জাতীয় নাগরিক পার্টি ও জামায়াতের জোটে কি ভাঙন? রাজনৈতিক মহলে অস্বস্তি
বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অঙ্গনে জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপি এবং জামায়াতে ইসলামীর মধ্যকার জোটে ভাঙনের সুর শোনা যাচ্ছে। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সখ্যতার পর এখন দুই দলের মধ্যে দূরত্ব তৈরির খবর চাউর হয়েছে। বিশেষ করে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন এবং ঢাকা মহানগরীর দুটি সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে দুই দলের কৌশলগত অবস্থানের অমিল এই দূরত্বের বড় কারণ হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। সাম্প্রতিক বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচি ও দলগুলোর সক্রিয় অংশগ্রহণের ধরনেও এর প্রভাব স্পষ্ট হয়েছে।
সূত্রগুলো বলছে, গত কয়েকদিনের রাজনৈতিক কর্মসূচিতে এনসিপির শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের অনুপস্থিতি জোটের ঐক্যে চিড় ধরার গুঞ্জনকে আরও উসকে দিয়েছে। দলটির আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামের সাম্প্রতিক সময়ের গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিগুলোতে অংশ না নেওয়াকে অনেকেই প্রতীকী দূরত্ব হিসেবে দেখছেন। জোটের অন্যান্য শরিকদের সঙ্গে সমন্বয়হীনতা এবং এককভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রবণতা নিয়েও দুই দলের ভেতরে এক ধরনের চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। বিষয়টি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নিজেদের একক প্রভাব বিস্তারের জন্য এনসিপি ও জামায়াত ভিন্ন ভিন্ন পথে হাঁটছে কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা চুলচেরা বিশ্লেষণ শুরু করেছেন।
তবে জোটের ভবিষ্যৎ নিয়ে উভয় দলের শীর্ষ নেতৃত্ব এখনো কিছুটা কৌশলী ভূমিকা পালন করছেন। আনুষ্ঠানিকভাবে কেউ ভাঙনের কথা স্বীকার করছেন না। বরং দুই দলের নেতারাই আপাতত জোটের ঐক্য অটুট থাকার দাবি করেছেন। নেতাদের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, রাজনৈতিক কৌশলগত আলোচনায় কিছু মতপার্থক্য থাকতে পারে, কিন্তু তা জোট ভাঙার পর্যায়ে যায়নি। দলের ভেতরকার অভ্যন্তরীণ সংস্কার বা সাংগঠনিক পুনর্গঠনের কাজকেও এই দূরত্বের কারণ হিসেবে দেখার চেষ্টা করছেন অনেকে। এর মধ্যেই জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে তাদের ২৭টি জেলা ও মহানগর শাখায় নতুন আমির নিয়োগের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে, যা তাদের সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধির এক নতুন প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই সাংগঠনিক তৎপরতা জোটের রাজনীতির ওপর কোনো প্রভাব ফেলবে কি না, তা নিয়েও চলছে নানা জল্পনা।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যদি স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আগে এই দূরত্ব নিরসন না হয়, তবে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বিরোধী জোটের সামগ্রিক নির্বাচনী ফলাফলে। এনসিপি ও জামায়াতের পারস্পরিক আস্থার সংকট তৈরি হলে তা দীর্ঘমেয়াদী রাজনৈতিক সমীকরণে বড় ধরণের পরিবর্তন আনতে পারে। সাধারণ মানুষ ও তৃণমূলের নেতাকর্মীরা এখন তাকিয়ে আছেন শীর্ষ নেতৃত্বের পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকে। আগামী দিনে জোটের যৌথ কর্মসূচিগুলোতে এনসিপির শীর্ষ নেতাদের সরব উপস্থিতি দেখা গেলেই কেবল এই ভাঙনের গুঞ্জন থামতে পারে। আপাতত রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টি এখন ঢাকা সিটির নির্বাচন কেন্দ্রিক প্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপ ও জোটের অভ্যন্তরীণ বৈঠকের দিকেই বেশি নিবদ্ধ রয়েছে। পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, তা দেখার অপেক্ষায় আছেন সবাই।




আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]