খুঁজুন
, ,

ফ্রান্সে প্রথমবারের মতো মানুষের শরীরে শামোন্ডা ভাইরাসের সংক্রমণ, চিন্তিত স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১৪ পূর্বাহ্ণ
ফ্রান্সে প্রথমবারের মতো মানুষের শরীরে শামোন্ডা ভাইরাসের সংক্রমণ, চিন্তিত স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা

ইউরোপের দেশ ফ্রান্সে প্রথমবারের মতো একজন মানুষের শরীরে শামোন্ডা ভাইরাসের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে, যা বিশ্বজুড়ে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও গবেষকদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। অক্টোবরের শুরুর দিকে গুরুতর অসুস্থ এক রোগীর মৃত্যু হয় এবং পরবর্তী পরীক্ষার মাধ্যমে তার শরীরে এই ভাইরাসের সংক্রমণের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। এর আগে সাধারণত গবাদি পশুর মধ্যে এই ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা গেলেও, মানুষের শরীরে এর সংক্রমণ পাওয়ার ঘটনাটি চিকিৎসা বিজ্ঞানের ইতিহাসে বেশ বিরল।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শামোন্ডা ভাইরাস মূলত অর্থোবুনিয়াভাইরাস পরিবারের অন্তর্ভুক্ত। ষাটের দশক থেকেই এই ভাইরাসের অস্তিত্ব সম্পর্কে বিজ্ঞানীরা অবগত ছিলেন, তবে তা মূলত গবাদি পশুর শরীরে সীমাবদ্ধ ছিল। দীর্ঘ সময় ধরে পশুদেহ থেকে মানুষের শরীরে এটি সংক্রমিত হওয়ার কোনো প্রমাণ মেলেনি। কিন্তু সাম্প্রতিক এই ঘটনাটি প্রথাগত সেই ধারণাকে বদলে দিয়েছে। সংক্রমণটি মানুষ থেকে মানুষে ছড়াতে পারে কি না কিংবা এর ঝুঁকির মাত্রা ঠিক কতটা, তা নিয়ে বিস্তারিত গবেষণার কাজ শুরু করেছেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা।

ফ্রান্সে এই ভাইরাসের শনাক্তকরণের পরপরই বিশ্বজুড়ে জনস্বাস্থ্য নিয়ে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। যদিও করোনা মহামারির মতো এটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার কোনো ইঙ্গিত এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি, তবে রোগটির উৎস এবং সংক্রমণের ধরন নিয়ে আগাম সতর্কবার্তা দিয়ে রেখেছেন বিশেষজ্ঞরা। সাধারণত পশুপাখির দেহ থেকে ভাইরাস মানুষে ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি জুনোটিক ডিজিজ হিসেবে পরিচিত। শামোন্ডা ভাইরাসের ক্ষেত্রেও তেমন কোনো পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

চিকিৎসক ও ভাইরোলজিস্টরা জানাচ্ছেন, যেকোনো নতুন ভাইরাসের সংক্রমণের খবর শুনলে আতঙ্কিত হওয়ার সুযোগ নেই। যেকোনো ভাইরাসের ক্ষেত্রে সংক্রমণের মাত্রা এবং তার প্রভাব বিশ্লেষণের জন্য সময় প্রয়োজন হয়। বর্তমান পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য বিভাগ ওই রোগীর সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের নিয়মিত পর্যবেক্ষণে রেখেছে। এছাড়া ফ্রান্সের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ এবং আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থাগুলো বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে যাতে এর বিস্তার রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া যায়।

