খুঁজুন
, ,

বগুড়ার শিশু আবু বক্করের চিকিৎসার দায়িত্ব নিলেন প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:১৪ পূর্বাহ্ণ
বগুড়ার শিশু আবু বক্করের চিকিৎসার দায়িত্ব নিলেন প্রধানমন্ত্রী

বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার সিদেল গ্রামের এক হতদরিদ্র পরিবারের তিন বছর বয়সী শিশু আবু বক্করের চোখের চিকিৎসার সম্পূর্ণ দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। জন্ম থেকেই চোখের জটিল সমস্যায় আক্রান্ত এই শিশুটির পরিবার অর্থের অভাবে তার সুচিকিৎসা করাতে পারছিল না। প্রধানমন্ত্রীর এই মানবিক সিদ্ধান্তে শিশুটির পরিবার এবং এলাকাবাসীর মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, আবু বক্করের বাবা একজন সাধারণ দিনমজুর। অভাবের সংসারে সন্তানের চিকিৎসা ব্যয় মেটানো তার পক্ষে প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। শিশুটি জন্মের পর থেকেই চোখের গুরুতর সমস্যায় ভুগছে। এখন পর্যন্ত শিশুটির চোখে তিনবার অস্ত্রোপচার করা হয়েছে, কিন্তু পুরোপুরি সুস্থ হওয়ার জন্য আরও উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, যদি আগামীতে আরও দুটি বিশেষায়িত অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করা সম্ভব হয়, তবেই শিশুটির দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাওয়ার এবং সুস্থ জীবনে ফেরার সম্ভাবনা রয়েছে।

সন্তানের চিকিৎসার জন্য স্থানীয় পর্যায় থেকে শুরু করে বিভিন্ন জনের কাছে ধরনা দিলেও অর্থের জোগান করা পরিবারের পক্ষে সম্ভব হচ্ছিল না। এমন পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে আবু বক্করের চিকিৎসার বিষয়টি নজরে আনা হয়। বিষয়টি জানতে পেরে প্রধানমন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে শিশুটির চিকিৎসার যাবতীয় দায়িত্ব নেওয়ার নির্দেশ দেন। এই ঘোষণার পর থেকে চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে শিশুটির পরবর্তী চিকিৎসা প্রক্রিয়া শুরু করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

সিদেল গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, আবু বক্করের বাবা দিনমজুর হওয়ায় দিন এনে দিন খাওয়ার মতো অবস্থা তাদের। তাই শিশুটির চিকিৎসার বিপুল খরচ বহন করা তাদের পক্ষে কোনোভাবেই সম্ভব ছিল না। প্রধানমন্ত্রীর এই উদ্যোগ না থাকলে হয়তো শিশুটির অন্ধত্বের অভিশাপ নিয়ে বড় হতে হতো। রাষ্ট্রীয় পর্যায় থেকে এমন সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ পেয়েছে।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, শিশুটির চোখের অবস্থা জটিল হলেও সঠিক সময়ে উন্নত অস্ত্রোপচার করা গেলে বড় ধরনের কোনো ঝুঁকি থাকবে না। এর আগেও শিশুটির একাধিক অস্ত্রোপচার করা হয়েছে, যা তার চোখের জটিলতা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করেছে। তবে বর্তমান পর্যায়ে চোখের পূর্ণ সুস্থতার জন্য যে আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি প্রয়োজন, তা ব্যয়বহুল। প্রধানমন্ত্রীর সহায়তায় সেই বাধা দূর হওয়ায় এখন শিশুটির পরিবারের উদ্বেগ কমেছে।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, সরকারিভাবে শিশুটির চিকিৎসার জন্য সব ধরনের প্রশাসনিক সহায়তা প্রদান করা হবে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে, যাতে শিশু আবু বক্কর দ্রুত সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারে। এই মানবিক সহায়তার মাধ্যমে আবারও প্রমাণিত হলো যে, অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে রাষ্ট্র সবসময়ই সচেষ্ট। শিশুটির সুস্থতা কামনায় দোয়া চেয়েছেন তার পরিবার ও গ্রামবাসী।

