনায়েতুল করিম। তার মতে, বর্তমানে দেশে যে সরকার দায়িত্ব পালন করছে, তা অত্যন্ত চমৎকার এবং জনবান্ধব। এমন একটি সক্ষম সরকারের অধীনে বিচার পাওয়ার জন্য সাধারণ মানুষকে কেন দীর্ঘমেয়াদী মামলা-মোকদ্দমার আইনি জটিলতায় জড়াতে হবে, সেই প্রশ্নই এখন সবার মুখে মুখে ঘুরছে।
শুক্রবার সাংবাদিকদের সাথে আলাপচারিতায় কে এম এনায়েতুল করিম তার ছেলের মৃত্যুর ঘটনায় কোনো ধরনের মামলার প্রয়োজনীয়তা আছে কি না, তা নিয়ে সরাসরি সংশয় প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, তার পরিবার কোনো ধরনের আদালতে দৌড়াদৌড়ির ঝামেলায় যেতে আগ্রহী নয়। পরিবারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, তারা সরকারের বিভিন্ন সংস্থার ওপর পূর্ণ আস্থা রাখছেন এবং বিশ্বাস করেন যে রাষ্ট্র তার নিজ দায়িত্বেই সত্য উদঘাটন করবে। একজন ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে এ ধরনের বক্তব্য দেশের বিচার ব্যবস্থা এবং আইনি প্রক্রিয়ার প্রতি একটি বড় বার্তা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সাধারণত কোনো অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটলে পরিবারগুলো বিচার পাওয়ার আশায় থানায় মামলা দায়ের করেন এবং তারপর দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের মুখোমুখি হন। কিন্তু তাহসিফের পরিবারের এই ভিন্নধর্মী অবস্থান রাষ্ট্র এবং প্রশাসনের ওপর তাদের গভীর আস্থার বহিঃপ্রকাশ। তাদের দাবি, যদি সরকারের সংস্থাগুলো সত্যিই সক্রিয় থাকে, তবে আইনি জটিলতার প্রয়োজন হওয়ার কথা নয়। রাষ্ট্রের দায়িত্বশীল জায়গাগুলো থেকে সঠিক তদন্তের মাধ্যমে যদি ন্যায়বিচার নিশ্চিত হয়, তবে সাধারণ মানুষের হয়রানি অনেকটাই কমে আসবে বলে অনেকে মন্তব্য করছেন।
তাহসিফের বাবা এনায়েতুল করিমের এই বক্তব্য সামাজিক মাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকে তার এই সাহসিকতা এবং সরকারের ওপর আস্থাকে সাধুবাদ জানাচ্ছেন, আবার অনেকে আইনি কাঠামোর সীমাবদ্ধতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। তবে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে যেভাবে রাষ্ট্রের ওপর আস্থা স্থাপন করা হয়েছে, তাতে সরকার ও প্রশাসনের দায়বদ্ধতা আরও বেড়ে গেল বলেই মনে করছেন সাধারণ সচেতন নাগরিকেরা।
বর্তমানে দেশে সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং রাষ্ট্রের বিভিন্ন দপ্তরের কার্যকারিতা নিয়ে নিয়মিত পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনাটি এখন প্রশাসনের কাছে একটি বড় পরীক্ষা হিসেবে দাঁড়িয়েছে। পরিবার মামলা করতে অনাগ্রহী হলেও রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে। রাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেয় এবং পুরো ঘটনার সত্যতা কীভাবে উদ্ঘাটিত হয়, তা দেখার অপেক্ষায় আছেন ভুক্তভোগী পরিবার এবং সচেতন দেশবাসী।
মূলত মামলা-মোকদ্দমার দীর্ঘসূত্রতা থেকে বাঁচতে এবং রাষ্ট্রযন্ত্রের ওপর আস্থা রেখেই যে বিচার পাওয়া সম্ভব, এই বার্তাটিই যেন দিতে চেয়েছেন তাহসিফের বাবা। আগামী দিনে সরকারি সংস্থাগুলোর ভূমিকা এবং তদন্তের স্বচ্ছতা নিয়েই এখন মূল আলোচনা আবর্তিত হচ্ছে। পরিবারের এই আস্থাকে সম্মান জানিয়ে সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী সংস্থাগুলো কীভাবে কাজ পরিচালনা করে, তার ওপরই নির্ভর করছে ন্যায়বিচারের নিশ্চয়তা। সব মিলিয়ে তাহসিফ সাউরির মৃত্যু এবং তার বাবার এই প্রতিক্রিয়া যেন দেশের বিচার ব্যবস্থা ও সরকারি সেবার মান নিয়ে নতুন করে চিন্তার খোরাক জোগাল।




আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]