খুঁজুন
, ,

হারানো সহকর্মীদের স্মৃতিচারণায় আবেগাপ্লুত তারকা

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:১৪ অপরাহ্ণ
হারানো সহকর্মীদের স্মৃতিচারণায় আবেগাপ্লুত তারকা

চলচ্চিত্রের রঙিন দুনিয়ায় ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে যে মানুষগুলো দর্শককে হাসিয়েছেন কিংবা কাঁদিয়েছেন, সময়ের ব্যবধানে তাদের অনেকেই আজ আমাদের মাঝে নেই। এক সময়ের ব্যস্ত কর্মময় জীবন, লাইট-ক্যামেরা-অ্যাকশনের ঝনঝনানি আর সহকর্মীদের সাথে খুনসুটির দিনগুলো হঠাৎ করেই যেন অনেকটা থমকে দাঁড়ায় যখন পুরনো কোনো স্মৃতি চোখের সামনে ভেসে ওঠে। প্রিয় সহকর্মীদের হারানোর বেদনা এক গভীর শূন্যতা তৈরি করে, যা সময়ের সাথে সাথে কেবল বাড়তেই থাকে। এমনই এক আবেগঘন মুহূর্তে স্মৃতির ঝাঁপি খুলে বসলেন বর্তমান প্রজন্মের এক শিল্পী, যেখানে বারবার ঘুরে ফিরে আসছিল প্রয়াত কিংবদন্তি অভিনয়শিল্পীদের কথা।

কথায় কথায় উঠে এল এটিএম শামসুজ্জামানের মতো দাপুটে অভিনেতার কথা। মঞ্চ ও চলচ্চিত্রের এই কালজয়ী শিল্পী কেবল সহকর্মী ছিলেন না, ছিলেন অভিনয়ের এক জীবন্ত পাঠশালা। শুটিং সেটে তার উপস্থিতি মানেই ছিল শেখার এক দারুণ সুযোগ। সেই মানুষটি আজ নেই, কিন্তু তার রেখে যাওয়া অভিনয়ের ছাপ এখনো প্রতিটি শটে জীবন্ত হয়ে ওঠে। একইসাথে উঠে এল পারভিন সুলতানা দিতি, যিনি তার সাবলীল অভিনয় আর অমায়িক ব্যবহারের জন্য সবার হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছিলেন। তার অকাল প্রস্থান বাংলা চলচ্চিত্র শিল্পের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি হিসেবেই রয়ে গেছে। সায়েমাসহ আরও যারা কাজ করতে করতে আজ ওপারে পাড়ি জমিয়েছেন, তাদের প্রত্যেকের স্মৃতিই আজ এক মায়ার বাঁধনে জড়িয়ে রেখেছে বেঁচে থাকা শিল্পীদের।

কাজের ফাঁকে আড্ডার ছলে যখন পুরনো দিনের শুটিংয়ের গল্প হয়, তখন মনে হয় যেন এই তো সেদিন তারা ছিলেন। ক্যামেরা সেটে মেকআপ নিতে নিতে কতশত হাসি-ঠাট্টা, দুপুরের খাবার শেয়ার করা কিংবা স্ক্রিপ্ট নিয়ে তুমুল আলোচনা—সবই যেন চোখের পলকের ঘটনা। কিন্তু বাস্তবতার কঠিন দেয়াল যখন সামনে এসে দাঁড়ায়, তখন উপলব্ধি হয় পৃথিবীটা কত দ্রুত বদলে যায়। যেসব মানুষের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করা হয়েছে, তারা আজ শুধুই স্মৃতি। এই শূন্যতা কি কখনো পূরণ হওয়ার মতো? প্রশ্ন জাগে, শিল্পের টানে মানুষ কত আপন হয়ে ওঠে, আবার সময়ের নিয়মে তারাই কত দূরে সরে যায়।

প্রয়াত শিল্পীদের সেই কাজগুলো এখন টেলিভিশন বা ওটিটি প্ল্যাটফর্মে যখন দেখা যায়, তখন মনে হয় তারা যেন এখনো আমাদের আশেপাশেই আছেন। তাদের রেখে যাওয়া সৃষ্টিগুলোই তাদের অমর করে রেখেছে। নতুন প্রজন্মের শিল্পীরা তাদের কাছ থেকে শিখেছেন, অনুপ্রাণিত হয়েছেন। সেই শিক্ষা ও অনুপ্রেরণা নিয়েই এগিয়ে চলা। আজ যখনই কোনো শুটিং ফ্লোরে পা রাখা হয়, অবচেতনভাবেই পুরনো সেই চেনা মুখগুলো খুঁজে ফেরে মন। ক্যামেরা অন হওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তের সেই নীরবতায় প্রিয় মানুষগুলোর উপস্থিতি যেন আজও অনুভব করা যায়।

