খুঁজুন
, ,

বন্ধ ঘরে ধুলোর উপদ্রব: অদৃশ্য কারণ ও মুক্তির উপায়

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:১৪ অপরাহ্ণ
বন্ধ ঘরে ধুলোর উপদ্রব: অদৃশ্য কারণ ও মুক্তির উপায়

অধিকাংশ মানুষের ধারণা, বাইরের বাতাস বা রাস্তার ধুলোবালির কারণেই ঘরের আসবাবপত্রে ধুলো জমে। বিশেষ করে যারা ব্যস্ত রাস্তার পাশে বসবাস করেন, তারা এই সমস্যায় সবচেয়ে বেশি জর্জরিত হন। কিন্তু আধুনিক আবাসন ব্যবস্থায় দেখা যাচ্ছে, জানালা ও দরজা সতর্কতার সঙ্গে বন্ধ রাখার পরেও মেঝে, সোফা কিংবা আলমারিতে ধুলোর আস্তরণ জমছে। এই সমস্যার মূলে যাওয়ার জন্য আমাদের ঘরের ভেতরের পরিবেশ ও অভ্যাসের দিকে নজর দেওয়া জরুরি। অন্দরসজ্জা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ধুলোর বড় অংশ বাইরের চেয়ে ঘরের ভেতরের বিভিন্ন বস্তু থেকেই উৎপন্ন হয়।

আমাদের শোয়ার ঘরের তোশক, গদি, বালিশ এবং পরনের কাপড় থেকে নিয়মিত প্রচুর পরিমাণে সূক্ষ্ম তন্তু বা ফাইবার নির্গত হয়। এই তন্তুগুলো বাতাসের সঙ্গে মিশে ধুলোর রূপ নেয়। এ ছাড়া ভারী পর্দা বা কার্পেট ধুলো ধরে রাখার এক বড় আধার। নিয়মিত ঝাড়পোঁছ বা ভ্যাকুয়াম ক্লিনারের ব্যবহার না করলে পর্দা ও কার্পেট থেকে ধুলো সারা ঘরে ছড়িয়ে পড়ে। তাই অন্দরসজ্জার অংশ হিসেবে এসব উপকরণের পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।

বইয়ের তাক বা শেলফও ধুলো জমার বড় একটি উৎস। কাগজের নিজস্ব ক্ষয় ও পুরনো বইয়ের থেকে নির্গত সূক্ষ্ম কণা ধুলো তৈরিতে ভূমিকা রাখে। বই নিয়মিত নাড়াচাড়া না করলে বা বইয়ের তাক ঢাকা না থাকলে সেখানে প্রচুর ধুলো জমা হওয়া স্বাভাবিক। এ ছাড়া, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র বা এসির ফিল্টার নিয়মিত পরিষ্কার না করলে সেখান থেকেও ধুলো সারা ঘরে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এসি বাতাস চলাচলের সময় ফিল্টারে আটকে থাকা পুরনো ধুলো নতুন করে বাতাসে মিশিয়ে দেয়, যা পরে ঘরের বিভিন্ন কোণায় থিতু হয়।

ঘরের ধুলো কমানোর জন্য কিছু কৌশল অবলম্বন করা যেতে পারে। প্রথমেই ঘরের ভেতরে অপ্রয়োজনীয় আসবাবপত্র বা শো-পিস কমানোর চেষ্টা করা উচিত। আসবাবের সংখ্যা যত বেশি হবে, ধুলো জমার জায়গা তত বাড়বে। বিছানার চাদর ও বালিশের কভার সপ্তাহে অন্তত একবার পরিবর্তন করা এবং ধুয়ে ফেলা স্বাস্থ্যের জন্য জরুরি। তোশক বা গদি মাঝে মাঝে রোদে দেওয়া ধুলো কমানোর প্রাচীন অথচ কার্যকর উপায়।

