খুঁজুন
, ,

উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন দুর্গাপূজা, বুড়িগঙ্গায় বিসর্জনের ধুম

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:১৪ পূর্বাহ্ণ
উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন দুর্গাপূজা, বুড়িগঙ্গায় বিসর্জনের ধুম

শারদীয় দুর্গাপূজার সমাপ্তি ঘটেছে অত্যন্ত উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ আবহে। রাজধানী ঢাকা এবং এর আশপাশের জেলাগুলোতে দুর্গাপূজা কেন্দ্র করে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া নজরদারি এবং স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বিত পদক্ষেপে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা এবার নির্বিঘ্নে তাদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব পালন করতে পেরেছেন। জেলা পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, পুরো উৎসবের সময়জুড়ে ঢাকা জেলার সব পূজামণ্ডপে আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতি স্বাভাবিক ছিল।

বিজয়া দশমীর আনুষ্ঠানিকতার অংশ হিসেবে বুধবার দুপুরের পর থেকেই প্রতিমা বিসর্জনের কার্যক্রম শুরু হয়। রাজধানীর বিভিন্ন পূজামণ্ডপ থেকে ভক্তরা ট্রাকে বা অন্য যানবাহনে করে প্রতিমা নিয়ে বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে সমবেত হতে থাকেন। ঢাক-ঢোল আর বাদ্যযন্ত্রের তালে তালে ‘দুর্গা মাই কি জয়’ ধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে নদীর তীরবর্তী এলাকা। বিকেল গড়াতেই ঘাটগুলোতে জনস্রোত বাড়তে শুরু করে। নদীর পাড়ে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ ও নৌ-পুলিশের সদস্যরা তৎপর রয়েছেন।

উৎসবের শেষ দিনটিতে ভক্তরা সিঁদুর খেলা এবং একে অপরকে মিষ্টিমুখ করানোর মাধ্যমে পারস্পরিক সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দেন। বরাবরের মতো এবারও বুড়িগঙ্গা নদীতে প্রতিমা বিসর্জনের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিসর্জনের আনুষ্ঠানিকতা আরও গতি পায়। স্থানীয় প্রশাসনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভোর পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্নভাবে বিসর্জন কার্যক্রম চলার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। কোনো মণ্ডপেই বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়নি, বরং সব জায়গায় সুষ্ঠুভাবে পূজা উদযাপনের পরিবেশ বজায় ছিল বলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দ জানিয়েছেন, মণ্ডপগুলোতে পূজা শুরুর প্রথম দিন থেকে শেষ দিন পর্যন্ত নিরাপত্তার বিষয়টি ছিল অগ্রাধিকার তালিকায়। ঢাকা জেলার পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখার কারণে মণ্ডপগুলোতে ভক্ত ও দর্শনার্থীরা কোনো ধরনের হয়রানি ছাড়া যাতায়াত করতে পেরেছেন। বিশেষ করে রাতে আলোকসজ্জা দেখার জন্য মানুষের উপচেপড়া ভিড় থাকলেও কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেনি।

এদিকে শারদীয় দুর্গোৎসবের এই মাহেন্দ্রক্ষণ উপলক্ষে আয়োজিত বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা অংশ নিয়েছেন। তারা ধর্মের মূল শিক্ষাগুলো দৈনন্দিন জীবনে এবং কর্মক্ষেত্রে প্রতিফলিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছেন। বক্তারা আশা প্রকাশ করেছেন যে, ধর্মের এই পবিত্র শিক্ষা ও মানবিক মূল্যবোধ সমাজকে আরও আলোকিত করে তুলবে। পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ব ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার যে বহিঃপ্রকাশ এই উৎসবে দেখা গেছে, তা যেন সারা বছর বজায় থাকে, সেই প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেছেন তারা।

রাত বাড়ার সাথে সাথে বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে বিসর্জন দেখতে আসা মানুষের ভিড় আরও বাড়ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা রাতভর বিসর্জন প্রক্রিয়া নির্বিঘ্ন করতে দায়িত্ব পালন করছেন। প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হচ্ছে শারদীয় দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা। ভক্তরা এখন আগামী বছরের অপেক্ষায় দিন গুনছেন। যথাযথ নিরাপত্তা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে ঢাকাবাসী সম্পন্ন করলেন আরেকটি দুর্গাপূজার মৌসুম। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার সংবাদ না পাওয়ায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন আয়োজকসহ স্থানীয় প্রশাসন।

দুর্গাপূজার প্রতিমা বিসর্জন নির্বিঘ্ন করতে বুড়িগঙ্গায় কঠোর নিরাপত্তা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:১৫ পূর্বাহ্ণ
   
