খুঁজুন
, ,

বাজারে এলো ভাঁজ করা আইফোন ডুও: উচ্চমূল্য আর সীমাবদ্ধ সরবরাহের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:১৪ অপরাহ্ণ
বাজারে এলো ভাঁজ করা আইফোন ডুও: উচ্চমূল্য আর সীমাবদ্ধ সরবরাহের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া

প্রযুক্তি বিশ্বে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে বাজারে এসেছে মার্কিন প্রযুক্তি জায়ান্ট অ্যাপলের প্রথম ভাঁজ করা স্মার্টফোন আইফোন ডুও। শুক্রবার বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দেশের বাজারে আনুষ্ঠানিকভাবে ফোনটি বিক্রির জন্য উন্মুক্ত করা হয়। প্রায় দুই হাজার ডলার বা তার বেশি মূল্যের এই প্রিমিয়াম ডিভাইসটি নিয়ে প্রযুক্তিপ্রেমীদের মধ্যে আলোচনা থাকলেও, আগের আইফোন উন্মোচনের সময় যে আকাশচুম্বী উন্মাদনা বা দোকানের বাইরে দিনের পর দিন ক্রেতাদের দীর্ঘ সারি দেখা যেত, এবারের পরিস্থিতি ছিল বেশ ভিন্ন এবং কিছুটা শান্ত।

সিঙ্গাপুর, সাংহাই, লন্ডন থেকে শুরু করে বার্লিনের মতো বড় শহরগুলোতে আইফোন ডুওর চাহিদা বেশ ভালো পরিলক্ষিত হলেও, অ্যাপল এবার ফোনটির সরবরাহ ব্যবস্থা বেশ সীমিত রেখেছে। সরাসরি দোকান থেকে ফোন কেনার সুযোগও রাখা হয়েছে নিয়ন্ত্রিত। যার ফলে আইফোন উন্মোচনের সনাতন চিত্রগুলো এবার তেমন একটা চোখে পড়েনি। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, স্যামসাং ইলেকট্রনিকস ও হুয়াওয়ে টেকনোলজিসের মতো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠানগুলো বহু বছর ধরে ফোল্ডেবল ফোনের বাজারে নিজেদের অবস্থান শক্ত করে রেখেছে। এখন আইফোন ডুও বাজারে আসার মাধ্যমে অ্যাপল নতুন কোনো বিপ্লব ঘটাতে পারবে কি না, তা নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। স্মার্টফোনের বাজারে আইফোন যেভাবে বড় পরিবর্তন এনেছিল, ভাঁজ করা ফোনের ক্ষেত্রেও অ্যাপল সেই একই প্রভাব ফেলতে পারে কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

এদিকে, এই হ্যান্ডসেটটির সফল বাজারজাতকরণ অ্যাপলের নতুন সিইও জন টার্নাসের জন্য একটি বড় অগ্নিপরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর আগে হার্ডওয়্যার বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করা টার্নাস সেপ্টেম্বরে সিইও হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই এই বড় পণ্যটি বাজারে আনলেন। ফোনটি বাজারে আসার প্রায় এক সপ্তাহ আগে থেকেই অ্যাপল প্রি-অর্ডার বা আগাম ফরমাশ নেওয়া শুরু করেছিল। তবে চাহিদা এতই বেশি ছিল যে, কয়েক মিনিটের মধ্যেই সরবরাহের সময়সীমা পিছিয়ে চলে যায় জানুয়ারির শেষ দিকে। কোম্পানিটি এই সাড়া পাওয়ার বিষয়টিকে অসাধারণ বলে উল্লেখ করেছে।

বাজার নিয়ন্ত্রণের অংশ হিসেবে অ্যাপল প্রতিটি ক্রেতার জন্য সর্বোচ্চ দুটি করে ফোন কেনার সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছিল। বিশেষ করে চীন, ফ্রান্স, হংকং, ভারত ও জাপানের মতো দেশগুলোতে কেবল অনলাইনে যারা আগে ফরমাশ দিয়েছিলেন, তারাই ফোনটি হাতে পাওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। তবে সিডনির মতো কিছু শহরে ব্যতিক্রমী চিত্রও দেখা গেছে। স্থানীয় সময় শুক্রবার সকাল আটটায় যখন অ্যাপল স্টোরগুলো খোলে, তখন সেখানে কিছু ক্রেতাকে সারিবদ্ধভাবে অপেক্ষা করতে দেখা যায়। ৪৮ বছর বয়সী অস্ট্রেলীয় প্রকৌশলী সাইমন কৃষ্ণান ৫১২ গিগাবাইটের একটি মডেল কেনার জন্য প্রায় দুই হাজার ৭৩৪ মার্কিন ডলার খরচ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, দাম অনেক বেশি হলেও প্রযুক্তিগত নতুনত্বের স্বাদ নিতে তিনি এই বিনিয়োগ করেছেন।