ভ্যাকুয়াম ক্লিনার ব্যবহার করার সময় হেপা (HEPA) ফিল্টারযুক্ত মেশিন বেছে নেওয়া ভালো। এটি সূক্ষ্ম ধুলিকণা আটকে রাখতে কার্যকর। ঘর মোছার সময় শুকনো কাপড় ব্যবহার না করে ভেজা কাপড় বা মপ ব্যবহার করা উচিত। শুকনো কাপড়ে ঝাড়ু দিলে ধুলো বাতাসে ভেসে বেড়ায়, যা পরবর্তীতে আবার আসবাবের ওপরই পড়ে। ভেজা মোছার ফলে ধুলো কাপড়ের সঙ্গে আটকে যায় এবং ঘর পরিষ্কার থাকে।

পাশাপাশি ঘরের ভেন্টিলেশন ব্যবস্থার দিকেও খেয়াল রাখা দরকার। সব সময় জানালা বন্ধ রাখা সবসময় ভালো সমাধান নয়। দিনের একটি নির্দিষ্ট সময়ে জানালা খুলে দিলে ঘরের ভেতরের বদ্ধ বাতাস বেরিয়ে যায়, যা ধুলো ও অ্যালার্জেন কমাতে সাহায্য করে। তবে ধুলোবালির আধিক্য থাকলে জানালা খোলার সময় সূক্ষ্ম জালের পর্দা ব্যবহার করা যেতে পারে।

পরিশেষে, ধুলোবালি থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত ঘর পাওয়া কঠিন হলেও, সঠিক পরিকল্পনায় এর মাত্রা কমিয়ে আনা সম্ভব। প্রতিদিনের রুটিনে ঘর গোছানো এবং আসবাবপত্রের নিয়মিত যত্নের মাধ্যমে ঘরের পরিবেশকে স্বাস্থ্যসম্মত ও আরামদায়ক রাখা সম্ভব। কেবল বাইরের দূষণ নিয়ে চিন্তিত না হয়ে, ঘরের ভেতরের অভ্যাসগুলো পরিবর্তন করলে ধুলোর হাত থেকে মুক্তি পাওয়া সহজ হবে।

গাজায় ইসরায়েলি অভিযানের প্রতিবাদে বিশ্বজুড়ে বন্দরশ্রমিকদের কর্মবিরতি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:১৪ অপরাহ্ণ
   
গাজায় ইসরায়েলি অভিযানের প্রতিবাদে বিশ্বজুড়ে বন্দরশ্রমিকদের কর্মবিরতি

গাজায় চলমান ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের প্রতিবাদে বিশ্বের ২২টি দেশের ১১৩টি বন্দরে একযোগে ধর্মঘট পালন করছেন ২৫টিরও বেশি শ্রমিক ইউনিয়ন। আন্তর্জাতিক পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থা ও অস্ত্র পরিবহন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় বিশ্ব অর্থনীতিতে এর গভীর প্রভাব পড়তে পারে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা।

গাজায় চলমান ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের বিরুদ্ধে বিশ্বজুড়ে প্রতিবাদের ঢেউ আছড়ে পড়ছে। এবার এই প্রতিবাদে শামিল হলেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বন্দরশ্রমিকরা। ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযানের প্রতিবাদে এবং ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি জানিয়ে বিশ্বের ২২টি দেশের ১১৩টি বন্দরে একযোগে ধর্মঘট পালন করছেন ২৫টিরও বেশি শ্রমিক ইউনিয়নের সদস্যরা। এই বৈশ্বিক কর্মবিরতি আন্তর্জাতিক পণ্য সরবরাহ ও শিপিং খাতে বড় ধরনের অচলাবস্থা তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে অস্ত্র পরিবহনসহ গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহ চেইনগুলোতে এর প্রভাব সুদূরপ্রসারী হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিভিন্ন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, শ্রমিক সংগঠনগুলোর এই নজিরবিহীন পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য হলো গাজায় ইসরায়েলি সামরিক আগ্রাসন বন্ধের দাবিকে আরও জোরালো করা। শ্রমিকরা মনে করছেন, যুদ্ধের জন্য প্রয়োজনীয় অস্ত্র ও সরঞ্জাম পরিবহনকারী জাহাজগুলোর চলাচল বন্ধ করে দিলে ইসরায়েলি বাহিনীর ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়বে। বন্দরশ্রমিকদের এই আন্দোলনের ফলে বিশ্বজুড়ে জাহাজ চলাচল ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে, যার ফলে বিশ্ব অর্থনীতির চাকা ধীর হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বন্দরগুলোর কার্যক্রম বন্ধ থাকায় পণ্য খালাস ও লোডিং প্রক্রিয়া থমকে গেছে, যা দীর্ঘমেয়াদে সাপ্লাই চেইন বা সরবরাহ ব্যবস্থায় ঘাটতি তৈরি করতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, বন্দরশ্রমিকদের এই আন্দোলন শুধুমাত্র সাধারণ শ্রমিকদের প্রতিবাদের একটি অংশ নয়, বরং এটি আন্তর্জাতিক রাজনীতির ক্ষেত্রে একটি শক্তিশালী বার্তা। এর আগে বিভিন্ন সময়ে শ্রমিক ইউনিয়নগুলো রাজনৈতিক ইস্যুতে সোচ্চার হলেও, এবার এত বিপুল সংখ্যক বন্দর এবং ইউনিয়ন একত্রে কোনো আন্তর্জাতিক ইস্যুতে ধর্মঘটে নামার ঘটনা বিরল। এই আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী ইউনিয়নগুলো পরিষ্কার জানিয়েছে যে, তারা কোনোভাবেই এমন অস্ত্র বা সরঞ্জাম পরিবহন প্রক্রিয়ায় সহায়তা করবে না যা যুদ্ধের আগুনে ঘি ঢালছে।

