কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাব বার্কলেসে ৫ হাজার কর্মী ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনা
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বাড়ানোর সঙ্গে যুক্ত করে চলতি বছরে পাঁচ হাজার কর্মী ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনা করেছে ব্রিটিশ ব্যাংক বার্কলেস। ব্যাংকটির এই পরিকল্পনা আর্থিক খাতে প্রযুক্তির ব্যবহার ও কর্মসংস্থানের সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। তবে ছাঁটাইয়ের সম্ভাব্য কর্মীরা কোন বিভাগে কাজ করেন, তাঁদের অবস্থান কোথায় কিংবা প্রক্রিয়াটি কখন শুরু হবে—এসব বিষয়ে প্রকাশিত তথ্যে বিস্তারিত নেই।
প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, বার্কলেস কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের মাধ্যমে কর্মীসংখ্যা কমানোর পরিকল্পনা করছে। এখানে পাঁচ হাজার কর্মীর কথা বলা হলেও, এই সংখ্যা ব্যাংকের মোট কর্মীর কত অংশ, তা স্পষ্ট নয়। একইভাবে, এই পরিকল্পনা এক ধাপে বাস্তবায়িত হবে, নাকি বছরজুড়ে বিভিন্ন সময়ে তা কার্যকর হবে—এ সম্পর্কেও নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে পরিকল্পনার পরিসর সম্পর্কে এখনই এর চেয়ে বেশি নির্দিষ্ট সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে কীভাবে কাজের ধরন বদলাতে পারে, বার্কলেসের পরিকল্পনা সেই প্রশ্ন সামনে এনেছে। ব্যাংকিংয়ের বিভিন্ন কাজে প্রযুক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনা থাকলেও, এই নির্দিষ্ট পরিকল্পনায় কোন কাজ বা প্রক্রিয়ায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রয়োগ করা হবে, তা জানানো হয়নি। ফলে পাঁচ হাজার কর্মী কমানোর সঙ্গে ব্যাংকের কোন কার্যক্রমের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে, সে বিষয়টিও এখনো পরিষ্কার নয়।
কর্মী ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনার খবর আর বাস্তবে কর্মীসংখ্যা কমানোর প্রক্রিয়া এক বিষয় নয়। বার্কলেসের ক্ষেত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এটি চলতি বছরের জন্য করা পরিকল্পনা। কতজন কর্মী ইতিমধ্যে ছাঁটাইয়ের নোটিশ পেয়েছেন, কোনো কর্মীকে অন্য দায়িত্বে নেওয়ার সুযোগ থাকবে কি না, কিংবা স্বেচ্ছায় চাকরি ছাড়ার ব্যবস্থা করা হবে কি না—এ ধরনের তথ্য পাওয়া যায়নি। তাই পাঁচ হাজার সংখ্যাটিকে বাস্তবায়িত ছাঁটাইয়ের হিসাব হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
পরিকল্পনার সম্ভাব্য প্রভাব নির্ভর করবে কোন পদগুলো এতে অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে এবং প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে কর্মীদের দায়িত্ব কীভাবে বদলাচ্ছে তার ওপর। কিন্তু বার্কলেসের পরিকল্পনা সম্পর্কে প্রকাশিত সংক্ষিপ্ত তথ্যে এসব দিকের ব্যাখ্যা নেই। ব্যাংকটি কোন কর্মী বা বিভাগকে প্রভাবিত হতে পারে বলে জানিয়েছে, কিংবা কর্মীদের জন্য পুনঃপ্রশিক্ষণ বা বিকল্প কাজের ব্যবস্থা বিবেচনা করছে কি না, সেটিও জানা যায়নি। এ কারণে কর্মীদের ওপর সম্ভাব্য প্রভাবের মাত্রা নির্ধারণ করা কঠিন।
একইভাবে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের লক্ষ্য বা প্রত্যাশিত ফল সম্পর্কেও নির্দিষ্ট বিবরণ প্রকাশিত হয়নি। এই প্রযুক্তি ব্যবহারে কাজের গতি, সেবা দেওয়ার পদ্ধতি বা ব্যয় ব্যবস্থাপনায় কী পরিবর্তন আসবে—এ বিষয়ে কোনো পরিমাপ বা লক্ষ্য উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনাকে নির্দিষ্ট কোনো প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সঙ্গে সরাসরি মিলিয়ে ব্যাখ্যা করার জন্য পর্যাপ্ত তথ্য নেই। আপাতত নিশ্চিতভাবে বলা যায়, কর্মীসংখ্যা কমানোর পরিকল্পনার সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারকে যুক্ত করেছে বার্কলেস।
ব্যাংকটির পরিকল্পনা নিয়ে পরবর্তী আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হবে ছাঁটাইয়ের সময়সূচি, সংশ্লিষ্ট কাজের ধরন এবং প্রভাবিত কর্মীদের জন্য নেওয়া পদক্ষেপের মতো বিষয়। এসব তথ্য প্রকাশিত হলে পরিকল্পনাটি কীভাবে বাস্তবায়িত হতে পারে, তা আরও স্পষ্ট হবে। এখন পর্যন্ত জানা তথ্যের ভিত্তিতে বার্কলেসের সিদ্ধান্তকে চলতি বছরে পাঁচ হাজার কর্মী কমানোর পরিকল্পনা হিসেবেই বর্ণনা করা যায়; এর বাইরে বাস্তবায়নের অগ্রগতি বা নির্দিষ্ট কর্মীবিভাগ সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য নেই।
আর্থিক খাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার নিয়ে আলোচনা চললেও, প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে প্রযুক্তির প্রয়োগ ও কর্মসংস্থানের ওপর তার প্রভাব আলাদা হতে পারে। বার্কলেসের পরিকল্পনার পূর্ণ চিত্র বুঝতে তাই কেবল ছাঁটাইয়ের সংখ্যাই যথেষ্ট নয়; কোন কাজগুলো প্রযুক্তির আওতায় আসবে এবং কর্মীদের জন্য কী ব্যবস্থা থাকবে, সেটিও জানা প্রয়োজন। এসব বিষয়ে বিস্তারিত না আসা পর্যন্ত পরিকল্পনার সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না।




আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]