খুঁজুন
, ,

বর্জ্য থেকে নতুন পোশাক তৈরির উদ্যোগ বিইউএফটি শিক্ষার্থীদের

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:১৫ অপরাহ্ণ
বর্জ্য থেকে নতুন পোশাক তৈরির উদ্যোগ বিইউএফটি শিক্ষার্থীদের

বিশ্বজুড়ে টেকসই ফ্যাশন ও পরিবেশবান্ধব পোশাক শিল্পের চাহিদা বাড়ছে। এর অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হলো কাপড়ের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা। প্রতি বছর পোশাক কারখানাগুলো থেকে বিপুল পরিমাণ কাপড় অপচয় হয়, যা পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এই সমস্যার সমাধানে এবং বর্জ্য থেকে নতুন সম্ভাবনা তৈরিতে এগিয়ে এসেছেন বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব ফ্যাশন অ্যান্ড টেকনোলজির (বিইউএফটি) শিক্ষার্থীরা। তাদের এই উদ্যোগ শুধু একাডেমিক গবেষণার অংশ নয়, বরং পরিবেশ সুরক্ষায় ভবিষ্যতের ফ্যাশন ডিজাইনারদের দায়বদ্ধতার একটি বড় প্রমাণ।

বর্জ্য থেকে নতুন পণ্য তৈরির এই ধারণা নিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে পুনর্ব্যবহার বা রিসাইক্লিং প্রযুক্তি। বিশেষ করে পোশাক শিল্পের এই বাড়তি অংশগুলোকে কীভাবে নতুন ও আকর্ষণীয় পোশাকে রূপান্তর করা যায়, তা নিয়ে কাজ করছেন শিক্ষার্থীরা। এরই অংশ হিসেবে সম্প্রতি শিক্ষার্থীরা জায়ান্ট গ্রুপের কারখানা পরিদর্শন করেছেন। সেখানে তারা সরাসরি পোশাক তৈরির প্রক্রিয়া এবং উৎপাদনের সময় কী পরিমাণ কাপড় বর্জ্য হিসেবে বেরিয়ে আসে, তা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন।

কারখানা পরিদর্শন থেকে পাওয়া অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে শিক্ষার্থীরা একটি বিশেষ প্রজেক্ট হাতে নিয়েছেন। তাদের মূল লক্ষ্য হলো, পোশাকের কারখানা থেকে সংগৃহীত অপচয় হওয়া কাপড় ব্যবহার করে অন্তত ৩২টি ভিন্নধর্মী পোশাক তৈরি করা। এই পোশাকগুলো কেবল পরিবেশবান্ধবই হবে না, বরং আধুনিক নকশা ও নান্দনিকতায় অনন্য করে তোলার পরিকল্পনা তাদের রয়েছে। এর মাধ্যমে তারা দেখাতে চান যে, যা আমাদের কাছে বর্জ্য, তা যথাযথ সৃজনশীলতায় ব্যবহার করলে নতুন মূল্যের পণ্য হয়ে উঠতে পারে।

শিক্ষার্থীদের এই কার্যক্রমকে ঘিরে আশাবাদী সংশ্লিষ্টরা। ফ্যাশন শিল্পের ভবিষ্যৎ ধারায় এখন ‘জিরো ওয়েস্ট’ বা বর্জ্যহীন উৎপাদনের কথা বলা হচ্ছে। বিইউএফটির শিক্ষার্থীরা যেভাবে বাস্তব কারখানা পরিদর্শনের মাধ্যমে তাদের হাতে-কলমে শিক্ষা ও গবেষণাকে যুক্ত করছেন, তা প্রশংসনীয়। এটি একদিকে যেমন তাদের পেশাগত দক্ষতা বাড়াচ্ছে, অন্যদিকে দেশের পোশাক শিল্পকে সার্কুলার ইকোনমির দিকে এগিয়ে নিতে সহায়তা করবে।

