গ্যাস সংকট ও নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতিতে জনজীবন বিপর্যস্ত: আখতার হোসেন

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬ । ৬:১৪ অপরাহ্ণ

দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির সদস্যসচিব আখতার হোসেন বলেছেন, সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিশেষ করে জ্বালানি খাতের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ও সংকট সাধারণ মানুষের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উচ্চমূল্যের পাশাপাশি গ্যাসের দামের এই তারতম্য প্রমাণ করে যে, দেশের অর্থনীতি সঠিক পথে পরিচালিত হচ্ছে না। তিনি সম্প্রতি এক আলোচনায় দেশের জ্বালানি পরিস্থিতির সাথে প্রতিবেশী দেশ ভারতের কলকাতার গ্যাসের মূল্যের তুলনা করে বর্তমান সংকটের একটি চিত্র তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন।

আখতার হোসেন দাবি করেন, সীমান্তবর্তী দেশ ভারতে রান্নার গ্যাসের জন্য সাধারণ মানুষকে যে মূল্য দিতে হয়, বাংলাদেশের নাগরিকদের তুলনায় তা অনেক কম। তিনি জানান, কলকাতায় এক হাজার টাকার আশেপাশে গ্যাস পাওয়া গেলেও বাংলাদেশে একই প্রয়োজনে প্রায় আড়াই হাজার টাকা ব্যয় করতে হচ্ছে। এই পার্থক্যের বিষয়টি শুধুমাত্র গাণিতিক নয়, বরং এটি দেশের সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার ওপর সরাসরি আঘাত। আয় ও ব্যয়ের এই বিশাল ব্যবধানের কারণে স্বল্প ও নিম্ন আয়ের মানুষরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তার মতে, জ্বালানি খাতের এই উচ্চমূল্য শুধু সাধারণের পকেটের টাকাই নিচ্ছে না, বরং সামগ্রিক উৎপাদন ও পরিবহন খরচ বাড়িয়ে দিয়ে বাজারের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।

দেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর কেটে গেছে দীর্ঘ নয় মাস। এই সময়ের মধ্যে মানুষের প্রত্যাশা ছিল দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও অর্থনৈতিক অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণে আসবে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, বাজার ব্যবস্থার ওপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ ক্রমশ শিথিল হয়ে পড়ছে। আখতার হোসেন এই প্রসঙ্গ টেনে বলেন, নির্বাচনের আগে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল বিশেষ করে বিএনপি বারবার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে, নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর বা ক্ষমতা পরিবর্তনের পর সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। কিন্তু দীর্ঘ সময় অতিক্রান্ত হওয়ার পরেও সাধারণ মানুষ সেই প্রতিশ্রুতির কোনো প্রতিফলন দেখতে পাচ্ছে না। বরং নতুন নতুন সংকট তৈরি হচ্ছে যা জনগণের ভোগান্তি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, শুধু গ্যাস নয়, বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি এবং নিত্যপণ্যের বাজারের সিন্ডিকেট ভাঙতে বর্তমান প্রশাসনের ব্যর্থতা প্রকট হয়ে উঠেছে। সাধারণ মানুষ যখন জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে দিশেহারা, তখন রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দৃশ্যমান নয়। জনগণের ভোটাধিকার প্রয়োগের পর মানুষ যে স্থিতিশীলতার আশা করেছিল, সেই জায়গায় হতাশা কাজ করছে। জ্বালানি খাতের এই অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি কেবল জীবনযাত্রার মান কমিয়ে দিচ্ছে না, বরং ভবিষ্যতে দেশের শিল্প ও কলকারখানার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

আখতার হোসেনের মতে, একটি কার্যকর ও শক্তিশালী অর্থনীতি গড়ে তুলতে হলে জ্বালানি তেলের দাম কমানোর কোনো বিকল্প নেই। যদি প্রতিবেশী দেশগুলোতে কম মূল্যে গ্যাস বা জ্বালানি পাওয়া যায়, তবে বাংলাদেশ কেন পারবে না, সেটিই বড় প্রশ্ন। এই পার্থক্যের পেছনে কোনো দুর্নীতি বা অপরিকল্পিত ব্যয় নীতি রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, সরকার যদি দ্রুত বাজার ব্যবস্থা এবং জ্বালানি খাতের দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে আনতে না পারে, তবে জনরোষ তৈরি হওয়া অসম্ভব কিছু নয়। সাধারণ মানুষের কষ্ট লাঘবে এবং দ্রব্যমূল্য সহনীয় পর্যায়ে আনতে সরকারের পক্ষ থেকে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সুনির্দিষ্ট নীতিমালার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

  • সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মোঃ রাসেল মিয়া

প্রিন্ট করুন