খুঁজুন
, ,

বুদ্ধিজীবীদের দলবদলের সংস্কৃতি ও রাজনৈতিক বাস্তবতা

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ১২:১৫ অপরাহ্ণ
বুদ্ধিজীবীদের দলবদলের সংস্কৃতি ও রাজনৈতিক বাস্তবতা

বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে বুদ্ধিজীবীদের ভূমিকা বরাবরই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে। সমাজ ও রাষ্ট্রের দর্পণ হিসেবে যাঁদের কাজ করার কথা, বর্তমান প্রেক্ষাপটে তাঁদের অনেকের কর্মকাণ্ড নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে এক ধরণের সংশয় তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশের রাজনৈতিক ক্ষমতার পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে বুদ্ধিজীবীদের একাংশের যে দ্রুত মতাদর্শ পরিবর্তনের প্রবণতা দেখা যায়, তা রাজনৈতিক সমাজবিজ্ঞানের এক কৌতূহলোদ্দীপক অধ্যায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, রাজনৈতিক পরিস্থিতি যখন যেদিকে হেলে পড়ে, বুদ্ধিজীবীদের একটি নির্দিষ্ট অংশ সেদিকেই তাদের অবস্থান পরিবর্তন করে ফেলেন। এই প্রবণতাকে অনেকেই বসন্তের কোকিলের আগমনের সঙ্গে তুলনা করেন, তবে রাজনৈতিক বাস্তবতায় একে আরো গভীর পর্যবেক্ষণের দাবি রাখে।

রাজনৈতিক অঙ্গনে ক্ষমতা বদলের সাথে সাথে একশ্রেণির বুদ্ধিজীবীর এই সুবিধাবাদী অবস্থানের কারণে অনেক সময় প্রকৃত বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চা বাধাগ্রস্ত হয়। তাঁদের এই আচরণকে অনেকে গিরগিটির মতো রং পরিবর্তনের সঙ্গে তুলনা করছেন। যেকোনো রাজনৈতিক আবহাওয়া ও পতাকার রঙের সাথে মিল রেখে নিজেদের অবস্থান দ্রুত বদলে ফেলার এই কৌশল মূলত ব্যক্তিকেন্দ্রিক স্বার্থসিদ্ধির অংশ বলেই বিশ্লেষকরা মনে করছেন। ২০২৪ পরবর্তী বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পর্যালোচনায় দেখা যায়, অতীতের অনেক বুদ্ধিজীবী যারা এক সময় এক দলের গুণকীর্তনে ব্যস্ত ছিলেন, ক্ষমতার পরিবর্তনের সাথে সাথে তারাই আবার নতুন ধারার সাথে তাল মিলিয়ে নিজেদের অবস্থান জানান দিচ্ছেন। এই ধারাবাহিক পরিবর্তন জনমনে এক ধরনের হতাশা তৈরি করে, কারণ বুদ্ধিজীবীরা সমাজের পথপ্রদর্শক হিসেবে বিবেচিত হন।

বুদ্ধিজীবীদের এই দলবদলের প্রবণতা নতুন কিছু নয়, তবে সাম্প্রতিক সময়ে এটি অধিকতর দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে। তথাকথিত এই বুদ্ধিজীবীরা যখন নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় রাজনীতির মাঠ গরম রাখেন, তখন সাধারণ মানুষের কাছে বুদ্ধিবৃত্তিক সততা প্রশ্নবিদ্ধ হয়। সমাজ ও রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণী বিষয়ে যাদের বলিষ্ঠ ও নিরপেক্ষ কণ্ঠস্বর শোনা প্রত্যাশিত, সেখানে ক্ষমতার সাথে আপস করার এই সংস্কৃতির ফলে সমাজের দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি হচ্ছে। বুদ্ধির লড়াই বা যুক্তির চর্চার চেয়েও যখন ব্যক্তিগত সুবিধা বা নিরাপত্তা নিশ্চিত করা মুখ্য হয়ে ওঠে, তখন সেটি আর বুদ্ধিবৃত্তি থাকে না, বরং তা রাজনীতিরই একটি অংশ হয়ে দাঁড়ায়।

