খুঁজুন
, ,

ইউক্রেনে ভয়াবহ রুশ হামলা: একদিনে নিহত ২০, দিনিপ্রোতে প্রাণহানি ১৪ জনের

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ১:১৫ অপরাহ্ণ
ইউক্রেনে ভয়াবহ রুশ হামলা: একদিনে নিহত ২০, দিনিপ্রোতে প্রাণহানি ১৪ জনের

ইউক্রেনে চলমান সামরিক সংঘাতের মধ্যে গত বৃহস্পতিবার রাশিয়ার পক্ষ থেকে ভয়াবহ এক হামলা চালানো হয়েছে। এই দিনের ধারাবাহিক আক্রমণে দেশটির অন্তত ২০ জন বেসামরিক নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। ইউক্রেনের বিভিন্ন শহর ও জনপদ লক্ষ্য করে চালানো এই হামলা দেশটির সাধারণ মানুষের মধ্যে গভীর আতঙ্ক ও শোকের ছায়া ফেলেছে। বিশেষ করে জনাকীর্ণ রেলস্টেশনে হামলাটি মানবিক নিরাপত্তার চরম লঙ্ঘন হিসেবে দেখা হচ্ছে। রাশিয়ার পক্ষ থেকে ছোড়া ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে বলে ইউক্রেনের সরকারি কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন।

সবচেয়ে ভয়াবহ ঘটনাটি ঘটেছে দিনিপ্রো শহরে। শহরের অন্যতম ব্যস্ত রেলস্টেশনে রাশিয়ার একটি ড্রোন সরাসরি আঘাত হানে। ব্যস্ততম এই গণপরিবহন কেন্দ্রে হামলার সময় বহু মানুষ উপস্থিত ছিলেন। আচমকা ঘটে যাওয়া এই ড্রোন হামলায় ঘটনাস্থলেই ১৪ জন প্রাণ হারান। রেলস্টেশনটি মানুষের যাতায়াতের প্রধান কেন্দ্র হওয়ায় হতাহতের সংখ্যা এমন মর্মান্তিক পর্যায়ে পৌঁছেছে। হামলার পরপরই রেলস্টেশন এলাকায় ধ্বংসস্তূপের নিচে প্রাণের সন্ধানে উদ্ধারকর্মীরা তৎপরতা শুরু করেন। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আকস্মিক এই হামলায় বহু মানুষ আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। এর ফলে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

একই দিনে শুধুমাত্র দিনিপ্রো নয়, বরং ইউক্রেনের অন্যান্য প্রাদেশিক শহরেও রাশিয়ার পক্ষ থেকে ধারাবাহিক হামলা চালানো হয়েছে। দিনের আলোয় ব্যস্ত শহরগুলোতে চালানো এই হামলায় আরও ৫ জন নাগরিক নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ইউক্রেনের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো এবং জনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলো যে এখন আর নিরাপদ নয়, এই হামলা তা আরও একবার প্রমাণ করল। দিনের বেলায় চালানো এই অভিযানগুলোর সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তু ছিল সাধারণ মানুষ ও তাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা। যুদ্ধের ভয়াবহতা এখন ইউক্রেনের সাধারণ নাগরিকদের জন্য অসহনীয় হয়ে উঠেছে।

অন্যদিকে, রাজধানী কিয়েভও এই হামলার হাত থেকে রেহাই পায়নি। গভীর রাতে কিয়েভে চালানো রাশিয়ার এক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আরও একজনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে। গভীর রাতের এই আক্রমণটি ছিল আকস্মিক, যার ফলে শহরবাসীর জন্য নিরাপদ আশ্রয় গ্রহণ করা বেশ কঠিন ছিল। গত ২৪ ঘণ্টার এই ধারাবাহিক আক্রমণ প্রমাণ করে যে ইউক্রেনের সর্বত্রই রাশিয়ার সামরিক তৎপরতা এখন নতুন মাত্রা পেয়েছে। একদিকে আকাশপথে ড্রোন, অন্যদিকে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র—এই দ্বিমুখী হামলায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে ইউক্রেনের জনজীবন।

