খুঁজুন
, ,

প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী ফ্লাইটে যান্ত্রিক ত্রুটি অনুসন্ধানে তদন্ত কমিটি গঠন

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ১:১৪ অপরাহ্ণ
প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী ফ্লাইটে যান্ত্রিক ত্রুটি অনুসন্ধানে তদন্ত কমিটি গঠন

জাপান সফর শেষে ফেরার পথে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে যান্ত্রিক ত্রুটির বিষয়টি খতিয়ে দেখতে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের নির্দেশে এই কমিটি ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে কাজ শুরু করেছে।

জাপান থেকে দেশে ফেরার পথে প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সফরসঙ্গীদের বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিয়েছে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর বিমান উড্ডয়ন ও পরিচালনায় কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশে গঠিত এই কমিটি ইতোমধ্যে তাদের কার্যক্রম শুরু করেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

ঘটনার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ঘটনাটি ঘটেছে মূলত জাপান সফর শেষে ফেরার পথে। তিনি জানান, ফ্লাইটের ইঞ্জিনে কোনো সমস্যা ছিল না, তবে বিমানের ডানার অংশে একটি কারিগরি ত্রুটি ধরা পড়েছিল। এই ত্রুটি দ্রুত চিহ্নিত করে তা মেরামত করা সম্ভব হয়। তিনি এটিকে খুব বড় কোনো বিষয় নয় বলে উল্লেখ করলেও, সরকারি কোনো গুরুত্বপূর্ণ ফ্লাইটে এমন কারিগরি সীমাবদ্ধতা জনমনে উদ্বেগের জন্ম দেয়। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সফরসঙ্গীদের নিরাপত্তাজনিত বিষয় হওয়ায় সরকার পুরো ঘটনাটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে।

নিরাপত্তার স্বার্থে কোনো রকম ঝুঁকি নিতে নারাজ প্রশাসন। ফ্লাইটের যান্ত্রিক এই ত্রুটিটি আকস্মিক কি না, নাকি রক্ষণাবেক্ষণজনিত কোনো অবহেলা ছিল, তা বিস্তারিত পর্যালোচনার জন্য তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জাপানে চার দিনের সরকারি সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী, তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান এবং সফরসঙ্গীদের বহনকারী বিমানটি বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে ফিরছিল। আকাশপথে থাকার সময় এই ত্রুটি ধরা পড়লে তা দ্রুত সংশোধনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়। তবে এই ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী বা অন্য কেউ কোনো ধরনের বিপদের সম্মুখীন হননি বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

উল্লেখ্য যে, রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের বহনকারী বিমানের ক্ষেত্রে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও উড্ডয়নের আগে কঠোর নিরাপত্তা যাচাই-বাছাই করা হয়। তবুও দীর্ঘ যাত্রাপথে বা উড্ডয়ন অবস্থায় এমন যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়াটি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে বিমানের কারিগরি লগবুক, রক্ষণাবেক্ষণের তথ্য এবং ফ্লাইটের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী ও পাইলটদের বক্তব্য যাচাই করা হবে। যদি কোনো গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পক্ষ থেকেও বিষয়টি নিয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করার কথা জানানো হয়েছে। তদন্ত প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে নারাজ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তবে সাধারণ যাত্রীদের নিরাপত্তাসহ রাষ্ট্রীয় ফ্লাইটের সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকারের এই পদক্ষেপকে ইতিবাচক হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই তদন্তের মাধ্যমে বিমানের কারিগরি ত্রুটি বা রক্ষণাবেক্ষণ সংক্রান্ত কোনো দুর্বলতা থাকলে তা চিহ্নিত করা সহজ হবে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা সম্ভব হবে।