প্রকৃত বুদ্ধিজীবী তারাই, যারা ক্ষমতার পরিবর্তনের তোয়াক্কা না করে সত্যের পথে অবিচল থাকেন এবং সমাজের অসংগতিগুলো সাহসের সাথে তুলে ধরেন। অথচ বর্তমান সময়ে দেখা যাচ্ছে, বুদ্ধিজীবীদের একটি অংশ কেবল নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য রাজনীতির ডালপালা বা বাতাসের গতিপথ অনুসরণ করে চলছেন। এই সংকীর্ণ মানসিকতা দেশের সুস্থ রাজনৈতিক চর্চাকে ব্যাহত করছে। রাজনৈতিক সমাজবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে এই প্রবণতা সমাজকে দ্বিধাবিভক্ত করে এবং বুদ্ধিজীবী শ্রেণির গ্রহণযোগ্যতা কমিয়ে দেয়। তাই সময়ের প্রয়োজনে বুদ্ধিজীবীদের এই প্রবণতা থেকে বেরিয়ে এসে পুনরায় জনস্বার্থে ও সত্যের পথে নিজেদের অবস্থান সুনিশ্চিত করা জরুরি হয়ে পড়েছে। সামগ্রিকভাবে দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামো ও রাজনৈতিক সংস্কৃতির সুস্থতার জন্য বুদ্ধিজীবীদের এই নিরপেক্ষ অবস্থান ও নৈতিক দৃঢ়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আদালত চত্বরে মেজাজ হারালেন পরীমণি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ১:১৫ অপরাহ্ণ
   
আদালত চত্বরে মেজাজ হারালেন পরীমণি

রাজধানীর আদালত পাড়ায় বৃহস্পতিবার এক ভিন্নধর্মী পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। চিত্রনায়িকা পরীমণি একটি মামলার আইনি মোকাবিলায় আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। মারধর, ভাঙচুর এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে দায়ের করা এই মামলায় শুনানি শেষে বিচারক তার জামিন মঞ্জুর করেন। ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহফুজুর রহমানের আদালতে শুনানিটি অনুষ্ঠিত হয়। বিচারক সব পক্ষের বক্তব্য শোনার পর পাঁচ শত টাকার মুচলেকায় পরীমণির জামিন আবেদন মঞ্জুর করেছেন। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই তিনি আদালতে হাজির হয়েছিলেন বলে জানা গেছে। আদালতের কার্যক্রম শেষে তার আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত সুরভী বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তবে জামিন পাওয়ার পর আদালত চত্বরে বের হওয়ার মুহূর্তটি ছিল বেশ নাটকীয়। চিত্রনায়িকা আদালত প্রাঙ্গণ ত্যাগ করার সময় উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মী এবং কৌতূহলী সাধারণ মানুষের ভিড়ের কবলে পড়েন। এমন পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়েই একপর্যায়ে তিনি মেজাজ হারিয়ে ফেলেন। বেশ উত্তেজিত কণ্ঠে তাকে কথা বলতে দেখা যায়। অনেক সময় তারকাদের ঘিরে এ ধরনের বিড়ম্বনা সাধারণ ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে, কিন্তু আদালতের মতো সংবেদনশীল স্থানে এমন উত্তেজনা উপস্থিত জনতাকে হতবাক করে দেয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, পরিস্থিতির চাপ থেকেই হয়তো তিনি সাময়িকভাবে নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিলেন।

পরীমনির বিরুদ্ধে মামলাটির প্রেক্ষাপট বেশ পুরোনো। ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল বেশ কিছুদিন আগে, যখন তার বিরুদ্ধে ভাঙচুর ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ আনা হয়। আইনি লড়াইয়ের এই পর্যায়টি তার জন্য বেশ চাপের ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। আদালতের বারান্দা এবং আদালত চত্বরে সাধারণত ভিড় লেগেই থাকে। বিশেষ করে যখন কোনো তারকা সেখানে উপস্থিত হন, তখন সাধারণ মানুষের মধ্যে ছবি তোলার বা দেখার আগ্রহ বেড়ে যায়। এই ধরনের জনাকীর্ণ পরিবেশে স্বাভাবিক মেজাজ বজায় রাখা অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। মামলার বিষয়গুলো যেখানে আইনগতভাবে নিষ্পত্তি হওয়ার কথা, সেখানে আদালতের বাইরের এই উত্তেজনাকে অনেকেই অনাকাঙ্ক্ষিত বলে মনে করছেন।