দুর্গাপূজার প্রতিমা বিসর্জন নির্বিঘ্ন করতে বুড়িগঙ্গায় কঠোর নিরাপত্তা

শারদীয় দুর্গাপূজার শেষ দিন তথা বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জন অনুষ্ঠানকে ঘিরে রাজধানী ঢাকার সদরঘাট ও বুড়িগঙ্গা নদী এলাকায় নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা। প্রতি বছরের মতো এবারও বিপুলসংখ্যক ভক্ত ও দর্শনার্থীর সমাগম হবে নদীর ঘাটে। এই বিশাল আয়োজনে কোনো প্রকার বিশৃঙ্খলা বা অপ্রীতিকর ঘটনা যেন না ঘটে, তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। পূজা মণ্ডপ থেকে শুরু করে প্রতিমা বিসর্জনের নির্দিষ্ট রুট পর্যন্ত প্রতিটি পয়েন্টে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তথ্যানুযায়ী, পুরান ঢাকার বিভিন্ন এলাকা থেকে শত শত পূজা মণ্ডপের প্রতিমা ট্রাক ও ছোট ছোট যানবাহনে করে বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে এসে পৌঁছাবে। বিসর্জনের সময় ঘাটে অত্যধিক ভিড় হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, বিশেষ করে নৌযানে প্রতিমা তোলার সময় এবং নদীর মাঝখানে বিসর্জন প্রক্রিয়ার সময় নিরাপত্তার ঝুঁকি এড়াতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে নৌ-পুলিশ এবং কোস্টগার্ড। নদীপথে পর্যাপ্ত টহল বাড়ানো হয়েছে যাতে কোনো অনিবন্ধিত নৌকা বা ট্রলারের ভিড় না হয় এবং নৌপথে কোনো দুর্ঘটনা না ঘটে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল ও বিসর্জন এলাকাকে কেন্দ্র করে পুলিশের একাধিক কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হয়েছে। সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে এলাকাটি সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হচ্ছে। স্বেচ্ছাসেবক দল এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা যৌথভাবে কাজ করছেন যেন ভক্তরা সুশৃঙ্খলভাবে লাইনে দাঁড়িয়ে প্রতিমা বিসর্জন দিতে পারেন। ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রেও বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যাতে বিসর্জনের মিছিলে ভারী যান চলাচলের কারণে সাধারণ মানুষের যাতায়াতে বিঘ্ন না ঘটে। নির্দিষ্ট রুটে যানবাহন ডাইভারশন দেওয়া হয়েছে এবং বিসর্জনের গাড়ির জন্য আলাদা লেন নির্ধারণ করা হয়েছে।

আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে বিসর্জনে আগত ভক্ত ও দর্শনার্থীদের উদ্দেশ্যে কিছু পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে নদীর ঘাটে ছোট বাচ্চাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ব্যক্তিগত মূল্যবান জিনিসের দিকে নজর রাখা এবং মাদক বা নেশাজাতীয় দ্রব্য বর্জন করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। কোনো প্রকার সন্দেহজনক আচরণ দেখলে তাৎক্ষণিকভাবে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানোর জন্য বলা হয়েছে। ডুবুরি দলকেও স্ট্যান্ডবাই রাখা হয়েছে যাতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে দ্রুত উদ্ধার কাজ চালানো সম্ভব হয়।

পুরান ঢাকার ঐতিহ্যের সাথে মিশে আছে দুর্গাপূজার এই বিদায়বেলার আড়ম্বর। শত বছরের পুরনো এই রীতি অনুযায়ী, প্রতিমা বিসর্জনের দিন বুড়িগঙ্গার জলপ্রবাহ হয়ে ওঠে উৎসবমুখর। তবে উৎসবের আমেজের পাশাপাশি নিরাপত্তার বিষয়টি এবার সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় পূজা উদযাপন কমিটির নেতারাও জানিয়েছেন, প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগের সাথে তারা নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন এবং স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে নিজস্ব ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে তৎপর আছেন। আশা করা হচ্ছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর তৎপরতা এবং ভক্তদের সহযোগিতায় এবারও শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিমা বিসর্জন সম্পন্ন হবে। সন্ধ্যার পর আলোকসজ্জা এবং বিসর্জন আয়োজনে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

শারদীয় উৎসবের আমেজে হিলি সীমান্তে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:১৪ পূর্বাহ্ণ
   
শারদীয় উৎসবের আমেজে হিলি সীমান্তে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়

শারদীয় দুর্গাপূজার সরকারি ছুটির আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে উত্তরের জনপদে। এই ছুটিকে কেন্দ্র করে দিনাজপুরের হিলি সীমান্তে সাধারণ মানুষের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। সীমান্তের কাঁটাতারের ওপারে ভারত দেখার আগ্রহ থেকে নানা বয়সের মানুষ সেখানে সমবেত হচ্ছেন। গত কয়েক দিন ধরেই সীমান্ত এলাকায় এমন চিত্র দেখা যাচ্ছে, যা স্থানীয় পর্যটন ও বিনোদনের এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

