খুঁজুন
, ,

ব্যাটিংয়ের ছন্দ আর রেকর্ড ভাঙার নেশায় অদম্য বিরাট কোহলি

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ২:১৪ অপরাহ্ণ
ব্যাটিংয়ের ছন্দ আর রেকর্ড ভাঙার নেশায় অদম্য বিরাট কোহলি

ক্রিকেট মাঠের বাইশ গজে যখন ব্যাট হাতে নামেন বিরাট কোহলি, তখন প্রতিপক্ষ বোলারদের মনে ভয় আর দর্শকদের মনে প্রত্যাশার পারদ তুঙ্গে থাকে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের দীর্ঘ যাত্রায় তিনি ৮৬টি সেঞ্চুরির মাইলফলক স্পর্শ করেছেন। ওয়ানডে ফরম্যাটে ১৫ হাজার রানের বিশাল পাহাড় পেরিয়ে গিয়েছেন বহু আগেই। বিশ্বকাপের মঞ্চেও এক আসরে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড গড়ে নিজের আধিপত্যের প্রমাণ রেখেছেন তিনি। কিন্তু এসব পরিসংখ্যান কেবলই সংখ্যা। কোহলির আসল পরিচয় লুকিয়ে আছে তার খেলার ধরনের মাঝে। কঠিন সময়ে দলের হাল ধরা, চাপের মুখে স্থির থেকে ম্যাচ বের করে আনা আর প্রতিটি ইনিংসে নতুন করে নিজেকে ছাড়িয়ে যাওয়ার প্রবল তাগিদই তাকে কোটি ক্রিকেটপ্রেমীর হৃদয়ে স্থান করে দিয়েছে।

একজন ক্রিকেটারের ক্যারিয়ারে ফর্মের ওঠানামা থাকা খুবই স্বাভাবিক। কিন্তু কোহলির ক্ষেত্রে বিষয়টি যেন একটু আলাদা। ক্যারিয়ারের পড়ন্ত বিকেলে এসেও তার ব্যাটে যে ধারাবাহিকতা আর রানের ক্ষুধা দেখা যায়, তা অনেকের জন্যই শিক্ষণীয়। তিনি প্রমাণ করেছেন যে, বয়সের হিসেবে তিনি হয়তো থিতু হচ্ছেন, কিন্তু মাঠের খেলায় তার নিবেদন এখনো নতুনের মতোই উজ্জ্বল। ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে বারবার ফিরে আসার গল্পগুলো কোহলির ক্যারিয়ারের অন্যতম বড় শক্তি। তিনি কেবল একজন ব্যাটার হিসেবেই নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখেননি, বরং দলের প্রয়োজনে একজন নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালনেও সমান পারদর্শী।

সমালোচকরা অনেক সময় তার ফর্ম নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, কিন্তু কোহলি সবসময়ই তার ব্যাট দিয়ে সব প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন। তার অনুশীলনের প্রতি একাগ্রতা এবং শারীরিক সক্ষমতা বজায় রাখার লড়াই আজও বহু তরুণ ক্রিকেটারের কাছে অনুপ্রেরণার উৎস। বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা অগণিত ভক্তের কাছে বিরাট মানেই একটি আস্থার নাম। যখনই দলের প্রয়োজন হয়, কোহলি তখন নিজেকে উজাড় করে দিতে দ্বিধা করেন না। এই যে হার না মানা মানসিকতা, এটাই তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করে তুলেছে।

