খুঁজুন
, ,

সালমান শাহ হত্যা মামলা: তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময় আবারো পিছিয়েছে

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ১:১৫ অপরাহ্ণ
সালমান শাহ হত্যা মামলা: তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময় আবারো পিছিয়েছে

ঢাকাই চলচ্চিত্রের ইতিহাসে অন্যতম আলোচিত এবং রহস্যময় মৃত্যুর ঘটনা চিত্রনায়ক সালমান শাহের মৃত্যু। দীর্ঘ কয়েক দশক পেরিয়ে গেলেও এই মামলার আইনি জট এবং তদন্তের দীর্ঘসূত্রতা যেন কাটছেই না। সুবিচারের আশায় প্রহর গুনছে কোটি ভক্ত আর তার পরিবার। এই ধারাবাহিকতায় আজ বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, আদালত এই আলোচিত হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নতুন দিন ধার্য করেছেন। মূলত তদন্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করতে ব্যর্থ হওয়ায় আদালতের কাছে সময় চেয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা, যার প্রেক্ষিতে আগামী ৮ ডিসেম্বর নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।

সূত্র মারফত জানা যায়, আজ আদালতের কাছে মামলার তদন্ত প্রতিবেদনটি দাখিল করার কথা ছিল। তবে সিআইডি পুলিশের ঢাকা মেট্রো দক্ষিণের ইন্সপেক্টর মজিবুর রহমান যথাসময়ে প্রতিবেদনটি জমা দিতে পারেননি। তিনি আদালতে পর্যাপ্ত সময় চেয়ে আবেদন জানালে বিচারক তা মঞ্জুর করেন এবং আগামী মাসে পরবর্তী তারিখ ধার্য করেন। এই মামলার তদন্তের সাথে অত্যন্ত সংবেদনশীল কিছু বিষয় জড়িয়ে থাকায় এবং দীর্ঘদিন পেরিয়ে যাওয়ার কারণে তদন্ত প্রতিবেদনটি গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। এই মামলায় সাবেক স্ত্রী সামীরা হকসহ মোট ১১ জন আসামিকে অভিযুক্ত করা হয়েছে, যাদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া দীর্ঘদিন ধরেই ঝুলে আছে।

সালমান শাহের অকাল প্রয়াণ কেবল ঢালিউডকে এক অপূরণীয় ক্ষতির মুখে ফেলে দেয়নি, বরং তার মৃত্যু নিয়ে তৈরি হওয়া রহস্য উন্মোচনে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন সংস্থা তদন্তে নেমেছে। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ বা সিআইডি বর্তমানে এই মামলার দায়ভার গ্রহণ করেছে। এর আগেও তদন্তের দায়িত্ব পরিবর্তনের নজির রয়েছে, তবে প্রতিটি ক্ষেত্রেই চূড়ান্ত প্রতিবেদন আসার অপেক্ষায় থেকে থেকে জনমনে এক ধরণের হতাশার সৃষ্টি হয়েছে। ন্যায়বিচার পাওয়ার আশা নিয়ে ভক্তরা এখনো সোচ্চার। প্রতিটি নতুন তারিখে যখন প্রতিবেদন দাখিলের দিন পিছিয়ে যায়, তখন এই প্রশ্নই বারবার সামনে আসে যে, আদতে রহস্যের জট খুলতে কতটা সময় প্রয়োজন।

আইনি বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরণের চাঞ্চল্যকর মামলার ক্ষেত্রে তাড়াহুড়ো করে প্রতিবেদন দাখিল করা যেমন ঝুঁকিপূর্ণ, তেমনি অহেতুক বিলম্বও বিচারের পথকে দীর্ঘায়িত করে। মামলার সাথে জড়িত সাক্ষী এবং তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহে সিআইডি অত্যন্ত সতর্কতার সাথে কাজ করছে বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি। তবে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, তদন্তকারী সংস্থা যেন যথাযথ সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে দ্রুত একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন তৈরি করে বিচারিক প্রক্রিয়ায় সহায়তা করে। আদালতের নির্দেশনায় আগামী ৮ ডিসেম্বর কী আসে, এখন তা দেখার অপেক্ষায় দেশবাসী। দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষিত এই মামলার সুরাহা কবে হবে, তা নিয়ে সংশয় কাটছে না, তবে আদালতের পরবর্তী শুনানির দিকেই এখন সবার নজর।

