খুঁজুন
, ,

ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণে আধুনিক কিউআর কোড প্রযুক্তির পথে ঢাকা

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১৬ পূর্বাহ্ণ
ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণে আধুনিক কিউআর কোড প্রযুক্তির পথে ঢাকা

রাজধানীর যানজট নিরসন এবং সড়কের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ব্যবস্থাপনায় আমূল পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ। বিশেষ করে ঢাকা মহানগর পুলিশের ট্রাফিক তেজগাঁও বিভাগ এই অভিনব উদ্যোগটি হাতে নিয়েছে। এই নতুন পরিকল্পনার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রতিটি অটোরিকশাকে একটি সুনির্দিষ্ট ডেটাবেজের আওতায় নিয়ে আসা। এর অংশ হিসেবে অটোরিকশাগুলোতে যুক্ত করা হচ্ছে কিউআর কোড বা কুইক রেসপন্স কোড। এর ফলে অটোরিকশাগুলোর চালক, মালিক এবং যানবাহনের প্রয়োজনীয় তথ্য ডিজিটাল পদ্ধতিতে সংরক্ষিত থাকবে, যা ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘদিনের অনিয়ম রোধে বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।

ঢাকা মহানগরীর ব্যস্ততম সড়কগুলোতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার অবাধ চলাচল এবং এর সঠিক হিসাব না থাকায় প্রায়ই যানজট ও দুর্ঘটনার কবলে পড়তে হয় সাধারণ যাত্রীদের। লাইসেন্সবিহীন যানবাহনের আধিক্য এবং চালকদের অদক্ষতার কারণে শহরের ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিয়মিত চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে। ট্রাফিক তেজগাঁও বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রতিটি অটোরিকশায় একটি স্বতন্ত্র কিউআর কোড থাকবে। যখনই কোনো অটোরিকশা স্ক্যান করা হবে, তখন সংশ্লিষ্ট ডিভাইসে অটোমেটিক সেই যানের যাবতীয় তথ্য ভেসে উঠবে। এতে করে অবৈধ বা অননুমোদিত কোনো যানবাহন সড়কে চলাচল করলে সহজেই তা শনাক্ত করা সম্ভব হবে। এটি শুধু নজরদারি বাড়ানোই নয়, বরং অটোরিকশা চালকদের মধ্যেও এক ধরণের দায়বদ্ধতা তৈরি করবে।

প্রযুক্তির এই ব্যবহারের মাধ্যমে ট্রাফিক আইন অমান্য করার প্রবণতাও অনেকটা কমে আসবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। কিউআর কোড স্ক্যান করলে অটোরিকশার মালিকের নাম, ঠিকানা, চালকের পরিচিতি এবং সংশ্লিষ্ট থানা বা ট্রাফিক বিভাগের অনুমোদনের তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা যাবে। এতে করে চুরি বা ছিনতাইয়ের মতো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার ক্ষেত্রেও পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পারবে। অপরাধীরা যেন অটোরিকশা ব্যবহারের মাধ্যমে কোনো অপরাধ সংঘটিত করতে না পারে, তা নিশ্চিত করতেই এই ডিজিটাল ডেটাবেজ তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে পুরো তেজগাঁও এলাকাজুড়ে এই কার্যক্রম বাস্তবায়িত হবে এবং এরপর ধাপে ধাপে অন্যান্য অঞ্চলেও এটি ছড়িয়ে দেওয়া হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সড়কে চলাচলরত প্রতিটি ছোট-বড় যানবাহনকে সুশৃঙ্খল কাঠামোর আওতায় আনার সরকারি প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই এই উদ্যোগটিকে দেখা হচ্ছে। স্থানীয় পর্যায়ে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার মানোন্নয়নে বিভিন্ন সময়ে নানা পরিকল্পনা গ্রহণ করা হলেও কিউআর কোডের মতো প্রযুক্তির সরাসরি প্রয়োগ এই প্রথম বড় আকারে শুরু হতে যাচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগী যাত্রীরা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা মনে করছেন, কিউআর কোড ব্যবহারের ফলে অটোরিকশা ব্যবহারের ক্ষেত্রে এক ধরণের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। চালকদের স্বেচ্ছাচারিতা এবং যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামার প্রবণতা নিয়ন্ত্রণে এই ব্যবস্থাটি অত্যন্ত কার্যকরী হতে পারে।

