শারদীয় দুর্গাপূজার সমাপ্তি ঘটেছে অত্যন্ত উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ আবহে। রাজধানী ঢাকা এবং এর আশপাশের জেলাগুলোতে দুর্গাপূজা কেন্দ্র করে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া নজরদারি এবং স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বিত পদক্ষেপে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা এবার নির্বিঘ্নে তাদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব পালন করতে পেরেছেন। জেলা পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, পুরো উৎসবের সময়জুড়ে ঢাকা জেলার সব পূজামণ্ডপে আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতি স্বাভাবিক ছিল।
বিজয়া দশমীর আনুষ্ঠানিকতার অংশ হিসেবে বুধবার দুপুরের পর থেকেই প্রতিমা বিসর্জনের কার্যক্রম শুরু হয়। রাজধানীর বিভিন্ন পূজামণ্ডপ থেকে ভক্তরা ট্রাকে বা অন্য যানবাহনে করে প্রতিমা নিয়ে বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে সমবেত হতে থাকেন। ঢাক-ঢোল আর বাদ্যযন্ত্রের তালে তালে ‘দুর্গা মাই কি জয়’ ধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে নদীর তীরবর্তী এলাকা। বিকেল গড়াতেই ঘাটগুলোতে জনস্রোত বাড়তে শুরু করে। নদীর পাড়ে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ ও নৌ-পুলিশের সদস্যরা তৎপর রয়েছেন।
উৎসবের শেষ দিনটিতে ভক্তরা সিঁদুর খেলা এবং একে অপরকে মিষ্টিমুখ করানোর মাধ্যমে পারস্পরিক সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দেন। বরাবরের মতো এবারও বুড়িগঙ্গা নদীতে প্রতিমা বিসর্জনের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিসর্জনের আনুষ্ঠানিকতা আরও গতি পায়। স্থানীয় প্রশাসনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভোর পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্নভাবে বিসর্জন কার্যক্রম চলার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। কোনো মণ্ডপেই বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়নি, বরং সব জায়গায় সুষ্ঠুভাবে পূজা উদযাপনের পরিবেশ বজায় ছিল বলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দ জানিয়েছেন, মণ্ডপগুলোতে পূজা শুরুর প্রথম দিন থেকে শেষ দিন পর্যন্ত নিরাপত্তার বিষয়টি ছিল অগ্রাধিকার তালিকায়। ঢাকা জেলার পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখার কারণে মণ্ডপগুলোতে ভক্ত ও দর্শনার্থীরা কোনো ধরনের হয়রানি ছাড়া যাতায়াত করতে পেরেছেন। বিশেষ করে রাতে আলোকসজ্জা দেখার জন্য মানুষের উপচেপড়া ভিড় থাকলেও কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেনি।
এদিকে শারদীয় দুর্গোৎসবের এই মাহেন্দ্রক্ষণ উপলক্ষে আয়োজিত বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা অংশ নিয়েছেন। তারা ধর্মের মূল শিক্ষাগুলো দৈনন্দিন জীবনে এবং কর্মক্ষেত্রে প্রতিফলিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছেন। বক্তারা আশা প্রকাশ করেছেন যে, ধর্মের এই পবিত্র শিক্ষা ও মানবিক মূল্যবোধ সমাজকে আরও আলোকিত করে তুলবে। পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ব ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার যে বহিঃপ্রকাশ এই উৎসবে দেখা গেছে, তা যেন সারা বছর বজায় থাকে, সেই প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেছেন তারা।
রাত বাড়ার সাথে সাথে বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে বিসর্জন দেখতে আসা মানুষের ভিড় আরও বাড়ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা রাতভর বিসর্জন প্রক্রিয়া নির্বিঘ্ন করতে দায়িত্ব পালন করছেন। প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হচ্ছে শারদীয় দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা। ভক্তরা এখন আগামী বছরের অপেক্ষায় দিন গুনছেন। যথাযথ নিরাপত্তা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে ঢাকাবাসী সম্পন্ন করলেন আরেকটি দুর্গাপূজার মৌসুম। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার সংবাদ না পাওয়ায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন আয়োজকসহ স্থানীয় প্রশাসন।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬ । ৯:১৪ পূর্বাহ্ণ