ভ্রমণকালে হঠাৎ ভূমিকম্পের মুখোমুখি হলে যা করা জরুরি
ভ্রমণপিপাসু মানুষের কাছে পাহাড়, সমুদ্র কিংবা দ্বীপের হাতছানি সবসময়ই দারুণ উপভোগ্য। বিশেষ করে ছুটির দিনগুলোতে অনেকেই এমন সব গন্তব্যে হারিয়ে যেতে পছন্দ করেন। কিন্তু প্রকৃতির খেয়ালের ওপর তো মানুষের নিয়ন্ত্রণ নেই। হুটহাট ঘটে যাওয়া প্রাকৃতিক দুর্যোগ ভ্রমণকারীদের আনন্দের মুহূর্তকে আতঙ্কে পরিণত করতে পারে। সম্প্রতি আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে আঘাত হানা ভূমিকম্পের বিষয়টি আমাদের মনে করিয়ে দিয়েছে যে, যেকোনো সময় যেকোনো জায়গায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। গত বৃহস্পতিবার ২৯ অক্টোবর আঘাত হানা এই ভূমিকম্পটি ছিল ৫ দশমিক ১ মাত্রার। ভাগ্যক্রমে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি, যা স্বস্তির বিষয়। তবে এই ঘটনা আমাদের সতর্ক হওয়ার বার্তা দেয় যে, ভ্রমণে বের হলে কেবল হোটেল বুকিং বা ঘোরার পরিকল্পনা করাই যথেষ্ট নয়, দুর্যোগকালীন পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার মানসিক প্রস্তুতিও থাকা চাই।
ভ্রমণরত অবস্থায় হঠাৎ ভূমিকম্প শুরু হলে প্রথমেই যে বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে তা হলো আতঙ্কিত না হওয়া। আতঙ্ক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। আপনার আশেপাশে যদি মজবুত কোনো আসবাবপত্র বা টেবিল থাকে, তবে তার নিচে আশ্রয় নেওয়া সবচেয়ে নিরাপদ। হাত দিয়ে মাথা ও ঘাড় শক্ত করে ধরে রাখা জরুরি। যদি আপনি হোটেল বা কোনো বহুতল ভবনের ভেতর থাকেন, তবে লিফট ব্যবহারের কথা একদমই ভাববেন না। সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামার সময় তাড়াহুড়ো করা বা হুড়োহুড়ি করা বিপদ ডেকে আনতে পারে। বরং শান্ত থেকে দেয়ালের কোণ বা মজবুত কাঠামোর পাশে আশ্রয় নেওয়া বুদ্ধিমত্তার কাজ। যদি আপনি বিছানায় থাকেন, তবে মাথার ওপর বালিশ দিয়ে নিজেকে সুরক্ষিত রাখুন।
খোলা জায়গায় থাকলে পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন হয়। আপনি যদি সমুদ্র সৈকত বা দ্বীপের কোনো খোলা স্থানে থাকেন, তবে ভবন বা গাছ থেকে যতটা সম্ভব দূরে সরে যান। উপকূলীয় এলাকায় ভূমিকম্পের পরপরই সুনামি বা সামুদ্রিক জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তাই ভূকম্পন অনুভূত হওয়ার পর উপকূল এলাকা থেকে উঁচু স্থানে বা নিরাপদ দূরত্বে সরে যাওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। স্থানীয় প্রশাসনের ঘোষণা বা সতর্কবার্তা নিয়মিত অনুসরণ করা প্রয়োজন। এছাড়া ভ্রমণের সময় সঙ্গে সবসময় একটি জরুরি ব্যাগ রাখা ভালো, যেখানে প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র, শুকনো খাবার, পানির বোতল, প্রয়োজনীয় নথিপত্র এবং একটি টর্চলাইট থাকবে। জরুরি পরিস্থিতিতে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে, তাই আগে থেকেই পরিবারের সদস্য বা বন্ধুদের আপনার গন্তব্য ও অবস্থান সম্পর্কে জানিয়ে রাখা নিরাপদ।
ভ্রমণের আগে গন্তব্যস্থলের ভৌগোলিক অবস্থা এবং সেখানে সাম্প্রতিক সময়ে কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগের ইতিহাস আছে কি না, তা যাচাই করে নেওয়া ভালো। আজকাল প্রযুক্তির কল্যাণে অনেক অ্যাপ বা ওয়েবসাইট ভূমিকম্পের আগাম সতর্কবার্তা দিয়ে থাকে। সেগুলো নিজের ফোনে ডাউনলোড করে রাখতে পারেন। যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে ধৈর্য ও সচেতনতাই হলো সুরক্ষার মূল চাবিকাঠি। আমরা যখন নতুন কোনো পরিবেশে যাই, তখন সেখানকার আবহাওয়া ও পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি ঝুঁকিগুলো নিয়েও সচেতন থাকা উচিত। প্রকৃতির সুন্দর রূপ উপভোগ করার পাশাপাশি নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টিও সমান গুরুত্ব পাওয়া প্রয়োজন। ভ্রমণ হোক আনন্দময় ও নিরাপদ।




আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]