বর্তমানে প্রাথমিকভাবে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে এই কিউআর কোড স্টিকার লাগানো এবং ডাটা এনট্রির কাজ চলমান রয়েছে। ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা নির্দিষ্ট পয়েন্টে অটোরিকশা থামিয়ে এই প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করছেন। এই প্রক্রিয়ার সাথে যুক্ত পুলিশ সদস্যরা জানিয়েছেন, স্থানীয় অটোরিকশা মালিক এবং চালকদের সাথে আলোচনার ভিত্তিতেই তথ্য সংগ্রহের কাজটি করা হচ্ছে। কোনো প্রকার জটিলতা ছাড়াই যেন চালকরা এই কিউআর কোড সংগ্রহ করতে পারেন, সে বিষয়েও পুলিশের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

পরিশেষে, রাজধানী ঢাকার যোগাযোগ ব্যবস্থাকে স্মার্ট ও নিরাপদ করার যে লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে, এই ডিজিটাল উদ্যোগ তাকে কয়েক ধাপ এগিয়ে দেবে। অটোরিকশার পাশাপাশি অন্যান্য গণপরিবহনেও যদি পর্যায়ক্রমে এমন ডিজিটাল মনিটরিং ব্যবস্থা চালু করা সম্ভব হয়, তবে অদূর ভবিষ্যতে ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থা আরও সুশৃঙ্খল ও জনবান্ধব হয়ে উঠবে বলেই বিশেষজ্ঞ মহল মনে করছেন। আপাতত এই কিউআর কোড ব্যবস্থা কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয়, এখন সেটাই দেখার অপেক্ষায় নগরবাসী।

অ্যানফিল্ডে লিভারপুলের রোমাঞ্চকর প্রত্যাবর্তন: পিছিয়ে পড়েও জয় ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১৫ অপরাহ্ণ
   
অ্যানফিল্ডে লিভারপুলের রোমাঞ্চকর প্রত্যাবর্তন: পিছিয়ে পড়েও জয় ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে

উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের এক রুদ্ধশ্বাস ও নাটকীয় লড়াইয়ে জয় পেল লিভারপুল। মঙ্গলবার রাতে নিজ মাঠ অ্যানফিল্ডে স্প্যানিশ ক্লাব ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে মুখোমুখি হয়েছিল অল রেডরা। ম্যাচের শুরুটা লিভারপুলের জন্য মোটেও সুখকর ছিল না। প্রতিপক্ষের আক্রমণভাগের তোপে পড়ে ম্যাচের শুরুতেই খেই হারিয়ে ফেলেছিল তারা। তবে শেষ পর্যন্ত ঘুরে দাঁড়িয়ে জয় তুলে নিতে সক্ষম হয় স্বাগতিকেরা। খেলার চূড়ান্ত ফলাফল ৪-৩। এই জয়ের মাধ্যমে চ্যাম্পিয়নস লিগের পয়েন্ট টেবিলে নিজেদের অবস্থান আরও সুসংহত করল লিভারপুল।

