রাজধানীর আদালত পাড়ায় বৃহস্পতিবার এক ভিন্নধর্মী পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। চিত্রনায়িকা পরীমণি একটি মামলার আইনি মোকাবিলায় আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। মারধর, ভাঙচুর এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে দায়ের করা এই মামলায় শুনানি শেষে বিচারক তার জামিন মঞ্জুর করেন। ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহফুজুর রহমানের আদালতে শুনানিটি অনুষ্ঠিত হয়। বিচারক সব পক্ষের বক্তব্য শোনার পর পাঁচ শত টাকার মুচলেকায় পরীমণির জামিন আবেদন মঞ্জুর করেছেন। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই তিনি আদালতে হাজির হয়েছিলেন বলে জানা গেছে। আদালতের কার্যক্রম শেষে তার আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত সুরভী বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তবে জামিন পাওয়ার পর আদালত চত্বরে বের হওয়ার মুহূর্তটি ছিল বেশ নাটকীয়। চিত্রনায়িকা আদালত প্রাঙ্গণ ত্যাগ করার সময় উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মী এবং কৌতূহলী সাধারণ মানুষের ভিড়ের কবলে পড়েন। এমন পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়েই একপর্যায়ে তিনি মেজাজ হারিয়ে ফেলেন। বেশ উত্তেজিত কণ্ঠে তাকে কথা বলতে দেখা যায়। অনেক সময় তারকাদের ঘিরে এ ধরনের বিড়ম্বনা সাধারণ ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে, কিন্তু আদালতের মতো সংবেদনশীল স্থানে এমন উত্তেজনা উপস্থিত জনতাকে হতবাক করে দেয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, পরিস্থিতির চাপ থেকেই হয়তো তিনি সাময়িকভাবে নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিলেন।
পরীমনির বিরুদ্ধে মামলাটির প্রেক্ষাপট বেশ পুরোনো। ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল বেশ কিছুদিন আগে, যখন তার বিরুদ্ধে ভাঙচুর ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ আনা হয়। আইনি লড়াইয়ের এই পর্যায়টি তার জন্য বেশ চাপের ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। আদালতের বারান্দা এবং আদালত চত্বরে সাধারণত ভিড় লেগেই থাকে। বিশেষ করে যখন কোনো তারকা সেখানে উপস্থিত হন, তখন সাধারণ মানুষের মধ্যে ছবি তোলার বা দেখার আগ্রহ বেড়ে যায়। এই ধরনের জনাকীর্ণ পরিবেশে স্বাভাবিক মেজাজ বজায় রাখা অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। মামলার বিষয়গুলো যেখানে আইনগতভাবে নিষ্পত্তি হওয়ার কথা, সেখানে আদালতের বাইরের এই উত্তেজনাকে অনেকেই অনাকাঙ্ক্ষিত বলে মনে করছেন।
আইনজীবীদের মতে, জামিন পাওয়া একটি আইনি প্রক্রিয়ারই অংশ। কিন্তু আদালত চত্বরে আবেগ বা উত্তেজনার বহিঃপ্রকাশ অনেক সময় আইনি লড়াইয়ের চেয়েও বেশি আলোচনায় চলে আসে। পরীমণির ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটেছে। জামিন পাওয়ার আনন্দের চেয়ে তার মেজাজ হারানোর বিষয়টিই যেন মুহূর্তের মধ্যে প্রধান আলোচনার বিষয়ে পরিণত হয়। মামলার পরবর্তী কার্যক্রম বা আইনি লড়াইয়ের অন্যান্য ধাপ এখনো বাকি আছে। সেগুলোর ক্ষেত্রে কোনো পক্ষ যেন আইন নিজের হাতে তুলে না নেয় বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না করে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়ে থাকেন বিশেষজ্ঞরা।
আদালত প্রাঙ্গণ একটি বিচারিক ক্ষেত্র, যেখানে শান্ত থাকাটাই বাঞ্ছনীয়। গণমাধ্যমের উপস্থিতি এবং জনসমাগমের কারণে পরিস্থিতি অনেক সময় নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। পরীমণির মেজাজ হারানোর ঘটনাটিও হয়তো সেই পরিস্থিতিরই একটি প্রতিফলন। তবে যেকোনো ব্যক্তি, তিনি তারকা হোন বা সাধারণ নাগরিক, আদালতের মর্যাদা বজায় রাখার দায়বদ্ধতা সবারই রয়েছে। মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে এখন। আশা করা হচ্ছে, আগামী দিনগুলোতে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই জটিলতার সুষ্ঠু সমাধান হবে এবং একই সাথে সব পক্ষ আইনি শিষ্টাচার বজায় রাখতে সচেষ্ট হবেন। এই ঘটনার পর আদালতের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং তারকাদের জনসমক্ষে যাতায়াতের বিষয় নিয়েও নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬ । ১:১৫ অপরাহ্ণ