একজন শিল্পীর জন্য তার সহকর্মীদের হারানো মানে নিজের জীবনের একটি অংশ হারিয়ে ফেলা। কারণ, শুটিং ফ্লোরের দীর্ঘ সময়গুলোয় সহকর্মীরাই হয়ে ওঠেন দ্বিতীয় পরিবার। সেই পরিবারের সদস্য কমে যাওয়া মানে নিজের একান্ত ভুবনে একাকী হয়ে পড়া। তবে মৃত্যুর অমোঘ নিয়মে যারা চলে গেছেন, তাদের প্রতি সম্মান জানিয়েই বর্তমানের শিল্পীরা কাজ করে যাচ্ছেন। তারা মনে করেন, প্রিয় সহকর্মীদের কাজকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই হবে তাদের প্রতি শ্রেষ্ঠ শ্রদ্ধাঞ্জলি। স্মৃতির পাতা থেকে হারিয়ে না যাওয়া এই মানুষগুলো চিরকাল আমাদের চলচ্চিত্রের ইতিহাসে এবং দর্শকদের হৃদয়ে উজ্জ্বল নক্ষত্র হয়ে থাকবেন। তাদের শূন্যতা আমাদের মনে করিয়ে দেয়, জীবন ক্ষণস্থায়ী, কিন্তু শিল্প অমর।

চলমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের চ্যালেঞ্জ ও আজকের আলোচিত ঘটনাবলি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:১৪ অপরাহ্ণ
   
চলমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের চ্যালেঞ্জ ও আজকের আলোচিত ঘটনাবলি

নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত থেকে শুরু করে ভূ-রাজনীতি ও সমসাময়িক নানা ইস্যুতে সরগরম আজকের দিন। বাংলাদেশের সামনে থাকা বর্তমান চ্যালেঞ্জ ও জাতিসংঘের অধিবেশনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের পাশাপাশি প্রাসঙ্গিক ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে একনজরে আজকের আলোচিত খবর।

প্রতিনিয়ত পরিবর্তনের সাথে তাল মিলিয়ে বদলে যাচ্ছে আমাদের চারপাশের ঘটনার প্রেক্ষাপট। নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্তের প্রভাব থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতির জটিল সমীকরণ, কিংবা ক্রীড়াঙ্গন ও বিনোদন জগতের সর্বশেষ খবর—সব মিলিয়েই তৈরি হয় আজকের দিনের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। শুক্রবারের এই দিনটিতে দেশি ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বেশ কিছু বিষয়ের ওপর আলোকপাত হয়েছে, যা জনমনে বিশেষ কৌতুহল ও আলোচনার খোরাক জুগিয়েছে।

আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের অবস্থান এবং এর সাথে সম্পর্কিত বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা এখন তুঙ্গে। বিশেষত, বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতির পরিবর্তনশীল পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ কী ধরনের কৌশল অবলম্বন করছে এবং নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে যেসব গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে, তা সাধারণ মানুষের কাছে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ এবং এর ফলে যে বিশেষ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে বিশ্লেষকদের মধ্যে নানামুখী মত রয়েছে। বিশেষ করে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনের প্ল্যানারি মিটিংয়ে যে ধরনের প্রস্তাব ও সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে, তা বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনায় নতুন মোড় আনতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই ধরনের আন্তর্জাতিক ফোরামে বাংলাদেশের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং নিজস্ব অবস্থান তুলে ধরার বিষয়টি কূটনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

কেবল আন্তর্জাতিক রাজনীতি নয়, দেশের অভ্যন্তরেও বিভিন্ন খাতের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার রেশ কাটছে না। অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা থেকে শুরু করে সামাজিক সুরক্ষার বিষয়টিও বারবার সামনে আসছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সামনের দিনগুলোতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে আরও সতর্ক ও সুচিন্তিত পদক্ষেপে অটল থাকতে হবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সহায়তার ক্ষেত্রগুলো আরও কার্যকর করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সাধারণ অধিবেশনে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো স্থানীয় পর্যায়ে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে এখন থেকেই নানামুখী গবেষণা ও পর্যবেক্ষণ শুরু হয়েছে।

