রাজধানীর পুরোনো রমনা থানার সামনে সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় দুই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণের সূত্র ধরে তদন্তকারী দল অপরাধীদের শনাক্ত করতে সক্ষম হয়। এরপর দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর শুক্রবার ভোররাত ৪টা থেকে সাড়ে ৪টার মধ্যে রাজধানীর হাতিরঝিলের নয়াটোলা চেয়ারম্যান গলি এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা তাদের অপরাধের কথা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই পুলিশ অভিযান চালিয়ে আরও চারটি তাজা ককটেল উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, এই বিস্ফোরকগুলো অন্য কোথাও বড় কোনো নাশকতার পরিকল্পনায় ব্যবহারের উদ্দেশ্যে মজুত রাখা হয়েছিল। পুলিশ বলছে, ঘটনার পরপরই পুলিশের একটি বিশেষ দল তদন্তে নামে এবং ঘটনাস্থলের আশপাশের ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করে। সেই ফুটেজগুলো বারবার যাচাই-বাছাই ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে হামলাকারীদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়।
গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে একজন জাহিদুল বলে প্রাথমিক পরিচয় পাওয়া গেলেও তাদের বিস্তারিত পরিচয় ও কোনো রাজনৈতিক বা সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সাথে তাদের সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা নিয়ে আরও নিবিড়ভাবে তদন্ত চালানো হচ্ছে। এই ঘটনায় দায়ের করা মামলার তদন্তের অংশ হিসেবেই তাদের রিমান্ডে আনার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানা গেছে। পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রাজধানীর নিরাপত্তার স্বার্থে এই ধরনের নাশকতার ঘটনার সাথে জড়িতদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।
পুরোনো রমনা থানার সামনে এই ধরনের বিস্ফোরণের ঘটনা এলাকায় জনমনে আতঙ্ক তৈরি করেছিল। এখন গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরও কোনো আস্তানা বা বিস্ফোরকের চালান রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জানান, উদ্ধারকৃত চারটি তাজা ককটেল নিষ্ক্রিয় করার জন্য বিশেষজ্ঞ দলকে ডাকা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং তাদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
অভিযান সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃতরা স্থানীয় কোনো গ্যাংয়ের সদস্য নাকি এর পেছনে অন্য কোনো বড় কোনো পরিকল্পনা রয়েছে, তা উদঘাটন করাই এখন তদন্তের মূল লক্ষ্য। পুলিশের বিশেষ টিমগুলো এখন তাদের সহযোগীদের খোঁজে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি চালাচ্ছে। আশা করা হচ্ছে, খুব দ্রুতই এই ঘটনার মূল হোতাদের গ্রেফতার ও নেটওয়ার্ক ভেঙে ফেলা সম্ভব হবে। নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিতে পুলিশ ও অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এখন সমন্বিতভাবে কাজ করছে।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬ । ২:১৪ অপরাহ্ণ