ঠাকুরগাঁওয়ে জিংকসমৃদ্ধ ব্রি ধান-১০২ চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে মাঠ দিবস
রাজধানীর আজিমপুরে অবস্থিত গভর্নমেন্ট কলেজ অব অ্যাপ্লাইড হিউম্যান সায়েন্স বা হোম ইকোনমিকস কলেজে উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছে। বিভিন্ন অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা এবং শিক্ষার্থীদের ওপর অন্যায্য চাপ প্রয়োগের অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মেহেরুন্নেছার পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে অধ্যক্ষকে তার নিজ কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে রেখেছেন তারা। এ সময় শিক্ষার্থীদের অবস্থান কর্মসূচি ও বিক্ষোভের কারণে কলেজের প্রশাসনিক কার্যক্রমে অচলাবস্থা তৈরি হয়।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই অধ্যক্ষ দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে স্বৈরাচারী মনোভাব প্রদর্শন করছেন। বিশেষ করে কলেজের আবাসিক হলের আসন বাতিলের ভয় দেখানো এবং শিক্ষার্থীদের ওপর অযৌক্তিক জরিমানা আরোপের মতো ঘটনা তাদের ক্ষোভকে উসকে দিয়েছে। শিক্ষার্থীদের ভাষ্যমতে, কলেজের অডিটোরিয়ামের বিদ্যুৎ বিল বাবদ ১২ হাজার ৬০০ টাকা জরিমানা হিসেবে শিক্ষার্থীদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে, যা অত্যন্ত অন্যায় ও ভিত্তিহীন। এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতেই মূলত শিক্ষার্থীরা আজ একজোট হয়ে অধ্যক্ষের পদত্যাগের ডাক দিয়েছেন।
বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীরা জানান, অধ্যক্ষের বিভিন্ন সিদ্ধান্তে তারা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছেন। পড়াশোনার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখার পরিবর্তে উল্টো শিক্ষার্থীদের হয়রানি করা হচ্ছে বলে তাদের দাবি। এই স্বেচ্ছাচারিতা আর মেনে নেওয়া সম্ভব নয় বলেই তারা অধ্যক্ষের অপসারণ চেয়েছেন। সকাল থেকে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ বেলা বাড়ার সাথে সাথে আরও জোরালো হয়ে ওঠে। শিক্ষার্থীরা তাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অধ্যক্ষকে কার্যালয় থেকে বের হতে দেবেন না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত শিক্ষার্থীরা জানান, কোনো আলোচনা বা সুরাহা ছাড়া তারা এই অবস্থান কর্মসূচি প্রত্যাহার করবেন না। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর সমাধানের আশ্বাস মেলেনি, যার ফলে শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ ক্রমাগত বাড়ছে। দীর্ঘ সময় অধ্যক্ষ কার্যালয়ে অবরুদ্ধ থাকায় ক্যাম্পাসে এক ধরনের থমথমে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো সদস্য তাৎক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হস্তক্ষেপ করেছেন কি না, তা জানা না গেলেও শিক্ষার্থীরা তাদের দাবিতে অনড় অবস্থানে রয়েছেন।
উল্লেখ্য, সংশ্লিষ্ট কলেজ কর্তৃপক্ষ বা অধ্যক্ষের পক্ষ থেকে এই অভিযোগগুলোর বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে শিক্ষার্থীদের এই ব্যাপক বিক্ষোভ ক্যাম্পাস ও এর আশপাশের এলাকায় আলোচনার জন্ম দিয়েছে। শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে শিক্ষার্থীরা তাদের আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন।
রাজধানীর শাহজাহানপুর থানাধীন শান্তিবাগে ছোট ভাইয়ের হাতে বড় ভাই খুন হওয়ার মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার ৫ নভেম্বর সন্ধ্যায় ঘটে যাওয়া এই হত্যাকাণ্ডে সাইফুল ইসলাম সাইফ নামের ২৩ বছর বয়সী এক যুবক প্রাণ হারিয়েছেন। পারিবারিক বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। শান্তিবাগের ১৮৭ নম্বর ঠিকানার একটি বহুতল ভবনের নবম তলায় এই ঘটনাটি ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সময় বড় ভাই সাইফ বাসায় ছিলেন এবং কোনো এক বিষয় নিয়ে ছোট ভাইয়ের সঙ্গে তার উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। এক পর্যায়ে ছোট ভাই ধারালো ছুরি দিয়ে সাইফের গলায় আঘাত করে। আকস্মিক এই হামলায় সাইফ রক্তাক্ত অবস্থায় লুটিয়ে পড়লে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসেন।
পরিবারের সদস্যরা গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে দ্রুত উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। সন্ধ্যা নাগাদ চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন বলে হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে। খবর পেয়ে শাহজাহানপুর থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে আলামত সংগ্রহ শুরু করেছে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত ছোট ভাই পলাতক রয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তকে আটকের জন্য এলাকাভিত্তিক অনুসন্ধান এবং গোয়েন্দা তৎপরতা চালানো হচ্ছে। নিহতের মৃতদেহ বর্তমানে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর হত্যার সঠিক কারণ ও পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানা যাবে।