হেফাজতে ইসলামের তত্ত্বাবধানে নতুন রাজনৈতিক জোট গঠন করল সাত ইসলামি দল

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ২:১৪ অপরাহ্ণ
   
হেফাজতে ইসলামের তত্ত্বাবধানে নতুন রাজনৈতিক জোট গঠন করল সাত ইসলামি দল

দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এক নতুন মেরুকরণের আভাস পাওয়া গেছে। কওমি মাদ্রাসাকেন্দ্রিক অরাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে পরিচিত হেফাজতে ইসলামের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে সাতটি ইসলামি দল মিলে একটি নতুন জোট গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গত ২২ অক্টোবর এই জোটের আনুষ্ঠানিক যাত্রার খবর প্রকাশ্যে আসে, যা নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে নানামুখী আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ধর্মভিত্তিক দলগুলোর এই সম্মিলিত উদ্যোগকে আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনের কৌশল হিসেবেই দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

জোটভুক্ত দলগুলো হলো বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ, ইসলামী ঐক্যজোটের রাজী অংশ, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি এবং বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন। এই দলগুলো দীর্ঘদিন ধরেই পৃথকভাবে নিজেদের কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল। তবে এবার হেফাজতে ইসলামের ছায়াতলে এসে তারা এক নতুন রাজনৈতিক কৌশলের দিকে হাঁটছে। হেফাজতে ইসলাম আনুষ্ঠানিকভাবে অরাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে নিজেদের পরিচয় দিলেও, এই দলগুলোর জোটবদ্ধ হওয়ার নেপথ্যে তাদের এই সক্রিয় ভূমিকা ও তত্ত্বাবধান রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন প্রশ্নের অবতারণা করেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ধর্মভিত্তিক দলগুলো ঐতিহাসিকভাবেই বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করে। তবে তাদের মধ্যকার অনৈক্য বা বিভাজন অনেক ক্ষেত্রেই বড় ধরনের রাজনৈতিক প্রভাব ফেলতে বাধা হয়ে দাঁড়াত। এবার সেই বাধা কাটিয়ে সাতটি দল একই প্ল্যাটফর্মে আসার পেছনে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন বড় নিয়ামক হিসেবে কাজ করেছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে তৃণমূল পর্যায়ে নিজেদের আধিপত্য বিস্তার এবং জনভিত্তি যাচাই করার লক্ষ্যেই এই জোট গঠিত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। একইসঙ্গে জাতীয় রাজনীতিতে নিজেদের দরকষাকষির সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্যও এই জোট একটি শক্তিশালী মাধ্যম হতে পারে।

এই জোটের মূল শক্তি হলো তাদের আদর্শিক ঐক্য। কওমি মাদ্রাসাকেন্দ্রিক এই সংগঠনগুলোর তৃণমূল পর্যায়ে শক্তিশালী নেটওয়ার্ক রয়েছে। হেফাজতে ইসলামের মতো সংগঠনের ছায়াতলে এই জোটটি কতদিন টিকে থাকতে পারবে এবং নির্বাচনী মাঠে তারা কতটা প্রভাব ফেলতে পারবে, তা এখন সময়ের অপেক্ষা। নির্বাচনী রাজনীতিতে এককভাবে লড়ার চেয়ে জোটবদ্ধ হয়ে লড়লে প্রার্থীর জয়লাভের সম্ভাবনা বেড়ে যায়, যা সম্ভবত এই দলগুলোকে ঐক্যবদ্ধ হতে উদ্বুদ্ধ করেছে। এছাড়া, ভোটের মাঠে নিজস্ব অবস্থান ধরে রাখার পাশাপাশি মূল ধারার রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের সমীকরণ ঠিক করার একটি কৌশলও এর মধ্যে লুকিয়ে থাকতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে ধর্মভিত্তিক জোট গঠনের ইতিহাস দীর্ঘ। এর আগেও বিভিন্ন সময়ে নানা নামে ও ব্যানারে ইসলামি দলগুলো একত্রিত হয়েছে। তবে এবার হেফাজতে ইসলামের মতো একটি প্রভাবশালী সংগঠনের সরাসরি হস্তক্ষেপে এই ঐক্য কতটা টেকসই হবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। অতীতেও নানা সময়ে আদর্শিক মতপার্থক্য কিংবা নেতৃত্বের দ্বন্দ্বের কারণে অনেক জোট ভেঙে যাওয়ার নজির রয়েছে। এই সাতটি দলের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া কতটা অটুট থাকবে এবং হেফাজতে ইসলামের নেতৃত্বকে তারা কতটুকু মান্য করবে, তা সময়ই বলে দেবে। তবে সাম্প্রতিক এই ঘটনাটি যে দেশের রাজনৈতিক সমীকরণকে প্রভাবিত করার ক্ষমতা রাখে, তা নিয়ে সন্দেহ নেই।

