ইউক্রেনে ভয়াবহ রুশ হামলা: একদিনে নিহত ২০, দিনিপ্রোতে প্রাণহানি ১৪ জনের

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬ । ১:১৫ অপরাহ্ণ

ইউক্রেনে চলমান সামরিক সংঘাতের মধ্যে গত বৃহস্পতিবার রাশিয়ার পক্ষ থেকে ভয়াবহ এক হামলা চালানো হয়েছে। এই দিনের ধারাবাহিক আক্রমণে দেশটির অন্তত ২০ জন বেসামরিক নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। ইউক্রেনের বিভিন্ন শহর ও জনপদ লক্ষ্য করে চালানো এই হামলা দেশটির সাধারণ মানুষের মধ্যে গভীর আতঙ্ক ও শোকের ছায়া ফেলেছে। বিশেষ করে জনাকীর্ণ রেলস্টেশনে হামলাটি মানবিক নিরাপত্তার চরম লঙ্ঘন হিসেবে দেখা হচ্ছে। রাশিয়ার পক্ষ থেকে ছোড়া ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে বলে ইউক্রেনের সরকারি কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন।

সবচেয়ে ভয়াবহ ঘটনাটি ঘটেছে দিনিপ্রো শহরে। শহরের অন্যতম ব্যস্ত রেলস্টেশনে রাশিয়ার একটি ড্রোন সরাসরি আঘাত হানে। ব্যস্ততম এই গণপরিবহন কেন্দ্রে হামলার সময় বহু মানুষ উপস্থিত ছিলেন। আচমকা ঘটে যাওয়া এই ড্রোন হামলায় ঘটনাস্থলেই ১৪ জন প্রাণ হারান। রেলস্টেশনটি মানুষের যাতায়াতের প্রধান কেন্দ্র হওয়ায় হতাহতের সংখ্যা এমন মর্মান্তিক পর্যায়ে পৌঁছেছে। হামলার পরপরই রেলস্টেশন এলাকায় ধ্বংসস্তূপের নিচে প্রাণের সন্ধানে উদ্ধারকর্মীরা তৎপরতা শুরু করেন। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আকস্মিক এই হামলায় বহু মানুষ আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। এর ফলে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

একই দিনে শুধুমাত্র দিনিপ্রো নয়, বরং ইউক্রেনের অন্যান্য প্রাদেশিক শহরেও রাশিয়ার পক্ষ থেকে ধারাবাহিক হামলা চালানো হয়েছে। দিনের আলোয় ব্যস্ত শহরগুলোতে চালানো এই হামলায় আরও ৫ জন নাগরিক নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ইউক্রেনের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো এবং জনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলো যে এখন আর নিরাপদ নয়, এই হামলা তা আরও একবার প্রমাণ করল। দিনের বেলায় চালানো এই অভিযানগুলোর সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তু ছিল সাধারণ মানুষ ও তাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা। যুদ্ধের ভয়াবহতা এখন ইউক্রেনের সাধারণ নাগরিকদের জন্য অসহনীয় হয়ে উঠেছে।

অন্যদিকে, রাজধানী কিয়েভও এই হামলার হাত থেকে রেহাই পায়নি। গভীর রাতে কিয়েভে চালানো রাশিয়ার এক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আরও একজনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে। গভীর রাতের এই আক্রমণটি ছিল আকস্মিক, যার ফলে শহরবাসীর জন্য নিরাপদ আশ্রয় গ্রহণ করা বেশ কঠিন ছিল। গত ২৪ ঘণ্টার এই ধারাবাহিক আক্রমণ প্রমাণ করে যে ইউক্রেনের সর্বত্রই রাশিয়ার সামরিক তৎপরতা এখন নতুন মাত্রা পেয়েছে। একদিকে আকাশপথে ড্রোন, অন্যদিকে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র—এই দ্বিমুখী হামলায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে ইউক্রেনের জনজীবন।

ইউক্রেনের সামরিক বিশ্লেষক ও কর্মকর্তারা মনে করছেন, এই ধরণের হামলা মূলত সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে ভীতি সঞ্চার এবং দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে ভেঙে ফেলার একটি কৌশলগত অংশ। যদিও রাশিয়ার পক্ষ থেকে প্রায়ই দাবি করা হয় যে তারা শুধুমাত্র সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাচ্ছে, কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে যে রেলস্টেশন, আবাসিক এলাকা এবং বেসামরিক স্থাপনাগুলোই হামলার প্রধান শিকার হচ্ছে। যুদ্ধের দীর্ঘস্থায়ী এই সংকট নিরসনে কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় সাধারণ মানুষ দিন দিন আরও অসহায় হয়ে পড়ছে। বিদ্যুৎ, পানি ও যাতায়াত ব্যবস্থার মতো মৌলিক পরিষেবাগুলো এই হামলার ফলে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, যা মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

বর্তমানে আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং উদ্ধার তৎপরতা চলমান রয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন নাগরিকদের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার আহ্বান জানিয়েছে। রাশিয়ার এই ধারাবাহিক হামলার ঘটনায় আন্তর্জাতিক মহলে নিন্দার ঝড় উঠলেও মাঠপর্যায়ে এর কোনো ইতিবাচক প্রভাব এখনো পরিলক্ষিত হয়নি। ইউক্রেনের সাধারণ মানুষ এখন কেবল যুদ্ধের আতঙ্ক আর প্রিয়জন হারানোর শোক নিয়ে বেঁচে থাকার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। একদিনে ২০ জনের মৃত্যু ইউক্রেনের জন্য একটি কালো অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশটির কর্তৃপক্ষ হিমশিম খাচ্ছে এবং পশ্চিমা দেশগুলোর কাছে আরও উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাওয়ার দাবি জোরদার হয়েছে। যুদ্ধের এই প্রেক্ষাপটে সাধারণ মানুষের জীবন এখন গভীর অনিশ্চয়তার মুখে।

  • সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মোঃ রাসেল মিয়া

প্রিন্ট করুন