খুঁজুন
, ,

ভূমিকম্প মোকাবিলায় সর্বোচ্চ সতর্কতার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ২:১৪ অপরাহ্ণ
ভূমিকম্প মোকাবিলায় সর্বোচ্চ সতর্কতার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

ভূমিকম্পের মতো অনাকাঙ্ক্ষিত ও ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি এবং সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (২ নভেম্বর) দুপুরে সচিবালয়ে অবস্থিত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ সভায় তিনি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাদের এই নির্দেশনা প্রদান করেন। দেশের ভৌগোলিক অবস্থান এবং ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকাগুলো বিবেচনায় নিয়ে সরকার এখন থেকেই সব ধরনের আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে চায় বলে তিনি সভায় উল্লেখ করেন।

সভায় প্রধানমন্ত্রী স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, ভূমিকম্পের মতো দুর্যোগ থেকে ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনতে হলে কেবল তাৎক্ষণিক উদ্ধার তৎপরতাই যথেষ্ট নয়, বরং এর জন্য প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা এবং বাস্তবসম্মত প্রস্তুতি। বিশেষ করে রাজধানী ঢাকা এবং এর আশপাশের ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় থাকা পুরোনো ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো চিহ্নিত করার কাজকে তিনি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর মতে, অপরিকল্পিত নগরায়ণ এবং দুর্বল অবকাঠামো ভূমিকম্পের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। তাই জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের ভবনগুলোর বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সরকার যে বদ্ধপরিকর, তা প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে। তিনি উদ্ধারকারী দলগুলোর জনবল ও কারিগরি দক্ষতা বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন। আধুনিক যন্ত্রপাতি এবং প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহারের মাধ্যমে উদ্ধার কার্যক্রমকে কীভাবে আরও দ্রুততর ও কার্যকর করা যায়, সে বিষয়ে বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা তৈরির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর মতে, দুর্যোগের সময় প্রতিটি মুহূর্ত মূল্যবান এবং সঠিক প্রস্তুতির অভাবেই অনেক সময় বড় ধরনের ক্ষতি ঠেকানো সম্ভব হয় না। তাই প্রশিক্ষিত জনবল তৈরির পাশাপাশি নিয়মিত মহড়া আয়োজনের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

দেশের ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকাগুলোতে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার মধ্যে সমন্বিত কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছেন সরকারপ্রধান। তিনি বলেন, দুর্যোগ মোকাবিলায় শুধু সরকারি উদ্যোগ যথেষ্ট নয়, সচেতনতা তৈরির মাধ্যমে সাধারণ মানুষকেও প্রস্তুত থাকতে হবে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে বসবাসরত নাগরিকদের সচেতন করার পাশাপাশি ভবনের নির্মাণশৈলী এবং নিরাপত্তার বিষয়ে কঠোর নজরদারি বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও সভায় উঠে আসে।

এছাড়া, বৈঠকে দুর্যোগ পরবর্তী উদ্ধার কাজ এবং ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। ভূমিকম্পের মতো বড় কোনো পরিস্থিতির উদ্ভব হলে যোগাযোগ ব্যবস্থা যেন স্বাভাবিক থাকে এবং জরুরি সেবাগুলো নিরবচ্ছিন্ন থাকে, তা নিশ্চিত করতে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানি সরবরাহকারী সংস্থাগুলোকে বিশেষ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দুর্যোগের ঝুঁকি প্রশমনে সরকার যে দীর্ঘমেয়াদী কাজ করে যাচ্ছে, সেই ধারায় এটি আরও একটি বলিষ্ঠ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকরা। সবশেষে, প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন যে, সঠিক পরিকল্পনা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে ভূমিকম্পের মতো দুর্যোগের ঝুঁকি কমিয়ে একটি নিরাপদ ভবিষ্যৎ গড়া সম্ভব হবে।

রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমিতে রঙিন মাছের মেলায় উপচে পড়া ভিড়

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ৪:১৫ অপরাহ্ণ
   
রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমিতে রঙিন মাছের মেলায় উপচে পড়া ভিড়

রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হয়ে গেল তিন দিনের এক ব্যতিক্রমী আয়োজন ‘অ্যাকুয়ারিয়াম ফিশ ফেয়ার ২০২৬’। ২৯ থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত আয়োজিত এই মেলায় চারপাশ সেজেছিল এক অপূর্ব রঙিন আবহে। কাঁচের ঘেরাটোপে বন্দি ছিল দেশি-বিদেশি নানা প্রজাতির মাছ, যা দেখতে ভিড় জমিয়েছিলেন শৌখিন মৎস্যপ্রেমী থেকে শুরু করে উৎসুক নগরবাসী। মেলায় ৪৫টিরও বেশি স্টল বসেছিল, যেখানে বাহারি সব রঙিন মাছের পাশাপাশি অ্যাকুয়ারিয়াম ও জলজ গাছপালা সাজানোর সরঞ্জামের এক বিশাল সংগ্রহ ছিল। মেলা প্রাঙ্গণে প্রবেশ করতেই মনে হচ্ছিল যেন পানির নিচের এক আশ্চর্য জগতের ভেতর ঢুকে পড়েছি। স্টলগুলোতে শোভা পাচ্ছিল বাহারি রঙের মাছের মেলা। কেউ খুঁজছিলেন দুর্লভ প্রজাতির মাছ, আবার কেউবা বাড়িতে ছোট পরিসরে অ্যাকুয়ারিয়াম তৈরির পরামর্শ নিচ্ছিলেন বিক্রেতাদের কাছ থেকে।

মেলায় প্রদর্শিত মাছের বৈচিত্র্য ছিল চোখে পড়ার মতো। পরিচিত গাপ্পি, বেলুন মলি, ব্ল্যাক মলি থেকে শুরু করে ব্লু পান্ডা, অ্যাভাটার ও গোল্ডফিশের মতো মাছের চাহিদা ছিল তুঙ্গে। তবে দর্শনার্থীদের সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছিল বিচিত্র সব প্রজাতির মাছ। বিশেষ করে ফ্লাওয়ার হর্ন মাছটি ছিল অন্যতম আকর্ষণ। মাথায় ঝুটির মতো বিশাল এক উঁচু অংশ নিয়ে মাছটির স্বভাব ছিল অত্যন্ত চঞ্চল। কাঁচের বাইরে কেউ আঙুল নাড়ালে মাছটিও তার পিছু ছুটছিল। মাছটির এমন অদ্ভুত আচরণের কারণে দামেও ছিল বেশ চড়া; আকার ও গুণমান ভেদে একেকটি ফ্লাওয়ার হর্ন ১২ হাজার টাকা পর্যন্ত দরে বিক্রি হচ্ছিল। মাছের এই বিশাল সমাহারে বাদ যায়নি সিনেমাখ্যাত চরিত্রের মাছেরাও। বিশ্বখ্যাত অ্যানিমেশন মুভি ‘ফাইন্ডিং নিমো’-এর সেই কমলা-সাদা ক্লাউনফিশ দেখতে স্টলগুলোতে মানুষের লাইন ছিল দীর্ঘ। স্টলভেদে এক জোড়া ক্লাউনফিশের দাম হাঁকা হচ্ছিল ১৪ থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত।

মেলায় বিচিত্র সব মাছের নামের তালিকায় যুক্ত ছিল ‘বাবল আই গোল্ডফিশ’। এদের চোখের দুপাশে বেলুনের মতো দুটি থলে থাকে, যা বেশ কৌতূহলোদ্দীপক। এই মাছগুলো দেড় থেকে দুই হাজার টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছিল। আবার বাজেট সাশ্রয়ী শৌখিনদের জন্য ছিল নানা চমক। যেমন ‘২৪ ক্যারেট গোল্ড’ নামের এক জোড়া মাছ বিক্রি হচ্ছিল মাত্র ৪০০ টাকায়। নাম শুনে মনে হতে পারে এটি কোনো গয়না, কিন্তু আসলে এটি ছিল চমৎকার সোনালি রঙের এক ধরণের মাছ। মাছের পাশাপাশি মেলায় ক্রেফিশ ও নানা প্রজাতির রঙিন চিংড়িও ছিল আকর্ষণের কেন্দ্রে।

দর্শনার্থীদের উচ্ছ্বাস ছিল দেখার মতো। বিশেষ করে শিশুদের নিয়ে অভিভাবকেরা মেলায় ভিড় করেছিলেন। প্রযুক্তির এই যুগে ডিজিটাল স্ক্রিন থেকে চোখ সরিয়ে বাস্তব কোনো রঙিন মাছের জগৎ দেখার অভিজ্ঞতা শিশুদের জন্য ছিল নতুন ও আনন্দদায়ক। অনেকেই প্রিয়জনকে ভিডিও কলে সরাসরি মেলা দেখাচ্ছিলেন। এই মেলার আয়োজন যে কেবল বাণিজ্য ছিল না, বরং শৌখিন মাছ পালন ও জলজ অরণ্য তৈরির শিল্পকে সাধারণ মানুষের কাছে আরও জনপ্রিয় করে তুলেছে, তা স্পষ্ট। অ্যাকুয়ারিয়াম এখন কেবল শখ নয়, বরং ঘর সাজানোর এবং মানসিক প্রশান্তি পাওয়ার এক মাধ্যম হয়ে উঠছে। তিন দিনের এই মেলা শেষ হলেও দর্শনার্থীদের মনে রঙিন মাছের সেই স্মৃতি দীর্ঘস্থায়ী হবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ধর্মীয় পোশাকের আড়ালে অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার প্রবণতা বাড়ছে: জহির উদ্দিন স্বপন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ৪:১৫ অপরাহ্ণ
   
