শারদীয় দুর্গাপূজার শেষ দিন তথা বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জন অনুষ্ঠানকে ঘিরে রাজধানী ঢাকার সদরঘাট ও বুড়িগঙ্গা নদী এলাকায় নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা। প্রতি বছরের মতো এবারও বিপুলসংখ্যক ভক্ত ও দর্শনার্থীর সমাগম হবে নদীর ঘাটে। এই বিশাল আয়োজনে কোনো প্রকার বিশৃঙ্খলা বা অপ্রীতিকর ঘটনা যেন না ঘটে, তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। পূজা মণ্ডপ থেকে শুরু করে প্রতিমা বিসর্জনের নির্দিষ্ট রুট পর্যন্ত প্রতিটি পয়েন্টে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তথ্যানুযায়ী, পুরান ঢাকার বিভিন্ন এলাকা থেকে শত শত পূজা মণ্ডপের প্রতিমা ট্রাক ও ছোট ছোট যানবাহনে করে বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে এসে পৌঁছাবে। বিসর্জনের সময় ঘাটে অত্যধিক ভিড় হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, বিশেষ করে নৌযানে প্রতিমা তোলার সময় এবং নদীর মাঝখানে বিসর্জন প্রক্রিয়ার সময় নিরাপত্তার ঝুঁকি এড়াতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে নৌ-পুলিশ এবং কোস্টগার্ড। নদীপথে পর্যাপ্ত টহল বাড়ানো হয়েছে যাতে কোনো অনিবন্ধিত নৌকা বা ট্রলারের ভিড় না হয় এবং নৌপথে কোনো দুর্ঘটনা না ঘটে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল ও বিসর্জন এলাকাকে কেন্দ্র করে পুলিশের একাধিক কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হয়েছে। সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে এলাকাটি সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হচ্ছে। স্বেচ্ছাসেবক দল এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা যৌথভাবে কাজ করছেন যেন ভক্তরা সুশৃঙ্খলভাবে লাইনে দাঁড়িয়ে প্রতিমা বিসর্জন দিতে পারেন। ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রেও বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যাতে বিসর্জনের মিছিলে ভারী যান চলাচলের কারণে সাধারণ মানুষের যাতায়াতে বিঘ্ন না ঘটে। নির্দিষ্ট রুটে যানবাহন ডাইভারশন দেওয়া হয়েছে এবং বিসর্জনের গাড়ির জন্য আলাদা লেন নির্ধারণ করা হয়েছে।
আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে বিসর্জনে আগত ভক্ত ও দর্শনার্থীদের উদ্দেশ্যে কিছু পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে নদীর ঘাটে ছোট বাচ্চাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ব্যক্তিগত মূল্যবান জিনিসের দিকে নজর রাখা এবং মাদক বা নেশাজাতীয় দ্রব্য বর্জন করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। কোনো প্রকার সন্দেহজনক আচরণ দেখলে তাৎক্ষণিকভাবে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানোর জন্য বলা হয়েছে। ডুবুরি দলকেও স্ট্যান্ডবাই রাখা হয়েছে যাতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে দ্রুত উদ্ধার কাজ চালানো সম্ভব হয়।
পুরান ঢাকার ঐতিহ্যের সাথে মিশে আছে দুর্গাপূজার এই বিদায়বেলার আড়ম্বর। শত বছরের পুরনো এই রীতি অনুযায়ী, প্রতিমা বিসর্জনের দিন বুড়িগঙ্গার জলপ্রবাহ হয়ে ওঠে উৎসবমুখর। তবে উৎসবের আমেজের পাশাপাশি নিরাপত্তার বিষয়টি এবার সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় পূজা উদযাপন কমিটির নেতারাও জানিয়েছেন, প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগের সাথে তারা নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন এবং স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে নিজস্ব ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে তৎপর আছেন। আশা করা হচ্ছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর তৎপরতা এবং ভক্তদের সহযোগিতায় এবারও শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিমা বিসর্জন সম্পন্ন হবে। সন্ধ্যার পর আলোকসজ্জা এবং বিসর্জন আয়োজনে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬ । ১০:১৫ পূর্বাহ্ণ