ম্যাচের বাঁশি বাজার পর থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে ভিয়ারিয়াল। এর ফলও তারা দ্রুত পেয়ে যায়। ম্যাচের চতুর্থ মিনিটের মাথায় জর্জেস মিকাউতাদজে গোল করে ভিয়ারিয়ালকে এগিয়ে দেন। এই গোল হজম করার পর লিভারপুল ডিফেন্স কিছুটা চাপে পড়ে যায়। সেই চাপের সুযোগ কাজে লাগিয়ে ২৯ মিনিটের সময় ব্যবধান বাড়ান সার্জি কারদোনা। মাত্র আধঘণ্টার কম সময়ের মধ্যে দুই গোল খেয়ে অ্যানফিল্ডের গ্যালারিতে তখন স্তব্ধতা। লিভারপুল সমর্থকরা তখন দলের কাছ থেকে এমন বিপর্যয়ের আশা করেননি। তবে পিছিয়ে পড়ার পর লিভারপুল খেলোয়াড়দের মানসিকতায় বড় ধরনের পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়।

দুই গোলে পিছিয়ে পড়ার পর লিভারপুল তাদের আক্রমণের ধার বাড়াতে বাধ্য হয়। মাঝমাঠে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি ফরোয়ার্ড লাইনে অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার ও তার সতীর্থরা দুর্দান্ত সব আক্রমণ তৈরি করতে থাকেন। ম্যাচের ৩৬ মিনিটে ম্যাক অ্যালিস্টারের পায়ের জাদুতে প্রথম গোলের দেখা পায় স্বাগতিকরা। এই গোলটি যেন পুরো দলের আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনে। প্রথমার্ধের শেষভাগে লিভারপুল আরও মরিয়া হয়ে ওঠে। বিরতির আগে গোল সংখ্যা আর না বাড়লেও দলের আক্রমণের ধরনে স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল যে দ্বিতীয়ার্ধে এক দারুণ লড়াই অপেক্ষা করছে দর্শকদের জন্য।

দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নেমে লিভারপুল যেন অন্য এক রূপে ধরা দেয়। টানা আক্রমণ আর গোলের সুযোগ তৈরির মাধ্যমে তারা ভিয়ারিয়ালের রক্ষণভাগের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে থাকে। পাল্টা আক্রমণ থেকেও ভিয়ারিয়াল চেষ্টা চালিয়েছে, তবে লিভারপুলের গোলরক্ষক ও ডিফেন্ডাররা তাদের প্রতিটি প্রচেষ্টাকে ব্যর্থ করে দেন। খেলার নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লিভারপুল পরপর গোল করে স্কোরবোর্ডে সমতা ফেরাতে সক্ষম হয়। ম্যাচের গতিপ্রকৃতি বদলে যায় যখন তারা ভিয়ারিয়ালের রক্ষণভাগের দুর্বলতাকে পুঁজি করে একের পর এক লক্ষ্যভেদ করতে থাকে।

শেষ পর্যন্ত ৪-৩ গোলের এই জয় লিভারপুলের অদম্য মানসিকতার পরিচয় দেয়। দুই গোল পিছিয়ে থেকেও এভাবে ফিরে আসা চ্যাম্পিয়নস লিগের মতো বড় আসরে সচরাচর দেখা যায় না। জয়ের ফলে দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে দারুণ উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা গেছে। অন্যদিকে, ম্যাচের অধিকাংশ সময় নিয়ন্ত্রণে রেখেও ভিয়ারিয়াল যেভাবে জয় হাতছাড়া করল, তা নিয়ে তাদের হতাশ হওয়ার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। অ্যানফিল্ডের সমর্থকদের জন্য এটি ছিল এক অবিস্মরণীয় রাত।

এই জয় লিভারপুলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। চ্যাম্পিয়নস লিগের আগামী রাউন্ডে যাওয়ার পথ সহজ করতে এই তিন পয়েন্ট তাদের জন্য বাড়তি অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে। কোচ ও ম্যানেজমেন্ট এই ম্যাচের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করে আগামী দিনের প্রস্তুতির কৌশল নির্ধারণ করবেন। তবে সব মিলিয়ে ফুটবল প্রেমীদের জন্য এটি ছিল এক উপভোগ্য এবং নাটকীয় ম্যাচ, যা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত উত্তেজনা ধরে রেখেছিল।