বিরাটের এই ফর্ম বজায় রাখার রহস্য হয়তো লুকিয়ে আছে তার মানসিক শক্তিতে। ক্রিকেট খেলাকে তিনি কেবল পেশা হিসেবে দেখেন না, বরং এটিকে একটি সাধনা হিসেবে বিবেচনা করেন। প্রতিবার ক্রিজে নামার সময় এমনভাবে প্রস্তুতি নেন যেন এটিই তার জীবনের সেরা ইনিংস হতে যাচ্ছে। এই মানসিকতা তাকে ক্যারিয়ারের এই পর্যায়ে এসেও নতুন নতুন রেকর্ড গড়ার রসদ জোগাচ্ছে। রেকর্ড গড়া বা ভাঙা তার জীবনের নেশা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আগামী দিনগুলোতে তিনি ক্রিকেট বিশ্বকে আরও কি কি উপহার দেবেন, তা দেখার অপেক্ষায় আছেন বিশ্বের সব ক্রিকেটপ্রেমী। তার ক্যারিয়ারের এই সোনালী সময় আরও দীর্ঘায়িত হোক, এমনটাই প্রত্যাশা সবার। কোহলি যেন আরও বহুদিন এভাবেই মাঠ মাতাবেন এবং তার ব্যাটের জাদুতে মুগ্ধ করবেন বিশ্বকে, সেই কামনাই করেন ক্রিকেটবোদ্ধারা।

এইচএসসি পরীক্ষায় অকৃতকার্যদের ভাগ্য নির্ধারণে ডিসেম্বর মাসে বিশেষ পরীক্ষা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ৩:১৬ অপরাহ্ণ
   
এইচএসসি পরীক্ষায় অকৃতকার্যদের ভাগ্য নির্ধারণে ডিসেম্বর মাসে বিশেষ পরীক্ষা

উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে যারা এক বা দুই বিষয়ে উত্তীর্ণ হতে পারেনি, তাদের জন্য বিশেষ সুযোগ নিয়ে এসেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনের অপচয় রোধ করতে এবং দ্রুত তাদের পরবর্তী উচ্চশিক্ষার পথে এগিয়ে নিতে কর্তৃপক্ষ একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে, অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের জন্য আগামী ২ ডিসেম্বর সম্পূরক পরীক্ষার আয়োজন করা হবে। একই সাথে, এই পরীক্ষার ফলাফল আগামী ২৩ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকাশের পরিকল্পনা নিয়েছে মন্ত্রণালয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এই ঘোষণা আসার পর সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে।

শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এই পরীক্ষার সময়সূচী এবং ফলাফল প্রকাশের রূপরেখা সম্পর্কে অবগত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, মূলত যেসব শিক্ষার্থী এক অথবা দুটি বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছে, কেবল তারাই এই বিশেষ সম্পূরক পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে। শিক্ষার্থীদের দীর্ঘমেয়াদী সেশনজটের কবলে পড়া থেকে রক্ষা করতে এবং দ্রুত একাডেমিক কার্যক্রম সম্পন্ন করার লক্ষ্যে এই বিশেষ উদ্যোগটি গ্রহণ করা হয়েছে। সময়মতো পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হলে বছরের শেষ নাগাদ ফলাফল পাওয়া সম্ভব হবে, যা শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি প্রক্রিয়াসহ অন্যান্য উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আবেদন করার ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