সালমান শাহের পরিবারের সদস্যরা এবং অগণিত অনুরাগী দীর্ঘ সময় ধরে এই বিচারপ্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করছেন। তাদের প্রত্যাশা, কোনো রকম প্রভাব বা শৈথিল্য ছাড়া যেন নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য জনসমক্ষে আসে। মামলার চার্জশিট বা তদন্ত প্রতিবেদন যে আইনি ধাপেরই একটি অংশ, তা তারা বোঝেন, কিন্তু সময়ের ব্যবধানে মামলা ঝুলে থাকাটা তাদের জন্য কষ্টের। আদালত এখন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাকে আগামী তারিখের মধ্যে অবশ্যই প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন। এখন দেখার পালা ৮ ডিসেম্বর আদৌ এই দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটে কি না।

আমুসহ সাতজনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গ্রহণ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ২:১৪ অপরাহ্ণ
   
আমুসহ সাতজনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গ্রহণ

চব্বিশ সালের জুলাই ও আগস্ট মাসে সংঘটিত ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান চলাকালীন সময়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় আমির হোসেন আমুসহ সাতজন নেতার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ বা ফরমাল চার্জ আমলে নিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারিক প্যানেল এই আদেশ প্রদান করেন। এর মাধ্যমে জুলাই-আগস্টের সেই উত্তাল সময়ে সংঘটিত সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে এই নেতাদের বিরুদ্ধে বিচারিক কার্যক্রম এক ধাপ এগিয়ে গেল।

আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী, মামলার অভিযুক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে ছয়জনকে আগামী ২২ নভেম্বরের মধ্যে ট্রাইব্যুনালে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মামলার পরবর্তী কার্যক্রম ও আইনি প্রক্রিয়াকে গতিশীল করার লক্ষ্যেই আদালত এই সময়সীমা নির্ধারণ করেছেন। এই দিনের হাজিরার বিষয়টি মামলার পরবর্তী শুনানির ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তবে মামলার সাতজন অভিযুক্তের মধ্যে মির্জা আজমের বিষয়টি নিয়ে আদালত কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছেন। তিনি বর্তমানে পলাতক থাকায় এবং বিচারিক প্রক্রিয়ায় সশরীরে উপস্থিত না থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। আদালত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্দেশনা দিয়েছেন যেন দ্রুত সময়ের মধ্যে তাকে গ্রেফতার করে বিচারের মুখোমুখি করা হয়। পলাতক আসামিদের আইনের আওতায় আনা এবং প্রতিটি অভিযুক্তের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে শুনানি এগিয়ে নেওয়াই বর্তমান বিচার প্রক্রিয়ার অন্যতম লক্ষ্য।

উল্লেখ্য, জুলাই-আগস্টের সেই অস্থির সময়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছিল এবং অনেকেই মানবতাবিরোধী অপরাধের শিকার হয়েছিলেন। সেই সময় যারা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন বা সিদ্ধান্ত গ্রহণের দায়িত্বে ছিলেন, তাদের কর্মকাণ্ড নিয়ে দায়ের হওয়া মামলাগুলোর বিষয়ে বর্তমানে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল অত্যন্ত তৎপর। অভিযোগ রয়েছে যে, রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করে বা রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে যারা এসব অপরাধ সংঘটনে সহায়তা করেছেন বা সরাসরি জড়িত ছিলেন, তাদের প্রত্যেককে যথাযথ বিচারের আওতায় আনা হবে।

আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দেশের ইতিহাসের এই গুরুত্বপূর্ণ বিচারপ্রক্রিয়াটি অত্যন্ত সংবেদনশীল। গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী পরিস্থিতিতে এই ট্রাইব্যুনাল ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় একটি বড় প্লাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে। প্রতিটি মামলার তদন্ত ও অভিযোগ গঠনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে, যাতে কোনো নির্দোষ ব্যক্তি হয়রানির শিকার না হন এবং অপরাধীরা অবশ্যই যেন তাদের কর্মের শাস্তি পায়। আজকের এই আদেশের মাধ্যমে এটি স্পষ্ট হলো যে, ট্রাইব্যুনাল এখন মামলার মূল শুনানির দিকে মনোনিবেশ করছে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিচার শেষ করার আইনি বাধ্যবাধকতা মাথায় রেখে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। আগামী ২২ নভেম্বর সংশ্লিষ্টদের হাজির হওয়ার পর মামলার পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ কী হবে, সেদিকে এখন সবার নজর রয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষ জানিয়েছে, তারা অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগগুলো এনেছে, তা সাক্ষ্য-প্রমাণসহ আদালতে উপস্থাপনের জন্য প্রস্তুত রয়েছে।

ইলেকট্রোলাইট পানীয়: উপকারের আশায় পান করছেন কি বাড়তি বিপদ?

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ২:১৪ অপরাহ্ণ
   
ইলেকট্রোলাইট পানীয়: উপকারের আশায় পান করছেন কি বাড়তি বিপদ?

ক্লান্তি কাটাতে কিংবা নিজেকে চাঙ্গা রাখতে বর্তমান সময়ে সাধারণ পানির বিকল্প হিসেবে ইলেকট্রোলাইট পানীয়ের বোতল হাতে নেওয়াটা এক ধরনের ফ্যাশনে পরিণত হয়েছে। জিম, অফিস কিংবা রাস্তার ধারের দোকানে সহজেই মিলছে নানা রঙের ও স্বাদের এসব পানীয়। চটকদার বিজ্ঞাপন আর সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রভাবশালীদের প্রচারণায় সাধারণ মানুষের মধ্যে একটি ধারণা তৈরি হয়েছে যে, শরীরকে কর্মক্ষম রাখতে ইলেকট্রোলাইট পানীয়ের কোনো বিকল্প নেই। এতে থাকা খনিজ ও ভিটামিন শরীরের অভাব পূরণ করে বলে দাবি করা হয়। কিন্তু প্রশ্ন হলো, সুস্থ থাকতে কি আসলেই প্রতিদিন এসব কৃত্রিম পানীয় গ্রহণ করা জরুরি?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইলেকট্রোলাইট বলতে মূলত সোডিয়াম, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম ও ক্যালসিয়ামের মতো খনিজ উপাদানকে বোঝায়, যা আমাদের শরীরের স্নায়বিক ও পেশির স্বাভাবিক কার্যকারিতার জন্য অপরিহার্য। স্বাভাবিক ও সুষম খাবার গ্রহণ করলে একজন সুস্থ মানুষ প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় এসব খনিজ খাবারের মাধ্যমেই পেয়ে থাকেন। তাই সাধারণ জীবনযাত্রায় যারা খুব একটা কঠোর পরিশ্রম বা তীব্র শারীরিক কসরত করেন না, তাদের জন্য আলাদাভাবে ইলেকট্রোলাইট পানীয় গ্রহণের প্রয়োজন পড়ে না।