এই উদ্যোগের সফল বাস্তবায়ন হলে তা ভবিষ্যতে ফ্যাশন ডিজাইনিং এবং টেক্সটাইল প্রকৌশলের শিক্ষার্থীদের নতুন দিশা দেখাবে। বর্জ্য থেকে তৈরি ৩২টি পোশাকের এই কালেকশনটি শেষ পর্যন্ত কেমন হয় এবং বাজারে এর গ্রহণযোগ্যতা কেমন থাকে, তা নিয়ে এখন কৌতূহল রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে এই ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষার্থীরা তাদের এই কাজের মাধ্যমে কেবল পোশাক তৈরি করছেন না, বরং একটি বার্তা দিচ্ছেন—ফ্যাশন শিল্পের ভবিষ্যত নিহিত রয়েছে অপচয় কমানো এবং পুনর্ব্যবহারের ওপর।

আগামীতে এই মডেলটি বড় আকারে প্রয়োগ করা সম্ভব কি না, তা নিয়েও কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে শিক্ষার্থীদের। পোশাক শিল্পের বর্জ্য কমাতে এবং পরিবেশবান্ধব ফ্যাশনকে জনপ্রিয় করতে বিইউএফটির শিক্ষার্থীদের এই প্রচেষ্টা দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও উদাহরণ তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা।

নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ শিকার: লক্ষ্মীপুরে ১১ জেলের কারাদণ্ড

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১৫ অপরাহ্ণ
   
নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ শিকার: লক্ষ্মীপুরে ১১ জেলের কারাদণ্ড

ইলিশ মাছের প্রজনন ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার বর্তমানে নদীতে মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এই বিধিনিষেধকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে মেঘনা নদীতে মাছ শিকারের অপরাধে ১১ জন জেলেকে আটক করেছে প্রশাসন। আটককৃতদের ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বিভিন্ন মেয়াদে বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে পরিচালিত এক বিশেষ অভিযানে তাদের হাতে নাতে ধরা হয়।

প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে একদল জেলে মেঘনা নদীর অভয়াশ্রম এলাকায় জাল ফেলে ইলিশ ধরার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ আরাফাত হুসাইনের নেতৃত্বে একটি অভিযানিক দল সেখানে উপস্থিত হয়। অভিযানে অবৈধভাবে মাছ শিকারের দায়ে জড়িত ১১ জন জেলেকে আটক করা হয়। পরবর্তী সময়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে অভিযুক্ত প্রত্যেককে ৭ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। দণ্ডপ্রাপ্ত জেলেদের আইন অনুযায়ী কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

অভিযান পরিচালনার সময় আটক জেলেদের কাছ থেকে ৬০ কেজি ইলিশ মাছ এবং দুই লাখ ৭৫ হাজার মিটার কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়। জব্দকৃত বিপুল পরিমাণ জাল জনসম্মুখে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে এগুলো আর ব্যবহার করা সম্ভব না হয়। এছাড়া উদ্ধার করা ইলিশ মাছগুলো স্থানীয় এতিমখানায় বিতরণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আইন অমান্য করে যারা নদী থেকে সম্পদ আহরণের চেষ্টা করবে, তাদের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতেও এ ধরনের কঠোর আইনি ব্যবস্থা চলমান থাকবে।

উল্লেখ্য, প্রতি বছর মা ইলিশ রক্ষায় নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নদীতে মাছ ধরা নিষিদ্ধ করে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়। এই সময়ে জেলেরা নদীতে জাল নামাতে পারেন না। তবুও এক শ্রেণির অসাধু জেলে সরকারের নির্দেশনা উপেক্ষা করে ইলিশ শিকারে লিপ্ত থাকে। স্থানীয় প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগের দাবি, জনসচেতনতার পাশাপাশি আইনের কঠোর প্রয়োগের মাধ্যমে ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং প্রজনন নিরাপদ করাই এই অভিযানের মূল উদ্দেশ্য। আটক জেলেদের বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ভ্রাম্যমাণ আদালতের এই সিদ্ধান্ত তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর করা হয়েছে।