ইউক্রেনের সামরিক বিশ্লেষক ও কর্মকর্তারা মনে করছেন, এই ধরণের হামলা মূলত সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে ভীতি সঞ্চার এবং দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে ভেঙে ফেলার একটি কৌশলগত অংশ। যদিও রাশিয়ার পক্ষ থেকে প্রায়ই দাবি করা হয় যে তারা শুধুমাত্র সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাচ্ছে, কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে যে রেলস্টেশন, আবাসিক এলাকা এবং বেসামরিক স্থাপনাগুলোই হামলার প্রধান শিকার হচ্ছে। যুদ্ধের দীর্ঘস্থায়ী এই সংকট নিরসনে কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় সাধারণ মানুষ দিন দিন আরও অসহায় হয়ে পড়ছে। বিদ্যুৎ, পানি ও যাতায়াত ব্যবস্থার মতো মৌলিক পরিষেবাগুলো এই হামলার ফলে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, যা মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

বর্তমানে আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং উদ্ধার তৎপরতা চলমান রয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন নাগরিকদের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার আহ্বান জানিয়েছে। রাশিয়ার এই ধারাবাহিক হামলার ঘটনায় আন্তর্জাতিক মহলে নিন্দার ঝড় উঠলেও মাঠপর্যায়ে এর কোনো ইতিবাচক প্রভাব এখনো পরিলক্ষিত হয়নি। ইউক্রেনের সাধারণ মানুষ এখন কেবল যুদ্ধের আতঙ্ক আর প্রিয়জন হারানোর শোক নিয়ে বেঁচে থাকার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। একদিনে ২০ জনের মৃত্যু ইউক্রেনের জন্য একটি কালো অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশটির কর্তৃপক্ষ হিমশিম খাচ্ছে এবং পশ্চিমা দেশগুলোর কাছে আরও উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাওয়ার দাবি জোরদার হয়েছে। যুদ্ধের এই প্রেক্ষাপটে সাধারণ মানুষের জীবন এখন গভীর অনিশ্চয়তার মুখে।

হেফাজতে ইসলামের তত্ত্বাবধানে নতুন রাজনৈতিক জোট গঠন করল সাত ইসলামি দল

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ২:১৪ অপরাহ্ণ
   
হেফাজতে ইসলামের তত্ত্বাবধানে নতুন রাজনৈতিক জোট গঠন করল সাত ইসলামি দল

দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এক নতুন মেরুকরণের আভাস পাওয়া গেছে। কওমি মাদ্রাসাকেন্দ্রিক অরাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে পরিচিত হেফাজতে ইসলামের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে সাতটি ইসলামি দল মিলে একটি নতুন জোট গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গত ২২ অক্টোবর এই জোটের আনুষ্ঠানিক যাত্রার খবর প্রকাশ্যে আসে, যা নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে নানামুখী আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ধর্মভিত্তিক দলগুলোর এই সম্মিলিত উদ্যোগকে আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনের কৌশল হিসেবেই দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

জোটভুক্ত দলগুলো হলো বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ, ইসলামী ঐক্যজোটের রাজী অংশ, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি এবং বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন। এই দলগুলো দীর্ঘদিন ধরেই পৃথকভাবে নিজেদের কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল। তবে এবার হেফাজতে ইসলামের ছায়াতলে এসে তারা এক নতুন রাজনৈতিক কৌশলের দিকে হাঁটছে। হেফাজতে ইসলাম আনুষ্ঠানিকভাবে অরাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে নিজেদের পরিচয় দিলেও, এই দলগুলোর জোটবদ্ধ হওয়ার নেপথ্যে তাদের এই সক্রিয় ভূমিকা ও তত্ত্বাবধান রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন প্রশ্নের অবতারণা করেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ধর্মভিত্তিক দলগুলো ঐতিহাসিকভাবেই বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করে। তবে তাদের মধ্যকার অনৈক্য বা বিভাজন অনেক ক্ষেত্রেই বড় ধরনের রাজনৈতিক প্রভাব ফেলতে বাধা হয়ে দাঁড়াত। এবার সেই বাধা কাটিয়ে সাতটি দল একই প্ল্যাটফর্মে আসার পেছনে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন বড় নিয়ামক হিসেবে কাজ করেছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে তৃণমূল পর্যায়ে নিজেদের আধিপত্য বিস্তার এবং জনভিত্তি যাচাই করার লক্ষ্যেই এই জোট গঠিত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। একইসঙ্গে জাতীয় রাজনীতিতে নিজেদের দরকষাকষির সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্যও এই জোট একটি শক্তিশালী মাধ্যম হতে পারে।

