খুঁজুন
, ,

ঠাকুরগাঁওয়ে জামায়াতের ‘জান্নাতের টিকিট’ আর কাজে দেবে না: রাশেদ খাঁন

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১৬ পূর্বাহ্ণ
ঠাকুরগাঁওয়ে জামায়াতের ‘জান্নাতের টিকিট’ আর কাজে দেবে না: রাশেদ খাঁন

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীনের জয়ের পর জামায়াতে ইসলামীকে নিয়ে সমালোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। তাঁর ভাষ্য, এই নির্বাচনের ফল দেখিয়েছে—জামায়াতের ‘জান্নাতের টিকিট’ আর কাজে দেবে না।

বৃহস্পতিবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে রাশেদ খাঁন এ মন্তব্য করেন। উপনির্বাচনে মির্জা ফয়সল আমীনের জয়কে কেন্দ্র করেই তাঁর বক্তব্য। পোস্টে তিনি ফলাফলকে জামায়াতের রাজনৈতিক অবস্থানের সমালোচনার সঙ্গে যুক্ত করেছেন।

‘জান্নাতের টিকিট’ কথাটি ব্যবহার করে রাশেদ খাঁন জামায়াতের প্রচার ও রাজনৈতিক বক্তব্যকে কটাক্ষ করেছেন। তাঁর মন্তব্যের মূল বক্তব্য, ধর্মীয় আবেদনের ওপর নির্ভর করে ভোটারদের সমর্থন পাওয়ার কৌশল ঠাকুরগাঁও-১ আসনের নির্বাচনে সফল হয়নি। এটি তাঁর রাজনৈতিক মূল্যায়ন; উপনির্বাচনের ফলের পাশাপাশি পোস্টে এ দাবির পক্ষে কোনো ভোটের পরিসংখ্যান উল্লেখ করা হয়েছে—এমন তথ্য পাওয়া যায়নি।

নির্বাচনের ফলের সঙ্গে নিজের মন্তব্য জুড়ে দিয়ে রাশেদ খাঁন মূলত একটি নির্দিষ্ট আসনের ভোটকে জামায়াতের রাজনৈতিক বার্তার বিরুদ্ধে ইঙ্গিত হিসেবে তুলে ধরেছেন। তবে তাঁর বক্তব্য থেকে দেশজুড়ে জামায়াতের সমর্থন বা সব আসনে ভোটারদের মনোভাব সম্পর্কে কোনো সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠিত হয় না। ঠাকুরগাঁও-১-এর ফল একটি আসনের উপনির্বাচনের ফল; সেটিকে বৃহত্তর রাজনৈতিক প্রবণতার প্রমাণ হিসেবে দেখাতে হলে আরও তথ্য ও নির্বাচনী ফলের তুলনামূলক বিশ্লেষণ প্রয়োজন।

প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ওই আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন জয়ী হয়েছেন। তবে ভোটের ব্যবধান, মোট ভোটের সংখ্যা, ভোটদানের হার, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নাম কিংবা ফল ঘোষণার সময় সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে এসব বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা বা বিবরণ যুক্ত করা যাচ্ছে না। রাশেদ খাঁনের পোস্টেও তাঁর বক্তব্যের সমর্থনে এসব নির্বাচনী তথ্য তুলে ধরা হয়েছে—এমন উল্লেখ নেই।

রাজনৈতিক নেতাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট এখন তাঁদের অবস্থান প্রকাশের একটি মাধ্যম। এ ক্ষেত্রেও রাশেদ খাঁন তাঁর ব্যক্তিগত ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্টে মন্তব্যটি করেছেন। পোস্টের বক্তব্যে উপনির্বাচনের ফলকে সামনে রেখে জামায়াতের রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে তাঁর আপত্তি প্রকাশ পেয়েছে। তবে এটি কোনো নির্বাচন-পরবর্তী আনুষ্ঠানিক মূল্যায়ন বা বিস্তারিত ফল বিশ্লেষণ নয়; বরং ফলের পর দেওয়া একটি রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া।