জেলেদের এমন কর্মকাণ্ডে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল। তারা বলছেন, নিজেদের এবং মৎস্য সম্পদের দীর্ঘমেয়াদি উন্নতির স্বার্থে নিষেধাজ্ঞার সময়ে নদীতে নামা থেকে বিরত থাকা উচিত। প্রশাসনের নিয়মিত নজরদারি এবং কঠোর অভিযানের ফলে ইলিশের অভয়াশ্রমগুলোতে শান্তি বজায় থাকবে এবং মাছের বংশবিস্তার নির্বিঘ্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ফুটবলের মান উন্নয়নে জাপানি ক্লাবের সহযোগিতা চায় বাংলাদেশ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১৪ অপরাহ্ণ
   
ফুটবলের মান উন্নয়নে জাপানি ক্লাবের সহযোগিতা চায় বাংলাদেশ

এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের বা এএফসি কংগ্রেস উপলক্ষে বর্তমানে জাপানে অবস্থান করছেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের উচ্চপদস্থ প্রতিনিধিরা। এই সফরের মূল লক্ষ্য হচ্ছে জাপানের উন্নত ফুটবল অবকাঠামো এবং তাদের ক্লাব কাঠামোর আদলে বাংলাদেশের ফুটবলের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা। এই উদ্দেশ্যে এরই মধ্যে জাপানের দ্বিতীয় বিভাগের পেশাদার লিগ বা জে-টু লিগের জনপ্রিয় ক্লাব এফসি ইমাবারির সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।

বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সহ-সভাপতি এবং শামসুল হুদা ফুটবল অ্যাকাডেমির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মো. নাসের শাহরিয়ার জাহেদী এই বৈঠকে বাংলাদেশের ফুটবল প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন। দুই পক্ষের এই বৈঠকে মূলত দীর্ঘমেয়াদী সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আলোচনার অন্যতম প্রধান বিষয় ছিল একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের প্রক্রিয়া। যদি এই সমঝোতা চূড়ান্ত রূপ পায়, তবে তা বাংলাদেশের ফুটবলের আধুনিকায়নে একটি মাইলফলক হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জাপানের ফুটবল বর্তমান বিশ্বে এক ঈর্ষণীয় সাফল্যের নাম। তাদের সুশৃঙ্খল ক্লাব ব্যবস্থাপনা, তৃণমূল থেকে খেলোয়াড় গড়ে তোলার প্রক্রিয়া এবং দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা এশিয়াসহ বিশ্ব ফুটবলে তাদের এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের ফুটবলের কাঠামোগত পরিবর্তনের জন্য জাপানি মডেলকে অনুসরণ করতে চাইছে ফেডারেশন। এফসি ইমাবারির সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনাটি মূলত খেলোয়াড় বিনিময় কর্মসূচি, কোচিং স্টাফদের প্রযুক্তিগত জ্ঞান আদান-প্রদান এবং ফুটবল অ্যাকাডেমির আধুনিকায়নের বিষয়গুলোকে কেন্দ্র করেই এগিয়েছে।

সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে যে, এফসি ইমাবারির সঙ্গে সমঝোতা স্মারকটি স্বাক্ষরিত হলে বাংলাদেশের তরুণ ফুটবলারদের জাপানে প্রশিক্ষণের সুযোগ সৃষ্টির সম্ভাবনা তৈরি হবে। একইসঙ্গে জাপানের উন্নত প্রযুক্তি ও জ্ঞান ব্যবহার করে স্থানীয় একাডেমিগুলোর মান উন্নয়নেও নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। নাসের শাহরিয়ার জাহেদী এই বৈঠকের মাধ্যমে বাংলাদেশের ফুটবলকে একটি আন্তর্জাতিক কাঠামোর আওতায় নিয়ে আসার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

