প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী ফ্লাইটে যান্ত্রিক ত্রুটি অনুসন্ধানে তদন্ত কমিটি গঠন

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬ । ১:১৪ অপরাহ্ণ

জাপান থেকে দেশে ফেরার পথে প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সফরসঙ্গীদের বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিয়েছে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর বিমান উড্ডয়ন ও পরিচালনায় কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশে গঠিত এই কমিটি ইতোমধ্যে তাদের কার্যক্রম শুরু করেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

ঘটনার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ঘটনাটি ঘটেছে মূলত জাপান সফর শেষে ফেরার পথে। তিনি জানান, ফ্লাইটের ইঞ্জিনে কোনো সমস্যা ছিল না, তবে বিমানের ডানার অংশে একটি কারিগরি ত্রুটি ধরা পড়েছিল। এই ত্রুটি দ্রুত চিহ্নিত করে তা মেরামত করা সম্ভব হয়। তিনি এটিকে খুব বড় কোনো বিষয় নয় বলে উল্লেখ করলেও, সরকারি কোনো গুরুত্বপূর্ণ ফ্লাইটে এমন কারিগরি সীমাবদ্ধতা জনমনে উদ্বেগের জন্ম দেয়। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সফরসঙ্গীদের নিরাপত্তাজনিত বিষয় হওয়ায় সরকার পুরো ঘটনাটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে।

নিরাপত্তার স্বার্থে কোনো রকম ঝুঁকি নিতে নারাজ প্রশাসন। ফ্লাইটের যান্ত্রিক এই ত্রুটিটি আকস্মিক কি না, নাকি রক্ষণাবেক্ষণজনিত কোনো অবহেলা ছিল, তা বিস্তারিত পর্যালোচনার জন্য তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জাপানে চার দিনের সরকারি সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী, তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান এবং সফরসঙ্গীদের বহনকারী বিমানটি বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে ফিরছিল। আকাশপথে থাকার সময় এই ত্রুটি ধরা পড়লে তা দ্রুত সংশোধনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়। তবে এই ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী বা অন্য কেউ কোনো ধরনের বিপদের সম্মুখীন হননি বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

উল্লেখ্য যে, রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের বহনকারী বিমানের ক্ষেত্রে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও উড্ডয়নের আগে কঠোর নিরাপত্তা যাচাই-বাছাই করা হয়। তবুও দীর্ঘ যাত্রাপথে বা উড্ডয়ন অবস্থায় এমন যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়াটি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে বিমানের কারিগরি লগবুক, রক্ষণাবেক্ষণের তথ্য এবং ফ্লাইটের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী ও পাইলটদের বক্তব্য যাচাই করা হবে। যদি কোনো গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পক্ষ থেকেও বিষয়টি নিয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করার কথা জানানো হয়েছে। তদন্ত প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে নারাজ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তবে সাধারণ যাত্রীদের নিরাপত্তাসহ রাষ্ট্রীয় ফ্লাইটের সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকারের এই পদক্ষেপকে ইতিবাচক হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই তদন্তের মাধ্যমে বিমানের কারিগরি ত্রুটি বা রক্ষণাবেক্ষণ সংক্রান্ত কোনো দুর্বলতা থাকলে তা চিহ্নিত করা সহজ হবে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা সম্ভব হবে।

  • সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মোঃ রাসেল মিয়া

প্রিন্ট করুন