আইনজীবীদের মতে, জামিন পাওয়া একটি আইনি প্রক্রিয়ারই অংশ। কিন্তু আদালত চত্বরে আবেগ বা উত্তেজনার বহিঃপ্রকাশ অনেক সময় আইনি লড়াইয়ের চেয়েও বেশি আলোচনায় চলে আসে। পরীমণির ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটেছে। জামিন পাওয়ার আনন্দের চেয়ে তার মেজাজ হারানোর বিষয়টিই যেন মুহূর্তের মধ্যে প্রধান আলোচনার বিষয়ে পরিণত হয়। মামলার পরবর্তী কার্যক্রম বা আইনি লড়াইয়ের অন্যান্য ধাপ এখনো বাকি আছে। সেগুলোর ক্ষেত্রে কোনো পক্ষ যেন আইন নিজের হাতে তুলে না নেয় বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না করে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়ে থাকেন বিশেষজ্ঞরা।

আদালত প্রাঙ্গণ একটি বিচারিক ক্ষেত্র, যেখানে শান্ত থাকাটাই বাঞ্ছনীয়। গণমাধ্যমের উপস্থিতি এবং জনসমাগমের কারণে পরিস্থিতি অনেক সময় নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। পরীমণির মেজাজ হারানোর ঘটনাটিও হয়তো সেই পরিস্থিতিরই একটি প্রতিফলন। তবে যেকোনো ব্যক্তি, তিনি তারকা হোন বা সাধারণ নাগরিক, আদালতের মর্যাদা বজায় রাখার দায়বদ্ধতা সবারই রয়েছে। মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে এখন। আশা করা হচ্ছে, আগামী দিনগুলোতে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই জটিলতার সুষ্ঠু সমাধান হবে এবং একই সাথে সব পক্ষ আইনি শিষ্টাচার বজায় রাখতে সচেষ্ট হবেন। এই ঘটনার পর আদালতের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং তারকাদের জনসমক্ষে যাতায়াতের বিষয় নিয়েও নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

সালমান শাহ হত্যা মামলা: তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময় আবারো পিছিয়েছে

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ১:১৫ অপরাহ্ণ
   
সালমান শাহ হত্যা মামলা: তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময় আবারো পিছিয়েছে

ঢাকাই চলচ্চিত্রের ইতিহাসে অন্যতম আলোচিত এবং রহস্যময় মৃত্যুর ঘটনা চিত্রনায়ক সালমান শাহের মৃত্যু। দীর্ঘ কয়েক দশক পেরিয়ে গেলেও এই মামলার আইনি জট এবং তদন্তের দীর্ঘসূত্রতা যেন কাটছেই না। সুবিচারের আশায় প্রহর গুনছে কোটি ভক্ত আর তার পরিবার। এই ধারাবাহিকতায় আজ বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, আদালত এই আলোচিত হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নতুন দিন ধার্য করেছেন। মূলত তদন্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করতে ব্যর্থ হওয়ায় আদালতের কাছে সময় চেয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা, যার প্রেক্ষিতে আগামী ৮ ডিসেম্বর নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।

সূত্র মারফত জানা যায়, আজ আদালতের কাছে মামলার তদন্ত প্রতিবেদনটি দাখিল করার কথা ছিল। তবে সিআইডি পুলিশের ঢাকা মেট্রো দক্ষিণের ইন্সপেক্টর মজিবুর রহমান যথাসময়ে প্রতিবেদনটি জমা দিতে পারেননি। তিনি আদালতে পর্যাপ্ত সময় চেয়ে আবেদন জানালে বিচারক তা মঞ্জুর করেন এবং আগামী মাসে পরবর্তী তারিখ ধার্য করেন। এই মামলার তদন্তের সাথে অত্যন্ত সংবেদনশীল কিছু বিষয় জড়িয়ে থাকায় এবং দীর্ঘদিন পেরিয়ে যাওয়ার কারণে তদন্ত প্রতিবেদনটি গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। এই মামলায় সাবেক স্ত্রী সামীরা হকসহ মোট ১১ জন আসামিকে অভিযুক্ত করা হয়েছে, যাদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া দীর্ঘদিন ধরেই ঝুলে আছে।