ইলেকট্রোলাইট পানীয় মূলত তৈরি করা হয়েছিল অ্যাথলেট বা খেলোয়াড়দের জন্য, যারা দীর্ঘক্ষণ তীব্র রোদ বা কঠোর পরিশ্রমের কারণে প্রচুর ঘামেন এবং শরীরের লবণ ও পানির ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন। তবে এখন দেখা যাচ্ছে, অলস সময় কাটানো বা সামান্য পরিশ্রমের পরেও অনেকে এই পানীয় পান করছেন। চিকিৎসকদের মতে, অকারণে এই পানীয় শরীরে প্রবেশ করালে হিতে বিপরীত হতে পারে। অধিকাংশ ইলেকট্রোলাইট পানীয়তে প্রচুর পরিমাণে সোডিয়াম এবং চিনি থাকে। যারা রক্তচাপের সমস্যায় ভুগছেন কিংবা কিডনির জটিলতা রয়েছে, তাদের জন্য অতিরিক্ত সোডিয়াম গ্রহণ মারাত্মক ঝুঁকির কারণ হতে পারে। এছাড়া ওজন নিয়ন্ত্রণে যারা সচেতন, তাদের জন্য এসব পানীয়ের বাড়তি ক্যালোরি কোনোভাবেই সুখবর নয়।

বাজারে পাওয়া ইলেকট্রোলাইট পানীয়গুলো অনেক ক্ষেত্রেই স্বাদ বাড়াতে কৃত্রিম সুগন্ধি ও প্রিজারভেটিভ ব্যবহার করা হয়, যা দীর্ঘমেয়াদে শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। শরীরচর্চা বা ঘাম ঝরানো পরিশ্রমের পর প্রাকৃতিকভাবে ডাবের পানি বা বাড়িতে তৈরি ফলের রস শরীরের খনিজের চাহিদা মেটাতে অনেক বেশি কার্যকর ও নিরাপদ। তাই বিজ্ঞাপন দেখে তাড়াহুড়ো করে ইলেকট্রোলাইট পানীয় কেনার আগে নিজের দৈনন্দিন কর্মকাণ্ডের ধরণ এবং শরীরের চাহিদার বিষয়ে সচেতন হওয়া জরুরি। কোনো বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ছাড়া নিয়মিত এই ধরনের পানীয় অভ্যাসে পরিণত করা থেকে বিরত থাকাই শ্রেয়। দিনশেষে সাধারণ পানির চাহিদা মেটানো এবং সঠিক খাদ্যাভ্যাসই শরীরকে সুস্থ ও চাঙ্গা রাখার সবচেয়ে নিরাপদ উপায়।

ব্যাটিংয়ের ছন্দ আর রেকর্ড ভাঙার নেশায় অদম্য বিরাট কোহলি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ২:১৪ অপরাহ্ণ
   
ব্যাটিংয়ের ছন্দ আর রেকর্ড ভাঙার নেশায় অদম্য বিরাট কোহলি

ক্রিকেট মাঠের বাইশ গজে যখন ব্যাট হাতে নামেন বিরাট কোহলি, তখন প্রতিপক্ষ বোলারদের মনে ভয় আর দর্শকদের মনে প্রত্যাশার পারদ তুঙ্গে থাকে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের দীর্ঘ যাত্রায় তিনি ৮৬টি সেঞ্চুরির মাইলফলক স্পর্শ করেছেন। ওয়ানডে ফরম্যাটে ১৫ হাজার রানের বিশাল পাহাড় পেরিয়ে গিয়েছেন বহু আগেই। বিশ্বকাপের মঞ্চেও এক আসরে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড গড়ে নিজের আধিপত্যের প্রমাণ রেখেছেন তিনি। কিন্তু এসব পরিসংখ্যান কেবলই সংখ্যা। কোহলির আসল পরিচয় লুকিয়ে আছে তার খেলার ধরনের মাঝে। কঠিন সময়ে দলের হাল ধরা, চাপের মুখে স্থির থেকে ম্যাচ বের করে আনা আর প্রতিটি ইনিংসে নতুন করে নিজেকে ছাড়িয়ে যাওয়ার প্রবল তাগিদই তাকে কোটি ক্রিকেটপ্রেমীর হৃদয়ে স্থান করে দিয়েছে।

