খুঁজুন
, ,

দেশে ধর্মের নামে যেন কোনো বিভেদ না থাকে: প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ২:১৫ অপরাহ্ণ
দেশে ধর্মের নামে যেন কোনো বিভেদ না থাকে: প্রধানমন্ত্রী

ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে মানুষের মধ্যে বিভেদ তৈরি না করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, প্রত্যেকে নিজ নিজ ধর্ম পালন করলেও দেশের মানুষের অভিন্ন পরিচয় বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে। মঙ্গলবার রাতে চট্টগ্রামের রহমতগঞ্জের জেএম সেন পূজামণ্ডপে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় শেষে তিনি এ কথা বলেন।

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্যের মূল কথা ছিল, ধর্ম মানুষের ব্যক্তিগত বিশ্বাস ও চর্চার বিষয়; কিন্তু নাগরিক পরিচয়ের ক্ষেত্রে সবাই বাংলাদেশি। ধর্মের ভিন্নতাকে কেন্দ্র করে যেন দেশে কোনো বিভাজন না হয়, সে প্রত্যাশাও তুলে ধরেন তিনি।

পূজামণ্ডপে গিয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে কুশল বিনিময়ের মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তাঁদের উৎসবের শুভেচ্ছা জানান। এ সময় তাঁর বক্তব্যে ধর্মীয় পরিচয় ও জাতীয় পরিচয়ের পার্থক্য স্পষ্টভাবে উঠে আসে। ধর্ম যার যার নিজস্ব বিষয়—এই বক্তব্যের পাশাপাশি তিনি দেশের নাগরিক হিসেবে সবার পরিচয়কে এক জায়গায় দেখার কথা বলেন।

ধর্মীয় উৎসবের সময়ে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় এবং তাঁদের প্রতি সৌহার্দ্য প্রকাশের তাৎপর্য রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যেও সেই পারস্পরিক সম্মান ও অভিন্ন নাগরিক পরিচয়ের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। তিনি ধর্ম পালনের স্বাতন্ত্র্য স্বীকার করে বিভেদ এড়িয়ে চলার কথা বলেছেন; অর্থাৎ বিশ্বাসের ভিন্নতা যেন নাগরিকদের মধ্যে দূরত্বের কারণ না হয়, সেই বার্তাই দিয়েছেন।

বক্তব্যের আরেক পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী ১৯৭১ সালের প্রসঙ্গ তোলেন। তবে প্রকাশিত বক্তব্যের ওই অংশ অসম্পূর্ণ থাকায় তিনি মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গে ঠিক কী বলেছেন, তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। তাই তাঁর বক্তব্যের ওই অংশের বিস্তারিত এখানে উল্লেখ করা হলো না। নিশ্চিতভাবে জানা যায়, তিনি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় শুভেচ্ছা জানিয়েছেন এবং ধর্মীয় বিভেদ না রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।

চট্টগ্রামের রহমতগঞ্জে অবস্থিত জেএম সেন পূজামণ্ডপে এই কুশল বিনিময় অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সেখানে কারা উপস্থিত ছিলেন, তাঁদের পরিচয় কিংবা অনুষ্ঠানের অন্য কোনো বক্তব্য সম্পর্কে পাওয়া তথ্য থেকে বিস্তারিত জানা যায়নি। ফলে এ বিষয়ে অনুমানভিত্তিক কোনো তথ্য যোগ করা হচ্ছে না।

ধর্মীয় পরিচয় মানুষের ব্যক্তিগত বিশ্বাসের সঙ্গে যুক্ত, আর নাগরিক পরিচয় দেশের সঙ্গে সবার সম্পর্ককে নির্দেশ করে—প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে এই দুই দিকই এসেছে। তাঁর আহ্বান অনুযায়ী, ধর্মীয় বিশ্বাসের পার্থক্যকে সম্মান করার পাশাপাশি দেশের মানুষের পারস্পরিক সম্পর্কের ভিত্তি হওয়া উচিত অভিন্ন নাগরিক পরিচয়। বক্তব্যটি ছিল ধর্মের কারণে বিভক্তি নয়, বরং একই দেশের নাগরিক হিসেবে একসঙ্গে থাকার পক্ষে।

