ক্লান্তি কাটাতে কিংবা নিজেকে চাঙ্গা রাখতে বর্তমান সময়ে সাধারণ পানির বিকল্প হিসেবে ইলেকট্রোলাইট পানীয়ের বোতল হাতে নেওয়াটা এক ধরনের ফ্যাশনে পরিণত হয়েছে। জিম, অফিস কিংবা রাস্তার ধারের দোকানে সহজেই মিলছে নানা রঙের ও স্বাদের এসব পানীয়। চটকদার বিজ্ঞাপন আর সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রভাবশালীদের প্রচারণায় সাধারণ মানুষের মধ্যে একটি ধারণা তৈরি হয়েছে যে, শরীরকে কর্মক্ষম রাখতে ইলেকট্রোলাইট পানীয়ের কোনো বিকল্প নেই। এতে থাকা খনিজ ও ভিটামিন শরীরের অভাব পূরণ করে বলে দাবি করা হয়। কিন্তু প্রশ্ন হলো, সুস্থ থাকতে কি আসলেই প্রতিদিন এসব কৃত্রিম পানীয় গ্রহণ করা জরুরি?
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইলেকট্রোলাইট বলতে মূলত সোডিয়াম, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম ও ক্যালসিয়ামের মতো খনিজ উপাদানকে বোঝায়, যা আমাদের শরীরের স্নায়বিক ও পেশির স্বাভাবিক কার্যকারিতার জন্য অপরিহার্য। স্বাভাবিক ও সুষম খাবার গ্রহণ করলে একজন সুস্থ মানুষ প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় এসব খনিজ খাবারের মাধ্যমেই পেয়ে থাকেন। তাই সাধারণ জীবনযাত্রায় যারা খুব একটা কঠোর পরিশ্রম বা তীব্র শারীরিক কসরত করেন না, তাদের জন্য আলাদাভাবে ইলেকট্রোলাইট পানীয় গ্রহণের প্রয়োজন পড়ে না।
ইলেকট্রোলাইট পানীয় মূলত তৈরি করা হয়েছিল অ্যাথলেট বা খেলোয়াড়দের জন্য, যারা দীর্ঘক্ষণ তীব্র রোদ বা কঠোর পরিশ্রমের কারণে প্রচুর ঘামেন এবং শরীরের লবণ ও পানির ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন। তবে এখন দেখা যাচ্ছে, অলস সময় কাটানো বা সামান্য পরিশ্রমের পরেও অনেকে এই পানীয় পান করছেন। চিকিৎসকদের মতে, অকারণে এই পানীয় শরীরে প্রবেশ করালে হিতে বিপরীত হতে পারে। অধিকাংশ ইলেকট্রোলাইট পানীয়তে প্রচুর পরিমাণে সোডিয়াম এবং চিনি থাকে। যারা রক্তচাপের সমস্যায় ভুগছেন কিংবা কিডনির জটিলতা রয়েছে, তাদের জন্য অতিরিক্ত সোডিয়াম গ্রহণ মারাত্মক ঝুঁকির কারণ হতে পারে। এছাড়া ওজন নিয়ন্ত্রণে যারা সচেতন, তাদের জন্য এসব পানীয়ের বাড়তি ক্যালোরি কোনোভাবেই সুখবর নয়।
বাজারে পাওয়া ইলেকট্রোলাইট পানীয়গুলো অনেক ক্ষেত্রেই স্বাদ বাড়াতে কৃত্রিম সুগন্ধি ও প্রিজারভেটিভ ব্যবহার করা হয়, যা দীর্ঘমেয়াদে শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। শরীরচর্চা বা ঘাম ঝরানো পরিশ্রমের পর প্রাকৃতিকভাবে ডাবের পানি বা বাড়িতে তৈরি ফলের রস শরীরের খনিজের চাহিদা মেটাতে অনেক বেশি কার্যকর ও নিরাপদ। তাই বিজ্ঞাপন দেখে তাড়াহুড়ো করে ইলেকট্রোলাইট পানীয় কেনার আগে নিজের দৈনন্দিন কর্মকাণ্ডের ধরণ এবং শরীরের চাহিদার বিষয়ে সচেতন হওয়া জরুরি। কোনো বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ছাড়া নিয়মিত এই ধরনের পানীয় অভ্যাসে পরিণত করা থেকে বিরত থাকাই শ্রেয়। দিনশেষে সাধারণ পানির চাহিদা মেটানো এবং সঠিক খাদ্যাভ্যাসই শরীরকে সুস্থ ও চাঙ্গা রাখার সবচেয়ে নিরাপদ উপায়।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬ । ২:১৪ অপরাহ্ণ