একজন ক্রিকেটারের ক্যারিয়ারে ফর্মের ওঠানামা থাকা খুবই স্বাভাবিক। কিন্তু কোহলির ক্ষেত্রে বিষয়টি যেন একটু আলাদা। ক্যারিয়ারের পড়ন্ত বিকেলে এসেও তার ব্যাটে যে ধারাবাহিকতা আর রানের ক্ষুধা দেখা যায়, তা অনেকের জন্যই শিক্ষণীয়। তিনি প্রমাণ করেছেন যে, বয়সের হিসেবে তিনি হয়তো থিতু হচ্ছেন, কিন্তু মাঠের খেলায় তার নিবেদন এখনো নতুনের মতোই উজ্জ্বল। ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে বারবার ফিরে আসার গল্পগুলো কোহলির ক্যারিয়ারের অন্যতম বড় শক্তি। তিনি কেবল একজন ব্যাটার হিসেবেই নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখেননি, বরং দলের প্রয়োজনে একজন নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালনেও সমান পারদর্শী।

সমালোচকরা অনেক সময় তার ফর্ম নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, কিন্তু কোহলি সবসময়ই তার ব্যাট দিয়ে সব প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন। তার অনুশীলনের প্রতি একাগ্রতা এবং শারীরিক সক্ষমতা বজায় রাখার লড়াই আজও বহু তরুণ ক্রিকেটারের কাছে অনুপ্রেরণার উৎস। বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা অগণিত ভক্তের কাছে বিরাট মানেই একটি আস্থার নাম। যখনই দলের প্রয়োজন হয়, কোহলি তখন নিজেকে উজাড় করে দিতে দ্বিধা করেন না। এই যে হার না মানা মানসিকতা, এটাই তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করে তুলেছে।

বিরাটের এই ফর্ম বজায় রাখার রহস্য হয়তো লুকিয়ে আছে তার মানসিক শক্তিতে। ক্রিকেট খেলাকে তিনি কেবল পেশা হিসেবে দেখেন না, বরং এটিকে একটি সাধনা হিসেবে বিবেচনা করেন। প্রতিবার ক্রিজে নামার সময় এমনভাবে প্রস্তুতি নেন যেন এটিই তার জীবনের সেরা ইনিংস হতে যাচ্ছে। এই মানসিকতা তাকে ক্যারিয়ারের এই পর্যায়ে এসেও নতুন নতুন রেকর্ড গড়ার রসদ জোগাচ্ছে। রেকর্ড গড়া বা ভাঙা তার জীবনের নেশা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আগামী দিনগুলোতে তিনি ক্রিকেট বিশ্বকে আরও কি কি উপহার দেবেন, তা দেখার অপেক্ষায় আছেন বিশ্বের সব ক্রিকেটপ্রেমী। তার ক্যারিয়ারের এই সোনালী সময় আরও দীর্ঘায়িত হোক, এমনটাই প্রত্যাশা সবার। কোহলি যেন আরও বহুদিন এভাবেই মাঠ মাতাবেন এবং তার ব্যাটের জাদুতে মুগ্ধ করবেন বিশ্বকে, সেই কামনাই করেন ক্রিকেটবোদ্ধারা।

সর্বশেষ
আমুসহ সাতজনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গ্রহণ ইলেকট্রোলাইট পানীয়: উপকারের আশায় পান করছেন কি বাড়তি বিপদ? ব্যাটিংয়ের ছন্দ আর রেকর্ড ভাঙার নেশায় অদম্য বিরাট কোহলি আদালত চত্বরে মেজাজ হারালেন পরীমণি সালমান শাহ হত্যা মামলা: তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময় আবারো পিছিয়েছে বড় পর্দায় নতুন চমক: ফিরছেন নিশো-মেহজাবীন জুটি যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে নতুন মোড়: কংগ্রেসের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে বুদ্ধিজীবীদের দলবদলের সংস্কৃতি ও রাজনৈতিক বাস্তবতা নতুন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সফল পরীক্ষা চালালো উত্তর কোরিয়া রাউজানে আট পিস্তল প্রদর্শন করে ফের আলোচনায় ‘বুলেট হৃদয়’