প্রতক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, দুর্গাপূজার ছুটিতে দীর্ঘ সময় পেয়ে অনেকেই সপরিবারে হিলি সীমান্তে ঘুরতে এসেছেন। সীমান্তের শূন্যরেখায় দাঁড়িয়ে কাঁটাতারের ওপারে প্রতিবেশী দেশের জীবনযাত্রা ও সীমান্ত এলাকার দৃশ্য দেখার জন্য মানুষের মধ্যে এক বিশেষ কৌতূহল দেখা গেছে। বিশেষ করে শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে এই কৌতূহল ছিল সবচেয়ে বেশি। সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোর রাস্তাঘাটে সাধারণ দিনের চেয়ে দর্শনার্থীদের আনাগোনা অনেক বেশি বেড়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, পূজা উপলক্ষে সীমান্ত এলাকায় এমন জনসমাগম নতুন নয়। তবে এবারের ছুটিতে দর্শনার্থীদের সংখ্যা আগের তুলনায় অনেক বেশি মনে হচ্ছে। অনেকে দূর-দূরান্ত থেকে পরিবার-পরিজন নিয়ে এসেছেন হিলি সীমান্তের এই দৃশ্য উপভোগ করতে। সীমান্তে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা বিজিবি সদস্যরাও সতর্ক অবস্থানে থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। দর্শনার্থীরা যেন কোনোভাবেই আইন লঙ্ঘন না করেন বা সীমান্তের শূন্যরেখা অতিক্রম করার চেষ্টা না করেন, সে বিষয়ে মাইকিং ও টহল টিমের মাধ্যমে সচেতনতামূলক প্রচার চালানো হচ্ছে।

সীমান্তবর্তী এলাকার দোকানি ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা জানান, এমন ভিড়ের কারণে স্থানীয় বাজারেও কেনাবেচা কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। উৎসবের দিনগুলোতে অনেকেই সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় একটু স্বাচ্ছন্দ্যে সময় কাটাতে পছন্দ করেন। হিলি ইমিগ্রেশন চেকপোস্টের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে পাসপোর্টধারী যাত্রী পারাপার স্বাভাবিক থাকলেও সাধারণ দর্শনার্থীদের ভিড় মূলত শূন্যরেখা বা সীমান্তঘেঁষা এলাকাগুলোতেই সীমাবদ্ধ ছিল।

বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, সীমান্ত নিরাপত্তার স্বার্থে দর্শনার্থীদের গতিবিধির ওপর কঠোর নজর রাখা হচ্ছে। কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি যেন তৈরি না হয়, সে বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তৎপর রয়েছেন। তবে পর্যটকদের উৎসাহ ও ভিড়ের কারণে এলাকার পরিবেশ বেশ উৎসবমুখর হয়ে উঠেছে। দুর্গাপূজা ও এর পরবর্তী দিনগুলোতে এই ভিড় আরও কিছুদিন অব্যাহত থাকতে পারে বলে স্থানীয়রা ধারণা করছেন।

উৎসবের ছুটিকে কেন্দ্র করে সীমান্তে সাধারণ মানুষের এই সমাগম স্থানীয় পর্যায়ে বিনোদনের অভাব মেটানোর একটি মাধ্যম হয়ে উঠেছে। সীমান্তের কাঁটাতারের ওপারে থাকা প্রিয়জন বা পরিচিত পরিবেশের প্রতি মানুষের যে সহজাত আগ্রহ, তা-ই মূলত হিলি সীমান্তের এই ভিড়ের মূল কারণ। দিনব্যাপী ঘোরাঘুরি শেষে সূর্যাস্তের সময় দর্শনার্থীদের ফেরার পালা শুরু হয়, যা সীমান্ত সড়কগুলোতে উৎসবের আমেজকে আরও রঙিন করে তোলে।

নারায়ণগঞ্জে সরকারি মূল্যে সার না পাওয়ার অভিযোগে কৃষকদের বিক্ষোভ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:১৪ পূর্বাহ্ণ
   
নারায়ণগঞ্জে সরকারি মূল্যে সার না পাওয়ার অভিযোগে কৃষকদের বিক্ষোভ

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় কৃষি উপকরণের সংকট নিয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন স্থানীয় চাষিরা। বুধবার সন্ধ্যায় বক্তাবলী এলাকার কানাইনগর বেকারী মোড় এলাকায় সরকারি নির্ধারিত মূল্যে সার না পাওয়ার প্রতিবাদে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন তারা। দীর্ঘ সময় ধরে স্থানীয় বাজারে সারের কৃত্রিম সংকট এবং নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি মূল্য আদায় করা হচ্ছে—এমন অভিযোগ তুলে কৃষকরা রাস্তায় নেমে আসেন। তাদের দাবি, সার সংকটের কারণে ফসলের মাঠ পরিচর্যা ও উৎপাদনে মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটছে।