বিশ্বের বাজারে ফোল্ডেবল স্মার্টফোনের বাজার এখনও খুব একটা বড় নয়। তবে আইফোনের মতো জনপ্রিয় ব্র্যান্ড এই বিভাগে প্রবেশ করায় বাজারটি নতুন রূপ পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, আইফোন ডুওর উচ্চমূল্য এবং সীমিত সরবরাহ সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে কতটা প্রভাব ফেলে এবং দীর্ঘমেয়াদে অ্যাপল তাদের হার্ডওয়্যার সক্ষমতাকে কতদূর নিয়ে যেতে পারে।

দাম্মাম বিমানবন্দরে হুতি হামলার নিন্দা বাংলাদেশের, শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:১৫ অপরাহ্ণ
   
দাম্মাম বিমানবন্দরে হুতি হামলার নিন্দা বাংলাদেশের, শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান

সৌদি আরবের দাম্মাম বিমানবন্দরে হুতিদের হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে সৌদি সরকার ও দেশটির জনগণের প্রতি সংহতি জানিয়েছে বাংলাদেশ। ঘটনার বিষয়ে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে এ পর্যন্ত হামলার নির্দিষ্ট সময়, ব্যবহৃত অস্ত্র কিংবা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

বাংলাদেশের বক্তব্যে হামলার নিন্দার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি সহমর্মিতার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। পরিবারগুলোর প্রতি সমবেদনা জানিয়ে ঢাকা এ ঘটনায় মানবিক উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সৌদি সরকার ও জনগণের প্রতি সংহতি জানানোর মধ্য দিয়ে দেশটির সঙ্গে বাংলাদেশের পাশে থাকার অবস্থানও স্পষ্ট করা হয়েছে। তবে বিজ্ঞপ্তির সংক্ষিপ্ত বিবরণে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পরিচয়, তাদের সদস্যদের অবস্থা কিংবা হামলায় হতাহতের সংখ্যা উল্লেখ করা হয়নি। তাই এসব বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য দেওয়া সম্ভব নয়।

দাম্মাম সৌদি আরবের একটি শহর এবং সেখানে অবস্থিত বিমানবন্দরকে ঘিরেই হামলার ঘটনাটি আলোচনায় এসেছে। তবে বিমানবন্দরের কোন অংশ আক্রান্ত হয়েছে, হামলার সময় সেখানে যাত্রী বা কর্মীদের উপস্থিতি কেমন ছিল, কিংবা বিমান চলাচলে কোনো প্রভাব পড়েছে কি না—এসব বিষয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রকাশিত হয়নি। ফলে ঘটনার পরিসর বা তাৎক্ষণিক প্রভাব সম্পর্কে অনুমান করা ঠিক হবে না। বাংলাদেশের নিন্দা ও সংহতির বার্তাই এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্যের মূল বিষয়।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশের অবস্থান কূটনৈতিকভাবে সংযত ও স্পষ্ট: হামলার নিন্দা, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর প্রতি সমবেদনা এবং সৌদি আরবের প্রতি সংহতি। বিবৃতিতে হামলার পেছনের পরিস্থিতি, দায় নির্ধারণের প্রক্রিয়া বা নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। কোনো পক্ষের সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ কিংবা পরবর্তী পদক্ষেপের কথাও পাওয়া তথ্যের মধ্যে নেই। তাই এসব বিষয়ে আগাম সিদ্ধান্তে না গিয়ে ঘোষিত অবস্থানটুকু আলাদা করে দেখা জরুরি।

সৌদি আরবে হুতিদের হামলার নিন্দা জানানো বাংলাদেশের বক্তব্যের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বানও যুক্ত হয়েছে। সংঘাতের পরিস্থিতিতে কূটনৈতিক সংলাপ ও শান্তিপূর্ণ পথের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার এই আহ্বান হামলার পরিপ্রেক্ষিতেই এসেছে। তবে আলোচনার সম্ভাব্য কাঠামো, কোন পক্ষের সঙ্গে সংলাপ হতে পারে বা এ বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে কি না, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যায়নি। ফলে আহ্বানটির বাইরে কোনো পরিকল্পনা বা পদক্ষেপের কথা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।