নির্বাচনের জয়-পরাজয় নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক পক্ষের ব্যাখ্যা আলাদা হতে পারে। কোনো প্রার্থী বা দলের জয়কে এক পক্ষ নিজেদের অবস্থানের পক্ষে জনসমর্থন হিসেবে তুলে ধরতে পারে, আবার অন্য পক্ষের সমালোচনার ভিত্তি হিসেবেও ব্যবহার করতে পারে। রাশেদ খাঁনের মন্তব্যেও সেই রাজনৈতিক ব্যাখ্যার দিকটি রয়েছে। তাঁর বক্তব্যকে জামায়াত সম্পর্কে একটি সর্বজনীন সিদ্ধান্ত হিসেবে না দেখে, ঠাকুরগাঁও-১-এর ফলের পর দেওয়া তাঁর নিজস্ব মূল্যায়ন হিসেবে বিবেচনা করাই যথাযথ।

এ ঘটনায় নিশ্চিতভাবে জানা যাচ্ছে, মির্জা ফয়সল আমীন উপনির্বাচনে জয়ী হয়েছেন এবং সেই ফলের পর রাশেদ খাঁন জামায়াতকে লক্ষ্য করে সমালোচনামূলক মন্তব্য করেছেন। এর বাইরে ভোটের বিস্তারিত হিসাব বা জামায়াতের পক্ষ থেকে প্রতিক্রিয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে নির্বাচনের ফল কীভাবে বিভিন্ন দল বিশ্লেষণ করছে, তা বুঝতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য ও পূর্ণাঙ্গ ফলাফল—দুটিই গুরুত্বপূর্ণ হবে। আপাতত রাশেদ খাঁনের পোস্টে জোর পেয়েছে তাঁর রাজনৈতিক বার্তা: ঠাকুরগাঁও-১-এর ফলকে তিনি জামায়াতের ‘জান্নাতের টিকিট’ কথিত কৌশলের ব্যর্থতা হিসেবে দেখছেন।

দীর্ঘ এক বছর পর শারীরিক গঠন নিয়ে করা মন্তব্যের জবাব দিলেন তামান্না ভাটিয়া

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ১:১৪ পূর্বাহ্ণ
   
দীর্ঘ এক বছর পর শারীরিক গঠন নিয়ে করা মন্তব্যের জবাব দিলেন তামান্না ভাটিয়া

বলিউড অভিনেত্রী তামান্না ভাটিয়ার শারীরিক গঠন ও গায়ের রং নিয়ে প্রবীণ অভিনেতা আন্নু কাপুরের করা বিতর্কিত মন্তব্যের এক বছর পর মুখ খুললেন এই তারকা। বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘ সময় চুপ থাকলেও অবশেষে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন তিনি।

বলিউড ও দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেত্রী তামান্না ভাটিয়া বরাবরই নিজের অভিনয় দক্ষতা দিয়ে দর্শকদের মুগ্ধ করেছেন। তবে মাঝে মাঝে নানা বিতর্ক ও ব্যক্তিগত আক্রমণও তাকে ঘিরে ধরেছে। সম্প্রতি এমন একটি পুরনো বিতর্কের রেশ ধরে দীর্ঘ এক বছর পর নিজের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন এই তারকা। মূলত প্রবীণ অভিনেতা আন্নু কাপুরের একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করেই এই ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল, যা গত এক বছর ধরে বিনোদন পাড়ায় আলোচনার খোরাক জুগিয়েছে।

ঘটনাটি ছিল গত বছরের। সেই সময় আন্নু কাপুর তামান্নার গায়ের রং এবং শারীরিক গঠন নিয়ে অত্যন্ত আপত্তিকর ও অবমাননাকর কিছু মন্তব্য করেছিলেন। একজন জ্যেষ্ঠ অভিনেতা হিসেবে আন্নু কাপুরের এই ধরনের কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য তখন বিনোদন জগতে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি করে। সাধারণ দর্শক থেকে শুরু করে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীরা তীব্র প্রতিবাদ জানান। এমনকি বিষয়টি নিয়ে আইনি পদক্ষেপ বা বয়কটের দাবিও উঠেছিল। তবে সেই উত্তপ্ত সময়ে তামান্না ভাটিয়া বিষয়টি নিয়ে সরাসরি কোনো প্রতিক্রিয়া দেখানো থেকে বিরত ছিলেন। তিনি তখন ধৈর্য ধরে বিষয়টি এড়িয়ে গিয়েছিলেন।