বিক্ষোভকারী কৃষকদের ভাষ্যমতে, বর্তমান মৌসুমে বিভিন্ন ফসলের জন্য সারের প্রয়োজন হলেও স্থানীয় ডিলার বা খুচরা বিক্রেতাদের কাছে ন্যায্য মূল্যে তা পাওয়া যাচ্ছে না। সরকার নির্ধারিত যে দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে, তার চেয়ে অনেক বেশি দামে সার কিনতে বাধ্য করা হচ্ছে তাদের। যারা বেশি দাম দিতে অস্বীকার করছেন, তারা সার পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে। কানাইনগর এলাকায় জড়ো হয়ে কৃষকরা এই অসাধু চক্রের বিরুদ্ধে প্রশাসনের দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান। সন্ধ্যা গড়িয়ে যাওয়ার পরও উত্তেজিত কৃষকদের বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা গেছে, যার ফলে ওই এলাকায় জনচলাচলে কিছুটা বিঘ্ন ঘটে।

স্থানীয় চাষিদের একাংশ জানিয়েছেন, শুধু দামের সমস্যাই নয়, বরং ডিলারদের কাছে পর্যাপ্ত সারের মজুত থাকার পরও তা বাজারে ছাড়া হচ্ছে না। এর পেছনে একটি সিন্ডিকেট কাজ করছে বলে তাদের ধারণা। সার সংকটের এই প্রভাব পড়তে পারে স্থানীয় কৃষি উৎপাদনে, যা শেষ পর্যন্ত সাধারণ কৃষকদের পথে বসিয়ে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তারা মনে করেন, কৃষিপ্রধান এই এলাকায় সময়মতো সার ও বীজ না পেলে চাষাবাদ বিপর্যয়ের মুখে পড়বে, যার নেতিবাচক প্রভাব স্থানীয় খাদ্য নিরাপত্তার ওপরও পড়বে।

বিক্ষোভের খবর পেয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজর দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন সচেতন মহল। সারের ডিলারশিপ বা সরবরাহ ব্যবস্থায় যদি কোনো অনিয়ম থাকে, তা খতিয়ে দেখে দ্রুত সমাধানের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী কৃষকরা। এর আগে বহুবার অভিযোগ জানানো সত্ত্বেও পরিস্থিতির কোনো উন্নতি না হওয়ায় তারা ক্ষুব্ধ হয়ে এই পথ বেছে নিয়েছেন।

এদিকে, সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতায় শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। পূজা মণ্ডপগুলোতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং যথাযথ তদারকির ফলে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ছাড়াই উৎসবের দিনগুলো পার করেছেন ভক্তরা। সরকারের পক্ষ থেকে নেওয়া কার্যকর পদক্ষেপের ফলে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা এবার নির্বিঘ্নে ও আনন্দঘন পরিবেশে পূজা উদযাপন করতে পেরেছেন। স্থানীয় পর্যায়ে সরকারি নজরদারি থাকায় পূজার সময় কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতির খবর পাওয়া যায়নি, যা সরকারের যথাযথ প্রস্তুতিরই প্রতিফলন বলে মন্তব্য করছেন সংশ্লিষ্টরা। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মতোই নারায়ণগঞ্জের পূজা মণ্ডপগুলোতেও উৎসবমুখর পরিবেশে মানুষ তাদের ধর্মীয় আচার সম্পন্ন করেছেন।

সর্বশেষ
দুর্গাপূজার প্রতিমা বিসর্জন নির্বিঘ্ন করতে বুড়িগঙ্গায় কঠোর নিরাপত্তা শারদীয় উৎসবের আমেজে হিলি সীমান্তে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় নারায়ণগঞ্জে সরকারি মূল্যে সার না পাওয়ার অভিযোগে কৃষকদের বিক্ষোভ নারায়ণগঞ্জে নির্ধারিত মূল্যে সার না পেয়ে কৃষকদের বিক্ষোভ উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন দুর্গাপূজা, বুড়িগঙ্গায় বিসর্জনের ধুম ঢাকা জেলার সব পূজামণ্ডপে দুর্গোৎসব শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন নরসিংদীতে প্রিন্টিং কারখানায় বয়লার বিস্ফোরণ: দগ্ধ ১১ জন অবকাশ শেষে আদালতের প্রথম কার্যদিবসেই আইনজীবীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন প্রধান বিচারপতি ধর্মের শিক্ষা কর্ম ও আচরণে প্রতিফলনের আহ্বান ডিসি জাহিদের রাজপরিবারের সঙ্গে দূরত্ব কমিয়ে স্বাভাবিক সম্পর্কে ফিরতে আগ্রহী প্রিন্সেস ডায়ানাপুত্র হ্যারি
Advertisement