হামলার ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর প্রতি সমবেদনা জানানোয় মানবিক দিকটি বাংলাদেশের প্রতিক্রিয়ায় সামনে এসেছে। একই সঙ্গে সৌদি সরকার ও জনগণের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছে ঢাকা। এই বক্তব্যে ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ বা হামলার পর উদ্ধার ও চিকিৎসাসংক্রান্ত পরিস্থিতি নেই। কারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাদের সহায়তায় কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, কিংবা বিমানবন্দরের কার্যক্রম স্বাভাবিক আছে কি না—এসব প্রশ্নের উত্তরও প্রকাশিত তথ্য থেকে মেলে না। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিস্তারিত তথ্য ছাড়া এসব বিষয়ে কোনো দাবি করা সমীচীন নয়।

ঘটনার পরিপূর্ণ চিত্র পেতে হামলার সময়, স্থান ও প্রভাব সম্পর্কে আরও নির্দিষ্ট তথ্য প্রয়োজন। এখন পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে বলা যায়, সৌদি আরবের দাম্মাম বিমানবন্দরে হুতিদের হামলার নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেছে। সৌদি সরকার ও জনগণের প্রতি সংহতি জানানোর পাশাপাশি শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বানও এসেছে। হামলায় হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির সুনির্দিষ্ট বিবরণ, বিমানবন্দরের কার্যক্রমে প্রভাব এবং পরবর্তী পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া গেলে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ চিত্র স্পষ্ট হবে।

বর্জ্য থেকে নতুন পোশাক তৈরির উদ্যোগ বিইউএফটি শিক্ষার্থীদের

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:১৫ অপরাহ্ণ
   
বর্জ্য থেকে নতুন পোশাক তৈরির উদ্যোগ বিইউএফটি শিক্ষার্থীদের

বিশ্বজুড়ে টেকসই ফ্যাশন ও পরিবেশবান্ধব পোশাক শিল্পের চাহিদা বাড়ছে। এর অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হলো কাপড়ের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা। প্রতি বছর পোশাক কারখানাগুলো থেকে বিপুল পরিমাণ কাপড় অপচয় হয়, যা পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এই সমস্যার সমাধানে এবং বর্জ্য থেকে নতুন সম্ভাবনা তৈরিতে এগিয়ে এসেছেন বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব ফ্যাশন অ্যান্ড টেকনোলজির (বিইউএফটি) শিক্ষার্থীরা। তাদের এই উদ্যোগ শুধু একাডেমিক গবেষণার অংশ নয়, বরং পরিবেশ সুরক্ষায় ভবিষ্যতের ফ্যাশন ডিজাইনারদের দায়বদ্ধতার একটি বড় প্রমাণ।

বর্জ্য থেকে নতুন পণ্য তৈরির এই ধারণা নিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে পুনর্ব্যবহার বা রিসাইক্লিং প্রযুক্তি। বিশেষ করে পোশাক শিল্পের এই বাড়তি অংশগুলোকে কীভাবে নতুন ও আকর্ষণীয় পোশাকে রূপান্তর করা যায়, তা নিয়ে কাজ করছেন শিক্ষার্থীরা। এরই অংশ হিসেবে সম্প্রতি শিক্ষার্থীরা জায়ান্ট গ্রুপের কারখানা পরিদর্শন করেছেন। সেখানে তারা সরাসরি পোশাক তৈরির প্রক্রিয়া এবং উৎপাদনের সময় কী পরিমাণ কাপড় বর্জ্য হিসেবে বেরিয়ে আসে, তা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন।

কারখানা পরিদর্শন থেকে পাওয়া অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে শিক্ষার্থীরা একটি বিশেষ প্রজেক্ট হাতে নিয়েছেন। তাদের মূল লক্ষ্য হলো, পোশাকের কারখানা থেকে সংগৃহীত অপচয় হওয়া কাপড় ব্যবহার করে অন্তত ৩২টি ভিন্নধর্মী পোশাক তৈরি করা। এই পোশাকগুলো কেবল পরিবেশবান্ধবই হবে না, বরং আধুনিক নকশা ও নান্দনিকতায় অনন্য করে তোলার পরিকল্পনা তাদের রয়েছে। এর মাধ্যমে তারা দেখাতে চান যে, যা আমাদের কাছে বর্জ্য, তা যথাযথ সৃজনশীলতায় ব্যবহার করলে নতুন মূল্যের পণ্য হয়ে উঠতে পারে।