ক্রীড়া ও বিনোদন জগতও প্রতিদিনের সংবাদের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। খেলার মাঠের উত্তাপ কিংবা সাংস্কৃতিক অঙ্গনের নতুন খবর সবকিছুই সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সাথে মিশে থাকে। আজকের আলোচিত বিষয়গুলোর মধ্যে বিনোদন জগতের পরিবর্তনশীল ধারার প্রভাবও লক্ষ্য করা গেছে, যা মূলধারার সংবাদের সাথে মিশে পাঠক মহলে সাড়া ফেলেছে। তবে সবকিছুর ঊর্ধ্বে জাতীয় স্বার্থ এবং জননিরাপত্তার বিষয়টিই এখন সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।

সব মিলিয়ে আজকের দিনটি কেবল গুটিকয়েক সংবাদের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। বরং প্রতিটি সংবাদের পেছনেই লুকিয়ে ছিল বৃহত্তর কোনো পরিবর্তনের ইঙ্গিত। বাংলাদেশ আজ বিশ্বমঞ্চে যেভাবে নিজেদের অবস্থান জানান দিচ্ছে, তাতে ভবিষ্যতের দিনগুলোতে আরও বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ ও সুযোগের অপেক্ষায় থাকতে হবে। এই জটিল পরিস্থিতিকে মোকাবিলা করে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখাটাই এখন মূল লক্ষ্য। সংবাদের প্রতিটি স্তরে এই সচেতনতা ও সতর্কবার্তার সুর ধ্বনিত হচ্ছে, যা আগামী দিনগুলোতে রাষ্ট্র ও সমাজ ব্যবস্থায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে সক্ষম। আমাদের সাংবাদিকতার মূল উদ্দেশ্যই হলো সত্যের অনুসন্ধান করা এবং পাঠকের সামনে স্বচ্ছ ও বিশ্লেষণধর্মী তথ্য উপস্থাপন করা। আজকের দিনের সংবাদের সারমর্ম এটাই জানান দেয় যে, আমরা একটি পরিবর্তনশীল সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি এবং প্রতিটি পদক্ষেপের গুরুত্ব অপরিসীম।

নিহত তাহসিফের বাবার প্রশ্ন: চমৎকার সরকার থাকতে বিচার পেতে মামলা করতে হবে কেন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:১৪ অপরাহ্ণ
   
নিহত তাহসিফের বাবার প্রশ্ন: চমৎকার সরকার থাকতে বিচার পেতে মামলা করতে হবে কেন

বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সাউরির মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় বিচার পাওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে জনমনে নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। এই অকাল মৃত্যুর পর আইনি লড়াইয়ের পথে না হেঁটে বরং রাষ্ট্রের ওপর পূর্ণ আস্থা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন নিহতের বাবা কে এম এনায়েতুল করিম। তার মতে, বর্তমানে দেশে যে সরকার দায়িত্ব পালন করছে, তা অত্যন্ত চমৎকার এবং জনবান্ধব। এমন একটি সক্ষম সরকারের অধীনে বিচার পাওয়ার জন্য সাধারণ মানুষকে কেন দীর্ঘমেয়াদী মামলা-মোকদ্দমার আইনি জটিলতায় জড়াতে হবে, সেই প্রশ্নই এখন সবার মুখে মুখে ঘুরছে।