শামোন্ডা ভাইরাসের এই সংক্রমণ কেবল একটি একক ঘটনা নাকি ইউরোপজুড়ে এটি ছড়িয়ে পড়ার কোনো ঝুঁকি রয়েছে, তা এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। বর্তমান স্বাস্থ্যবিধির সীমাবদ্ধতা এবং নতুন নতুন ভাইরাস সংক্রমণের চ্যালেঞ্জ মাথায় রেখে স্বাস্থ্য বিভাগগুলো এখন বাড়তি সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। জনগণের আতঙ্ক কমানোর জন্য সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানানো হচ্ছে। চিকিৎসকরা বলছেন, ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি বজায় রাখা এবং পশুপাখির সংস্পর্শে আসার ক্ষেত্রে যথাযথ সতর্কতা অবলম্বন করলে সংক্রমণের ঝুঁকি অনেকটা কমানো সম্ভব।

সামগ্রিকভাবে, শামোন্ডা ভাইরাস নিয়ে গবেষণার পথ কেবল উন্মোচিত হয়েছে। মানুষের শরীরে এর প্রভাব এবং প্রতিকারের উপায় খুঁজতে বিজ্ঞানীরা এখন নতুন করে তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করছেন। ফ্রান্সের এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি বিশ্ব স্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্য একটি নতুন বার্তা হিসেবে কাজ করছে, যেখানে ভবিষ্যতের সম্ভাব্য যেকোনো অতিমারি মোকাবিলায় প্রস্তুতির প্রয়োজনীয়তা আরও জোরালোভাবে সামনে এসেছে।

পাকিস্তানি স্ট্রাইকারের জোড়া গোলে আবাহনীকে হারিয়ে প্রথম জয় ব্রাদার্সের

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১৪ পূর্বাহ্ণ
   
পাকিস্তানি স্ট্রাইকারের জোড়া গোলে আবাহনীকে হারিয়ে প্রথম জয় ব্রাদার্সের

বাংলাদেশ ফুটবল লিগে এক স্মরণীয় জয়ের সাক্ষী হলো গোপালগঞ্জ জেলা স্টেডিয়াম। প্রতিযোগিতামূলক আসরে নিজেদের পঞ্চম ম্যাচে এসে প্রথম জয়ের স্বাদ পেল ব্রাদার্স ইউনিয়ন। প্রতিপক্ষ শক্তিশালী আবাহনী লিমিটেডকে ২-১ গোলের ব্যবধানে হারিয়ে ব্রাদার্স প্রমাণ করেছে যে, কোনো দলই মাঠে দুর্বল নয়। ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণ ও পাল্টা আক্রমণে খেলাটি বেশ জমজমাট ছিল। পাকিস্তানি ফরোয়ার্ড সৈয়দ আলি রাজার দুর্দান্ত নৈপুণ্যে আবাহনীর রক্ষণভাগ বারবার পর্যুদস্ত হয়েছে।

ম্যাচের শুরুর দিকে আবাহনী এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিল। খেলার দ্বিতীয় মিনিটেই সজীবের ক্রস থেকে বাবাতুঙ্গে হেড নিয়েছিলেন। তবে অল্পের জন্য বল পোস্ট ঘেঁষে বাইরে চলে যাওয়ায় গোলবঞ্চিত হতে হয় তাদের। এরপর থেকেই খেলা নিজের নিয়ন্ত্রণে নিতে মরিয়া হয়ে ওঠে ব্রাদার্স ইউনিয়ন। প্রথমার্ধে পাকিস্তানি ফরোয়ার্ড সৈয়দ আলি রাজা নিজের কারিশমা দেখাতে শুরু করেন। একের পর এক আক্রমণ সাজিয়ে তিনি আবাহনীর রক্ষণের চাপ বাড়িয়ে তোলেন। শেষ পর্যন্ত তার ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে গোলের দেখা পায় ব্রাদার্স।

ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধ ছিল আরও বেশি নাটকীয়। মাঠে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছিল যখন রেফারিকে বারবার কার্ড পকেটে হাত দিতে হয়েছে। তিন লাল কার্ডের এই ম্যাচে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে স্নায়ুযুদ্ধের আবহ তৈরি হয়েছিল। রেফারির কড়া নজরদারির মধ্যেও দুই দল জয়ের লক্ষ্য থেকে সরেনি। সৈয়দ আলি রাজা তার দ্বিতীয় গোলটি করে ব্যবধান বাড়িয়ে নিলে চাপে পড়ে যায় আবাহনী লিমিটেড। আবাহনী গোল শোধ করার জন্য মরিয়া হয়ে শেষ সময় পর্যন্ত চেষ্টা চালিয়ে গেছে, কিন্তু ব্রাদার্সের রক্ষণভাগ এবং গোলরক্ষকের দৃঢ়তায় তারা কাঙ্ক্ষিত ফলাফল পায়নি। শেষ পর্যন্ত ব্যবধান কমাতে পারলেও ম্যাচ থেকে পয়েন্ট তুলে নিতে ব্যর্থ হয় আবাহনী।

গোপালগঞ্জ জেলা স্টেডিয়ামে উপস্থিত দর্শকরা এদিন একটি ঘটনাবহুল ফুটবল ম্যাচ উপভোগ করলেন। তিন লাল কার্ডের ঘটনায় ম্যাচের উত্তেজনা শেষ বাঁশি বাজার আগ মুহূর্ত পর্যন্ত বজায় ছিল। আবাহনীর মতো বড় দলের বিপক্ষে এমন জয় ব্রাদার্স ইউনিয়নের আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে বলে মনে করছেন ক্রীড়া বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে সৈয়দ আলি রাজার গোল করার দক্ষতা দলের আক্রমণভাগকে আগামী ম্যাচগুলোতে আরও শক্তিশালী করবে। অন্যদিকে, এই পরাজয় আবাহনীকে তাদের পরবর্তী ম্যাচগুলোর প্রস্তুতির ক্ষেত্রে নতুন করে ভাবনার খোরাক দেবে।

বাংলাদেশ ফুটবল লিগের এই জয় ব্রাদার্স ইউনিয়নের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। লিগের শুরুর দিকে পয়েন্ট হারানো দলটির জন্য এই তিন পয়েন্ট টেবিলের অবস্থান পরিবর্তনের ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখবে। কোচিং স্টাফের পরিকল্পনার সফল বাস্তবায়ন এবং খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত ফর্মের সমন্বয়ে ব্রাদার্স ইউনিয়ন শেষ পর্যন্ত পূর্ণ তিন পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়ল। মাঠের পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে যেভাবে তারা খেলেছে, তাতে দলের খেলোয়াড়দের মানসিক দৃঢ়তারও পরিচয় পাওয়া গেল। এখন দেখার বিষয়, এই জয়ের ধারা ব্রাদার্স ইউনিয়ন পরবর্তী ম্যাচগুলোতেও ধরে রাখতে পারে কি না।

জাতীয় নাগরিক পার্টির নতুন কমিটি নিয়ে বিতর্ক, হাসনাত-সারজিসদের দায়িত্ব প্রদান

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১৪ পূর্বাহ্ণ
   
জাতীয় নাগরিক পার্টির নতুন কমিটি নিয়ে বিতর্ক, হাসনাত-সারজিসদের দায়িত্ব প্রদান

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাংগঠনিক কাঠামোতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ঘোষণা এসেছে। দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে সাম্প্রতিক এই পুনর্গঠনের মধ্য দিয়ে নতুন দায়িত্ব পেয়েছেন হাসনাত আব্দুল্লাহ, সারজিস আলমসহ বেশ কয়েকজন পরিচিত মুখ। তারুণ্যনির্ভর দল হিসেবে পরিচিত এই রাজনৈতিক সংগঠনটির নতুন এই কমিটি ঘোষণার পর থেকেই রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনার জন্ম দিয়েছে। একদিকে দলের শীর্ষ পদে নতুনদের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে যেমন ইতিবাচক প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে সংগঠনের গঠন প্রক্রিয়া ও মনোনীত ব্যক্তিদের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই।