শিক্ষার্থীদের এই কার্যক্রমকে ঘিরে আশাবাদী সংশ্লিষ্টরা। ফ্যাশন শিল্পের ভবিষ্যৎ ধারায় এখন ‘জিরো ওয়েস্ট’ বা বর্জ্যহীন উৎপাদনের কথা বলা হচ্ছে। বিইউএফটির শিক্ষার্থীরা যেভাবে বাস্তব কারখানা পরিদর্শনের মাধ্যমে তাদের হাতে-কলমে শিক্ষা ও গবেষণাকে যুক্ত করছেন, তা প্রশংসনীয়। এটি একদিকে যেমন তাদের পেশাগত দক্ষতা বাড়াচ্ছে, অন্যদিকে দেশের পোশাক শিল্পকে সার্কুলার ইকোনমির দিকে এগিয়ে নিতে সহায়তা করবে।

এই উদ্যোগের সফল বাস্তবায়ন হলে তা ভবিষ্যতে ফ্যাশন ডিজাইনিং এবং টেক্সটাইল প্রকৌশলের শিক্ষার্থীদের নতুন দিশা দেখাবে। বর্জ্য থেকে তৈরি ৩২টি পোশাকের এই কালেকশনটি শেষ পর্যন্ত কেমন হয় এবং বাজারে এর গ্রহণযোগ্যতা কেমন থাকে, তা নিয়ে এখন কৌতূহল রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে এই ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষার্থীরা তাদের এই কাজের মাধ্যমে কেবল পোশাক তৈরি করছেন না, বরং একটি বার্তা দিচ্ছেন—ফ্যাশন শিল্পের ভবিষ্যত নিহিত রয়েছে অপচয় কমানো এবং পুনর্ব্যবহারের ওপর।

আগামীতে এই মডেলটি বড় আকারে প্রয়োগ করা সম্ভব কি না, তা নিয়েও কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে শিক্ষার্থীদের। পোশাক শিল্পের বর্জ্য কমাতে এবং পরিবেশবান্ধব ফ্যাশনকে জনপ্রিয় করতে বিইউএফটির শিক্ষার্থীদের এই প্রচেষ্টা দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও উদাহরণ তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা।

শিশুদের অতিরিক্ত চিনি গ্রহণ: নীরব ঝুঁকির কারণ ও সতর্কবার্তা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:১৪ অপরাহ্ণ
   
শিশুদের অতিরিক্ত চিনি গ্রহণ: নীরব ঝুঁকির কারণ ও সতর্কবার্তা

ছোট সোনামণিদের খাবারের তালিকায় মিষ্টি জাতীয় খাবারের উপস্থিতি নতুন কিছু নয়। অনেক অভিভাবকই আদর করে বা বায়না মেটাতে শিশুদের নিয়মিত চিনিযুক্ত খাবার বা পানীয় দিয়ে থাকেন। কিন্তু এই অভ্যাসটি কতটা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে, সে সম্পর্কে অনেকেরই স্পষ্ট ধারণা নেই। সম্প্রতি সারে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের চালানো একটি সমীক্ষায় শিশুদের অতিরিক্ত চিনি গ্রহণের মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে, যা সচেতন অভিভাবকদের জন্য একটি সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করছে।

গবেষকদের মতে, চিনি কেবল বয়স্ক বা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য ক্ষতিকর—এমন ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। বরং শৈশব থেকেই অতিরিক্ত মাত্রায় চিনিযুক্ত খাবার গ্রহণে শিশুদের শরীরের বিপাক প্রক্রিয়া ও সামগ্রিক বিকাশে দীর্ঘমেয়াদী সমস্যা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে প্রক্রিয়াজাত খাবার, কোমল পানীয়, চকোলেট ও প্যাকেটজাত মিষ্টির মাধ্যমে শিশুরা অজান্তেই তাদের চাহিদার তুলনায় অনেক বেশি চিনি গ্রহণ করছে। এটি পরবর্তী জীবনে স্থূলতা বা ওবেসিটি, টাইপ-টু ডায়াবেটিস এবং হৃদরোগের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, শিশুরা যখন তাদের দৈনন্দিন ক্যালোরির বড় একটি অংশ চিনি থেকে পায়, তখন তাদের শরীরে প্রয়োজনীয় পুষ্টির ঘাটতি তৈরি হয়। মিষ্টি খাবারের প্রতি আসক্তি বাড়লে শিশুরা স্বাভাবিক পুষ্টিকর খাবার যেমন—শাকসবজি, ফলমূল বা প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণে অনীহা প্রকাশ করে। এর ফলে তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায় এবং শৈশবেই শারীরিক ও মানসিক বৃদ্ধির স্বাভাবিক ছন্দ ব্যাহত হয়।