দীর্ঘ ১২ মাস পার হওয়ার পর অবশেষে তামান্না ভাটিয়া বিষয়টি নিয়ে নীরবতা ভাঙলেন। সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে তাকে সেই বিতর্কিত ঘটনা সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তিনি অত্যন্ত পরিপক্কতার সাথে উত্তর দিয়েছেন। তামান্না স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, অন্যের দৃষ্টিভঙ্গি বা কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য তার আত্মবিশ্বাসকে দমাতে পারবে না। তিনি কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির নাম উল্লেখ না করলেও তার বক্তব্যে স্পষ্ট ছিল যে, এই ধরনের অপমানজনক কথা তিনি মোটেও গুরুত্ব দিতে রাজি নন। বরং কাজের মাধ্যমে নিজেকে প্রমাণ করাই তার একমাত্র লক্ষ্য বলে তিনি জানিয়েছেন।

তামান্না আরও বলেন, একজন নারী হিসেবে এই ধরনের মন্তব্যের মুখোমুখি হওয়া কতটা কষ্টের তা তিনি জানেন। কিন্তু তিনি এমন পরিবেশে বড় হয়েছেন যেখানে আত্মসম্মানবোধকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়। আন্নু কাপুরের সেই সময়কার মন্তব্যকে তিনি কেবল সেই ব্যক্তির রুচির পরিচয় হিসেবেই দেখছেন। নিজের শরীরের রঙ বা গঠন নিয়ে তিনি লজ্জিত নন, বরং তিনি তার কাজের প্রতি মনোযোগী। তিনি বিশ্বাস করেন, একজন শিল্পীর আসল পরিচয় তার সৃজনশীলতায়, বাইরের অবয়বে নয়।

এই দীর্ঘ নীরবতার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তামান্না জানান, তিনি সবসময়ই নিজেকে বিতর্ক থেকে দূরে রাখতে পছন্দ করেন। তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া দিয়ে বিষয়টি আরও বড় হোক, তা তিনি চাননি। সময়ের সাথে সাথে এই ধরনের নেতিবাচক চর্চা এমনিতেই মলিন হয়ে যায়, এটাই তার দর্শন। তিনি বর্তমান সময়ের ব্যস্ততায় নিজেকে এতটাই নিমগ্ন রেখেছেন যে, পুরনো কোনো বিতর্ক তার ক্যারিয়ারে প্রভাব ফেলতে পারেনি। বর্তমানে তিনি একাধিক নতুন প্রজেক্টের কাজে ব্যস্ত রয়েছেন এবং ভক্তদের ভালোবাসাই তার মূল অনুপ্রেরণা।

তামান্নার এই জবাব দেওয়ার ধরণটি ভক্তদের হৃদয়ে নতুন করে প্রশংসার জোয়ার তুলেছে। অনেকেই তার সংযম এবং ব্যক্তিত্বের প্রশংসা করেছেন। একজন নারী তারকা কীভাবে অত্যন্ত মার্জিত ভাষায় কুরুচিপূর্ণ আক্রমণের জবাব দিতে পারেন, তার অনন্য উদাহরণ স্থাপন করলেন তামান্না। এই ঘটনা প্রমাণ করে যে, শক্তিশালী ব্যক্তিত্ব ও ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি থাকলে যে কোনো নেতিবাচক পরিস্থিতিকেই সামাল দেওয়া সম্ভব। এখন দেখার বিষয়, তামান্নার এই মন্তব্যের পর বিষয়টি নিয়ে নতুন করে কোনো প্রতিক্রিয়া আসে কি না, যদিও বিনোদন সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন এখানেই ঘটনার ইতি টানা উচিত।

উপনির্বাচনের ফলাফলে ধর্মীয় রাজনীতির জনপ্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ১:১৪ পূর্বাহ্ণ
   