শারদীয় শুভেচ্ছা জানাতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন এবং তাঁদের কুশল জানতে চান। এ ধরনের শুভেচ্ছা বিনিময়ের মধ্য দিয়ে উৎসবের সময়ে সম্প্রদায়গুলোর মধ্যে যোগাযোগ ও সৌজন্যের প্রকাশ ঘটে। তবে এই আয়োজনের পরিধি, অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা কিংবা সেখানে কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে কি না—এসব বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে তাই সবচেয়ে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে দুটি বিষয়: ধর্ম যার যার নিজস্ব বিশ্বাসের ক্ষেত্র, আর বাংলাদেশের নাগরিক পরিচয় সবার জন্য অভিন্ন। ধর্মীয় পরিচয়কে কেন্দ্র করে বিভেদ এড়িয়ে চলার আহ্বান জানিয়ে তিনি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উৎসবের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। চট্টগ্রামের জেএম সেন পূজামণ্ডপে তাঁর এই বার্তাই ছিল কুশল বিনিময় ও বক্তব্যের কেন্দ্রীয় বিষয়।

লক্ষ্মীপুরে প্রবাসী দম্পতিকে জিম্মি ও মারধরের ঘটনায় কৃষক দল নেতা আটক

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:১৫ অপরাহ্ণ
   
লক্ষ্মীপুরে প্রবাসী দম্পতিকে জিম্মি ও মারধরের ঘটনায় কৃষক দল নেতা আটক

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে এক প্রবাসী দম্পতিকে জিম্মি করে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও মারধর করার চাঞ্চল্যকর ঘটনায় রিয়াদ হাসান বয়াতি নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রায়পুর বাজারের দেনায়েতপুর এলাকা থেকে স্থানীয় পুলিশ তাকে আটক করে। অভিযুক্ত রিয়াদ স্থানীয় পর্যায়ে রাজনীতির সঙ্গে জড়িত এবং তিনি রায়পুর পৌর কৃষক দলের সভাপতি পদপ্রার্থী হিসেবে পরিচিত। এর পাশাপাশি তিনি অতীতে রায়পুর সরকারি কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন বলে জানা গেছে।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, আক্রান্ত প্রবাসী দম্পতি রায়পুর এলাকায় তাদের আত্মীয়ের বাসায় বেড়াতে এসেছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, রিয়াদ হাসান বয়াতি ও তার সঙ্গীরা হঠাৎ করেই ওই বাড়িতে প্রবেশ করেন। এরপর তারা দম্পতিকে জিম্মি করে ফেলেন এবং বিভিন্ন ধরনের ভিত্তিহীন অপবাদ দিয়ে তাদের ওপর শারীরিক নির্যাতন চালান। এই আকস্মিক ও নৃশংস হামলায় দম্পতিটি গুরুতর আহত হন। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যায় স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন। তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে রিয়াদকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে যায়। এ ঘটনার পর এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। প্রবাসী ও তার পরিবারের সদস্যরা এই ঘটনায় চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলেও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে যে, অভিযুক্ত রিয়াদ হাসান বয়াতি এবং তার সহযোগীরা ওই দম্পতির ওপর অহেতুক দোষারোপ করে মারধরের ঘটনাটি ঘটায়। কেন এবং কী উদ্দেশ্যে এই হামলার পরিকল্পনা করা হয়েছিল, তা নিয়ে পুলিশ ব্যাপক তদন্ত শুরু করেছে। পুলিশি জেরায় আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, এলাকায় রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে অনেকেই সাধারণ মানুষকে হয়রানি করার সাহস পাচ্ছেন। এ ধরনের ন্যক্কারজনক ঘটনা আইনের শাসনকে চ্যালেঞ্জ করছে বলেও মনে করছেন সচেতন নাগরিকরা। পুলিশ জানিয়েছে, আটকের পর তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি এ ঘটনায় আরও কারা জড়িত থাকতে পারে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এদিকে, এই ঘটনার পর থেকেই এলাকায় ব্যাপক তোলপাড় চলছে। প্রবাসী কল্যাণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনকে আরও কঠোর হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ঘটনার শিকার প্রবাসী দম্পতিকে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়েছে এবং মামলার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানা গেছে। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার সঙ্গে যারাই জড়িত থাকুক না কেন, তাদের কঠোর আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিচারের আওতায় আনা হবে। এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং আইনভঙ্গকারীদের প্রতি জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হয়েছে বলে পুলিশের ঊর্ধ্বতন সূত্র থেকে জানানো হয়েছে।