গবেষণায় দেখা গেছে, ছোট বয়সে চিনির প্রতি যে আসক্তি তৈরি হয়, তা প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পরও তাদের খাদ্যাভ্যাসে প্রভাব ফেলে। চিনিযুক্ত খাবার গ্রহণের ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়ে এবং আবার দ্রুত কমে যায়, যা শিশুদের অস্থিরতা, মেজাজের পরিবর্তন এবং মনোযোগের অভাব ঘটায়। অনেক অভিভাবক হয়তো খেয়াল করেন না যে, সন্তানের চঞ্চলতা বা পড়াশোনায় অমনোযোগিতার পেছনে তাদের খাদ্যাভ্যাস বড় ভূমিকা রাখছে।

চিকিৎসকরা পরামর্শ দিচ্ছেন, শিশুদের খাবারে সরাসরি চিনির ব্যবহার কমানোর জন্য অভিভাবকদের সৃজনশীল হতে হবে। বাইরের কেনা মিষ্টি বা প্যাকেটজাত পানীয়ের বদলে বাড়িতে তৈরি ফলের রস বা স্বাস্থ্যকর বিকল্পগুলো বেছে নেওয়া যেতে পারে। দিনের শুরুটা চিনিমুক্ত বা কম চিনিযুক্ত নাস্তা দিয়ে করার অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি। এছাড়া, শিশুদের খাবারের লেবেল পড়ার অভ্যাস করাও গুরুত্বপূর্ণ, যাতে তারা বুঝতে পারে কোন খাবারে কতটা চিনি মিশে আছে।

পরিশেষে, সুস্বাস্থ্যের ভিত্তি তৈরি হয় শৈশবেই। তাই শিশুদের খাবারের মেনু সাজানোর সময় অভিভাবক ও পরিবারের সদস্যদের আরও সতর্ক হতে হবে। অতিরিক্ত চিনিযুক্ত খাবার থেকে শিশুকে দূরে রেখে তাদের একটি সুস্থ ও কর্মচঞ্চল ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা পরিবারের প্রধান দায়িত্বের অংশ। সামান্য সচেতনতা ও খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তনই পারে শিশুদের দীর্ঘমেয়াদী শারীরিক জটিলতার হাত থেকে সুরক্ষা দিতে।

সর্বশেষ
দাম্মাম বিমানবন্দরে হুতি হামলার নিন্দা বাংলাদেশের, শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান বর্জ্য থেকে নতুন পোশাক তৈরির উদ্যোগ বিইউএফটি শিক্ষার্থীদের শিশুদের অতিরিক্ত চিনি গ্রহণ: নীরব ঝুঁকির কারণ ও সতর্কবার্তা জেরুজালেমে নেতানিয়াহুর গাড়িবহর লক্ষ্য করে বোতল নিক্ষেপ বাজারে এলো ভাঁজ করা আইফোন ডুও: উচ্চমূল্য আর সীমাবদ্ধ সরবরাহের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া গণিত ইশকুলের নতুন ধাঁধা: বিশ্বকাপ ফুটবল ২০৫০-এর হিসাব কষতে ডাক দিলেন গণিত ভাইয়া জ্বর কমার পর ডেঙ্গুর আসল বিপদ: অসতর্কতায় ঝুঁকি বাড়ছে বহুগুণ মোজতবা খামেনির শারীরিক অবস্থা নিয়ে সব জল্পনার ইতি টানলেন ইরানি কূটনীতিক শিশুর কথা বলা: স্বাভাবিক ও অস্বাভাবিক উচ্চারণের ফারাক বোঝার উপায় আগামী এক দশকেও শেখ হাসিনার ফেরার সম্ভাবনা নেই: স্পিকার
Advertisement