উপনির্বাচনের ফলাফলে ধর্মীয় রাজনীতির জনপ্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন

সাম্প্রতিক উপনির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণ করে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ভোটারদের কাছে সনাতন ধর্মীয় আবেগের চেয়ে উন্নয়ন ও সুশাসনের দাবি এখন বেশি প্রাধান্য পাচ্ছে। ধর্মের দোহাই দিয়ে ভোট আদায়ের কৌশল আর ভোটারদের খুব একটা প্রভাবিত করছে না।

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত উপনির্বাচনে প্রাপ্ত ভোটের ফলাফল নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিশ্লেষণ শুরু হয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল নির্বাচনের মাঠে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের জন্য নানা কৌশল অবলম্বন করলেও, সাধারণ ভোটারদের মনোভাব এবার কিছুটা ভিন্ন বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, ধর্মীয় পরিচিতি বা আবেগের ওপর ভিত্তি করে যে রাজনীতির চর্চা অতীতে দেখা যেত, বর্তমান ভোটাররা সেখান থেকে সরে আসছেন। বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামীসহ ধর্মীয় মতাদর্শভিত্তিক দলগুলোর প্রচলিত প্রচারণামূলক কৌশলগুলো এবারের ভোটে ভোটারদের মাঝে কাঙ্ক্ষিত সাড়া ফেলেনি বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

নির্বাচন-পরবর্তী পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, ভোটাররা কেবল প্রার্থীর ধর্মীয় লেবাস বা তাদের দলীয় স্লোগানের চেয়ে স্থানীয় উন্নয়ন, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতাকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। অতীতে অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে, ধর্মের দোহাই দিয়ে বা জান্নাত কিংবা পরকালের দোহাই দিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা লোটার একটি প্রবণতা কাজ করত। তবে এবারের উপনির্বাচনের প্রেক্ষাপট বলছে, জনগণ এখন আর কেবল আবেগের বশবর্তী হয়ে ভোট দিচ্ছে না। তারা প্রার্থীর অতীত কর্মকাণ্ড এবং দেশের সার্বিক পরিস্থিতির সঙ্গে সেই প্রার্থীর সামঞ্জস্য কতটা তা বিচার-বিশ্লেষণ করছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, দীর্ঘদিনের ধর্মীয় রাজনীতির যে ধারা, তা আজ সাধারণ মানুষের কাছে অনেকটাই মলিন হয়ে পড়েছে। মানুষ এখন বাস্তববাদী হয়ে উঠেছে।

রাজনৈতিক অঙ্গনের পর্যবেক্ষকদের মতে, জামায়াতে ইসলামীর মতো দলগুলোর রাজনীতির যে ধরন, তা অনেকক্ষেত্রেই সাধারণ জনগণের মনস্তত্ত্ব বুঝতে ব্যর্থ হচ্ছে। দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের কর্মকাণ্ড বা তাদের রাজনৈতিক আদর্শের সাথে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার যে ব্যবধান, তা এই নির্বাচনে স্পষ্টভাবে ধরা পড়েছে। নির্বাচনী প্রচারণার সময় ধর্মীয় আবেগ কাজে লাগানোর যেসব চেষ্টা করা হয়েছিল, ভোটের বাক্সে তার প্রতিফলন তেমনটি ঘটেনি। এটি প্রমাণ করে যে, সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন সমস্যার সমাধান এবং রাষ্ট্র পরিচালনার সক্ষমতাকে তারা এখন বেশি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। কোনো রাজনৈতিক দল যদি কেবল ধর্মীয় আবেগপুঁজি করে টিকে থাকতে চায়, তবে ভবিষ্যতে তা তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।

