খুঁজুন
, ,

আমাদের নীরব কান্না দেখার মতো কেউ নেই

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:১৪ অপরাহ্ণ
আমাদের নীরব কান্না দেখার মতো কেউ নেই

সকাল সাড়ে সাতটায় ঢাকা শহরের এক ব্যস্ত গলি থেকে বেরিয়ে, নাজিয়া রকমান নামের এক গৃহিণী তার ছোট শিশুকে স্কুলে রেখে মেরাদিয়া বাজারের দিকে রওনা হলেন। তার মুখে তেমন কোনো উদ্বেগের ছাপ না থাকলেও, তার গন্তব্যের পেছনে একটি গোপন দুঃখ লুকিয়ে আছে—দৈনন্দিন জীবনের মৌলিক চাহিদা পূরণে ক্রমবর্ধমান আর্থিক চাপ।

মেরাদিয়া বাজারের মাছের স্টলগুলোতে পৌঁছে নাজিয়া প্রথমে আশেপাশে ঘুরে দেখলেন, তাজা মাছের ঝলক ও বিক্রেতাদের চিৎকারে ভরা পরিবেশে তিনি নিজের প্রয়োজনের মাছের দামের দিকে নজর দিলেন। তিনি জানালেন, “ছোট মাছ কেনার চেষ্টা করছি, কিন্তু দামে মিলছে না।” তার কথায় স্পষ্টতই দামের পার্থক্য ও তার সীমিত বাজেটের মধ্যে টানাপোড়েনের চিত্র ফুটে উঠেছে।

বিক্রেতা জানালেন, টেংরা মাছের দাম এক কেজিতে ৭৫০ টাকা, আর ৭২০ টাকায় বিক্রি করলে তিনি তা গ্রহণ করতে ইচ্ছুক। একই সঙ্গে, মলা মাছের দাম প্রায় ৫০০ টাকা প্রতি কেজি। নাজিয়ার মতোই সাধারণ গৃহিণীদের জন্য এই দামগুলো অতিরিক্ত ভারী, কারণ তাদের দৈনন্দিন আয়ের সীমা প্রায়ই এই মূল্যের চেয়ে অনেক কম।

মাছের দাম বৃদ্ধির পেছনে বিভিন্ন কারণ কাজ করে চলেছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে মাছের প্রজনন মৌসুমে ব্যাঘাত, পরিবহন খরচের বৃদ্ধি এবং বাজারে সরবরাহের ঘাটতি মূল্যের উত্থানকে ত্বরান্বিত করেছে। তবে এই অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ নাজিয়ার মতো গ্রাহকদের জন্য তেমন কিছু না; তাদের জন্য প্রতিটি টাকার হিসাবই জীবনের গতি নির্ধারণ করে।

নাজিয়া রকমানের মুখে যখন দাম নিয়ে আলোচনা হচ্ছিল, তিনি স্বীকার করলেন যে তিনি তার পরিবারের জন্য সাশ্রয়ী মূল্যের মাছ কেনার জন্য বিকল্প খুঁজতে বাধ্য হচ্ছেন। “যদি দাম কম না হয়, তবে অন্য কোথাও থেকে মাছ কিনতে হবে, কিন্তু সেখানেও দাম তেমনই বেশি,” তিনি বললেন। তার এই কথায় দেখা যায়, বাজারের একক দামের পরিবর্তে পুরো শহরের ভোক্তাদের জন্য একটি সমগ্র সমস্যার সূচনা হয়েছে।

মাছের দাম বৃদ্ধির ফলে গৃহিণীরা প্রায়ই খাবারের গুণগত মান কমিয়ে নিতে বাধ্য হন। নাজিয়া জানালেন, “বাচ্চার জন্য প্রোটিনের উৎস হিসেবে মাছ অপরিহার্য, তবে এখন তা কেনা কঠিন হয়ে পড়েছে।” তার এই উদ্বেগের পেছনে একটি বৃহত্তর সামাজিক সমস্যা রয়েছে—দরিদ্র পরিবারগুলোতে পুষ্টিকর খাবারের অভাব এবং তা থেকে সৃষ্ট স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি।