বিরোধী রাজনৈতিক নেতাদের ওপর গোয়েন্দা নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন তুললেন হাসনাত আবদুল্লাহ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১৫ অপরাহ্ণ
   
বিরোধী রাজনৈতিক নেতাদের ওপর গোয়েন্দা নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন তুললেন হাসনাত আবদুল্লাহ

দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিরোধী দলগুলোর ওপর গোয়েন্দা নজরদারি চালানোর বিষয়ে তীব্র অসন্তোষ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির সংসদ সদস্য ও কুমিল্লা-৪ আসনের প্রতিনিধি হাসনাত আবদুল্লাহ। রাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে ক্ষমতার অপব্যবহারের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের যে অভিযোগ উঠেছে, তা নিয়ে তিনি সরাসরি প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন বর্তমান সরকারের কর্মকাণ্ডকে। তার মতে, একটি গণতান্ত্রিক দেশে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে কিংবা প্রত্যক্ষ মদতে বিরোধী রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের ওপর রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা নজরদারি চালানো কোনোভাবেই কাম্য বা আইনসম্মত হতে পারে না।

সম্প্রতি এক আলোচনা সভায় হাসনাত আবদুল্লাহ তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, রাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মূল কাজ হলো জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক ঝুঁকি মোকাবিলায় সরকারকে সহায়তা করা। অথচ সাম্প্রতিক সময়ে এসব সংস্থাকে ব্যবহার করে বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের ওপর ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক নজরদারি চালানো হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ তোলেন। তিনি এমন একটি পরিস্থিতির আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যেখানে রাষ্ট্রের সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পরিবর্তে গোয়েন্দা শক্তিকে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ দমনে ব্যবহার করা হচ্ছে।

হাসনাত আবদুল্লাহ আরও বলেন, গোয়েন্দা সংস্থাগুলো যদি সরকারের পক্ষ হয়ে বিরোধী দলের ওপর গোয়েন্দাগিরি করার প্রকাশ্য ঘোষণা দেয়, তবে তা রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক রীতিনীতিকে চূড়ান্তভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে। এটি কোনো একক দলের প্রশ্ন নয়, বরং দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতির ওপর একটি বড় আঘাত। জনগণের ট্যাক্সের টাকায় পরিচালিত এই সংস্থাগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কাজে নিয়োজিত থাকাটা গণতন্ত্রের জন্য হুমকিস্বরূপ। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, কোনো প্রধানমন্ত্রী বা রাষ্ট্রপ্রধান প্রকাশ্যে বিরোধী দলগুলোর ওপর নজরদারির ঘোষণা দিতে পারেন কি না, তা নিয়ে সাংবিধানিক ও নৈতিক উভয় ক্ষেত্রেই বড় ধরনের প্রশ্ন রয়েছে।

তিনি দাবি করেন, রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিরপেক্ষ রাখা এবং তাদের প্রকৃত দায়িত্ব পালনে উৎসাহিত করাই সরকারের প্রধান কাজ হওয়া উচিত। যদি গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে ব্যক্তিগত বা দলীয় স্বার্থে রাজনৈতিক বিরোধী পক্ষের পিছু লাগানোর জন্য ব্যবহার করা হয়, তবে সাধারণ মানুষের কাছে রাষ্ট্রের প্রতি আস্থার জায়গাটি নষ্ট হয়ে যায়। হাসনাত আবদুল্লাহ সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, অবিলম্বে এই বিতর্কিত চর্চা থেকে বেরিয়ে এসে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ভাবমূর্তি রক্ষায় সচেষ্ট হতে হবে এবং কোনো রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমন করার মাধ্যম হিসেবে গোয়েন্দা সংস্থাকে ব্যবহার করা বন্ধ করতে হবে।