শুক্রবার সাংবাদিকদের সাথে আলাপচারিতায় কে এম এনায়েতুল করিম তার ছেলের মৃত্যুর ঘটনায় কোনো ধরনের মামলার প্রয়োজনীয়তা আছে কি না, তা নিয়ে সরাসরি সংশয় প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, তার পরিবার কোনো ধরনের আদালতে দৌড়াদৌড়ির ঝামেলায় যেতে আগ্রহী নয়। পরিবারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, তারা সরকারের বিভিন্ন সংস্থার ওপর পূর্ণ আস্থা রাখছেন এবং বিশ্বাস করেন যে রাষ্ট্র তার নিজ দায়িত্বেই সত্য উদঘাটন করবে। একজন ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে এ ধরনের বক্তব্য দেশের বিচার ব্যবস্থা এবং আইনি প্রক্রিয়ার প্রতি একটি বড় বার্তা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সাধারণত কোনো অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটলে পরিবারগুলো বিচার পাওয়ার আশায় থানায় মামলা দায়ের করেন এবং তারপর দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের মুখোমুখি হন। কিন্তু তাহসিফের পরিবারের এই ভিন্নধর্মী অবস্থান রাষ্ট্র এবং প্রশাসনের ওপর তাদের গভীর আস্থার বহিঃপ্রকাশ। তাদের দাবি, যদি সরকারের সংস্থাগুলো সত্যিই সক্রিয় থাকে, তবে আইনি জটিলতার প্রয়োজন হওয়ার কথা নয়। রাষ্ট্রের দায়িত্বশীল জায়গাগুলো থেকে সঠিক তদন্তের মাধ্যমে যদি ন্যায়বিচার নিশ্চিত হয়, তবে সাধারণ মানুষের হয়রানি অনেকটাই কমে আসবে বলে অনেকে মন্তব্য করছেন।

তাহসিফের বাবা এনায়েতুল করিমের এই বক্তব্য সামাজিক মাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকে তার এই সাহসিকতা এবং সরকারের ওপর আস্থাকে সাধুবাদ জানাচ্ছেন, আবার অনেকে আইনি কাঠামোর সীমাবদ্ধতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। তবে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে যেভাবে রাষ্ট্রের ওপর আস্থা স্থাপন করা হয়েছে, তাতে সরকার ও প্রশাসনের দায়বদ্ধতা আরও বেড়ে গেল বলেই মনে করছেন সাধারণ সচেতন নাগরিকেরা।

বর্তমানে দেশে সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং রাষ্ট্রের বিভিন্ন দপ্তরের কার্যকারিতা নিয়ে নিয়মিত পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনাটি এখন প্রশাসনের কাছে একটি বড় পরীক্ষা হিসেবে দাঁড়িয়েছে। পরিবার মামলা করতে অনাগ্রহী হলেও রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে। রাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেয় এবং পুরো ঘটনার সত্যতা কীভাবে উদ্ঘাটিত হয়, তা দেখার অপেক্ষায় আছেন ভুক্তভোগী পরিবার এবং সচেতন দেশবাসী।

মূলত মামলা-মোকদ্দমার দীর্ঘসূত্রতা থেকে বাঁচতে এবং রাষ্ট্রযন্ত্রের ওপর আস্থা রেখেই যে বিচার পাওয়া সম্ভব, এই বার্তাটিই যেন দিতে চেয়েছেন তাহসিফের বাবা। আগামী দিনে সরকারি সংস্থাগুলোর ভূমিকা এবং তদন্তের স্বচ্ছতা নিয়েই এখন মূল আলোচনা আবর্তিত হচ্ছে। পরিবারের এই আস্থাকে সম্মান জানিয়ে সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী সংস্থাগুলো কীভাবে কাজ পরিচালনা করে, তার ওপরই নির্ভর করছে ন্যায়বিচারের নিশ্চয়তা। সব মিলিয়ে তাহসিফ সাউরির মৃত্যু এবং তার বাবার এই প্রতিক্রিয়া যেন দেশের বিচার ব্যবস্থা ও সরকারি সেবার মান নিয়ে নতুন করে চিন্তার খোরাক জোগাল।

টঙ্গীতে উদ্ধার তাহসিফের মোটরসাইকেল, রহস্য উদ্ঘাটনে তৎপর পিবিআই

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:১৪ অপরাহ্ণ
   
টঙ্গীতে উদ্ধার তাহসিফের মোটরসাইকেল, রহস্য উদ্ঘাটনে তৎপর পিবিআই

বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় নতুন মোড় নিয়েছে তদন্ত। ঘটনার পর থেকে নিখোঁজ থাকা তার ব্যক্তিগত কালো রঙের মোটরসাইকেলটি অবশেষে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন বা পিবিআই। নিহতের ঘনিষ্ঠ বন্ধু আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপের দেওয়া তথ্যের সূত্র ধরে তদন্তকারী কর্মকর্তারা টঙ্গীর তুরাগ নদের তীরবর্তী মাজার বস্তি এলাকায় অভিযান চালিয়ে মোটরসাইকেলটি খুঁজে পান।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, যে স্থানে তাহসিফের মরদেহ পাওয়া গিয়েছিল, সেখান থেকে আনুমানিক ৫০ গজ দূরে পরিত্যক্ত অবস্থায় মোটরসাইকেলটি পড়ে ছিল। উদ্ধার হওয়ার সময় সেটি অনেকটা ঝোপঝাড় ও আবর্জনার আড়ালে লুকিয়ে রাখা ছিল বলে ধারণা করছেন তদন্ত কর্মকর্তারা। মোটরসাইকেলটি উদ্ধারের বিষয়টি মামলার তদন্তে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ, ঘটনার পর থেকেই এই বাহনটি নিখোঁজ ছিল এবং এর মাধ্যমে অপরাধীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছিল।