বাজারে বিক্রেতাদের দৃষ্টিকোণ থেকেও পরিস্থিতি জটিল। তারা বলছেন, মাছের সরবরাহকারী থেকে ক্রয়মূল্য বাড়ার ফলে বিক্রয়মূল্য বাড়াতে বাধ্য হচ্ছেন। “যদি আমরা দাম কম রাখি, তবে ক্ষতি হবে, আর ব্যবসা চালিয়ে যাওয়া কঠিন হবে,” এক বিক্রেতা ব্যাখ্যা করলেন। এই দ্বিমুখী দৃষ্টিকোণই বাজারের সামগ্রিক ভারসাম্যকে নাজুক করে তুলেছে।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করছেন, সরকারী হস্তক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা বাড়ছে। তারা প্রস্তাব দিচ্ছেন, মাছের সরবরাহ চেইনে ট্যাক্স হ্রাস, পরিবহন খরচে সহায়তা এবং স্থানীয় মাছ চাষকে উৎসাহিত করার মাধ্যমে দামের ভার কমানো সম্ভব। তবে নাজিয়ার মতো গ্রাহকদের জন্য তাৎক্ষণিক সমাধান এখনো দূরে।

নাজিয়া রকমানের মুখে যে নিঃশব্দ কান্না লুকিয়ে আছে, তা কেবল তার নিজের নয়, বরং দেশের বহু গৃহিণীর কষ্টের প্রতিফলন। তিনি বলেন, “আমাদের নীরব কান্না দেখার মতো কেউ নেই।” এই বাক্যটি তার গভীর হতাশা ও একাকিত্বকে প্রকাশ করে, যা সমাজের বৃহত্তর দৃষ্টিতে উপেক্ষা করা কঠিন।

মেরাদিয়া বাজারের এই দৃশ্য আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, বাজারের দাম বাড়লে তা কেবল সংখ্যার পরিবর্তন নয়, মানুষের জীবনের গুণগত মানের পরিবর্তনও বয়ে আনে। নাজিয়ার মতো গৃহিণীরা প্রতিদিনের ছোট ছোট সিদ্ধান্তে বড় বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হন, এবং তাদের কষ্টের স্বর প্রায়শই শূন্যে হারিয়ে যায়।

এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সমাজের সকল স্তরে সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। সরকার, বাজারের অংশীদার এবং নাগরিকদের একসাথে কাজ করে ন্যায্য মূল্য নির্ধারণ, সরবরাহ শৃঙ্খল উন্নয়ন এবং দরিদ্র পরিবারের জন্য বিশেষ সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। তবেই নাজিয়া রকমানের মতো গৃহিণীরা তাদের পরিবারের জন্য নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করতে পারবেন, আর তাদের নীরব কান্না আর শোনা যাবে না।

চট্টগ্রামের বাকলিয়ায় চোরাই ল্যাপটপ ও মোবাইলসহ গ্রেফতার এক

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:১৪ অপরাহ্ণ
   
চট্টগ্রামের বাকলিয়ায় চোরাই ল্যাপটপ ও মোবাইলসহ গ্রেফতার এক

চট্টগ্রাম নগরীর বাকলিয়া থানা এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে মো. শরীফ নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তার কাছ থেকে চোরাই ল্যাপটপ ও মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। ধৃত ব্যক্তি আগে থেকেই একাধিক মামলার আসামি হিসেবে পুলিশের তালিকায় ছিলেন বলে জানা গেছে।

চট্টগ্রাম মহানগরীর আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের চলমান বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে বাকলিয়া থানা এলাকা থেকে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, ধৃত ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে অতীতেও বিভিন্ন অপরাধে মামলা রয়েছে। অভিযানের সময় তার কাছ থেকে ল্যাপটপ ও মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে, যা চোরাই মালামাল বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।

গ্রেফতারকৃত যুবকের নাম মো. শরীফ। তার বয়স ২৬ বছর বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাকলিয়া থানা পুলিশের একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওই এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানে শরীফকে আটক করার পর তাকে তল্লাশি করে একটি ল্যাপটপ এবং একটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। উদ্ধারকৃত এই ইলেকট্রনিক ডিভাইসগুলো বিভিন্ন জায়গা থেকে চুরি করা হয়েছিল বলে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে প্রাথমিক তথ্যে উঠে এসেছে।