ধর্মঘটের কারণে এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে স্থবিরতা তৈরি হয়েছে। অনেক জাহাজ সাগরে নোঙর করে অপেক্ষা করতে বাধ্য হচ্ছে, কারণ বন্দরে পণ্য খালাসের জন্য কোনো শ্রমিক নেই। এই অচলাবস্থা কতদিন স্থায়ী হবে এবং এর ফলে বৈশ্বিক বাণিজ্যে কতটা আর্থিক ক্ষতি হতে পারে, তা এখনই নিশ্চিতভাবে বলা কঠিন। তবে বন্দরের কার্যক্রম পুরোপুরি সচল না হওয়া পর্যন্ত এর নেতিবাচক প্রভাব বিশ্বব্যাপী পণ্যের দাম এবং সরবরাহের ওপর পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক মহলে এই ঘটনাটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। মানবাধিকার কর্মী এবং ফিলিস্তিনপন্থী গোষ্ঠীগুলো বন্দরশ্রমিকদের এই সাহসী পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। তারা বলছেন, সাধারণ মানুষ এবং শ্রমিকদের এমন সম্মিলিত অবস্থান ইসরায়েলি সরকারের ওপর নৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগ করতে সহায়ক হবে। অন্যদিকে, এই পরিস্থিতিতে জাহাজ কোম্পানি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। শিপিং শিল্পের ওপর এই ধর্মঘটের বিরূপ প্রভাব কাটিয়ে উঠতে দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন হতে পারে।

সব মিলিয়ে গাজার পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে বিশ্বজুড়ে শ্রমিকদের এই অবস্থান জানান দেয় যে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের মূল ভিত্তি হিসেবে পরিচিত বন্দরগুলো এখন রাজনৈতিক প্রতিবাদের নতুন মঞ্চে পরিণত হয়েছে। এই ধর্মঘট কতদিন চলবে কিংবা এর ফলে ইসরায়েলি নীতিতে কোনো পরিবর্তন আসবে কি না, তা দেখার জন্য এখন বিশ্ববাসীর নজর পরিস্থিতির ওপর। আপাতত বন্দরশ্রমিকদের এই ঐক্যবদ্ধ প্রতিবাদ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ফিলিস্তিন ইস্যুকে নতুন মাত্রায় সামনে নিয়ে এসেছে।

পাহাড়ের কোলে স্বপ্নপুরী, বলিউড সিনেমার দৃশ্য মনে করিয়ে দিচ্ছে ভারতের এই রেলস্টেশন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:১৪ অপরাহ্ণ
   
পাহাড়ের কোলে স্বপ্নপুরী, বলিউড সিনেমার দৃশ্য মনে করিয়ে দিচ্ছে ভারতের এই রেলস্টেশন