রাজনৈতিক সচেতন মহল মনে করছেন, এই জোট গঠনের মাধ্যমে ইসলামি দলগুলো কেবল নির্বাচন নয়, বরং দেশের বৃহত্তর সামাজিক ও ধর্মীয় ইস্যুগুলোতেও নিজেদের সম্মিলিত আওয়াজ আরও জোরালো করতে চাইবে। হেফাজতে ইসলামের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে থাকার কারণে এই জোটের কার্যক্রম সাধারণত সাধারণ ইসলামি জনমতের প্রতিফলন হিসেবে গণ্য হওয়ার সুযোগ থাকবে। সব মিলিয়ে, আগামী দিনগুলোতে স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এই জোটের তৎপরতা রাজনৈতিক ময়দানে নতুন মাত্রা যোগ করবে এবং অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোও তাদের এই ঐক্যের প্রতিক্রিয়া কীভাবে নেয়, তা দেখার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। আপাতত মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীরা জোটের এই নতুন সূচনার অপেক্ষায় রয়েছেন এবং এই সাত দলের নেতারা তাদের পরবর্তী কর্মকৌশল নির্ধারণে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

রাজধানীর রমনায় ককটেল বিস্ফোরণ: গ্রেফতার দুই আসামির তথ্যে আরও বিস্ফোরক উদ্ধার

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ২:১৪ অপরাহ্ণ
   
রাজধানীর রমনায় ককটেল বিস্ফোরণ: গ্রেফতার দুই আসামির তথ্যে আরও বিস্ফোরক উদ্ধার

রাজধানীর পুরোনো রমনা থানার সামনে সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় দুই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণের সূত্র ধরে তদন্তকারী দল অপরাধীদের শনাক্ত করতে সক্ষম হয়। এরপর দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর শুক্রবার ভোররাত ৪টা থেকে সাড়ে ৪টার মধ্যে রাজধানীর হাতিরঝিলের নয়াটোলা চেয়ারম্যান গলি এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা তাদের অপরাধের কথা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই পুলিশ অভিযান চালিয়ে আরও চারটি তাজা ককটেল উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, এই বিস্ফোরকগুলো অন্য কোথাও বড় কোনো নাশকতার পরিকল্পনায় ব্যবহারের উদ্দেশ্যে মজুত রাখা হয়েছিল। পুলিশ বলছে, ঘটনার পরপরই পুলিশের একটি বিশেষ দল তদন্তে নামে এবং ঘটনাস্থলের আশপাশের ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করে। সেই ফুটেজগুলো বারবার যাচাই-বাছাই ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে হামলাকারীদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়।

গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে একজন জাহিদুল বলে প্রাথমিক পরিচয় পাওয়া গেলেও তাদের বিস্তারিত পরিচয় ও কোনো রাজনৈতিক বা সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সাথে তাদের সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা নিয়ে আরও নিবিড়ভাবে তদন্ত চালানো হচ্ছে। এই ঘটনায় দায়ের করা মামলার তদন্তের অংশ হিসেবেই তাদের রিমান্ডে আনার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানা গেছে। পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রাজধানীর নিরাপত্তার স্বার্থে এই ধরনের নাশকতার ঘটনার সাথে জড়িতদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।