তদন্তকারী কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, মো. শরীফ কেবল এই ঘটনার সঙ্গেই জড়িত নন, বরং তার বিরুদ্ধে আগে থেকেই থানায় পাঁচটি মামলা দায়ের করা রয়েছে। অর্থাৎ, সে একজন পেশাদার অপরাধী হিসেবে পুলিশি নজরদারিতে ছিল। অতীতে দায়ের হওয়া মামলাগুলোর কারণে সে পুলিশের কাছে পরিচিত মুখ। বিভিন্ন সময় চুরি ও ছিনতাইয়ের মতো ঘটনার সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে ধারণা করছেন দায়িত্বরত কর্মকর্তারা।

বাকলিয়া থানার দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তা জানান, নগরীতে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং অপরাধীদের ধরতে পুলিশের বিশেষ অভিযান নিয়মিত চলছে। তারই ধারাবাহিকতায় এই আসামিকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে। তার বিরুদ্ধে দায়ের করা পূর্বের মামলাগুলোর পাশাপাশি নতুন করে উদ্ধারকৃত চোরাই মালামাল সংক্রান্ত আরেকটি মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে নেওয়ার বিষয়টিও খতিয়ে দেখছে, যাতে চোরাই সিন্ডিকেটের অন্য সদস্যদের সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়া যায়।

স্থানীয় বাসিন্দারা এলাকায় চুরির ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছেন। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মো. শরীফের গ্রেফতারের ফলে ওই এলাকায় চুরির প্রবণতা কিছুটা কমবে বলে তারা আশা করছেন। এছাড়া উদ্ধারকৃত ল্যাপটপ ও মোবাইল ফোনটির মালিক কে বা কারা, তা শনাক্ত করার প্রক্রিয়াও চলছে। প্রকৃত মালিকদের খুঁজে বের করে আইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

পুলিশের এই অভিযানে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী। তাদের মতে, নিয়মিত এমন অভিযান পরিচালিত হলে অপরাধীরা সক্রিয় হওয়ার সাহস পাবে না। গ্রেফতারকৃত শরীফকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং আইন অনুযায়ী তার সর্বোচ্চ শাস্তির জন্য সব ধরনের আইনি নথি প্রস্তুত করা হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে তার কাছ থেকে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উদ্ধারের চেষ্টা চলছে বলে পুলিশের তরফ থেকে জানানো হয়েছে।

বর্তমানে চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে বিশেষ চেকপোস্ট ও নিয়মিত টহল জোরদার করেছে পুলিশ। চুরি, ছিনতাই এবং মাদক কারবারের মতো অপরাধ দমনে জিরো টলারেন্স নীতি নিয়ে কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। শরীফের গ্রেফতারের বিষয়টি নগরীর অপরাধ দমনে পুলিশের একটি সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। মামলার পরবর্তী কার্যক্রম ও আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

জাপানের বুলেট ট্রেনের আধুনিকতায় যে অভাব খুঁজে পেলেন ভারতীয় পর্যটক

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:১৪ অপরাহ্ণ
   
জাপানের বুলেট ট্রেনের আধুনিকতায় যে অভাব খুঁজে পেলেন ভারতীয় পর্যটক

জাপানের বুলেট ট্রেন মানেই বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তির উৎকর্ষ আর আরামদায়ক ভ্রমণের এক অনন্য নাম। দেশটির রেল ব্যবস্থা সময়ের নিখুঁত হিসাব, চরম পরিচ্ছন্নতা এবং অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের জন্য পর্যটকদের কাছে সব সময় আগ্রহের কেন্দ্রে থাকে। ট্রেনের ভেতরে স্বয়ংক্রিয় দরজা, আরামদায়ক আসন বিন্যাস এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন শৌচাগারের মতো নানা সুযোগ-সুবিধা যাত্রীদের ভ্রমণের অভিজ্ঞতাকে করে তোলে আনন্দদায়ক। তবে এত আধুনিকতার ভিড়েও একজন ভারতীয় পর্যটকের মনে হয়েছে, সেখানে যেন বড় কোনো এক জিনিসের অভাব রয়েছে। আর সেই অভাবটিই এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