সাধারণত ভারতীয় রেলস্টেশন বললেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে জনাকীর্ণ প্ল্যাটফর্ম, যাত্রীদের কোলাহল, ট্রেনের হুইসেল এবং ব্যস্ততার এক চিরচেনা দৃশ্য। কিন্তু সেই ধারণা পুরোপুরি বদলে দিচ্ছে উত্তরাখণ্ডের একটি নতুন রেলস্টেশন। চারদিকে সুউচ্চ সবুজ পাহাড়, শান্ত পরিবেশ এবং নির্মল বাতাসের মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকা এই স্টেশনটি দেখলে মনে হতে পারে আপনি হয়তো কোনো বলিউড সিনেমার শুটিং সেটে দাঁড়িয়ে আছেন। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একগুচ্ছ ছবি ও ভিডিও নেটদুনিয়ায় রীতিমতো হইচই ফেলে দিয়েছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে এই রেলস্টেশনের অপূর্ব রূপ।

উত্তরাখণ্ডের ঋষিকেশে অবস্থিত এই রেলস্টেশনের নাম যোগ নগরী ঋষিকেশ রেলস্টেশন। প্রথম দেখায় যে কেউ একে কোনো সিনেমার ল্যান্ডস্কেপ বা কাল্পনিক কোনো স্টেশনের দৃশ্য বলে ভুল করতে পারেন। এখানকার অবকাঠামো এবং চারপাশের প্রাকৃতিক দৃশ্যের মেলবন্ধন এতটাই চমৎকার যে তা পর্যটকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে বাধ্য। রেলস্টেশনটি যেভাবে পাহাড়ে ঘেরা, তাতে ভোরের আলো বা গোধূলির ম্লান আলোয় স্টেশনটির রূপ যেন আরও মোহনীয় হয়ে ওঠে। যারা পাহাড় ভালোবাসেন, তাদের জন্য এটি যেন এক নতুন আর্শীবাদ।

ভারতের রেলস্টেশনগুলোতে সাধারণত যে বিপুল ভিড় দেখা যায়, তার তুলনায় এই স্টেশনটিতে রয়েছে এক স্নিগ্ধ শান্ততা। এর প্ল্যাটফর্মগুলো অত্যন্ত পরিচ্ছন্ন এবং সুবিন্যস্ত, যা আধুনিক ভারতীয় রেলওয়ের অগ্রগতির এক বড় দৃষ্টান্ত। অনেক সময় আমরা ভ্রমণের ক্ষেত্রে ট্রেনকে কেবল এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাওয়ার মাধ্যম হিসেবে দেখি, কিন্তু যোগ নগরী ঋষিকেশ স্টেশনটি প্রমাণ করে যে, যাত্রাপথের বিরতিস্থল নিজেও একটি দর্শনীয় স্থান হয়ে উঠতে পারে। এখানকার স্থাপত্যশৈলী এবং পরিবেশনা এমনভাবেই পরিকল্পনা করা হয়েছে, যা স্থানীয় ভূপ্রকৃতির সাথে দারুণভাবে মিশে গেছে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় যখনই এই স্টেশনের ভিডিও বা ছবি ভাইরাল হয়েছে, তখনই নেটিজেনরা উচ্ছ্বসিত মন্তব্য করেছেন। অনেকেই এটিকে ভারতের অন্যতম সুন্দর রেলস্টেশন হিসেবে অভিহিত করছেন। বলিউড সিনেমার সাথে এর তুলনা টানার মূল কারণ হলো, হিন্দি সিনেমায় আমরা পাহাড়ি স্টেশন বা স্টেশনের মনোরম দৃশ্যের যে নান্দনিকতা দেখে অভ্যস্ত, এই জায়গাটি হুবহু সেই আবেগকে স্পর্শ করে। একদিকে পাহাড়ের অটল উপস্থিতি, অন্যদিকে ট্রেনের আসা-যাওয়ার ছন্দ—সব মিলিয়ে এটি এক অদ্ভুত সুন্দর আবহ তৈরি করে।