রাজনৈতিক সংগঠনগুলো তাদের নেতাকর্মীদের এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিষয়ে সতর্ক থাকলেও মাঠ পর্যায়ে অনেক সময় এর প্রতিফলন দেখা যায় না। বর্তমান ঘটনার প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দও এ নিয়ে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছেন। সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক সূত্র থেকে জানানো হয়েছে যে, দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী কোনো কাজের দায় দল নেবে না এবং অপরাধ প্রমাণিত হলে রিয়াদ হাসান বয়াতির বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঘটনাটি এখন পুরো জেলায় আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে এবং প্রবাসীদের নিরাপত্তা সংক্রান্ত ইস্যুটি আবারও সামনে এসেছে।

শরীয়তপুরে আবাসিক হোটেল থেকে স্কুলশিক্ষকের মরদেহ উদ্ধার

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:১৪ অপরাহ্ণ
   
শরীয়তপুরে আবাসিক হোটেল থেকে স্কুলশিক্ষকের মরদেহ উদ্ধার

শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলা সদরে এক মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। উপজেলার একটি আবাসিক হোটেল থেকে আবুল বাশার নামে এক স্কুলশিক্ষকের মরদেহ উদ্ধার করেছে স্থানীয় পুলিশ। মঙ্গলবার দুপুর একটার দিকে ভেদরগঞ্জ থানা সংলগ্ন ঢাকা আবাসিক হোটেল থেকে নিথর দেহটি উদ্ধার করা হয়। এই রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় পুরো এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।

নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আবুল বাশার একজন স্কুলশিক্ষক ছিলেন। মৃত্যুর ঠিক আগ মুহূর্তে তার পরিবারের কাছে একটি মুক্তিপণ দাবির বার্তা আসে। অপহরণকারীদের পক্ষ থেকে শিক্ষকের রক্তাক্ত অবস্থার ছবি পাঠিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করা হয়েছিল বলে নিহতের পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে পরিবারের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং তারা দ্রুত প্রশাসনের দ্বারস্থ হন।

ঘটনাস্থল পরিদর্শনকারী পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। ঘটনার পর থেকে হোটেলটির ব্যবস্থাপক মামুন পলাতক রয়েছেন। হোটেল কর্তৃপক্ষের রহস্যজনক নীরবতা এবং ব্যবস্থাপকের পালিয়ে যাওয়া ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের সম্পৃক্ততা থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন তদন্তকারী কর্মকর্তারা। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

এদিকে শিক্ষক আবুল বাশারের এমন মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে তার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও আত্মীয়স্বজনদের মাঝে। স্থানীয়রা দ্রুত এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন এবং দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং ঘটনার সাথে জড়িতদের শনাক্ত করতে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। হোটেল সিসিটিভি ফুটেজ এবং অন্যান্য আলামত সংগ্রহের কাজ চলছে বলে জানা গেছে।

উল্লেখ্য যে, অপরাধীদের শনাক্ত করতে পুলিশের বিশেষ দল কাজ করছে। ঘটনার সময় হোটেলটিতে আর কারা অবস্থান করছিলেন এবং হোটেলের রেজিস্টার খাতায় কোনো অসঙ্গতি আছে কিনা, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। শিক্ষক আবুল বাশার নিখোঁজ ছিলেন কিনা বা অপহরণের ঘটনার সাথে হোটেল কর্তৃপক্ষের কোনো যোগসাজশ আছে কি না, তা নিয়ে তদন্ত জোরদার করা হয়েছে।

এ ঘটনায় মামলার প্রেক্ষিতে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং স্থানীয়দের আশ্বস্ত করেছেন যে, অপরাধীদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। অপরাধীদের খুঁজে বের করতে ইতোমধ্যে সম্ভাব্য সব জায়গায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। এই নৃশংস ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবি তুলেছেন এলাকাবাসী ও নিহতের পরিবার।

খুলনায় নদী পার করার প্রলোভনে নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, গ্রেফতার ৩

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:১৪ অপরাহ্ণ
   
খুলনায় নদী পার করার প্রলোভনে নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, গ্রেফতার ৩