সম্প্রতি হর্ষিতা গুপ্ত নামের একজন ভারতীয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর জাপানের বুলেট ট্রেনে ভ্রমণের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন। তার সেই ভিডিও এবং অভিজ্ঞতা শেয়ার করার পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে নেটিজেনদের মধ্যে নতুন করে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। হর্ষিতার মতে, জাপানি ট্রেনের প্রযুক্তিগত দিক বা ব্যবস্থাপনা নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই, বরং তিনি যে অভাবটি অনুভব করেছেন তা আমাদের দেশীয় রেল ভ্রমণের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে থাকা এক আবেগের জায়গা। তিনি জানিয়েছেন, জাপানি ট্রেনে চড়ার সময় তার বারবার ভারতীয় ট্রেনের সেই চিরচেনা হাঁকডাকের কথা মনে পড়ছিল, যা যাত্রাপথে ভিন্ন এক আবহ তৈরি করে।

ভারতীয় উপমহাদেশে বিশেষ করে ট্রেনে দীর্ঘ ভ্রমণের সময় চা কিংবা কফির বিক্রেতাদের সেই পরিচিত ডাক প্রতিটি যাত্রীরই স্মৃতির অংশ। ট্রেনের কামরায় ফেরিওয়ালাদের হাঁকডাক এবং গরম চায়ের কাপের সেই আড্ডা না থাকলে যেন সফর অসম্পূর্ণ থেকে যায়। হর্ষিতা লক্ষ্য করেছেন, জাপানের অত্যন্ত সুশৃঙ্খল এবং শান্ত পরিবেশে এই ধরনের প্রাণের স্পন্দন বা কোলাহল একেবারেই অনুপস্থিত। সেখানে সব কিছু চলে নির্দিষ্ট নিয়মে, যেখানে হকারের হাঁকডাক বা অনানুষ্ঠানিক কোনো পরিবেশের সুযোগ নেই। জাপানের ট্রেনগুলো যেমন দ্রুতগামী এবং আরামদায়ক, ঠিক তেমনি তা অনেকটাই নিস্তব্ধ এবং নিয়ন্ত্রিত। এই অতিরিক্ত শৃঙ্খলাই যেন হর্ষিতার কাছে মনে হয়েছে এক ধরণের অভাব।

সামাজিক মাধ্যমে তিনি তার এই অনুভূতি প্রকাশের পর অনেকেই তার সঙ্গে সহমত পোষণ করেছেন। তবে এই আলোচনা জাপানের রেল ব্যবস্থা বনাম আমাদের দেশীয় রেলের সংস্কৃতির একটি তুলনামূলক চিত্র সামনে এনেছে। একদিকে জাপানের প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিকতা, অন্যদিকে ভারতের ট্রেনের সাথে জড়িয়ে থাকা আবেগ ও সামাজিক মেলবন্ধন—এই দুইয়ের মধ্যকার পার্থক্যটিই এই ভিডিওর মাধ্যমে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। জাপানের ট্রেনে আধুনিক সব সুবিধা থাকলেও সেখানে মানুষের সাথে মানুষের সম্পর্কের সেই অনানুষ্ঠানিক যে উষ্ণতা, তা খুঁজে পাওয়া কঠিন।

তবে পর্যটন বিশেষজ্ঞ এবং নিয়মিত জাপান ভ্রমণকারীদের মতে, জাপানের ট্রেন ব্যবস্থায় এই ‘অভাব’ মূলত তাদের সংস্কৃতিরই অংশ। জাপানিরা গণপরিবহনে অন্যের বিরক্তির কারণ হতে পছন্দ করেন না, তাই ট্রেনের ভেতরে কোলাহল বা হাঁকডাক নিষিদ্ধ বা অসামাজিক হিসেবে বিবেচিত হয়। তাদের কাছে ট্রেনের সফর মানেই বিশ্রাম কিংবা নিজের মতো সময় কাটানো। তাই হর্ষিতা যে অভাবটির কথা উল্লেখ করেছেন, তা আসলে জাপানের রেল সংস্কৃতিরই একটি প্রতিফলন। এই প্রতিবেদনটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, উন্নয়ন ও আধুনিকতার সংজ্ঞা দেশভেদে ভিন্ন হতে পারে এবং প্রযুক্তির উৎকর্ষ যেখানে এক ধরণের স্বাচ্ছন্দ্য আনে, সেখানে হয়তো আমাদের ফেলে আসা ছোট ছোট আনন্দের স্মৃতিগুলো কোথাও না কোথাও হারানো সুর হয়ে বেজে ওঠে।