এই সফরের সময় জাপানের ফুটবল সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা। তারা মূলত জানতে চেয়েছেন কীভাবে তৃণমূল পর্যায় থেকে একটি শক্তিশালী জাতীয় দল গঠনের জন্য জাপানিরা দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেছে। এমন অভিজ্ঞতার আলোকে বাংলাদেশও ধাপে ধাপে দেশের ফুটবলের মানোন্নয়নে কাজ করতে আগ্রহী। সমঝোতা স্মারকটি চূড়ান্ত করার জন্য উভয় পক্ষই ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে এবং আশা করা হচ্ছে খুব দ্রুতই এর আনুষ্ঠানিক রূপ দেখা যাবে।

বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের নীতিনির্ধারকদের মতে, শুধুমাত্র মাঠের পারফরম্যান্সই ফুটবলের উন্নয়নের জন্য যথেষ্ট নয়; এর পেছনে প্রয়োজন শক্তিশালী ক্লাব সংস্কৃতি এবং প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা। জাপানি ক্লাবের সঙ্গে এই ধরনের পার্টনারশিপ বাংলাদেশের ক্লাবগুলোকেও নতুন করে ভাবতে শেখাবে। এফসি ইমাবারি কর্তৃপক্ষও বাংলাদেশের ফুটবলের সম্ভাবনা সম্পর্কে ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করেছে এবং সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। সব মিলিয়ে, জাপানে চলমান এএফসি কংগ্রেসের এই পার্শ্ববৈঠক বাংলাদেশের ফুটবলের ভবিষ্যতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

কর্মসংস্থান ধরে রাখতে জরায়ু অপসারণের চরম ঝুঁকিতে ভারতের নারী শ্রমিকরা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১৪ অপরাহ্ণ
   
কর্মসংস্থান ধরে রাখতে জরায়ু অপসারণের চরম ঝুঁকিতে ভারতের নারী শ্রমিকরা

ভারতের আখ চাষের বিশাল কর্মযজ্ঞে যুক্ত নারী শ্রমিকদের একটি বড় অংশ অত্যন্ত মানবেতর পরিস্থিতির শিকার হচ্ছেন। জীবিকার তাগিদে, বিশেষ করে ঋণের বোঝা শোধ করার উদ্দেশ্যে তারা তাদের নিজেদের বসতবাড়ি থেকে শত শত কিলোমিটার দূরে পাড়ি জমান। কিন্তু আখ কাটার মৌসুমী এই শ্রমের বাজারে টিকে থাকা তাদের জন্য এক কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছেছে যে, কাজ ধরে রাখার জন্য অনেক নারী শ্রমিক স্বেচ্ছায় তাদের জরায়ু অপসারণের মতো জটিল অস্ত্রোপচারের আশ্রয় নিচ্ছেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের তথ্যের বরাতে এই বিষয়টি সম্প্রতি নতুন করে জনসমক্ষে উঠে এসেছে।

কর্ণাটকের রামানালের মতো প্রত্যন্ত গ্রামীণ এলাকায় আখ কাটার মৌসুমে দৃশ্যপট অত্যন্ত কঠোর হয়। ভোর চারটা না বাজতেই এই নারী শ্রমিকদের দিনের কাজ শুরু হয়ে যায়। সেখানে গড়ে ওঠা অস্থায়ী তাবুগুলোতে তাদের জীবন অতিবাহিত হয়। পরিবারের অন্যান্য পুরুষ সদস্যের জেগে ওঠার আগেই তারা তাদের দৈনন্দিন কাজ এবং ব্যক্তিগত প্রস্তুতি সম্পন্ন করেন, কারণ দিনের পুরোটা সময় তাদের কাটাতে হয় আখ ক্ষেতের রূঢ় পরিবেশে। দীর্ঘ সময় ধরে কঠোর পরিশ্রম এবং অনিয়মিত জীবনযাত্রার কারণে তাদের স্বাস্থ্যের ওপর ব্যাপক বিরূপ প্রভাব পড়ে, তবে এই পরিস্থিতির সবচেয়ে ভয়াবহ দিকটি হলো তাদের জরায়ু অপসারণের হার বেড়ে যাওয়া।