ধর্মীয় পোশাকের আড়ালে অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার প্রবণতা বাড়ছে: জহির উদ্দিন স্বপন

বর্তমানে সমাজে এক শ্রেণির মানুষের মধ্যে ধর্মীয় লেবাস বা পোশাক ব্যবহার করে অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার প্রবণতা উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যকে পুঁজি করে রাজনৈতিক, সামাজিক এবং অর্থনৈতিক ফায়দা লোটার যে অসুস্থ প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে, তা দেশের সামগ্রিক নৈতিক কাঠামোর জন্য হুমকি স্বরূপ। প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও সংসদ সদস্য জহির উদ্দিন স্বপন এমন মন্তব্য করে এই প্রবণতার বিরুদ্ধে কঠোর সতর্কতা উচ্চারণ করেছেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, আজকাল অনেক ক্ষেত্রেই ধর্মের চর্চাকে প্রকৃত উপাসনা হিসেবে না দেখে একটি অভিনয় বা মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে, যা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।

সোমবার বরিশাল নগরীর একটি মিলনায়তনে আয়োজিত সম্প্রীতি বিষয়ক এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ধর্মীয় অনুভূতির সুযোগ নিয়ে অনেকে নিজের আখের গুছিয়ে নেওয়ার চেষ্টায় লিপ্ত। বিশেষ করে ওয়াজের ময়দানে ইসলাম ধর্মের প্রকৃত শিক্ষা প্রচারের পরিবর্তে অনেক ক্ষেত্রে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও বিকৃত কথাবার্তা ছড়ানো হচ্ছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড ধর্মের পবিত্রতাকে চরমভাবে ক্ষুণ্ণ করছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। ধর্মের মূল কথা হলো শান্তি, সততা ও মানবিকতা, অথচ বর্তমান সময়ে ধর্মের খোলস পরে যারা এসব কাজ করছে, তারা শুরু থেকেই মূল শিক্ষা ও আদর্শকে উপেক্ষা করে আসছে।

জহির উদ্দিন স্বপন উল্লেখ করেন যে, ধর্মীয় লেবাস কেবল পোশাকের ওপর নির্ভর করে না, এটি হৃদয়ের বিশ্বাসের বিষয়। যখন কোনো ব্যক্তি ধর্মীয় পোশাককে সামাজিক স্ট্যাটাস বা নিজের অন্ধকার জগৎ আড়াল করার ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেন, তখন তা পুরো ধর্মপ্রাণ জনগোষ্ঠীর জন্য অসম্মানের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে ধর্মকে পুঁজি করে স্বার্থসিদ্ধির এই অপচেষ্টা কেবল ব্যক্তিগত পর্যায়ে সীমাবদ্ধ নেই, বরং এটি একটি সামাজিক ব্যাধিতে রূপ নিচ্ছে। তিনি সমাজের সচেতন মহলকে এই ধরনের ভণ্ডামির বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত বক্তারাও বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করে বলেন, ধর্মের নামে উগ্রবাদ বা ব্যবসায়িক মনোভাব কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ধর্মচর্চার নামে যারা নাটকীয়তা করছে, তাদের শনাক্ত করে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনার দায়িত্ব রাষ্ট্রের পাশাপাশি পরিবারেরও রয়েছে। জহির উদ্দিন স্বপন তার বক্তব্যে আরও জোর দিয়ে বলেন, অশুভ শক্তির এই প্রতিযোগিতা রোধ করতে হলে ধর্মীয় শিক্ষার সঠিক প্রচার নিশ্চিত করতে হবে। ধর্মের অপব্যবহার বন্ধ করে সমাজে প্রকৃত ধর্মীয় মূল্যবোধ ও সহমর্মিতা ফিরিয়ে আনার বিকল্প নেই। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, সাধারণ মানুষ এখন অনেক বেশি সচেতন এবং তারা ধর্মের নামে যারা অসংলগ্ন বা অনৈতিক কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে, তাদের বয়কট করতে শুরু করেছে। ধর্মের পবিত্রতা বজায় রাখতে এবং যারা এটিকে পুঁজি করে ফায়দা লুটছে তাদের মুখোশ উন্মোচনে প্রশাসন ও সাধারণ মানুষকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