গুগল অ্যাকাউন্টে গোপনে ফোন নম্বর যুক্ত হওয়ার সমস্যা, যেভাবে প্রতিকার পাবেন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:১৪ অপরাহ্ণ
   
গুগল অ্যাকাউন্টে গোপনে ফোন নম্বর যুক্ত হওয়ার সমস্যা, যেভাবে প্রতিকার পাবেন

অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম চালিত স্মার্টফোনে ব্যবহারকারীর সম্মতি ছাড়াই গুগল অ্যাকাউন্টের সঙ্গে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফোন নম্বর যুক্ত হয়ে যাওয়ার একটি উদ্বেগজনক বিষয় সামনে এসেছে। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরেরও বেশি সময় ধরে ব্যবহারকারীদের ডিভাইসে থাকা গুগল অ্যাকাউন্টগুলোতে গোপনে এই নম্বর যোগ করা হচ্ছে। সাধারণত ডিভাইসে যখন কোনো সিম কার্ড প্রবেশ করানো হয়, গুগল স্বয়ংক্রিয়ভাবে সেই নম্বর যাচাই করে এবং সেটি অ্যাকাউন্টের সঙ্গে সংযুক্ত করে ফেলে। বিষয়টি নিয়ে ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা ও নিরাপত্তার ঝুঁকি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

গুগল অ্যাকাউন্টের এই স্বয়ংক্রিয় প্রক্রিয়ার কারণে কেবল ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টই নয়, বরং ডিভাইসে লগইন করা সব ধরনের অ্যাকাউন্টে ফোন নম্বর যুক্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে কর্মক্ষেত্রে ব্যবহৃত বা প্রাতিষ্ঠানিক অ্যাকাউন্ট এবং সেকেন্ডারি গুগল অ্যাকাউন্টগুলোও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সবচেয়ে বড় উদ্বেগের জায়গা হলো, এই প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হওয়ার সময় ব্যবহারকারীকে কোনো ধরনের স্পষ্ট বা সুস্পষ্ট অনুমতি দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয় না। ব্যবহারকারীর অগোচরেই গুগল তার সার্ভারে এই তথ্য সংরক্ষণ করে ফেলছে, যা অনেকের জন্যই অপ্রত্যাশিত এবং বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।

প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, গুগল মূলত নিরাপত্তার খাতিরে টু-স্টেপ ভেরিফিকেশন বা অ্যাকাউন্ট রিকভারির সুবিধার্থে এই ফোন নম্বর যুক্ত করার পদ্ধতি ব্যবহার করে থাকে। তবে কোনো ধরনের পূর্ব ঘোষণা বা অনুমতি ব্যতিরেকে সব অ্যাকাউন্টে এই নম্বর যুক্ত করে ফেলা ডিজিটাল গোপনীয়তার নীতিমালার পরিপন্থী হতে পারে বলে মনে করছেন সাইবার নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে যেসব ব্যবহারকারী বিভিন্ন কারণে তাদের ব্যক্তিগত নম্বর গুগল অ্যাকাউন্টের সঙ্গে যুক্ত রাখতে চান না, তাদের জন্য এটি একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এই অনাকাঙ্ক্ষিত প্রক্রিয়া থেকে মুক্তি পেতে এবং আপনার গুগল অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে রাখতে কিছু সহজ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারেন। প্রথমেই ফোনের সেটিংস মেনুতে প্রবেশ করে গুগল অপশনে যেতে হবে। সেখানে ‘Manage your Google Account’ বা আপনার গুগল অ্যাকাউন্ট পরিচালনা করার অপশনে ক্লিক করতে হবে। এর ভেতর থেকে ‘Personal Info’ বা ব্যক্তিগত তথ্য ট্যাবে প্রবেশ করুন। সেখানে ‘Contact Info’ বা যোগাযোগের তথ্য অংশে ফোন নম্বরটি খুঁজে পাবেন। যদি দেখেন কোনো নম্বর আপনার অনুমতি ছাড়াই যুক্ত হয়ে আছে, তবে সেটি ডিলিট বা রিমুভ করার অপশন ব্যবহার করে সরিয়ে ফেলতে পারেন।