ঋষিকেশ এমনিতেই বিশ্বজুড়ে পর্যটকদের কাছে একটি অত্যন্ত প্রিয় গন্তব্য। যোগচর্চা, গঙ্গা আর হিমালয়ের পাদদেশের এই শহরটি নতুন করে রেলস্টেশনের এই নান্দনিকতার জন্য ভ্রমণপিপাসুদের কাছে এক নতুন মাত্রা যোগ করল। যারা নিয়মিত পাহাড়ে যাতায়াত করেন, তাদের জন্য এই স্টেশনটি কেবল যাত্রার শুরুর বা শেষ পয়েন্ট নয়, বরং ভ্রমণের অবিচ্ছেদ্য এক ভালো লাগার অংশ হয়ে উঠেছে।

ভারতের অবকাঠামো উন্নয়নের অংশ হিসেবে রেলওয়ে বিভিন্ন স্টেশনে আধুনিকায়ন করছে, যার একটি উজ্জ্বল উদাহরণ এই যোগ নগরী ঋষিকেশ রেলস্টেশন। শুধু যাতায়াত নয়, স্টেশন প্রাঙ্গণকে পর্যটকদের উপযোগী এবং নান্দনিক করে তোলার এই প্রয়াস সাধারণ যাত্রীদের মধ্যেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। যারা এখনো এই স্টেশনটি সামনাসামনি দেখেননি, সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমেই তারা এর সৌন্দর্যের প্রেমে পড়েছেন। নিঃসন্দেহে বলা যায়, আগামী দিনে এই রেলস্টেশনটি পর্যটকদের কাছে একটি আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠবে এবং পাহাড়ি যাত্রার অভিজ্ঞতাকে আরও সমৃদ্ধ করবে। প্রকৃতি আর আধুনিক প্রকৌশলের এমন মেলবন্ধন সত্যি বিরল, যা আমাদের নতুন করে ভাবায় যে, ভ্রমণের আনন্দ কেবল গন্তব্যে নয়, বরং যাত্রাপথের প্রতিটি মুহূর্তের মধ্যেও নিহিত রয়েছে।

গ্যাস সংকট ও নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতিতে জনজীবন বিপর্যস্ত: আখতার হোসেন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:১৪ অপরাহ্ণ
   
গ্যাস সংকট ও নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতিতে জনজীবন বিপর্যস্ত: আখতার হোসেন

দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও জ্বালানি খাতের অব্যবস্থাপনা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির সদস্যসচিব আখতার হোসেন। তিনি জানিয়েছেন, কলকাতায় যেখানে গ্যাস কিনতে এক হাজার টাকার মতো খরচ হয়, সেখানে বাংলাদেশে একই পরিমাণ গ্যাসের জন্য গুনতে হচ্ছে ২৫০০ টাকা।

দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির সদস্যসচিব আখতার হোসেন বলেছেন, সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিশেষ করে জ্বালানি খাতের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ও সংকট সাধারণ মানুষের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উচ্চমূল্যের পাশাপাশি গ্যাসের দামের এই তারতম্য প্রমাণ করে যে, দেশের অর্থনীতি সঠিক পথে পরিচালিত হচ্ছে না। তিনি সম্প্রতি এক আলোচনায় দেশের জ্বালানি পরিস্থিতির সাথে প্রতিবেশী দেশ ভারতের কলকাতার গ্যাসের মূল্যের তুলনা করে বর্তমান সংকটের একটি চিত্র তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন।

আখতার হোসেন দাবি করেন, সীমান্তবর্তী দেশ ভারতে রান্নার গ্যাসের জন্য সাধারণ মানুষকে যে মূল্য দিতে হয়, বাংলাদেশের নাগরিকদের তুলনায় তা অনেক কম। তিনি জানান, কলকাতায় এক হাজার টাকার আশেপাশে গ্যাস পাওয়া গেলেও বাংলাদেশে একই প্রয়োজনে প্রায় আড়াই হাজার টাকা ব্যয় করতে হচ্ছে। এই পার্থক্যের বিষয়টি শুধুমাত্র গাণিতিক নয়, বরং এটি দেশের সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার ওপর সরাসরি আঘাত। আয় ও ব্যয়ের এই বিশাল ব্যবধানের কারণে স্বল্প ও নিম্ন আয়ের মানুষরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তার মতে, জ্বালানি খাতের এই উচ্চমূল্য শুধু সাধারণের পকেটের টাকাই নিচ্ছে না, বরং সামগ্রিক উৎপাদন ও পরিবহন খরচ বাড়িয়ে দিয়ে বাজারের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।

দেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর কেটে গেছে দীর্ঘ নয় মাস। এই সময়ের মধ্যে মানুষের প্রত্যাশা ছিল দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও অর্থনৈতিক অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণে আসবে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, বাজার ব্যবস্থার ওপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ ক্রমশ শিথিল হয়ে পড়ছে। আখতার হোসেন এই প্রসঙ্গ টেনে বলেন, নির্বাচনের আগে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল বিশেষ করে বিএনপি বারবার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে, নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর বা ক্ষমতা পরিবর্তনের পর সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। কিন্তু দীর্ঘ সময় অতিক্রান্ত হওয়ার পরেও সাধারণ মানুষ সেই প্রতিশ্রুতির কোনো প্রতিফলন দেখতে পাচ্ছে না। বরং নতুন নতুন সংকট তৈরি হচ্ছে যা জনগণের ভোগান্তি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, শুধু গ্যাস নয়, বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি এবং নিত্যপণ্যের বাজারের সিন্ডিকেট ভাঙতে বর্তমান প্রশাসনের ব্যর্থতা প্রকট হয়ে উঠেছে। সাধারণ মানুষ যখন জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে দিশেহারা, তখন রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দৃশ্যমান নয়। জনগণের ভোটাধিকার প্রয়োগের পর মানুষ যে স্থিতিশীলতার আশা করেছিল, সেই জায়গায় হতাশা কাজ করছে। জ্বালানি খাতের এই অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি কেবল জীবনযাত্রার মান কমিয়ে দিচ্ছে না, বরং ভবিষ্যতে দেশের শিল্প ও কলকারখানার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

আখতার হোসেনের মতে, একটি কার্যকর ও শক্তিশালী অর্থনীতি গড়ে তুলতে হলে জ্বালানি তেলের দাম কমানোর কোনো বিকল্প নেই। যদি প্রতিবেশী দেশগুলোতে কম মূল্যে গ্যাস বা জ্বালানি পাওয়া যায়, তবে বাংলাদেশ কেন পারবে না, সেটিই বড় প্রশ্ন। এই পার্থক্যের পেছনে কোনো দুর্নীতি বা অপরিকল্পিত ব্যয় নীতি রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, সরকার যদি দ্রুত বাজার ব্যবস্থা এবং জ্বালানি খাতের দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে আনতে না পারে, তবে জনরোষ তৈরি হওয়া অসম্ভব কিছু নয়। সাধারণ মানুষের কষ্ট লাঘবে এবং দ্রব্যমূল্য সহনীয় পর্যায়ে আনতে সরকারের পক্ষ থেকে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সুনির্দিষ্ট নীতিমালার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

সর্বশেষ
গাজায় ইসরায়েলি অভিযানের প্রতিবাদে বিশ্বজুড়ে বন্দরশ্রমিকদের কর্মবিরতি পাহাড়ের কোলে স্বপ্নপুরী, বলিউড সিনেমার দৃশ্য মনে করিয়ে দিচ্ছে ভারতের এই রেলস্টেশন গ্যাস সংকট ও নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতিতে জনজীবন বিপর্যস্ত: আখতার হোসেন ফার্মাসি রেজিস্ট্রেশন পরীক্ষায় প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগ বন্ধ ঘরে ধুলোর উপদ্রব: অদৃশ্য কারণ ও মুক্তির উপায় বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তার অস্বাভাবিক মৃত্যু: সুষ্ঠু তদন্তের দাবি পরিবারের নেত্রকোনায় শতবর্ষী ধর্মপল্লীর চুরি যাওয়া ঘণ্টা উদ্ধার পারমাণবিক রণতরির পথে চীন: ২০২৭ সালেই সাগরে ভাসার সম্ভাবনা কূটনৈতিক তৎপরতায় এলডিসি থেকে উত্তরণের সময় বাড়ল তিন বছর ঠাকুরগাঁওয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে দুই সন্তানের জননীর আত্মহত্যা
Advertisement