পারমাণবিক রণতরির পথে চীন: ২০২৭ সালেই সাগরে ভাসার সম্ভাবনা
বিশ্বের সামরিক পরাশক্তি হিসেবে নিজেদের অবস্থান আরও সুসংহত করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে চীন। বিশেষ করে সমুদ্রসীমায় নিজেদের আধিপত্য বিস্তারে বেইজিং নিয়মিত বিরতিতে নতুন নতুন যুদ্ধজাহাজ নৌবহরে যুক্ত করছে। এরই ধারাবাহিকতায় চীনের চতুর্থ বিমানবাহী রণতরি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সম্প্রতি পাওয়া স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ করে প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, বিশালাকার এই রণতরিটি সম্ভবত ২০২৭ সালের মধ্যেই পানিতে নামানো হতে পারে। এটি চীনের জন্য একটি মাইলফলক হতে যাচ্ছে কারণ এটি দেশটির প্রথম পারমাণবিক শক্তিচালিত রণতরি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সামরিক পর্যবেক্ষক ও গবেষকদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এই নতুন রণতরিটি বেইজিংয়ের চলমান নৌ-উন্নয়ন প্রকল্পের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। গত কয়েক বছর ধরেই চীন তাদের নৌবাহিনীকে আধুনিকীকরণ করতে বিশাল বিনিয়োগ করেছে। নিজ উপকূলের সীমানা ছাড়িয়ে দূরবর্তী সাগরেও নিজেদের প্রভাব বিস্তারের সক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্যে কাজ করছে তারা। পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারের সুবিধা হলো, এই রণতরি দীর্ঘ সময় জ্বালানি সংকটে না পড়েই সমুদ্রে অবস্থান করতে পারবে। ফলে এটি বিশ্বজুড়ে চীনা সামরিক উপস্থিতির নতুন অধ্যায় তৈরি করবে।
স্যাটেলাইট থেকে সংগৃহীত ছবিগুলোতে জাহাজটির কাঠামোর বড় ধরনের অগ্রগতি দেখা গেছে। সাধারণত বিমানবাহী রণতরি নির্মাণের কাজ বেশ দীর্ঘ ও জটিল প্রক্রিয়া হয়। তবে চীনের জাহাজ নির্মাণ কারখানায় যেভাবে দ্রুতগতিতে এই কাজ এগিয়ে চলছে, তা আন্তর্জাতিক মহলে বিস্ময় তৈরি করেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আগামী বছর নাগাদ জাহাজটির মূল কাঠামো তৈরির কাজ পুরোপুরি সম্পন্ন হতে পারে এবং এরপরই এটি সাগরে ভাসানোর জন্য প্রস্তুত করা হবে।
চীন বরাবরই তাদের সামরিক উন্নয়নের বিষয়টি সরাসরি প্রকাশ করে না। তবে মার্কিনসহ বিভিন্ন পশ্চিমা দেশের প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা নিয়মিতভাবে স্যাটেলাইট তথ্যের মাধ্যমে বেইজিংয়ের সামরিক সক্ষমতা পর্যবেক্ষণ করে থাকেন। তাদের মতে, পিপলস লিবারেশন আর্মির নৌবাহিনী এখন কেবল আত্মরক্ষার জন্য নয়, বরং দূরপাল্লার অভিযান পরিচালনার সক্ষমতা অর্জনেই মনোযোগী। এই নতুন রণতরিটি সেই লক্ষ্যপূরণের পথে একটি বড় সংযোজন।
বর্তমানে চীন যেসব রণতরি ব্যবহার করছে, সেগুলোর সক্ষমতা নিয়ে পশ্চিমা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। নতুন এই রণতরিটি পারমাণবিক প্রযুক্তির হওয়ায় এর গতি, স্থায়ীত্ব এবং যুদ্ধ পরিচালনার সক্ষমতা আগের জাহাজগুলোর চেয়ে অনেক গুণ বেশি হবে। এর ফলে চীন তাদের সামরিক কৌশল আরও নমনীয়ভাবে সাজাতে পারবে। বিশেষ করে ভারত ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ক্ষমতার ভারসাম্য বজায় রাখা বা আধিপত্য ধরে রাখতে এই রণতরি চীনের জন্য তুরুপের তাস হতে পারে।
যদিও চীন সরকারের পক্ষ থেকে এই রণতরি সম্পর্কে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি, তবে আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা মহলে এটি নিয়ে ব্যাপক জল্পনা চলছে। ২০২৭ সালে যদি সত্যি এটি পানিতে নামানো হয়, তবে এটি কেবল চীনের নৌবাহিনীর শক্তি বাড়াবে না, বরং বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতিতেও এর বড় প্রভাব পড়বে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বেইজিং এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখান থেকে তাদের থামানো কঠিন। আগামী কয়েক বছর তাই দক্ষিণ চীন সাগরসহ পুরো অঞ্চলটির ওপরই সামরিক পর্যবেক্ষকদের কড়া নজর থাকবে।




আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]