উৎসবমুখর পরিবেশে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ৪:১৫ অপরাহ্ণ
   
উৎসবমুখর পরিবেশে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

রাজধানীর অন্যতম উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে পালিত হচ্ছে। দুই দশক পার করে বিশ্ববিদ্যালয়টি তার সফল যাত্রার ২২ বছরে পদার্পণ করলো। এই বিশেষ দিনটিকে ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ। শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে ক্যাম্পাস পরিণত হয়েছে মিলনমেলায়।

সোমবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার চত্বরে বর্ণাঢ্য আয়োজনের সূচনা হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে পতাকোত্তোলন করা হয়। জাতীয় পতাকার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে দিবসটির আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। এরপরই বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সদস্যরা আনন্দ র‌্যালিতে অংশ নেন, যা ক্যাম্পাসের গণ্ডি পেরিয়ে পুরান ঢাকার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। র‌্যালিতে শিক্ষার্থীদের হাতে থাকা নানা প্ল্যাকার্ড ও ফেস্টুন ক্যাম্পাসটিকে এক আনন্দঘন রূপ দিয়েছে।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে চারুকলা প্রদর্শনীসহ বিভিন্ন বিভাগ ও অনুষদের উদ্যোগে আয়োজিত হয়েছে নানা কর্মসূচি। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা তাদের সৃজনশীল কাজের প্রদর্শনী তুলে ধরছেন। দিনের অন্যান্য কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এসব আয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘ পথচলার সাফল্য ও সংকট নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়েও কথা বলছেন সংশ্লিষ্টরা। দীর্ঘ সময় ধরে শিক্ষা ও গবেষণায় প্রতিষ্ঠানটি যে অবদান রেখে চলেছে, তা এই আয়োজনে বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে।

প্রতিষ্ঠার পর থেকেই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় নিজস্ব স্বকীয়তা বজায় রেখে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। সাধারণ একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর ও উত্তরণের এই দীর্ঘ যাত্রায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অর্জন আজ দেশজুড়ে প্রশংসিত। বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের পুনর্মিলন এই প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে আরও বেশি প্রাণবন্ত করে তুলেছে। ক্যাম্পাসের প্রতিটি কোণে এখন প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের স্মৃতিচারণ ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের উচ্ছ্বাস।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কেবল আনুষ্ঠানিকতার মধ্যেই নয়, বরং এই দিনটিকে জ্ঞানচর্চা ও সৃজনশীলতার প্রসারের দিন হিসেবে উদযাপন করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের মেধা ও মননের বিকাশে বিশ্ববিদ্যালয়টি যে প্রতিশ্রুতি নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল, সেই লক্ষ্য অর্জনে বরাবরের মতো এখনো অবিচল রয়েছে কর্তৃপক্ষ। দিনব্যাপী আয়োজিত এসব অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, প্রথিতযশা শিক্ষাবিদ ও বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখা প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা উপস্থিত রয়েছেন। তাদের উপস্থিতি নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করছে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রযাত্রাকে আরও বেগবান করার অনুপ্রেরণা জোগাচ্ছে।

সর্বশেষ
রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমিতে রঙিন মাছের মেলায় উপচে পড়া ভিড় ধর্মীয় পোশাকের আড়ালে অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার প্রবণতা বাড়ছে: জহির উদ্দিন স্বপন উৎসবমুখর পরিবেশে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড অবরোধ করে বিক্ষোভ খুলনায় তাঁতী দল নেতা হত্যায় ছাত্রদল নেতাসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেফতার ১ মিরপুরে শ্রমিক বিক্ষোভ: সংঘাতের জেরে ৫ মামলা ও গ্রেফতারের সংখ্যা বাড়ছে লাহোরে পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যা, আহত ৫ সন্তান ভূমিকম্প মোকাবিলায় সর্বোচ্চ সতর্কতার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের কর্মযজ্ঞ: এক অসামান্য সাহিত্যিক আড্ডার অন্দরে মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে শ্রমিক বিক্ষোভ: মহাসড়কে স্বাভাবিক যান চলাচল
Advertisement