পুরোনো রমনা থানার সামনে এই ধরনের বিস্ফোরণের ঘটনা এলাকায় জনমনে আতঙ্ক তৈরি করেছিল। এখন গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরও কোনো আস্তানা বা বিস্ফোরকের চালান রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জানান, উদ্ধারকৃত চারটি তাজা ককটেল নিষ্ক্রিয় করার জন্য বিশেষজ্ঞ দলকে ডাকা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং তাদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

অভিযান সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃতরা স্থানীয় কোনো গ্যাংয়ের সদস্য নাকি এর পেছনে অন্য কোনো বড় কোনো পরিকল্পনা রয়েছে, তা উদঘাটন করাই এখন তদন্তের মূল লক্ষ্য। পুলিশের বিশেষ টিমগুলো এখন তাদের সহযোগীদের খোঁজে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি চালাচ্ছে। আশা করা হচ্ছে, খুব দ্রুতই এই ঘটনার মূল হোতাদের গ্রেফতার ও নেটওয়ার্ক ভেঙে ফেলা সম্ভব হবে। নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিতে পুলিশ ও অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এখন সমন্বিতভাবে কাজ করছে।

ভ্রমণকালে হঠাৎ ভূমিকম্পের মুখোমুখি হলে যা করা জরুরি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ২:১৪ অপরাহ্ণ
   
ভ্রমণকালে হঠাৎ ভূমিকম্পের মুখোমুখি হলে যা করা জরুরি

ভ্রমণপিপাসু মানুষের কাছে পাহাড়, সমুদ্র কিংবা দ্বীপের হাতছানি সবসময়ই দারুণ উপভোগ্য। বিশেষ করে ছুটির দিনগুলোতে অনেকেই এমন সব গন্তব্যে হারিয়ে যেতে পছন্দ করেন। কিন্তু প্রকৃতির খেয়ালের ওপর তো মানুষের নিয়ন্ত্রণ নেই। হুটহাট ঘটে যাওয়া প্রাকৃতিক দুর্যোগ ভ্রমণকারীদের আনন্দের মুহূর্তকে আতঙ্কে পরিণত করতে পারে। সম্প্রতি আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে আঘাত হানা ভূমিকম্পের বিষয়টি আমাদের মনে করিয়ে দিয়েছে যে, যেকোনো সময় যেকোনো জায়গায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। গত বৃহস্পতিবার ২৯ অক্টোবর আঘাত হানা এই ভূমিকম্পটি ছিল ৫ দশমিক ১ মাত্রার। ভাগ্যক্রমে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি, যা স্বস্তির বিষয়। তবে এই ঘটনা আমাদের সতর্ক হওয়ার বার্তা দেয় যে, ভ্রমণে বের হলে কেবল হোটেল বুকিং বা ঘোরার পরিকল্পনা করাই যথেষ্ট নয়, দুর্যোগকালীন পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার মানসিক প্রস্তুতিও থাকা চাই।

ভ্রমণরত অবস্থায় হঠাৎ ভূমিকম্প শুরু হলে প্রথমেই যে বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে তা হলো আতঙ্কিত না হওয়া। আতঙ্ক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। আপনার আশেপাশে যদি মজবুত কোনো আসবাবপত্র বা টেবিল থাকে, তবে তার নিচে আশ্রয় নেওয়া সবচেয়ে নিরাপদ। হাত দিয়ে মাথা ও ঘাড় শক্ত করে ধরে রাখা জরুরি। যদি আপনি হোটেল বা কোনো বহুতল ভবনের ভেতর থাকেন, তবে লিফট ব্যবহারের কথা একদমই ভাববেন না। সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামার সময় তাড়াহুড়ো করা বা হুড়োহুড়ি করা বিপদ ডেকে আনতে পারে। বরং শান্ত থেকে দেয়ালের কোণ বা মজবুত কাঠামোর পাশে আশ্রয় নেওয়া বুদ্ধিমত্তার কাজ। যদি আপনি বিছানায় থাকেন, তবে মাথার ওপর বালিশ দিয়ে নিজেকে সুরক্ষিত রাখুন।

খোলা জায়গায় থাকলে পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন হয়। আপনি যদি সমুদ্র সৈকত বা দ্বীপের কোনো খোলা স্থানে থাকেন, তবে ভবন বা গাছ থেকে যতটা সম্ভব দূরে সরে যান। উপকূলীয় এলাকায় ভূমিকম্পের পরপরই সুনামি বা সামুদ্রিক জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তাই ভূকম্পন অনুভূত হওয়ার পর উপকূল এলাকা থেকে উঁচু স্থানে বা নিরাপদ দূরত্বে সরে যাওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। স্থানীয় প্রশাসনের ঘোষণা বা সতর্কবার্তা নিয়মিত অনুসরণ করা প্রয়োজন। এছাড়া ভ্রমণের সময় সঙ্গে সবসময় একটি জরুরি ব্যাগ রাখা ভালো, যেখানে প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র, শুকনো খাবার, পানির বোতল, প্রয়োজনীয় নথিপত্র এবং একটি টর্চলাইট থাকবে। জরুরি পরিস্থিতিতে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে, তাই আগে থেকেই পরিবারের সদস্য বা বন্ধুদের আপনার গন্তব্য ও অবস্থান সম্পর্কে জানিয়ে রাখা নিরাপদ।

ভ্রমণের আগে গন্তব্যস্থলের ভৌগোলিক অবস্থা এবং সেখানে সাম্প্রতিক সময়ে কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগের ইতিহাস আছে কি না, তা যাচাই করে নেওয়া ভালো। আজকাল প্রযুক্তির কল্যাণে অনেক অ্যাপ বা ওয়েবসাইট ভূমিকম্পের আগাম সতর্কবার্তা দিয়ে থাকে। সেগুলো নিজের ফোনে ডাউনলোড করে রাখতে পারেন। যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে ধৈর্য ও সচেতনতাই হলো সুরক্ষার মূল চাবিকাঠি। আমরা যখন নতুন কোনো পরিবেশে যাই, তখন সেখানকার আবহাওয়া ও পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি ঝুঁকিগুলো নিয়েও সচেতন থাকা উচিত। প্রকৃতির সুন্দর রূপ উপভোগ করার পাশাপাশি নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টিও সমান গুরুত্ব পাওয়া প্রয়োজন। ভ্রমণ হোক আনন্দময় ও নিরাপদ।

সর্বশেষ
হেফাজতে ইসলামের তত্ত্বাবধানে নতুন রাজনৈতিক জোট গঠন করল সাত ইসলামি দল রাজধানীর রমনায় ককটেল বিস্ফোরণ: গ্রেফতার দুই আসামির তথ্যে আরও বিস্ফোরক উদ্ধার ভ্রমণকালে হঠাৎ ভূমিকম্পের মুখোমুখি হলে যা করা জরুরি ইউক্রেনে ভয়াবহ রুশ হামলা: একদিনে নিহত ২০, দিনিপ্রোতে প্রাণহানি ১৪ জনের প্রধানমন্ত্রীর জাপানফেরত বিমানে ত্রুটি, ইঞ্জিন সচল ছিল: অতিরিক্ত প্রেস সচিব প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী ফ্লাইটে যান্ত্রিক ত্রুটি অনুসন্ধানে তদন্ত কমিটি গঠন ইসরায়েলি নির্বাচনে জয়ী নেতানিয়াহুকে আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্টের অভিনন্দন নেপালের ক্রিকেট উন্মাদনায় মুগ্ধ সাকিব আল হাসান লাঞ্চের ঠিক আগ মুহূর্তে নাঈমের ব্রেক-থ্রু, সুবিধাজনক অবস্থানে বাংলাদেশ পাঁচ হলুদ কার্ডেও কেন নিষেধাজ্ঞা নেই মেসির, কী এই বিশেষ নিয়ম
Advertisement