ঘটনার পর থেকেই শান্তিবাগের ওই এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও স্বজনদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও বিষাদ বিরাজ করছে। পুলিশ এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় একটি মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করছে এবং ঘটনার সঙ্গে আর কেউ জড়িত কি না তা খতিয়ে দেখছে। একইসঙ্গে, কেন এমন জঘন্য ঘটনা ঘটল, সেটির কারণ অনুসন্ধানেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে পুলিশ ঘটনার মূল কারণ এবং অভিযুক্তের অবস্থান সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করছে। রাজধানীতে এই ধরনের পারিবারিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা জনমনে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে, আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে খুব দ্রুতই এই ঘটনার রহস্য উদঘাটন এবং অপরাধীকে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পাওয়ার ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের চলমান আসরে দারুণ এক জয়ের মাধ্যমে নিজেদের যাত্রা শুরু করেছে বাংলাদেশ ফুটবল দল। টুর্নামেন্টে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ভুটানের মুখোমুখি হয়েছিল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের এই ম্যাচে শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ ১-০ গোলের ব্যবধানে জয়লাভ করে মাঠ ছেড়েছে। ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দিয়েছেন বদলি হিসেবে মাঠে নামা ফরোয়ার্ড মোহাম্মদ ইব্রাহিম। তার গোলেই নিশ্চিত হয়েছে দলের এই স্বস্তির জয়।
ম্যাচের শুরুর দিকে বাংলাদেশ দল একাদশ সাজানোর ক্ষেত্রে কিছু কৌশলগত পরিবর্তন এনেছিল। বিশ্বনাথ ঘোষকে স্ট্রাইকার পজিশনে খেলিয়ে প্রতিপক্ষের রক্ষণে চাপ সৃষ্টির পরিকল্পনা করেছিলেন কোচিং স্টাফরা। তবে প্রথমার্ধে এই কৌশল খুব একটা কার্যকর হয়নি। ভুটানের রক্ষণভাগ বেশ সুসংগঠিত ছিল, ফলে বাংলাদেশ গোল করার একাধিক সুযোগ তৈরি করেও তা থেকে কোনো ফলাফল পায়নি। প্রথমার্ধের খেলা গোলশূন্যভাবেই শেষ হয়।
দ্বিতীয়ার্ধের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত খেলা একই রকম ছিল। ভুটান রক্ষণাত্মক খেলার পাশাপাশি পাল্টা আক্রমণের চেষ্টা করছিল, অন্যদিকে বাংলাদেশ গোলের জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছিল। কিন্তু কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা মিলছিল না। কোচ তখন আক্রমণের ধার বাড়াতে সাইড বেঞ্চ থেকে খেলোয়াড় পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেন। এরই অংশ হিসেবে মাঠে নামানো হয় মোহাম্মদ ইব্রাহিমকে।
মাঠে নামার পর ইব্রাহিম যেন জাদুর ছোঁয়া নিয়ে এসেছিলেন। বদলি হিসেবে নামার মাত্র দুই মিনিটের মাথায় ভুটানের রক্ষণভাগের দেয়াল ভেঙে গোল আদায় করে নেন তিনি। গ্যালারিতে উপস্থিত দর্শকরাও ইব্রাহিমের এমন দ্রুত গোল দেখে আনন্দে মেতে ওঠেন। এই গোলটির পরই বাংলাদেশ দল রক্ষণভাগকে আরও শক্তিশালী করে খেলে এবং ম্যাচের অবশিষ্ট সময়ে ভুটানকে কোনো গোল শোধ করার সুযোগ দেয়নি।
ম্যাচ জয়ের পর খেলোয়াড়দের মধ্যে দারুণ আত্মবিশ্বাস দেখা গেছে। টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচেই তিন পয়েন্ট অর্জন করাটা যেকোনো দলের জন্যই বাড়তি মানসিক শক্তি হিসেবে কাজ করে। ভুটানের মতো প্রতিপক্ষের বিপক্ষে এই জয় টুর্নামেন্টের সামনের ম্যাচগুলোর জন্য বাংলাদেশকে এগিয়ে রাখবে। দলের পারফরম্যান্স নিয়ে ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, আক্রমণের ধার কিছুটা বাড়াতে পারলে সামনের দিনগুলোতে আরও ভালো ফল করা সম্ভব। এখন সবার লক্ষ্য টুর্নামেন্টের পরবর্তী ধাপগুলো সফলভাবে সম্পন্ন করা এবং ধারাবাহিকভাবে ভালো খেলা বজায় রাখা। কোচিং প্যানেল এখন দলের ভুলত্রুটিগুলো সংশোধন করে পরের ম্যাচের জন্য প্রস্তুতি শুরু করবেন। সমর্থকদের প্রত্যাশা, ইব্রাহিমসহ অন্য আক্রমণভাগের খেলোয়াড়রা আগামী ম্যাচগুলোতেও তাদের এই ফর্ম ধরে রাখবেন।
শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে অবরুদ্ধ হোম ইকোনমিকস কলেজের অধ্যক্ষ
রাজধানীর শান্তিবাগে ছোট ভাইয়ের ছুরিকাঘাতে বড় ভাই নিহত
সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে জয় দিয়ে শুরু বাংলাদেশের
ভুটানের বিপক্ষে গোলখরায় বাংলাদেশ: স্ট্রাইকার হিসেবে বিশ্বনাথের চমক কাজে এলো না
জাতীয় নাগরিক পার্টি থেকে সামান্তা শারমিনের পদত্যাগ, তুলে ধরলেন চার কারণ
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা ও নতুন মেরুকরণের আভাস
যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পোশাক রপ্তানি কমলেও বাংলাদেশের অংশীদারত্ব বাড়ল
সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে ভুটানের বিপক্ষে পরীক্ষা-নিরীক্ষার মিশনে বাংলাদেশ
নিরাপত্তা নিয়ে কোনো উদ্বেগ নেই, জানালেন ভারত কোচ নওশাদ মুসা
জাতীয় নাগরিক পার্টি থেকে পদত্যাগ করলেন সামান্তা শারমিন
আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]