এই জোটের মূল শক্তি হলো তাদের আদর্শিক ঐক্য। কওমি মাদ্রাসাকেন্দ্রিক এই সংগঠনগুলোর তৃণমূল পর্যায়ে শক্তিশালী নেটওয়ার্ক রয়েছে। হেফাজতে ইসলামের মতো সংগঠনের ছায়াতলে এই জোটটি কতদিন টিকে থাকতে পারবে এবং নির্বাচনী মাঠে তারা কতটা প্রভাব ফেলতে পারবে, তা এখন সময়ের অপেক্ষা। নির্বাচনী রাজনীতিতে এককভাবে লড়ার চেয়ে জোটবদ্ধ হয়ে লড়লে প্রার্থীর জয়লাভের সম্ভাবনা বেড়ে যায়, যা সম্ভবত এই দলগুলোকে ঐক্যবদ্ধ হতে উদ্বুদ্ধ করেছে। এছাড়া, ভোটের মাঠে নিজস্ব অবস্থান ধরে রাখার পাশাপাশি মূল ধারার রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের সমীকরণ ঠিক করার একটি কৌশলও এর মধ্যে লুকিয়ে থাকতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে ধর্মভিত্তিক জোট গঠনের ইতিহাস দীর্ঘ। এর আগেও বিভিন্ন সময়ে নানা নামে ও ব্যানারে ইসলামি দলগুলো একত্রিত হয়েছে। তবে এবার হেফাজতে ইসলামের মতো একটি প্রভাবশালী সংগঠনের সরাসরি হস্তক্ষেপে এই ঐক্য কতটা টেকসই হবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। অতীতেও নানা সময়ে আদর্শিক মতপার্থক্য কিংবা নেতৃত্বের দ্বন্দ্বের কারণে অনেক জোট ভেঙে যাওয়ার নজির রয়েছে। এই সাতটি দলের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া কতটা অটুট থাকবে এবং হেফাজতে ইসলামের নেতৃত্বকে তারা কতটুকু মান্য করবে, তা সময়ই বলে দেবে। তবে সাম্প্রতিক এই ঘটনাটি যে দেশের রাজনৈতিক সমীকরণকে প্রভাবিত করার ক্ষমতা রাখে, তা নিয়ে সন্দেহ নেই।

রাজনৈতিক সচেতন মহল মনে করছেন, এই জোট গঠনের মাধ্যমে ইসলামি দলগুলো কেবল নির্বাচন নয়, বরং দেশের বৃহত্তর সামাজিক ও ধর্মীয় ইস্যুগুলোতেও নিজেদের সম্মিলিত আওয়াজ আরও জোরালো করতে চাইবে। হেফাজতে ইসলামের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে থাকার কারণে এই জোটের কার্যক্রম সাধারণত সাধারণ ইসলামি জনমতের প্রতিফলন হিসেবে গণ্য হওয়ার সুযোগ থাকবে। সব মিলিয়ে, আগামী দিনগুলোতে স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এই জোটের তৎপরতা রাজনৈতিক ময়দানে নতুন মাত্রা যোগ করবে এবং অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোও তাদের এই ঐক্যের প্রতিক্রিয়া কীভাবে নেয়, তা দেখার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। আপাতত মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীরা জোটের এই নতুন সূচনার অপেক্ষায় রয়েছেন এবং এই সাত দলের নেতারা তাদের পরবর্তী কর্মকৌশল নির্ধারণে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

রাজধানীর রমনায় ককটেল বিস্ফোরণ: গ্রেফতার দুই আসামির তথ্যে আরও বিস্ফোরক উদ্ধার

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ২:১৪ অপরাহ্ণ
   
রাজধানীর রমনায় ককটেল বিস্ফোরণ: গ্রেফতার দুই আসামির তথ্যে আরও বিস্ফোরক উদ্ধার

রাজধানীর পুরোনো রমনা থানার সামনে সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় দুই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণের সূত্র ধরে তদন্তকারী দল অপরাধীদের শনাক্ত করতে সক্ষম হয়। এরপর দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর শুক্রবার ভোররাত ৪টা থেকে সাড়ে ৪টার মধ্যে রাজধানীর হাতিরঝিলের নয়াটোলা চেয়ারম্যান গলি এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা তাদের অপরাধের কথা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই পুলিশ অভিযান চালিয়ে আরও চারটি তাজা ককটেল উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, এই বিস্ফোরকগুলো অন্য কোথাও বড় কোনো নাশকতার পরিকল্পনায় ব্যবহারের উদ্দেশ্যে মজুত রাখা হয়েছিল। পুলিশ বলছে, ঘটনার পরপরই পুলিশের একটি বিশেষ দল তদন্তে নামে এবং ঘটনাস্থলের আশপাশের ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করে। সেই ফুটেজগুলো বারবার যাচাই-বাছাই ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে হামলাকারীদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়।

গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে একজন জাহিদুল বলে প্রাথমিক পরিচয় পাওয়া গেলেও তাদের বিস্তারিত পরিচয় ও কোনো রাজনৈতিক বা সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সাথে তাদের সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা নিয়ে আরও নিবিড়ভাবে তদন্ত চালানো হচ্ছে। এই ঘটনায় দায়ের করা মামলার তদন্তের অংশ হিসেবেই তাদের রিমান্ডে আনার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানা গেছে। পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রাজধানীর নিরাপত্তার স্বার্থে এই ধরনের নাশকতার ঘটনার সাথে জড়িতদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।

পুরোনো রমনা থানার সামনে এই ধরনের বিস্ফোরণের ঘটনা এলাকায় জনমনে আতঙ্ক তৈরি করেছিল। এখন গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরও কোনো আস্তানা বা বিস্ফোরকের চালান রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জানান, উদ্ধারকৃত চারটি তাজা ককটেল নিষ্ক্রিয় করার জন্য বিশেষজ্ঞ দলকে ডাকা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং তাদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

অভিযান সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃতরা স্থানীয় কোনো গ্যাংয়ের সদস্য নাকি এর পেছনে অন্য কোনো বড় কোনো পরিকল্পনা রয়েছে, তা উদঘাটন করাই এখন তদন্তের মূল লক্ষ্য। পুলিশের বিশেষ টিমগুলো এখন তাদের সহযোগীদের খোঁজে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি চালাচ্ছে। আশা করা হচ্ছে, খুব দ্রুতই এই ঘটনার মূল হোতাদের গ্রেফতার ও নেটওয়ার্ক ভেঙে ফেলা সম্ভব হবে। নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিতে পুলিশ ও অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এখন সমন্বিতভাবে কাজ করছে।

ভ্রমণকালে হঠাৎ ভূমিকম্পের মুখোমুখি হলে যা করা জরুরি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ২:১৪ অপরাহ্ণ
   
ভ্রমণকালে হঠাৎ ভূমিকম্পের মুখোমুখি হলে যা করা জরুরি

ভ্রমণপিপাসু মানুষের কাছে পাহাড়, সমুদ্র কিংবা দ্বীপের হাতছানি সবসময়ই দারুণ উপভোগ্য। বিশেষ করে ছুটির দিনগুলোতে অনেকেই এমন সব গন্তব্যে হারিয়ে যেতে পছন্দ করেন। কিন্তু প্রকৃতির খেয়ালের ওপর তো মানুষের নিয়ন্ত্রণ নেই। হুটহাট ঘটে যাওয়া প্রাকৃতিক দুর্যোগ ভ্রমণকারীদের আনন্দের মুহূর্তকে আতঙ্কে পরিণত করতে পারে। সম্প্রতি আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে আঘাত হানা ভূমিকম্পের বিষয়টি আমাদের মনে করিয়ে দিয়েছে যে, যেকোনো সময় যেকোনো জায়গায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। গত বৃহস্পতিবার ২৯ অক্টোবর আঘাত হানা এই ভূমিকম্পটি ছিল ৫ দশমিক ১ মাত্রার। ভাগ্যক্রমে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি, যা স্বস্তির বিষয়। তবে এই ঘটনা আমাদের সতর্ক হওয়ার বার্তা দেয় যে, ভ্রমণে বের হলে কেবল হোটেল বুকিং বা ঘোরার পরিকল্পনা করাই যথেষ্ট নয়, দুর্যোগকালীন পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার মানসিক প্রস্তুতিও থাকা চাই।