এছাড়াও, গুগল অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তা সেটিংস বা ‘Security’ ট্যাব থেকে টু-স্টেপ ভেরিফিকেশন সেটিংস যাচাই করুন। অনেক সময় গুগল জোরপূর্বক ফোন নম্বর ব্যবহারের জন্য চাপ প্রয়োগ করে থাকে, সেক্ষেত্রে বিকল্প কোনো নিরাপত্তা ব্যবস্থা যেমন অথেন্টিকেটর অ্যাপ বা ব্যাকআপ কোড ব্যবহার করা যেতে পারে। নিয়মিতভাবে আপনার গুগল অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তা যাচাই করা এবং কোন কোন তথ্য গুগল সংরক্ষণ করছে তা ‘My Activity’ থেকে পরীক্ষা করা প্রতিটি স্মার্টফোন ব্যবহারকারীর জন্য জরুরি।

গুগলের এই স্বয়ংক্রিয় নম্বর যুক্ত করার প্রবণতা থেকে বাঁচতে আরও একটি কার্যকর উপায় হতে পারে ফোনের গুগল সেটিংস থেকে ‘Autofill’ এবং ‘Device Phone Number’ সম্পর্কিত পারমিশনগুলো নিয়ন্ত্রণ করা। যদিও গুগল বারবার দাবি করে যে তারা ব্যবহারকারীর সুবিধার জন্যই এই তথ্যগুলো সংগ্রহ করে, তবে ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত পছন্দের স্বাধীনতাকে সম্মান জানানো প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর নৈতিক দায়িত্ব। এখন পর্যন্ত গুগল এই বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক সংশোধন বা অপশন পরিবর্তনের ঘোষণা না দিলেও, ব্যবহারকারীরা সচেতন থাকলে নিজের গোপনীয়তা রক্ষা করা সম্ভব।

ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আপনার ডেটা কতটা নিরাপদ থাকবে, তার দায়ভার শেষ পর্যন্ত ব্যবহারকারীর ওপরই বর্তায়। তাই স্মার্টফোনে যেকোনো নতুন আপডেট বা সেটিংস পরিবর্তনের সময় সতর্ক থাকা এবং নিয়মিত বিরতিতে অ্যাকাউন্টের গোপনীয়তা সেটিংস পরীক্ষা করা বর্তমান সময়ে অত্যন্ত প্রয়োজনীয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সর্বশেষ
চট্টগ্রামের বাকলিয়ায় চোরাই ল্যাপটপ ও মোবাইলসহ গ্রেফতার এক জাপানের বুলেট ট্রেনের আধুনিকতায় যে অভাব খুঁজে পেলেন ভারতীয় পর্যটক গুগল অ্যাকাউন্টে গোপনে ফোন নম্বর যুক্ত হওয়ার সমস্যা, যেভাবে প্রতিকার পাবেন ফেসবুক লাইভে রাজনৈতিক সমালোচনার জের: ভালুকায় আটক নারী উদ্যোক্তা নোবেল না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ ট্রাম্পের নিশানায় নরওয়ে আমাদের নীরব কান্না দেখার মতো কেউ নেই ব্যালন ডি’অর জয়ের আর্থিক পুরস্কার ও ট্রফির রহস্য জলবায়ু পরিবর্তনের রূঢ় বাস্তবতায় উপকূলের প্রবীণরা: নিঃসঙ্গতায় কাটছে শেষবেলা গুলশানে কিংফিশার রেস্টুরেন্টে বিশেষ অভিযান, জব্দ বিপুল পরিমাণ অবৈধ মদ সৌদির তেল স্থাপনা ও বিমানবন্দরে হামলার দাবি হুথিদের
Advertisement