পুনর্গঠিত এই কমিটিতে হাসনাত আব্দুল্লাহ এবং সারজিস আলমের মতো নেতৃবৃন্দকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আনা হয়েছে। দলের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে তাদের এই অন্তর্ভুক্তি দলের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় তরুণদের হাতে নেতৃত্বের চাবিকাঠি তুলে দেওয়ার যে ধারা এনসিপি শুরু করেছিল, তারই ধারাবাহিকতায় এই নতুন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানানো হয়েছে। সাংগঠনিক দক্ষতা বৃদ্ধি এবং তৃণমূল পর্যায়ে দলের ভিত শক্ত করাই এই পুনর্গঠনের প্রধান উদ্দেশ্য বলে দাবি করা হচ্ছে।

তবে নতুন এই কমিটি ঘোষণার পরপরই তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে দলটি। প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন নতুন কমিটিকে ঘিরে অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক প্রতিক্রিয়ায় দলটির নেতৃত্ব নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। রাশেদ খাঁন দাবি করেছেন যে, যেসব ব্যক্তির বিরুদ্ধে অতীতে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে, তাদেরই দলের শীর্ষ পদে জায়গা দেওয়া হয়েছে। তিনি সরাসরি উল্লেখ করেন, ছাগল চোর, ল্যাপটপ চোর এবং নারী ও আর্থিক কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িতদের দলের নেতৃত্বে স্থান দেওয়া হয়েছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। তার এই মন্তব্য মুহূর্তের মধ্যেই রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে।

রাশেদ খাঁন তার বক্তব্যে হতাশা ব্যক্ত করে বলেন, একটি রাজনৈতিক দল থেকে যে ধরনের স্বচ্ছতা ও আদর্শিক অবস্থান আশা করা হয়, নতুন এই কমিটির মাধ্যমে সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। তিনি মনে করেন, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িতদের স্থান দেওয়ার ফলে রাজনৈতিক আদর্শ ও স্বচ্ছতার প্রশ্নটি এখন জনসমক্ষে বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। দলের অন্দরে এই ধরনের ব্যক্তিদের পদায়ন দলের ভাবমূর্তি সংকটের দিকে নিয়ে যেতে পারে বলেও তিনি সতর্ক করেছেন। তার এই বিস্ফোরক মন্তব্যের পর থেকে দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের তরফ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা এখনো পাওয়া যায়নি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এনসিপির এই পুনর্গঠন প্রক্রিয়া নিয়ে সৃষ্ট বিতর্ক দলটির জন্য বড় একটি চ্যালেঞ্জ হতে পারে। একদিকে তরুণ নেতৃত্বের মাধ্যমে নতুন স্বপ্ন দেখানোর প্রচেষ্টা, অন্যদিকে বিতর্কিত ব্যক্তিদের নিয়ে সমালোচনা—সব মিলিয়ে দলটি এখন একটি জটিল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। দলের সাধারণ কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে এই বিতর্ক নিয়ে ব্যাপক কৌতুহল ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সামনে দলের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগের বিপরীতে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয় কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়। সংগঠনের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিতর্কের এই ধারা দীর্ঘস্থায়ী হলে সেটি দলের আগামী দিনের রাজনীতির পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে ধারণা করছেন অভিজ্ঞ রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ শিকার: লক্ষ্মীপুরে ১১ জেলের কারাদণ্ড

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১৫ অপরাহ্ণ
   
নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ শিকার: লক্ষ্মীপুরে ১১ জেলের কারাদণ্ড

ইলিশ মাছের প্রজনন ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার বর্তমানে নদীতে মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এই বিধিনিষেধকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে মেঘনা নদীতে মাছ শিকারের অপরাধে ১১ জন জেলেকে আটক করেছে প্রশাসন। আটককৃতদের ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বিভিন্ন মেয়াদে বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে পরিচালিত এক বিশেষ অভিযানে তাদের হাতে নাতে ধরা হয়।