তিনি তার বক্তৃতায় আরও জোর দিয়ে বলেন, গণতন্ত্রে ভিন্নমত থাকবে, আলোচনা-সমালোচনা থাকবে—এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু সেই ভিন্নমতকে দমানোর জন্য রাষ্ট্রের শক্তিশালী গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক ব্যবহার করা কোনো সুস্থ রাজনীতির লক্ষণ হতে পারে না। বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের ওপর গোয়েন্দাগিরির মাধ্যমে এক ধরনের ভয়ের পরিবেশ তৈরির যে চেষ্টা চলছে, তা দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতাকে আরও বাড়িয়ে তুলবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, রাষ্ট্রের গোয়েন্দা বাহিনীকে দলীয়করণ করা হলে শেষ পর্যন্ত তা রাষ্ট্রের জন্যই দীর্ঘমেয়াদী সংকটের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

হাসনাত আবদুল্লাহর এই মন্তব্য দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। রাষ্ট্রের গোয়েন্দা নজরদারি ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সীমা নিয়ে দীর্ঘদিনের যে বিতর্ক, তা তার এই বক্তব্যকে ঘিরে নতুন করে সামনে এলো। রাজনীতির মাঠে এখন প্রশ্ন উঠছে, আসলেই কী রাষ্ট্রযন্ত্রের অপব্যবহারের মাধ্যমে বিরোধী মতকে স্তব্ধ করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে, নাকি এটি নিছক রাজনৈতিক উত্তাপের একটি অংশ। সব মিলিয়ে, গোয়েন্দা নজরদারি নিয়ে হাসনাত আবদুল্লাহর এই ক্ষোভ বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

প্রবাসীদের রেমিট্যান্সে রাষ্ট্র চললেও তাদের অবহেলা গ্রহণযোগ্য নয়: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১৪ অপরাহ্ণ
   
প্রবাসীদের রেমিট্যান্সে রাষ্ট্র চললেও তাদের অবহেলা গ্রহণযোগ্য নয়: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের কোনো বিকল্প নেই। অথচ প্রবাসীদের পাঠানো এই অর্থ রাষ্ট্র ব্যবহার করলেও, তাদের নিরাপত্তা ও সমস্যা সমাধানে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখা যায় না। এমন পরিস্থিতিতে প্রবাসীদের পাশে না দাঁড়ানোকে কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। সম্প্রতি এক দলীয় আলোচনায় তিনি প্রবাসীদের প্রতি সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর দায়সারা মানসিকতার কঠোর সমালোচনা করেন।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী অভিযোগ করেন যে, দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হলো প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধারা। অথচ তাদের পাঠানো কষ্টের উপার্জনে রাষ্ট্র নানা ধরনের সুবিধা ভোগ করলেও, তাদের কল্যাণে বারবারই ব্যর্থতার পরিচয় দিয়ে আসছে সংশ্লিষ্ট দুটি মন্ত্রণালয়। তার মতে, প্রবাসীদের যথাযথ মূল্যায়ন না করা এবং বিপদের সময় তাদের পাশে না দাঁড়ানো কেবল অবহেলা নয়, বরং এটি তাদের প্রতি এক ধরনের অবিচার। প্রবাসীরা যখন বিদেশে নানা ধরনের প্রতিকূল পরিস্থিতির শিকার হন বা কোনো সমস্যায় পড়েন, তখন সরকারি সহায়তা পাওয়ার ক্ষেত্রে তারা দীর্ঘসূত্রতার কবলে পড়েন বলে অভিযোগ রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ দেশের ব্যাংক ও আর্থিক খাতকে শক্তিশালী করছে। উন্নয়ন প্রকল্প থেকে শুরু করে জাতীয় বাজেটের একটি বড় অংশ আসে প্রবাসীদের রেমিট্যান্স থেকে। অথচ যারা দেশের জন্য এই বিশাল ত্যাগ স্বীকার করছেন, তাদের যথাযথ সুরক্ষা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, প্রবাসীরা যখন দেশে ফেরেন কিংবা বিদেশে থাকা অবস্থায় কোনো আইনি বা সামাজিক সহায়তার প্রয়োজন বোধ করেন, তখন সরকারি সংস্থাগুলোর কাছ থেকে কাঙ্ক্ষিত সহযোগিতা পান না। এমন বৈষম্যমূলক আচরণ জাতীয় অর্থনীতির জন্য দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি ডেকে আনতে পারে বলেও তিনি সতর্ক করেন।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স কেবল সংখ্যাতত্ত্বের বিষয় নয়, এটি প্রতিটি প্রবাসীর রক্ত-ঘামের বিনিময়ে অর্জিত। তাদের এই অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে সরকারের উচিত তাদের প্রতি আরও আন্তরিক হওয়া। মন্ত্রণালয়গুলোর উচিত প্রবাসী কল্যাণমূলক নীতিমালা ঢেলে সাজানো এবং তাদের সমস্যা সমাধানে একটি দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলা। কিন্তু দুঃখজনকভাবে, বছরের পর বছর পার হলেও প্রবাসী সেবা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সরকারের দৃশ্যমান কোনো উন্নতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে না।

তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, প্রবাসীরা দেশের সম্মান ও অর্থনীতির মেরুদণ্ড। তাদের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হয় এমন কোনো পদক্ষেপই গ্রহণযোগ্য নয়। সরকারকে অবশ্যই প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে এবং তাদের পাঠানো রেমিট্যান্সের বিপরীতে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে যথাযথ সুযোগ-সুবিধা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। প্রবাসীদের প্রতি এমন অবহেলা ও উদাসীনতা অব্যাহত থাকলে তা দেশের স্বার্থেই বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। অবিলম্বে প্রবাসী কল্যাণ বিষয়ক মন্ত্রণালয়গুলোকে তাদের দায়িত্বশীলতার জায়গা থেকে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

পরিশেষে, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী উল্লেখ করেন যে, প্রবাসীদের শুধু রেমিট্যান্স প্রদানকারী হিসেবে দেখলে চলবে না, বরং তাদের দেশের অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। তাদের ন্যায্য অধিকার ও মানবিক মর্যাদা রক্ষার দাবিটি এখন সময়ের প্রয়োজনে পরিণত হয়েছে। রাষ্ট্র যদি তাদের পাশে না দাঁড়ায়, তবে সেই অর্থনীতি টেকসই হওয়ার সুযোগ নেই। তাই প্রবাসী বান্ধব নীতি প্রণয়ন এবং বাস্তবায়নের মাধ্যমেই এই সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।

সর্বশেষ
অ্যানফিল্ডে লিভারপুলের রোমাঞ্চকর প্রত্যাবর্তন: পিছিয়ে পড়েও জয় ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে বিরোধী রাজনৈতিক নেতাদের ওপর গোয়েন্দা নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন তুললেন হাসনাত আবদুল্লাহ প্রবাসীদের রেমিট্যান্সে রাষ্ট্র চললেও তাদের অবহেলা গ্রহণযোগ্য নয়: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী হাজারীবাগে কুরিয়ার সার্ভিসের কার্যালয়ে ভাঙচুর ও চাঁদাবাজির অভিযোগ ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণে আধুনিক কিউআর কোড প্রযুক্তির পথে ঢাকা খালেদা জিয়ার মতো সাজপোশাকের বিষয়টি অস্বীকার করলেন মেঘনা আলম ইশরাকের পদত্যাগে সাংবিধানিক কোনো ব্যত্যয় ঘটেনি: অ্যাটর্নি জেনারেল রাজশাহীতে জনসভায় অংশ নিতে গিয়ে নেতাকর্মীদের মোবাইল চুরি নেত্রকোনায় বিধবাকে মারধরের অভিযোগে বহিষ্কৃত যুবদল নেতা দুর্গাপূজা উপলক্ষে রমনা ও ঢাকেশ্বরী মন্দিরে গণঅধিকার পরিষদের প্রতিনিধিদল
Advertisement