গত কয়েকদিন ধরে ডিজিটাল নিরাপত্তা নিয়ে যে শঙ্কা তৈরি হয়েছিল, তার অবসান ঘটেছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা ও জনপ্রিয় নির্মাতা মোস্তফা সরওয়ার ফারুকী দীর্ঘ প্রায় ৫ দিন পর তার ব্যক্তিগত ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেয়েছেন। এই ঘটনায় প্রযুক্তি সচেতন মহলে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে। গত ২৪ অক্টোবর শনিবার সন্ধ্যায় তিনি জানিয়েছিলেন যে, তিনি তার ফেসবুক আইডি হ্যাক হওয়ার কবলে পড়েছেন। তখন থেকেই তার অ্যাকাউন্টটি কার দখলে ছিল বা কোনো ধরনের ক্ষতিকর কর্মকাণ্ড সেখানে চালানো হয়েছে কি না, তা নিয়ে ব্যাপক উদ্বেগ কাজ করছিল। অবশেষে ২৯ অক্টোবর বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে তিনি তার অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হন এবং পুনরায় ফেসবুকে সক্রিয় হয়েছেন।
অ্যাকাউন্ট ফিরে পাওয়ার পরই মোস্তফা সরওয়ার ফারুকী নিজের প্রোফাইল থেকে একটি ছোট কিন্তু অর্থবহ স্ট্যাটাস দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, ‘সিনিয়র ফেসবুকার ইজ ব্যাক।’ এই সংক্ষিপ্ত বার্তার পাশাপাশি যারা তার অ্যাকাউন্ট হ্যাক করার সাথে জড়িত ছিল, তাদের প্রতি এক ধরনের ব্যঙ্গাত্মক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেছেন তিনি। তার এই মন্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, তিনি এই অনাকাঙ্ক্ষিত সাইবার বিড়ম্বনাকে খুব বেশি গুরুত্ব দিতে নারাজ এবং নিজের ডিজিটাল পরিচয় পুনরায় ফিরে পেয়ে তিনি সন্তুষ্ট। এই স্ট্যাটাসটি প্রকাশের পর মুহূর্তের মধ্যে তার অনুসারীরা সেখানে লাইক ও কমেন্টের মাধ্যমে তাকে পুনরায় স্বাগত জানিয়েছেন।
বর্তমান সময়ে সোশ্যাল মিডিয়া শুধুমাত্র ব্যক্তিগত যোগাযোগের মাধ্যম নয়, বরং এটি অনেক ক্ষেত্রে পেশাগত পরিচয় ও প্রচারের প্রধান প্ল্যাটফর্ম। মোস্তফা সরওয়ার ফারুকীর মতো একজন ব্যক্তিত্ব, যিনি অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, তার ক্ষেত্রে ফেসবুক অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তার আইডি হ্যাক হওয়ার ঘটনাটি সাইবার অপরাধীদের ধৃষ্টতার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ, সরকারি দায়িত্ব পালনরত একজন ব্যক্তির অ্যাকাউন্ট হ্যাক হলে সেখান থেকে বিভ্রান্তিকর বা উসকানিমূলক তথ্য ছড়ানোর একটি বড় ঝুঁকি থাকে। এই ঝুঁকি থেকে তিনি রক্ষা পেয়েছেন দেখে অনেকেই উদ্বেগমুক্ত হয়েছেন।
সাইবার নিরাপত্তার বিষয়টি এখন আর সাধারণ আলোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। মোস্তফা সরওয়ার ফারুকীর এই ঘটনাটি প্রমাণ করে যে, যথাযথ সতর্কতা অবলম্বন করা সত্ত্বেও অনেক সময় প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে হ্যাকাররা শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বিশেষ করে পাবলিক ফিগারদের উচিত তাদের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোতে টু-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশনসহ যাবতীয় নিরাপত্তা ফিচার সচল রাখা। তবে এর পাশাপাশি প্ল্যাটফর্মগুলোর পক্ষ থেকেও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব রয়েছে। ফারুকীর ক্ষেত্রে ঘটনাটি ঘটেছিল গত ২৪ অক্টোবর, আর তিনি তা পুনরুদ্ধার করেছেন ২৯ অক্টোবর। এই কয়দিনের ব্যবধানে তিনি কীভাবে তার অ্যাকাউন্টের দখল পুনরুদ্ধার করলেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু না বললেও, এটি ডিজিটাল ফরেনসিক বা ফেসবুক কর্তৃপক্ষের সহায়তায় সম্পন্ন হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পাবলিক ফিগারদের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলগুলো হ্যাক হওয়ার ঘটনা নতুন নয়। অতীতে অনেক খ্যাতিমান ব্যক্তিকেই এই ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়েছে। এসব ঘটনায় প্রায়ই দেখা যায়, হ্যাকাররা আইডি দখল করে বিভিন্ন ধরনের অপরাধমূলক কার্যক্রম বা অপপ্রচার চালাতে চায়। ফারুকীর ক্ষেত্রে ভাগ্যক্রমে বড় কোনো অঘটন ঘটেনি। তার ফিরে আসার এই স্ট্যাটাসটি তার অনুসারীদের মধ্যে যেমন স্বস্তি দিয়েছে, তেমনি এটি সাইবার অপরাধীদের জন্য একটি বার্তার মতো কাজ করেছে যে, ডিজিটাল পরিচয় হরণ করা সাময়িক হতে পারে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত আইনি বা প্রযুক্তিগত প্রক্রিয়ায় সবকিছুর নিয়ন্ত্রণ প্রকৃত মালিকের কাছেই ফিরে আসে।
পরিশেষে বলা যায়, মোস্তফা সরওয়ার ফারুকীর ফেসবুক আইডি ফিরে পাওয়া কেবল তার নিজের জন্য নয়, বরং তার অগণিত শুভাকাঙ্ক্ষীদের জন্যও একটি স্বস্তির সংবাদ। তিনি তার স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে এই বিড়ম্বনা কাটিয়ে পুনরায় ডিজিটাল পরিসরে সরব হয়েছেন। আশা করা যায়, ভবিষ্যতে তিনি আরও অধিকতর সতর্কতার সাথে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলো ব্যবহার করবেন এবং তার সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও সরকারি দায়িত্বের গুরুত্বপূর্ণ বার্তাগুলো নিয়মিত এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমেই দেশবাসীর কাছে পৌঁছে দেবেন। প্রযুক্তির এই যুগে ডিজিটাল নিরাপত্তা রক্ষায় সচেতনতা এবং আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ই হতে পারে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়ানোর একমাত্র উপায়।
আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]