দীর্ঘ সময় ধরে আখ ক্ষেতে কঠোর শারীরিক পরিশ্রমের ফলে এই নারীদের শরীর নানা জটিলতায় ভোগে। বিশেষ করে মাসিকের সময় তাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। কাজের জায়গায় শৌচাগারের সুবিধা না থাকা এবং দীর্ঘক্ষণ পানিতে দাঁড়িয়ে বা রোদে পুড়ে কাজ করার ফলে তারা নানা ধরনের সংক্রমণের শিকার হন। কিন্তু আখ কাটার কাজে বিরতি নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। একদিন কাজ থেকে দূরে থাকা মানেই তাদের আয়ের বড় অংশ হারিয়ে যাওয়া, যা তাদের অর্থনৈতিক অবস্থাকে আরও শোচনীয় করে তোলে। এই বাস্তবতাকে মাথায় রেখেই তারা দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের খোঁজে জরায়ু অপসারণের মতো চরম সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হচ্ছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ভারতে প্রায় পনেরো লাখ মানুষ আখ উৎপাদনের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত। এর মধ্যে নারী শ্রমিকের সংখ্যাও বিশাল। যদিও তাদের এই জরায়ু অপসারণের নেপথ্যে চিকিৎসা বিজ্ঞানের কোনো জরুরি প্রয়োজন নেই, বরং এটি সম্পূর্ণরূপে অর্থনৈতিক বাধ্যবাধকতার বহিঃপ্রকাশ। চিকিৎসকদের মতে, এই নারীরা যে পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যান, তা কেবল শারীরিক নয়, বরং মানসিক এবং সামাজিক চাপের একটি সম্মিলিত রূপ। ঋণের বোঝা মেটাতে তারা এমন এক চক্রে জড়িয়ে পড়েছেন যে, সেখানে নিজের দেহের বিনিময়ে জীবিকা অর্জনের ভয়াবহ পথ বেছে নিতে হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, স্বাস্থ্যব্যবস্থার এই চরম অবনতি কেবল ব্যক্তিগত সমস্যা নয়, বরং এটি একটি গভীর সামাজিক সংকট। শ্রমিকদের কর্মপরিবেশ নিশ্চিত না করে কেবল তাদের শারীরিক সক্ষমতার ওপর নির্ভর করে উৎপাদন ব্যবস্থা চালিয়ে যাওয়া অমানবিক। আখ চাষের এই বিশাল কর্মক্ষেত্রে শ্রমিকদের জন্য নুন্যতম স্বাস্থ্যবিধি, শৌচাগার এবং বিশ্রামের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় তারা এই ধরনের চরম পরিণতির দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। সরকারের উচিত এই নারী শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা তৈরি করা এবং তাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করা। নতুবা আখ চাষের এই সোনালী শিল্পের পেছনে লুকিয়ে থাকবে অগণিত নারীর ত্যাগের এক অন্ধকার ইতিহাস।

সর্বশেষ
নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ শিকার: লক্ষ্মীপুরে ১১ জেলের কারাদণ্ড ফুটবলের মান উন্নয়নে জাপানি ক্লাবের সহযোগিতা চায় বাংলাদেশ কর্মসংস্থান ধরে রাখতে জরায়ু অপসারণের চরম ঝুঁকিতে ভারতের নারী শ্রমিকরা জাতীয় নাগরিক পার্টির কমিটি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ রাশেদ খাঁনের ফরিদপুরে মহাসড়কে ট্রাক উল্টে প্রাইভেটকার চাপা, নিহত মা ও ছেলে টেস্ট দলে সৌম্য সরকারের অনুপস্থিতি নিয়ে ধোঁয়াশা, তৃতীয় ওপেনার কেন নেই? দাম্মাম বিমানবন্দরে হুতি হামলার নিন্দা বাংলাদেশের, শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান বর্জ্য থেকে নতুন পোশাক তৈরির উদ্যোগ বিইউএফটি শিক্ষার্থীদের শিশুদের অতিরিক্ত চিনি গ্রহণ: নীরব ঝুঁকির কারণ ও সতর্কবার্তা জেরুজালেমে নেতানিয়াহুর গাড়িবহর লক্ষ্য করে বোতল নিক্ষেপ
Advertisement