মন্ত্রণালয়ের এই পরিকল্পনার মূল উদ্দেশ্য হলো শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধ করা। অনেক সময় একটি বা দুটি বিষয়ে খারাপ ফলের কারণে অনেক শিক্ষার্থী তাদের শিক্ষাজীবন থেকে ছিটকে পড়ে বা মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে। এই সম্পূরক পরীক্ষার মাধ্যমে তাদের সেই সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে ওঠার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। শিক্ষামন্ত্রীর তথ্য অনুযায়ী, অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের জন্য কেবল তাত্ত্বিক বা প্রচলিত শিক্ষা ধারাই নয়, বরং কারিগরি ও ভোকেশনাল শিক্ষার মাধ্যমেও কর্মসংস্থানমুখী হওয়ার পথ প্রশস্ত করা হয়েছে। এই বিকল্প ব্যবস্থাগুলো শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের পেশাগত জীবনে দক্ষতা অর্জনে বিশেষ সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সম্পূরক পরীক্ষার পাশাপাশি, যারা এই পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবে, তাদের জন্য পরবর্তী সময়ে নিয়মিত শিক্ষার্থী হিসেবে মূল পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগও বহাল রাখা হয়েছে। অর্থাৎ, এই বিশেষ পরীক্ষাটি কোনো শিক্ষার্থীর জন্য শেষ সুযোগ নয়, বরং মেধা ও দক্ষতা প্রমাণের একটি বাড়তি পথ। শিক্ষার্থীরা যাতে কোনোভাবেই তাদের শিক্ষাবর্ষ নষ্ট না করে এবং উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থানের প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে না পড়ে, তা নিশ্চিত করতে মন্ত্রণালয় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডগুলোকে এই পরীক্ষা সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন করার জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা ইতিমধ্যে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। ডিসেম্বরের এই সময়টি শিক্ষার্থীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এই পরীক্ষার ফলাফল তাদের উচ্চশিক্ষার পরবর্তী ধাপগুলো নির্ধারণে বড় ভূমিকা পালন করবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এই সময়োপযোগী ও সহানুভূতিশীল সিদ্ধান্তটি শিক্ষাক্ষেত্রে এক নতুন গতির সঞ্চার করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মাদ্রাসা ছাত্র আরিফ হত্যা মামলা: কারাগারে আটক রাখার আবেদন ইকবাল সোবহান চৌধুরীর

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ৩:১৫ অপরাহ্ণ
   
মাদ্রাসা ছাত্র আরিফ হত্যা মামলা: কারাগারে আটক রাখার আবেদন ইকবাল সোবহান চৌধুরীর

জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থানের উত্তাল সময়ে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় মাদ্রাসা ছাত্র মো. আরিফ নিহতের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় কারাগারে আটক রাখার আবেদন জানানো হয়েছে সাংবাদিক ও ডিবিসি নিউজের চেয়ারম্যান ইকবাল সোবহান চৌধুরীর বিরুদ্ধে। শেখ হাসিনা সরকারের আমলে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করা ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে এই মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক রাখার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আরিফ নিহতের ঘটনায় দায়েরকৃত অভিযোগের প্রেক্ষিতে তাকে জেলহাজতে রাখার আবেদন করা হয়েছে।

যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করে জানানো হয়েছে, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মোহাম্মদ আমির হোসেন আদালতে এই আবেদনটি দাখিল করেছেন। তবে বর্তমানে অভিযুক্তকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডের কোনো আবেদন করা হয়নি। তদন্তের এই পর্যায়ে পুলিশ তাকে রিমান্ডে না নিয়ে কারাগারে রেখে আইনি প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে চাচ্ছে। মামলার তদন্তে আর কী কী তথ্য উঠে আসে এবং ঘটনার সঙ্গে আর কারা জড়িত রয়েছে, তা নিশ্চিত হতে তদন্ত কাজ চালিয়ে যাচ্ছে সংশ্লিষ্ট পুলিশ বিভাগ।

উল্লেখ্য যে, জুলাই মাসে ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালীন যাত্রাবাড়ী এলাকায় তীব্র সংঘাত ও সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। সেই উত্তাল সময়ে গুলিবর্ষণ এবং সংঘর্ষের ঘটনায় অনেক প্রাণহানির ঘটনা ঘটে, যার মধ্যে মো. আরিফ নামের ওই মাদ্রাসা ছাত্রের মৃত্যু একটি সংবেদনশীল মামলা হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছে। ওই সময়কার বিভিন্ন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও সহিংসতার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে এরই মধ্যে বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও ক্ষমতাচ্যুত সরকারের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতাতেই ইকবাল সোবহান চৌধুরীর নাম জড়িয়েছে এই মামলায়।