সালমান শাহের অকাল প্রয়াণ কেবল ঢালিউডকে এক অপূরণীয় ক্ষতির মুখে ফেলে দেয়নি, বরং তার মৃত্যু নিয়ে তৈরি হওয়া রহস্য উন্মোচনে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন সংস্থা তদন্তে নেমেছে। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ বা সিআইডি বর্তমানে এই মামলার দায়ভার গ্রহণ করেছে। এর আগেও তদন্তের দায়িত্ব পরিবর্তনের নজির রয়েছে, তবে প্রতিটি ক্ষেত্রেই চূড়ান্ত প্রতিবেদন আসার অপেক্ষায় থেকে থেকে জনমনে এক ধরণের হতাশার সৃষ্টি হয়েছে। ন্যায়বিচার পাওয়ার আশা নিয়ে ভক্তরা এখনো সোচ্চার। প্রতিটি নতুন তারিখে যখন প্রতিবেদন দাখিলের দিন পিছিয়ে যায়, তখন এই প্রশ্নই বারবার সামনে আসে যে, আদতে রহস্যের জট খুলতে কতটা সময় প্রয়োজন।

আইনি বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরণের চাঞ্চল্যকর মামলার ক্ষেত্রে তাড়াহুড়ো করে প্রতিবেদন দাখিল করা যেমন ঝুঁকিপূর্ণ, তেমনি অহেতুক বিলম্বও বিচারের পথকে দীর্ঘায়িত করে। মামলার সাথে জড়িত সাক্ষী এবং তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহে সিআইডি অত্যন্ত সতর্কতার সাথে কাজ করছে বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি। তবে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, তদন্তকারী সংস্থা যেন যথাযথ সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে দ্রুত একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন তৈরি করে বিচারিক প্রক্রিয়ায় সহায়তা করে। আদালতের নির্দেশনায় আগামী ৮ ডিসেম্বর কী আসে, এখন তা দেখার অপেক্ষায় দেশবাসী। দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষিত এই মামলার সুরাহা কবে হবে, তা নিয়ে সংশয় কাটছে না, তবে আদালতের পরবর্তী শুনানির দিকেই এখন সবার নজর।

সালমান শাহের পরিবারের সদস্যরা এবং অগণিত অনুরাগী দীর্ঘ সময় ধরে এই বিচারপ্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করছেন। তাদের প্রত্যাশা, কোনো রকম প্রভাব বা শৈথিল্য ছাড়া যেন নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য জনসমক্ষে আসে। মামলার চার্জশিট বা তদন্ত প্রতিবেদন যে আইনি ধাপেরই একটি অংশ, তা তারা বোঝেন, কিন্তু সময়ের ব্যবধানে মামলা ঝুলে থাকাটা তাদের জন্য কষ্টের। আদালত এখন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাকে আগামী তারিখের মধ্যে অবশ্যই প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন। এখন দেখার পালা ৮ ডিসেম্বর আদৌ এই দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটে কি না।

বড় পর্দায় নতুন চমক: ফিরছেন নিশো-মেহজাবীন জুটি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ১:১৪ অপরাহ্ণ
   
বড় পর্দায় নতুন চমক: ফিরছেন নিশো-মেহজাবীন জুটি

দেশের শোবিজ অঙ্গনে একসময় আভিজাত্য আর জনপ্রিয়তার মানদণ্ডে আলাদা জায়গা করে নিয়েছিলেন আফরান নিশো এবং মেহজাবীন চৌধুরী। ছোটপর্দার অসংখ্য নাটক, টেলিফিল্ম এবং বৈচিত্র্যময় চরিত্রের গল্পে তাদের অনবদ্য রসায়ন দর্শকদের এতটাই মুগ্ধ করেছিল যে, তারা হয়ে উঠেছিলেন এ দেশের সবচেয়ে সফল ও নির্ভরযোগ্য জুটিদের অন্যতম। সময়ের বিবর্তনে তাদের ক্যারিয়ারের গন্তব্য ও কাজের পরিধি বিস্তৃত হয়েছে। নাটকের দীর্ঘ ব্যস্ততা কাটিয়ে তারা দুজনেই এখন মনোনিবেশ করেছেন মূলধারার সিনেমা এবং ওটিটি প্ল্যাটফর্মের চ্যালেঞ্জিং সব কাজে। এই প্রেক্ষাপটে ভক্তদের জন্য এসেছে এক দারুণ সুখবর। আবারও রুপালি পর্দায় জুটি হিসেবে ফিরছেন জনপ্রিয় এই দুই তারকা। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে নির্মাতা আদনান আল রাজীবের হাত ধরে সিনেমার পর্দায় নতুন গল্প নিয়ে হাজির হতে যাচ্ছেন নিশো ও মেহজাবীন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন খোদ নির্মাতা নিজেই। ফেসবুকের দেয়ালে একটি ঘোষণার মাধ্যমেই তিনি জানান, এই দুই তারকাকে নিয়ে নতুন সিনেমার কাজ শুরু করতে যাচ্ছেন তিনি। আদনান আল রাজীবের পরিচালনায় এর আগেও বহু কাজ দর্শকপ্রিয়তা পেয়েছে, আর এবার সেই তালিকায় যুক্ত হতে যাচ্ছে নিশো ও মেহজাবীনের নতুন সিনেমা। নির্মাতা এই ঘোষণার পরপরই অন্তর্জালে সাড়া পড়ে গেছে ঢালিউডের সিনেমাপ্রেমী দর্শকদের মাঝে। বড় পর্দায় তাদের রসায়ন কেমন হবে, গল্প কোন ধাঁচের হবে, এসব নিয়ে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা। উল্লেখ্য যে, বিগত কয়েক বছর ধরে এই দুই তারকা ছোটপর্দায় কাজ কমিয়ে দিয়েছেন। নিজেদের ক্যারিয়ারকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যেই তারা চলচ্চিত্রে মনোযোগী হয়েছেন। আফরান নিশো বড় পর্দায় ইতোমধ্যেই তার সাফল্যের ছাপ রেখেছেন, অন্যদিকে মেহজাবীন চৌধুরীও ওটিটি এবং চলচ্চিত্রে নিজের দক্ষতাকে নতুনভাবে প্রমাণ করছেন।

চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নিশো ও মেহজাবীনের মতো জনপ্রিয় তারকাদের পর্দায় ফিরিয়ে আনাটা বাংলা চলচ্চিত্রের জন্য একটি ইতিবাচক বার্তা। গত কয়েক বছরে ঢালিউডে যে নতুন ধারার সিনেমার চর্চা শুরু হয়েছে, সেখানে তাদের মতো অভিজ্ঞ অভিনয়শিল্পীদের উপস্থিতি বড় একটি প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নির্মাতা আদনান আল রাজীবের নির্মাণ শৈলী এবং নিশো-মেহজাবীনের অভিনয়ের গভীরতা মিলে নতুন এই সিনেমাটি যে দর্শকদের বড় ধরনের চমক দিতে যাচ্ছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। তবে সিনেমার নাম বা প্লট সম্পর্কে বিস্তারিত এখনই কিছু জানানো হয়নি। নির্মাতা ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সিনেমার নামসহ অন্যান্য তথ্য পর্যায়ক্রমে প্রকাশ করা হবে। বর্তমানে সিনেমাটির প্রি-প্রোডাকশনের কাজ এগিয়ে চলছে। সব মিলিয়ে ভক্তরা এখন দিন গুনছেন প্রিয় এই জুটিকে আবারও নতুন রূপে, নতুন গল্পের মাধ্যমে বড় পর্দায় দেখার জন্য। এই প্রত্যাবর্তন কেবল একটি সিনেমার ঘোষণা নয়, বরং ঢাকাই সিনেমার নতুন যুগের যাত্রায় আরও এক ধাপ এগিয়ে যাওয়া বলে মনে করছেন চলচ্চিত্র বোদ্ধারা। আশা করা যাচ্ছে, দ্রুতই শুটিংয়ের সময়সূচি এবং অন্যান্য কলাকুশলীদের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে জানা যাবে।

সর্বশেষ
আদালত চত্বরে মেজাজ হারালেন পরীমণি সালমান শাহ হত্যা মামলা: তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময় আবারো পিছিয়েছে বড় পর্দায় নতুন চমক: ফিরছেন নিশো-মেহজাবীন জুটি যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে নতুন মোড়: কংগ্রেসের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে বুদ্ধিজীবীদের দলবদলের সংস্কৃতি ও রাজনৈতিক বাস্তবতা নতুন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সফল পরীক্ষা চালালো উত্তর কোরিয়া রাউজানে আট পিস্তল প্রদর্শন করে ফের আলোচনায় ‘বুলেট হৃদয়’ যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে ভরাডুবি: প্রকাশ্যে ট্রাম্প-ভ্যান্সের পারস্পরিক দোষারোপ রাজধানীতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের বিশেষ অভিযান: একদিনে গ্রেফতার ৫৭৭ রাজধানীর কদমতলীতে ট্রাকচাপায় দুই অটোরিকশাচালক নিহত