ভ্রমণরত অবস্থায় হঠাৎ ভূমিকম্প শুরু হলে প্রথমেই যে বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে তা হলো আতঙ্কিত না হওয়া। আতঙ্ক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। আপনার আশেপাশে যদি মজবুত কোনো আসবাবপত্র বা টেবিল থাকে, তবে তার নিচে আশ্রয় নেওয়া সবচেয়ে নিরাপদ। হাত দিয়ে মাথা ও ঘাড় শক্ত করে ধরে রাখা জরুরি। যদি আপনি হোটেল বা কোনো বহুতল ভবনের ভেতর থাকেন, তবে লিফট ব্যবহারের কথা একদমই ভাববেন না। সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামার সময় তাড়াহুড়ো করা বা হুড়োহুড়ি করা বিপদ ডেকে আনতে পারে। বরং শান্ত থেকে দেয়ালের কোণ বা মজবুত কাঠামোর পাশে আশ্রয় নেওয়া বুদ্ধিমত্তার কাজ। যদি আপনি বিছানায় থাকেন, তবে মাথার ওপর বালিশ দিয়ে নিজেকে সুরক্ষিত রাখুন।

খোলা জায়গায় থাকলে পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন হয়। আপনি যদি সমুদ্র সৈকত বা দ্বীপের কোনো খোলা স্থানে থাকেন, তবে ভবন বা গাছ থেকে যতটা সম্ভব দূরে সরে যান। উপকূলীয় এলাকায় ভূমিকম্পের পরপরই সুনামি বা সামুদ্রিক জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তাই ভূকম্পন অনুভূত হওয়ার পর উপকূল এলাকা থেকে উঁচু স্থানে বা নিরাপদ দূরত্বে সরে যাওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। স্থানীয় প্রশাসনের ঘোষণা বা সতর্কবার্তা নিয়মিত অনুসরণ করা প্রয়োজন। এছাড়া ভ্রমণের সময় সঙ্গে সবসময় একটি জরুরি ব্যাগ রাখা ভালো, যেখানে প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র, শুকনো খাবার, পানির বোতল, প্রয়োজনীয় নথিপত্র এবং একটি টর্চলাইট থাকবে। জরুরি পরিস্থিতিতে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে, তাই আগে থেকেই পরিবারের সদস্য বা বন্ধুদের আপনার গন্তব্য ও অবস্থান সম্পর্কে জানিয়ে রাখা নিরাপদ।

ভ্রমণের আগে গন্তব্যস্থলের ভৌগোলিক অবস্থা এবং সেখানে সাম্প্রতিক সময়ে কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগের ইতিহাস আছে কি না, তা যাচাই করে নেওয়া ভালো। আজকাল প্রযুক্তির কল্যাণে অনেক অ্যাপ বা ওয়েবসাইট ভূমিকম্পের আগাম সতর্কবার্তা দিয়ে থাকে। সেগুলো নিজের ফোনে ডাউনলোড করে রাখতে পারেন। যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে ধৈর্য ও সচেতনতাই হলো সুরক্ষার মূল চাবিকাঠি। আমরা যখন নতুন কোনো পরিবেশে যাই, তখন সেখানকার আবহাওয়া ও পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি ঝুঁকিগুলো নিয়েও সচেতন থাকা উচিত। প্রকৃতির সুন্দর রূপ উপভোগ করার পাশাপাশি নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টিও সমান গুরুত্ব পাওয়া প্রয়োজন। ভ্রমণ হোক আনন্দময় ও নিরাপদ।

সর্বশেষ
হেফাজতে ইসলামের তত্ত্বাবধানে নতুন রাজনৈতিক জোট গঠন করল সাত ইসলামি দল রাজধানীর রমনায় ককটেল বিস্ফোরণ: গ্রেফতার দুই আসামির তথ্যে আরও বিস্ফোরক উদ্ধার ভ্রমণকালে হঠাৎ ভূমিকম্পের মুখোমুখি হলে যা করা জরুরি ইউক্রেনে ভয়াবহ রুশ হামলা: একদিনে নিহত ২০, দিনিপ্রোতে প্রাণহানি ১৪ জনের প্রধানমন্ত্রীর জাপানফেরত বিমানে ত্রুটি, ইঞ্জিন সচল ছিল: অতিরিক্ত প্রেস সচিব প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী ফ্লাইটে যান্ত্রিক ত্রুটি অনুসন্ধানে তদন্ত কমিটি গঠন ইসরায়েলি নির্বাচনে জয়ী নেতানিয়াহুকে আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্টের অভিনন্দন নেপালের ক্রিকেট উন্মাদনায় মুগ্ধ সাকিব আল হাসান লাঞ্চের ঠিক আগ মুহূর্তে নাঈমের ব্রেক-থ্রু, সুবিধাজনক অবস্থানে বাংলাদেশ পাঁচ হলুদ কার্ডেও কেন নিষেধাজ্ঞা নেই মেসির, কী এই বিশেষ নিয়ম
Advertisement