উপনির্বাচনের এই ফলাফল রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য একটি সতর্কবার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ভোটাররা স্পষ্টতই বুঝিয়ে দিয়েছেন যে, উন্নয়ন এবং সুশাসনই এখন রাজনীতির মূল উপজীব্য হওয়া উচিত। ধর্মের দোহাই দিয়ে বা মনগড়া প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোট নেওয়ার দিন ফুরিয়ে আসছে। জনমতের এই পরিবর্তন রাজনৈতিক দলগুলোর নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এখন থেকে প্রতিটি রাজনৈতিক দলকেই তাদের নির্বাচনী ইশতেহার এবং প্রচারণায় নতুনত্ব আনার কথা ভাবতে হবে। কারণ, বর্তমান প্রজন্মের ভোটাররা অনেক বেশি সচেতন এবং তারা উন্নয়নের প্রশ্নে কোনো আপস করতে রাজি নন।

সব মিলিয়ে, উপনির্বাচনের এই ফলাফল বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির একটি পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করছে। ধর্মীয় அடையாளের চেয়ে গণতান্ত্রিক অধিকার এবং নাগরিক সুযোগ-সুবিধাকে প্রাধান্য দেওয়ার যে প্রবণতা দেখা দিয়েছে, তা দেশের দীর্ঘমেয়াদী রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য ইতিবাচক হতে পারে। এখন দেখার বিষয়, রাজনৈতিক দলগুলো জনগণের এই মনোভাবকে কতটা আমলে নেয় এবং তাদের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে কতটা পরিবর্তন আনে। তবে একটি বিষয় নিশ্চিত যে, ধর্মের নাম ভাঙিয়ে রাজনীতির যে চিরাচরিত ধারা, তা এখন জনমানসে ক্রমেই ফিকে হয়ে আসছে।

বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন নিয়ে বিআরটিএ ও পিডিবির মুখোমুখি অবস্থান

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ১:১৪ পূর্বাহ্ণ
   
বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন নিয়ে বিআরটিএ ও পিডিবির মুখোমুখি অবস্থান

চট্টগ্রামে বিআরটিএ কার্যালয়ের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করাকে কেন্দ্র করে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড ও পরিবহন কর্তৃপক্ষের মধ্যে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। দুই সরকারি দপ্তরের পাল্টাপাল্টি অবস্থানের কারণে সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েন।

সরকারি দুই দপ্তরের রেষারেষি এবং ক্ষমতার দাপটে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সেবা প্রত্যাশী সাধারণ মানুষ। চট্টগ্রাম নগরের হাটহাজারী রোডের নতুনপাড়া এলাকায় অবস্থিত বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) কার্যালয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) এবং বিআরটিএ প্রশাসনের মধ্যে মুখোমুখি অবস্থান তৈরি হয়েছে। দুই দপ্তরের মধ্যে আইন ও নিয়মনীতি নিয়ে যে টানাপোড়েন চলছে, তার সরাসরি প্রভাব পড়েছে দাপ্তরিক কার্যক্রমের ওপর।

ঘটনার সূত্রপাত হয় বিআরটিএ কার্যালয়ের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করাকে কেন্দ্র করে। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ বকেয়া বিদ্যুৎ বিল বা সংযোগ সংক্রান্ত কোনো অসংগতির জেরে এই পদক্ষেপ নেয় বলে জানা গেছে। বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পরপরই বিআরটিএর নতুনপাড়া কার্যালয়টি দীর্ঘ চার ঘণ্টা পুরোপুরি অচল হয়ে পড়ে। বিদ্যুৎ না থাকায় কার্যালয়ের কম্পিউটার সার্ভার, ডিজিটাল নম্বর প্লেট তৈরির যন্ত্রসহ যাবতীয় ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম বন্ধ হয়ে যায়। ফলে সেবা নিতে আসা মানুষেরা দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থেকেও কোনো কাজ সম্পন্ন করতে পারেননি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পিডিবির পক্ষ থেকে কঠোর অবস্থান গ্রহণের পর বিআরটিএ প্রশাসনের পক্ষ থেকেও পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দুই দপ্তরের মধ্যে এই দ্বন্দ্ব কেবল দাপ্তরিক নয়, বরং ব্যক্তিগত ইগোর লড়াইয়ে রূপ নিয়েছে। পিডিবি কর্তৃপক্ষ আইন প্রয়োগের নামে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে, আবার বিআরটিএ কর্তৃপক্ষ পাল্টা চাপ সৃষ্টির মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেছে। এক পর্যায়ে বিআরটিএর পক্ষ থেকে সরাসরি মন্তব্য করা হয় যে, আপনারা আইন দেখিয়েছেন, আমরাও লাইন কেটেছি। এই বাক্যটিই মূলত দুই দপ্তরের মধ্যকার অসহযোগিতার চরম বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখা দিয়েছে।

সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বিআরটিএ কার্যালয়ে স্বাভাবিক কর্মচাঞ্চল্য থাকলেও বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হওয়ার সাথে সাথে পরিস্থিতি বদলে যায়। নতুন লাইসেন্স করা, গাড়ির ফিটনেস পরীক্ষা বা মালিকানা পরিবর্তনের মতো জরুরি কাজগুলো থমকে দাঁড়ায়। দূর-দূরান্ত থেকে আসা সেবাগ্রহীতারা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, সরকারি দপ্তরের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের মাসুল কেন সাধারণ মানুষকে দিতে হবে। দপ্তরে গিয়েও কাজের কোনো সুরাহা না পেয়ে অনেকেই ফিরে যেতে বাধ্য হন।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা বলছেন, তারা কেবল তাদের নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী কাজ করেছেন। সরকারি সংযোগ হলেও বিল বকেয়া থাকা বা সংযোগে অনিয়ম থাকলে তারা ব্যবস্থা নিতে বাধ্য। অন্যদিকে, বিআরটিএ কর্মকর্তাদের অভিযোগ, সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার আগে কোনো ধরনের নোটিশ বা আলোচনার সুযোগ দেওয়া হয়নি, যা শিষ্টাচার বহির্ভূত। এই পরিস্থিতি সমাধানে দুই দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মধ্যে কোনো আলোচনা হয়েছে কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়ে গেছে।

স্থানীয় প্রশাসন ও সচেতন মহলের মতে, সরকারি দুটি সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের এই ধরনের হঠকারী সিদ্ধান্ত এবং পেশাদারিত্বের অভাব সাধারণ মানুষের আস্থার সংকট তৈরি করে। বিষয়টি নিয়ে চট্টগ্রামে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ মানুষ আশা করছেন, দুই পক্ষই অতি দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে বিদ্যমান সংকট নিরসন করবে এবং জনসেবা নিশ্চিত করতে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেবে। বিআরটিএ ও পিডিবির এই সংকটের পেছনে অন্য কোনো অন্তর্নিহিত কারণ আছে কি না, তাও তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন অনেকে। সব মিলিয়ে দিনের একটি বড় অংশ জুড়ে দুই সরকারি দপ্তরের ক্ষমতার লড়াইয়ের কবলে পড়ে সেবা নিতে আসা মানুষেরা নাজেহাল হয়েছেন।

সর্বশেষ
দীর্ঘ এক বছর পর শারীরিক গঠন নিয়ে করা মন্তব্যের জবাব দিলেন তামান্না ভাটিয়া উপনির্বাচনের ফলাফলে ধর্মীয় রাজনীতির জনপ্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন নিয়ে বিআরটিএ ও পিডিবির মুখোমুখি অবস্থান তুরাগ নদে বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তার মরদেহ: হত্যা নাকি দুর্ঘটনা, প্রশ্নের মুখে তদন্ত ফেসবুক আইডি ফিরে পেয়ে ফারুকী বললেন, ‘সিনিয়র ফেসবুকার ইজ ব্যাক’ ঠাকুরগাঁওয়ে জামায়াতের ‘জান্নাতের টিকিট’ আর কাজে দেবে না: রাশেদ খাঁন ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী বিএনপির মির্জা ফয়সল আমিন ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে বড় ব্যবধানে পরাজিত জামায়াতের দেলাওয়ার হোসেন রাজধানীর গুলিস্তানে ফের উচ্ছেদ অভিযান: ফুটপাত দখলের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে ডিএসসিসি বিইআরসির নির্ধারিত এলপিজি সিলিন্ডার দামের তুলনায় ভোক্তাদের অতিরিক্ত খরচ বেড়ে চলেছে
Advertisement