এর আগে, কে এম তাহসিফ সাউরির মরদেহ উদ্ধারের পর থেকেই তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও মোটরসাইকেল নিয়ে ধুম্রজালের সৃষ্টি হয়েছিল। পিবিআই দায়িত্ব নেওয়ার পর বিভিন্ন প্রযুক্তিগত ও গোয়েন্দা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে কাজ শুরু করে। এরই অংশ হিসেবে নিহতের পরিচিত ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। বিশেষ করে তাহসিফের বন্ধু আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপের দেওয়া তথ্য এবং তার দেওয়া লোকেশন ধরে পিবিআই টিম ওই এলাকায় অনুসন্ধান চালায়। উদ্ধারকৃত মোটরসাইকেলটি ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হতে পারে বলে জানা গেছে। এই পরীক্ষা থেকে পাওয়া আলামত ও ফিঙ্গারপ্রিন্ট তদন্তের গতিপথ নির্ধারণে সহায়ক হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, মোটরসাইকেলটি উদ্ধারের ফলে ঘটনার পারিপার্শ্বিকতা বুঝতে সুবিধা হবে। কেন এটি মরদেহ উদ্ধারের স্থানের এত কাছে ফেলে রাখা হলো এবং এর পেছনে কোনো পূর্বপরিকল্পিত অপরাধের ছক রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন পিবিআই কর্মকর্তারা। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কেবল মোটরসাইকেল উদ্ধার নয়, বরং এর সঙ্গে জড়িত থাকা ব্যক্তিদের পরিচয় নিশ্চিত করতে আরও গভীর তদন্ত চলছে।

উল্লেখ্য, তাহসিফের পরিচয় শনাক্ত করার ক্ষেত্রে তার মোবাইল ফোনটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। উদ্ধার হওয়া মোটরসাইকেল ও মোবাইল ফোন থেকে পাওয়া তথ্যগুলোকে একসূত্রে গেঁথে ঘটনার রহস্য সমাধানের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে পিবিআই। মামলার তদন্তে কোনো ধরনের শৈথিল্য বরদাশত করা হবে না জানিয়ে উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা দ্রুতই অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দিয়েছেন। স্থানীয়দের মধ্যে এই ঘটনা নিয়ে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে এবং দ্রুত ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন স্বজনরা। এখন ফরেনসিক রিপোর্ট আসার পর মামলার পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

সর্বশেষ
হারানো সহকর্মীদের স্মৃতিচারণায় আবেগাপ্লুত তারকা চলমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের চ্যালেঞ্জ ও আজকের আলোচিত ঘটনাবলি নিহত তাহসিফের বাবার প্রশ্ন: চমৎকার সরকার থাকতে বিচার পেতে মামলা করতে হবে কেন টঙ্গীতে উদ্ধার তাহসিফের মোটরসাইকেল, রহস্য উদ্ঘাটনে তৎপর পিবিআই রাজবাড়ীতে মাদ্রাসায় খাবার চেয়ে না পেয়ে বাবুর্চিকে পিটিয়ে হত্যা ব্রাজিলের বৈধ নেতা হিসেবে বলসোনারোকে স্বীকৃতি দিচ্ছে না ট্রাম্প প্রশাসন গাজায় ইসরায়েলি অভিযানের প্রতিবাদে বিশ্বজুড়ে বন্দরশ্রমিকদের কর্মবিরতি পাহাড়ের কোলে স্বপ্নপুরী, বলিউড সিনেমার দৃশ্য মনে করিয়ে দিচ্ছে ভারতের এই রেলস্টেশন গ্যাস সংকট ও নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতিতে জনজীবন বিপর্যস্ত: আখতার হোসেন ফার্মাসি রেজিস্ট্রেশন পরীক্ষায় প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগ
Advertisement