আইনজীবীদের মতে, সাধারণত কোনো ঘটনায় সংশ্লিষ্টতা পাওয়ার প্রাথমিক প্রমাণ পেলে পুলিশ তদন্তের স্বার্থে অভিযুক্তকে রিমান্ডে নিতে আবেদন করে থাকে। তবে এখানে তদন্ত কর্মকর্তার পক্ষ থেকে ভিন্ন কৌশল অবলম্বন করা হয়েছে। আপাতত রিমান্ডের আবেদন না করে কারাগারে আটক রাখার আবেদনটি নির্দেশ করে যে, তদন্ত কর্মকর্তা তার কাছে থাকা নথিপত্র এবং তথ্য বিশ্লেষণের জন্য সময় নিতে চাচ্ছেন অথবা অন্য কোনো বিশেষ আইনি কৌশল অবলম্বন করেছেন। মামলার পরবর্তী কার্যক্রম এখন আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।

ইকবাল সোবহান চৌধুরী সাংবাদিকতার জগতের একজন পরিচিত মুখ এবং বেসরকারি টেলিভিশন স্টেশন ডিবিসি নিউজের চেয়ারম্যান। রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর থেকে তিনি এবং তার মতো আরও অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা দায়ের করা হচ্ছে। এসব মামলার তদন্ত কার্যক্রম বর্তমানে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়িয়েছে। যাত্রাবাড়ীর এই নির্দিষ্ট মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত হলে কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে। তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মামলাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং ঘটনাস্থলে থাকা অন্যান্য ব্যক্তিদেরও আইনের আওতায় আনার জন্য কাজ চলছে। এখন দেখার বিষয়, আদালত আগামী শুনানিতে এই আবেদন নিয়ে কী নির্দেশনা দেন এবং মামলার পরবর্তী মোড় কোন দিকে যায়।

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান, ঘরের মাঠে আজ শুরু হচ্ছে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ৩:১৪ অপরাহ্ণ
   
দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান, ঘরের মাঠে আজ শুরু হচ্ছে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ

ফুটবলপ্রেমী বাঙালির দীর্ঘ প্রতীক্ষার প্রহর শেষ হলো। প্রায় আট বছর পর আবারও বাংলাদেশ পা রাখতে যাচ্ছে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের মঞ্চে। আজ বৃহস্পতিবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পর্দা উঠছে দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলের সর্বোচ্চ আসর সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ১৫তম সংস্করণের। এই টুর্নামেন্টকে ঘিরে গোটা দেশজুড়ে এক অন্যরকম উত্তেজনা ও প্রত্যাশার ঢেউ বইছে। দীর্ঘ ২৩ বছর ধরে আঞ্চলিক শ্রেষ্ঠত্বের ট্রফিটি বাংলাদেশের আলমারিতে ধরা দেয়নি, তবে এবার ঘরের মাঠের সুবিধা কাজে লাগিয়ে শিরোপা খরা কাটানোর স্বপ্ন দেখছেন স্বাগতিকরা।

টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী দিনে আজ মাঠে নামছে বাংলাদেশ। বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে রাত ৮টায় ভুটানের বিপক্ষে তাদের এই মিশন শুরু হবে। প্রথমবারের মতো দেশের দর্শকদের সামনে বড় কোনো শিরোপা জয়ের মিশনে নামার আগে খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাস বেশ তুঙ্গে। কোচিং প্যানেলের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, ঘরের মাঠে খেলার বাড়তি সুবিধা এবং দর্শকদের সমর্থনকে কাজে লাগিয়ে তারা জয় দিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করতে বদ্ধপরিকর। ভুটান দল তুলনামূলকভাবে দুর্বল হলেও, আন্তর্জাতিক ফুটবলে তাদের হালকাভাবে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তাই শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলার পরিকল্পনা রয়েছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের।

আজকের দিনে শুধু স্বাগতিকদের ম্যাচই নয়, ফুটবল দর্শকদের জন্য থাকছে আরও চমক। টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী দিনের প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে উপমহাদেশের দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত ও পাকিস্তান। একই ভেন্যুতে বিকেল সাড়ে ৩টায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই ম্যাচটিকে কেন্দ্র করে সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশ্বজুড়ে ভারত-পাকিস্তান লড়াই মানেই বাড়তি উত্তেজনা, আর তা যদি হয় ফুটবল মাঠে, তবে তার আবেদন ভিন্নমাত্রা পায়। ফুটবলপ্রেমীরা এই হাইভোল্টেজ ম্যাচটি উপভোগ করার জন্য মুখিয়ে আছেন।

সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের এই আসরের সবগুলো ম্যাচ সরাসরি সম্প্রচারের ব্যবস্থা রয়েছে। যেসব দর্শক স্টেডিয়ামে বসে খেলা দেখার সুযোগ পাবেন না, তারা টেলিভিশনের পর্দায় টি স্পোর্টসে চোখ রাখতে পারেন। আধুনিক সম্প্রচার প্রযুক্তির কল্যাণে দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে ফুটবলপ্রেমীরা তাদের প্রিয় দলের খেলা উপভোগ করতে পারবেন। খেলোয়াড়দের চোটে পড়া বা ফর্মের ওঠানামার মতো বিষয়গুলো মাথায় রেখে দলগুলো তাদের কৌশল সাজিয়েছে। বাংলাদেশ দল তাদের অনুশীলনে মূলত পাসিং ফুটবল এবং ফিনিশিংয়ের ওপর জোর দিয়েছে, যা বিগত কয়েক ম্যাচে দুর্বলতা হিসেবে দেখা দিয়েছিল।

দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলের এই বড় আসরটি কেবল ট্রফি জয়ের লড়াই নয়, এটি নিজেদের মান উন্নয়নের একটি বড় সুযোগও বটে। এবারের টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া প্রতিটি দলই নতুন করে নিজেদের প্রমাণ করতে প্রস্তুত। বাংলাদেশ দল তাদের শিরোপা জয়ের লক্ষ্য পূরণে কতটা সফল হতে পারে, তা দেখার জন্য পরবর্তী কয়েক দিন প্রতিটি ফুটবল অনুরাগীর চোখ থাকবে জাতীয় স্টেডিয়ামের সবুজ ঘাসের দিকে। খেলোয়াড়দের ফিটনেস এবং মাঠের শৃঙ্খলা বজায় রাখার ওপর পুরো টুর্নামেন্টের ফলাফল অনেকখানি নির্ভর করবে। আজ রাতের আলোর নিচে লাল-সবুজের জার্সি গায়ে খেলোয়াড়রা যখন মাঠে নামবে, তখন পুরো দেশ অপেক্ষায় থাকবে একটি জয়সূচক শুরুর জন্য। এই জয়ের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারলে দীর্ঘদিনের শিরোপা খরা কাটনো সম্ভব বলে মনে করছেন অভিজ্ঞ ক্রীড়া বিশ্লেষকরা। ফুটবল উৎসবের এই দিনটি তাই বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে এক স্মরণীয় মুহূর্ত হয়ে থাকবে।

সর্বশেষ
এইচএসসি পরীক্ষায় অকৃতকার্যদের ভাগ্য নির্ধারণে ডিসেম্বর মাসে বিশেষ পরীক্ষা মাদ্রাসা ছাত্র আরিফ হত্যা মামলা: কারাগারে আটক রাখার আবেদন ইকবাল সোবহান চৌধুরীর দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান, ঘরের মাঠে আজ শুরু হচ্ছে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ আমুসহ সাতজনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গ্রহণ ইলেকট্রোলাইট পানীয়: উপকারের আশায় পান করছেন কি বাড়তি বিপদ? ব্যাটিংয়ের ছন্দ আর রেকর্ড ভাঙার নেশায় অদম্য বিরাট কোহলি আদালত চত্বরে মেজাজ হারালেন পরীমণি সালমান শাহ হত্যা মামলা: তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময় আবারো পিছিয়েছে বড় পর্দায় নতুন চমক: ফিরছেন নিশো-মেহজাবীন জুটি যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে নতুন মোড়: কংগ্রেসের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে