সিটি করপোরেশনের আওতায় ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচলে নতুন নিয়ম ও ফি নির্ধারণ
দেশের সিটি করপোরেশন এলাকাগুলোতে ব্যাটারিচালিত রিকশার অনিয়ন্ত্রিত চলাচল ও সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে নতুন বিধিমালা জারি করেছে সরকার। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন স্থানীয় সরকার বিভাগ বৃহস্পতিবার এই গুরুত্বপূর্ণ প্রজ্ঞাপনটি প্রকাশ করে। দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন শহরে যান্ত্রিক ও ব্যাটারিচালিত রিকশার যে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল, তা নিরসনে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট দপ্তর জানিয়েছে।
নতুন এই বিধিমালার আওতায় এখন থেকে ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচলের জন্য নির্দিষ্ট ফি প্রদান করতে হবে। এতদিন এসব যানের চলাচল নিয়ে সুস্পষ্ট কোনো নীতিমালা বা আইনি কাঠামোর অভাব ছিল, যার ফলে সড়ক দুর্ঘটনা এবং যানজটের মতো সমস্যাগুলো প্রকট হয়ে উঠেছিল। সরকারের এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার মাধ্যমে এখন থেকে সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ রিকশা চলাচলের ওপর নজরদারি বাড়াতে পারবে। একই সঙ্গে, অবৈধ বা অনিবন্ধিত যানবাহন শনাক্ত করাও সহজ হবে বলে মনে করছেন পরিবহন বিশেষজ্ঞরা।
প্রজ্ঞাপনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই নীতিমালা দেশের সব সিটি করপোরেশন এলাকায় কার্যকর হবে। এর ফলে রিকশা মালিক ও চালকদের এখন থেকে আইন মেনে নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। যারা এই প্রক্রিয়ার আওতায় আসবে, তারা আইনি বৈধতা পাওয়ার পাশাপাশি নির্দিষ্ট নিয়মের অধীনে তাদের পেশা পরিচালনা করতে পারবে। তবে যারা এই নিয়মের তোয়াক্কা করবে না বা নিবন্ধন করবে না, তাদের ক্ষেত্রে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ থাকবে।
সড়ক পরিবহন ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, ব্যাটারিচালিত রিকশা গ্রাম বা মফস্বল এলাকায় যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম হলেও সিটি করপোরেশন এলাকায় এর প্রভাব অনেক সময় নেতিবাচক হয়। অনেক সময় যথাযথ প্রশিক্ষণহীন চালক এবং ত্রুটিপূর্ণ যান্ত্রিক ব্যবস্থার কারণে সড়কে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ে। নতুন এই বিধিমালা কেবল ফি আদায়ের জন্য নয়, বরং এই যানবাহনের প্রযুক্তিগত মান এবং চালকদের সক্ষমতা যাচাইয়ের একটি সুযোগ তৈরি করবে।
তবে স্থানীয় সরকার বিভাগের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত নিবন্ধনের সুনির্দিষ্ট ফি বা আবেদনের পদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, অতি দ্রুত এই বিষয়ে নির্দেশনা আসবে এবং সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ তাদের নিজস্ব সক্ষমতা অনুযায়ী নিবন্ধনের প্রক্রিয়া শুরু করবে। এর মাধ্যমে নগরের সড়কে বিশৃঙ্খলা কমবে এবং যাতায়াত ব্যবস্থা আরও সুসংহত হবে বলে সরকারের পক্ষ থেকে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
এই নতুন প্রজ্ঞাপনের ফলে সাধারণ যাত্রী এবং রিকশা চালকদের মধ্যেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। একদিকে যেমন সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনার প্রয়োজনীয়তা ছিল, অন্যদিকে চালকদের দাবি, ফি যেন তাদের সাধ্যের মধ্যে থাকে। স্থানীয় সরকার বিভাগ জানিয়েছে, জনস্বার্থ এবং সড়ক নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখেই এই নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। শিগগিরই সব সিটি করপোরেশন এলাকায় এই নতুন নির্দেশনা কার্যকর করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণের কাজ শুরু হবে।




আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]