ঢাকাই চলচ্চিত্রের ইতিহাসে অন্যতম আলোচিত এবং রহস্যময় মৃত্যুর ঘটনা চিত্রনায়ক সালমান শাহের মৃত্যু। দীর্ঘ কয়েক দশক পেরিয়ে গেলেও এই মামলার আইনি জট এবং তদন্তের দীর্ঘসূত্রতা যেন কাটছেই না। সুবিচারের আশায় প্রহর গুনছে কোটি ভক্ত আর তার পরিবার। এই ধারাবাহিকতায় আজ বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, আদালত এই আলোচিত হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নতুন দিন ধার্য করেছেন। মূলত তদন্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করতে ব্যর্থ হওয়ায় আদালতের কাছে সময় চেয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা, যার প্রেক্ষিতে আগামী ৮ ডিসেম্বর নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।
সূত্র মারফত জানা যায়, আজ আদালতের কাছে মামলার তদন্ত প্রতিবেদনটি দাখিল করার কথা ছিল। তবে সিআইডি পুলিশের ঢাকা মেট্রো দক্ষিণের ইন্সপেক্টর মজিবুর রহমান যথাসময়ে প্রতিবেদনটি জমা দিতে পারেননি। তিনি আদালতে পর্যাপ্ত সময় চেয়ে আবেদন জানালে বিচারক তা মঞ্জুর করেন এবং আগামী মাসে পরবর্তী তারিখ ধার্য করেন। এই মামলার তদন্তের সাথে অত্যন্ত সংবেদনশীল কিছু বিষয় জড়িয়ে থাকায় এবং দীর্ঘদিন পেরিয়ে যাওয়ার কারণে তদন্ত প্রতিবেদনটি গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। এই মামলায় সাবেক স্ত্রী সামীরা হকসহ মোট ১১ জন আসামিকে অভিযুক্ত করা হয়েছে, যাদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া দীর্ঘদিন ধরেই ঝুলে আছে।
সালমান শাহের অকাল প্রয়াণ কেবল ঢালিউডকে এক অপূরণীয় ক্ষতির মুখে ফেলে দেয়নি, বরং তার মৃত্যু নিয়ে তৈরি হওয়া রহস্য উন্মোচনে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন সংস্থা তদন্তে নেমেছে। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ বা সিআইডি বর্তমানে এই মামলার দায়ভার গ্রহণ করেছে। এর আগেও তদন্তের দায়িত্ব পরিবর্তনের নজির রয়েছে, তবে প্রতিটি ক্ষেত্রেই চূড়ান্ত প্রতিবেদন আসার অপেক্ষায় থেকে থেকে জনমনে এক ধরণের হতাশার সৃষ্টি হয়েছে। ন্যায়বিচার পাওয়ার আশা নিয়ে ভক্তরা এখনো সোচ্চার। প্রতিটি নতুন তারিখে যখন প্রতিবেদন দাখিলের দিন পিছিয়ে যায়, তখন এই প্রশ্নই বারবার সামনে আসে যে, আদতে রহস্যের জট খুলতে কতটা সময় প্রয়োজন।
আইনি বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরণের চাঞ্চল্যকর মামলার ক্ষেত্রে তাড়াহুড়ো করে প্রতিবেদন দাখিল করা যেমন ঝুঁকিপূর্ণ, তেমনি অহেতুক বিলম্বও বিচারের পথকে দীর্ঘায়িত করে। মামলার সাথে জড়িত সাক্ষী এবং তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহে সিআইডি অত্যন্ত সতর্কতার সাথে কাজ করছে বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি। তবে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, তদন্তকারী সংস্থা যেন যথাযথ সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে দ্রুত একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন তৈরি করে বিচারিক প্রক্রিয়ায় সহায়তা করে। আদালতের নির্দেশনায় আগামী ৮ ডিসেম্বর কী আসে, এখন তা দেখার অপেক্ষায় দেশবাসী। দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষিত এই মামলার সুরাহা কবে হবে, তা নিয়ে সংশয় কাটছে না, তবে আদালতের পরবর্তী শুনানির দিকেই এখন সবার নজর।
সালমান শাহের পরিবারের সদস্যরা এবং অগণিত অনুরাগী দীর্ঘ সময় ধরে এই বিচারপ্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করছেন। তাদের প্রত্যাশা, কোনো রকম প্রভাব বা শৈথিল্য ছাড়া যেন নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য জনসমক্ষে আসে। মামলার চার্জশিট বা তদন্ত প্রতিবেদন যে আইনি ধাপেরই একটি অংশ, তা তারা বোঝেন, কিন্তু সময়ের ব্যবধানে মামলা ঝুলে থাকাটা তাদের জন্য কষ্টের। আদালত এখন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাকে আগামী তারিখের মধ্যে অবশ্যই প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন। এখন দেখার পালা ৮ ডিসেম্বর আদৌ এই দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটে কি না।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬ । ১:১৫ অপরাহ্ণ