প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে একদল জেলে মেঘনা নদীর অভয়াশ্রম এলাকায় জাল ফেলে ইলিশ ধরার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ আরাফাত হুসাইনের নেতৃত্বে একটি অভিযানিক দল সেখানে উপস্থিত হয়। অভিযানে অবৈধভাবে মাছ শিকারের দায়ে জড়িত ১১ জন জেলেকে আটক করা হয়। পরবর্তী সময়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে অভিযুক্ত প্রত্যেককে ৭ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। দণ্ডপ্রাপ্ত জেলেদের আইন অনুযায়ী কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

অভিযান পরিচালনার সময় আটক জেলেদের কাছ থেকে ৬০ কেজি ইলিশ মাছ এবং দুই লাখ ৭৫ হাজার মিটার কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়। জব্দকৃত বিপুল পরিমাণ জাল জনসম্মুখে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে এগুলো আর ব্যবহার করা সম্ভব না হয়। এছাড়া উদ্ধার করা ইলিশ মাছগুলো স্থানীয় এতিমখানায় বিতরণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আইন অমান্য করে যারা নদী থেকে সম্পদ আহরণের চেষ্টা করবে, তাদের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতেও এ ধরনের কঠোর আইনি ব্যবস্থা চলমান থাকবে।

উল্লেখ্য, প্রতি বছর মা ইলিশ রক্ষায় নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নদীতে মাছ ধরা নিষিদ্ধ করে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়। এই সময়ে জেলেরা নদীতে জাল নামাতে পারেন না। তবুও এক শ্রেণির অসাধু জেলে সরকারের নির্দেশনা উপেক্ষা করে ইলিশ শিকারে লিপ্ত থাকে। স্থানীয় প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগের দাবি, জনসচেতনতার পাশাপাশি আইনের কঠোর প্রয়োগের মাধ্যমে ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং প্রজনন নিরাপদ করাই এই অভিযানের মূল উদ্দেশ্য। আটক জেলেদের বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ভ্রাম্যমাণ আদালতের এই সিদ্ধান্ত তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর করা হয়েছে।

জেলেদের এমন কর্মকাণ্ডে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল। তারা বলছেন, নিজেদের এবং মৎস্য সম্পদের দীর্ঘমেয়াদি উন্নতির স্বার্থে নিষেধাজ্ঞার সময়ে নদীতে নামা থেকে বিরত থাকা উচিত। প্রশাসনের নিয়মিত নজরদারি এবং কঠোর অভিযানের ফলে ইলিশের অভয়াশ্রমগুলোতে শান্তি বজায় থাকবে এবং মাছের বংশবিস্তার নির্বিঘ্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সর্বশেষ
ফ্রান্সে প্রথমবারের মতো মানুষের শরীরে শামোন্ডা ভাইরাসের সংক্রমণ, চিন্তিত স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা পাকিস্তানি স্ট্রাইকারের জোড়া গোলে আবাহনীকে হারিয়ে প্রথম জয় ব্রাদার্সের জাতীয় নাগরিক পার্টির নতুন কমিটি নিয়ে বিতর্ক, হাসনাত-সারজিসদের দায়িত্ব প্রদান নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ শিকার: লক্ষ্মীপুরে ১১ জেলের কারাদণ্ড ফুটবলের মান উন্নয়নে জাপানি ক্লাবের সহযোগিতা চায় বাংলাদেশ কর্মসংস্থান ধরে রাখতে জরায়ু অপসারণের চরম ঝুঁকিতে ভারতের নারী শ্রমিকরা জাতীয় নাগরিক পার্টির কমিটি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ রাশেদ খাঁনের ফরিদপুরে মহাসড়কে ট্রাক উল্টে প্রাইভেটকার চাপা, নিহত মা ও ছেলে টেস্ট দলে সৌম্য সরকারের অনুপস্থিতি নিয়ে ধোঁয়াশা, তৃতীয় ওপেনার কেন নেই? দাম্মাম বিমানবন্দরে হুতি হামলার নিন্দা বাংলাদেশের, শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান
Advertisement