ফুটবলের মান উন্নয়নে জাপানি ক্লাবের সহযোগিতা চায় বাংলাদেশ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬ । ১১:১৪ অপরাহ্ণ

এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের বা এএফসি কংগ্রেস উপলক্ষে বর্তমানে জাপানে অবস্থান করছেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের উচ্চপদস্থ প্রতিনিধিরা। এই সফরের মূল লক্ষ্য হচ্ছে জাপানের উন্নত ফুটবল অবকাঠামো এবং তাদের ক্লাব কাঠামোর আদলে বাংলাদেশের ফুটবলের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা। এই উদ্দেশ্যে এরই মধ্যে জাপানের দ্বিতীয় বিভাগের পেশাদার লিগ বা জে-টু লিগের জনপ্রিয় ক্লাব এফসি ইমাবারির সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।

বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সহ-সভাপতি এবং শামসুল হুদা ফুটবল অ্যাকাডেমির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মো. নাসের শাহরিয়ার জাহেদী এই বৈঠকে বাংলাদেশের ফুটবল প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন। দুই পক্ষের এই বৈঠকে মূলত দীর্ঘমেয়াদী সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আলোচনার অন্যতম প্রধান বিষয় ছিল একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের প্রক্রিয়া। যদি এই সমঝোতা চূড়ান্ত রূপ পায়, তবে তা বাংলাদেশের ফুটবলের আধুনিকায়নে একটি মাইলফলক হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জাপানের ফুটবল বর্তমান বিশ্বে এক ঈর্ষণীয় সাফল্যের নাম। তাদের সুশৃঙ্খল ক্লাব ব্যবস্থাপনা, তৃণমূল থেকে খেলোয়াড় গড়ে তোলার প্রক্রিয়া এবং দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা এশিয়াসহ বিশ্ব ফুটবলে তাদের এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের ফুটবলের কাঠামোগত পরিবর্তনের জন্য জাপানি মডেলকে অনুসরণ করতে চাইছে ফেডারেশন। এফসি ইমাবারির সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনাটি মূলত খেলোয়াড় বিনিময় কর্মসূচি, কোচিং স্টাফদের প্রযুক্তিগত জ্ঞান আদান-প্রদান এবং ফুটবল অ্যাকাডেমির আধুনিকায়নের বিষয়গুলোকে কেন্দ্র করেই এগিয়েছে।

সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে যে, এফসি ইমাবারির সঙ্গে সমঝোতা স্মারকটি স্বাক্ষরিত হলে বাংলাদেশের তরুণ ফুটবলারদের জাপানে প্রশিক্ষণের সুযোগ সৃষ্টির সম্ভাবনা তৈরি হবে। একইসঙ্গে জাপানের উন্নত প্রযুক্তি ও জ্ঞান ব্যবহার করে স্থানীয় একাডেমিগুলোর মান উন্নয়নেও নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। নাসের শাহরিয়ার জাহেদী এই বৈঠকের মাধ্যমে বাংলাদেশের ফুটবলকে একটি আন্তর্জাতিক কাঠামোর আওতায় নিয়ে আসার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

এই সফরের সময় জাপানের ফুটবল সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা। তারা মূলত জানতে চেয়েছেন কীভাবে তৃণমূল পর্যায় থেকে একটি শক্তিশালী জাতীয় দল গঠনের জন্য জাপানিরা দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেছে। এমন অভিজ্ঞতার আলোকে বাংলাদেশও ধাপে ধাপে দেশের ফুটবলের মানোন্নয়নে কাজ করতে আগ্রহী। সমঝোতা স্মারকটি চূড়ান্ত করার জন্য উভয় পক্ষই ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে এবং আশা করা হচ্ছে খুব দ্রুতই এর আনুষ্ঠানিক রূপ দেখা যাবে।

বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের নীতিনির্ধারকদের মতে, শুধুমাত্র মাঠের পারফরম্যান্সই ফুটবলের উন্নয়নের জন্য যথেষ্ট নয়; এর পেছনে প্রয়োজন শক্তিশালী ক্লাব সংস্কৃতি এবং প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা। জাপানি ক্লাবের সঙ্গে এই ধরনের পার্টনারশিপ বাংলাদেশের ক্লাবগুলোকেও নতুন করে ভাবতে শেখাবে। এফসি ইমাবারি কর্তৃপক্ষও বাংলাদেশের ফুটবলের সম্ভাবনা সম্পর্কে ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করেছে এবং সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। সব মিলিয়ে, জাপানে চলমান এএফসি কংগ্রেসের এই পার্শ্ববৈঠক বাংলাদেশের ফুটবলের ভবিষ্যতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

  • সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মোঃ রাসেল মিয়া

প্রিন্ট করুন