গাজীপুরে অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ একই পরিবারের চারজন
গাজীপুরে নিজ বসতবাড়িতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় স্বামী-স্ত্রীসহ দুই শিশু সন্তান দগ্ধ হয়েছেন। তাদের উদ্ধার করে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে।
গাজীপুরে একটি ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় একই পরিবারের চারজন সদস্য গুরুতর দগ্ধ হয়েছেন। আক্রান্তদের মধ্যে স্বামী-স্ত্রী এবং তাদের দুই শিশুপুত্র রয়েছে। আগুনের খবর পেয়ে দ্রুত স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে এবং পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে তারা রাজধানীর শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও ঘটনার বিস্তারিত প্রেক্ষাপট জানতে স্থানীয় প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিস কাজ করছে।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন ভোরে আচমকা বাড়ির ভেতরে আগুনের সূত্রপাত হয়। আগুনের লেলিহান শিখা দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে বাড়ির ভেতরে থাকা পরিবারের সদস্যরা আটকা পড়েন। তাদের চিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে এসে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন এবং উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন। অগ্নিকাণ্ডের তীব্রতা এতোটাই বেশি ছিল যে, বাড়ির ভেতরে থাকা চারজন সদস্যই শরীরের বিভিন্ন অংশ পুড়ে গুরুতর জখম হন। প্রাথমিকভাবে তাদের স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হলেও শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে দ্রুত ঢাকায় পাঠানোর পরামর্শ দেন কর্তব্যরত চিকিৎসকরা।
হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, দগ্ধদের শরীরের বেশ খানিকটা অংশ পুড়ে গেছে এবং তারা বর্তমানে শঙ্কামুক্ত কি না তা নিশ্চিত করতে চিকিৎসকরা সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছেন। অগ্নিকাণ্ডের উৎস বা কীভাবে আগুন লাগল, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। গ্যাসের চুলা থেকে নাকি বৈদ্যুতিক গোলযোগ থেকে এই বিপত্তি ঘটল, তা খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা তদন্ত চালাচ্ছেন। ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে এবং স্বজনরা হাসপাতালে ভিড় করছেন।
ঘটনার পর থেকেই স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং প্রশাসন অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিয়েছে। সাধারণত বসতবাড়িতে এমন অগ্নিদুর্ঘটনার পেছনে অসতর্কতা বড় কারণ হিসেবে কাজ করে। বিশেষ করে গ্যাস সিলিন্ডার বা বৈদ্যুতিক সংযোগের ত্রুটি থেকে এমন দুর্ঘটনা প্রায়ই ঘটে থাকে। পুলিশ এই ঘটনার নেপথ্যে অন্য কোনো রহস্য আছে কি না, তাও তদন্ত করে দেখছে। তবে পরিবারের সদস্যরা এখন তাদের জীবনের নিরাপত্তা ও সুস্থতা নিয়ে লড়াই করছেন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। অগ্নিকাণ্ড রোধে বসতবাড়িতে সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়েছেন দমকল বাহিনীর কর্মকর্তারা।
বর্তমানে পুরো পরিবারটি বার্ন ইউনিটের জরুরি বিভাগে চিকিৎসকদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে রয়েছে। তাদের দ্রুত আরোগ্য কামনায় পরিবার-পরিজন ও স্থানীয়রা প্রার্থনা করছেন। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষে প্রকৃত কারণ জানা সম্ভব হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে। অগ্নিকাণ্ড পরবর্তী সময়ে ঘরবাড়ির ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি, তবে বিষয়টি নিয়ে আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের চিকিৎসার খরচ এবং সার্বিক সহায়তা প্রদানের বিষয়টি নিয়েও আলোচনা চলছে।




আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]