খুলনার তেরখাদা উপজেলায় নদী পার করে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এক নারীকে নৌকায় তুলে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ভয়াবহ অভিযোগ পাওয়া গেছে। সোমবার দিনগত গভীর রাতে উপজেলার মধুপুর শ্যামনগর এলাকার একটি পরিত্যক্ত প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এই অমানবিক ঘটনাটি ঘটে। নির্যাতনের শিকার ওই নারীকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত তিন যুবককে গ্রেফতার করেছে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী ওই নারী সোমবার রাতে নদী পার হওয়ার জন্য অপেক্ষা করছিলেন। এ সময় স্থানীয় তিন যুবক তাকে নদী পার করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে নৌকায় ওঠার জন্য অনুরোধ জানায়। তাদের বিশ্বাস করে ভুক্তভোগী নারী নৌকায় উঠলে তাকে কৌশলে মধুপুর শ্যামনগর এলাকার পুরাতন প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবনের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে নিয়ে গিয়ে তাকে জোরপূর্বক সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করা হয়। নির্যাতনের পর তারা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে স্থানীয়দের তৎপরতা ও পুলিশের কার্যকর পদক্ষেপে আসামিদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়।

গ্রেফতারকৃতদের বিষয়ে পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের সময় তারা ঘটনার সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে। গ্রেফতারকৃত তিন যুবকের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে। তেরখাদা উপজেলার মধুপুর গ্রামের বাসিন্দা মিকাঈল শেখের ছেলে সামিউল শেখ এবং একই গ্রামের মো. আলমগীর কাজীর ছেলেসহ মোট তিনজনকে এই মামলার আসামি হিসেবে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ঘটনার পরেই ভুক্তভোগী নারীকে উদ্ধার করে দ্রুত খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে তিনি হাসপাতালের ওসিসি ইউনিটে চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। তার শারীরিক অবস্থা কিছুটা আশঙ্কাজনক হলেও চিকিৎসকরা প্রয়োজনীয় সেবা প্রদান করছেন।

এ ঘটনায় থানায় একটি মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নারী ও শিশুর প্রতি এ ধরনের অপরাধ অত্যন্ত গর্হিত এবং জঘন্য। ঘটনাটির তদন্তে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় এলাকাবাসী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হচ্ছে এবং ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করেছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, অপরাধীরা স্থানীয়ভাবে পরিচিত এবং তারা ঘটনার পরিকল্পনা আগে থেকেই করেছিল কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তেরখাদা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ঘটনার খবর পাওয়ার সাথে সাথেই পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, যার ফলে অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে। পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, নির্যাতনের শিকার নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তাকে দ্রুত সুস্থ করে তোলাই এখন তাদের প্রধান লক্ষ্য। পাশাপাশি আসামিদের রিমান্ডে এনে ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা যাচাই-বাছাই করা হবে। এই ঘটনায় এলাকায় চরম ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে যাতে ভবিষ্যতে আর কেউ এ ধরনের পৈশাচিক কাজে লিপ্ত হওয়ার সাহস না পায়।

সর্বশেষ
লক্ষ্মীপুরে প্রবাসী দম্পতিকে জিম্মি ও মারধরের ঘটনায় কৃষক দল নেতা আটক শরীয়তপুরে আবাসিক হোটেল থেকে স্কুলশিক্ষকের মরদেহ উদ্ধার খুলনায় নদী পার করার প্রলোভনে নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, গ্রেফতার ৩ বাংলাদেশি রোগীদের জাপানে চিকিৎসার সুযোগ সহজ করতে সমঝোতা দেশে ধর্মের নামে যেন কোনো বিভেদ না থাকে: প্রধানমন্ত্রী স্থানীয় নির্বাচনে গ্রহণযোগ্য ও বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনাময় প্রার্থী বাছাইয়ের আহ্বান তারেক রহমানের ৩৪ বছরে পদার্পণ করলো জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় পিএসজির বিপক্ষে রক্ষণভাগের দুর্বলতায় মৌসুমের প্রথম হার বার্সেলোনার চ্যাম্পিয়নস লিগে গোল উৎসব: ফোডেনের হ্যাটট্রিকে বিধ্বস্ত এইকে এথেন্স অ্যানফিল্ডে লিভারপুলের রোমাঞ্চকর প্রত্যাবর্তন: পিছিয়ে পড়েও জয় ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে
Advertisement