টিভির পর্দায় আজকের খেলা: ২৪ অক্টোবর ২০২৬

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:১৪ পূর্বাহ্ণ
   
টিভির পর্দায় আজকের খেলা: ২৪ অক্টোবর ২০২৬

আজ ২৪ অক্টোবর ২০২৬, শুক্রবার। সাপ্তাহিক ছুটির এই দিনে ক্রীড়াপ্রেমী দর্শকদের জন্য টেলিভিশনের পর্দায় থাকছে দারুণ সব ফুটবল লড়াই। দেশের ঘরোয়া ফুটবলের উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচগুলো উপভোগ করার সুযোগ থাকছে আজ। খেলার মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখতে মুখিয়ে থাকা দর্শকদের জন্য টি স্পোর্টসের পর্দায় সরাসরি সম্প্রচার করা হবে বাংলাদেশ ফুটবল লিগের একাধিক ম্যাচ।

আজকের খেলার সূচি অনুযায়ী, বাংলাদেশ ফুটবল লিগের প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব এবং ঢাকা ওয়ান্ডারার্স। ঐতিহ্যবাহী এই দুই ক্লাবের লড়াইয়ের উত্তাপ মাঠে কতটা ছড়ায়, তা দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন সমর্থকরা। ম্যাচটি সরাসরি সম্প্রচার করা হবে আজ দুপুর ২টা ৪৫ মিনিটে। টি স্পোর্টস চ্যানেলের মাধ্যমে দর্শকরা ঘরে বসেই এই রোমাঞ্চকর লড়াই উপভোগ করতে পারবেন।

দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে বসুন্ধরা কিংস এবং চট্টগ্রাম আবাহনী লিমিটেড (চট্টগ্রাম এফসি)। বর্তমান ঘরোয়া ফুটবলের অন্যতম শক্তিশালী দল বসুন্ধরা কিংসের বিপক্ষে চট্টগ্রাম এফসির পারফরম্যান্স কেমন হয়, তা নিয়ে আগ্রহ রয়েছে ফুটবল ভক্তদের মধ্যে। এই ম্যাচটি শুরু হবে আজ বিকাল ৫টা ৩০ মিনিটে। খেলাটি সরাসরি দেখা যাবে টি স্পোর্টস চ্যানেলে।

প্রতিদিনের ব্যস্ততায় অনেকে সরাসরি মাঠে গিয়ে প্রিয় দলের খেলা দেখার সুযোগ পান না। তাদের জন্য টেলিভিশন ও অনলাইন স্ট্রিমিং সেবাগুলো বড় ভূমিকা পালন করে। আজকের এই ফুটবল ম্যাচগুলো মূলত দেশীয় লিগের মানোন্নয়ন ও জনপ্রিয়তা বৃদ্ধিতে সাহায্য করছে। ফুটবল প্রেমীদের জন্য আজ বিকালের পুরো সময়টা তাই বিনোদনে কাটানোর দারুণ সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে ছুটির দিনের এই ব্যস্ততাহীন সময়ে ফুটবল ম্যাচ উপভোগ করার বাড়তি আনন্দ থাকে দর্শকদের মধ্যে।

খেলার সূচি পরিবর্তন বা সম্প্রচার সংক্রান্ত যেকোনো তথ্যের জন্য দর্শক ও পাঠকদের নিয়মিত সংশ্লিষ্ট চ্যানেল বা প্ল্যাটফর্মের আপডেট চেক করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। আজকের এই ম্যাচগুলোর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ফুটবল লিগের পয়েন্ট তালিকায় বড় ধরনের কোনো রদবদল হয় কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়। টি স্পোর্টস ছাড়াও অনলাইন প্ল্যাটফর্মেও এসব খেলার আপডেট নিয়মিত পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। তাই ফুটবল ভক্তরা আজ দুপুর এবং বিকালের এই ম্যাচগুলো মিস করবেন না বলে আশা রাখছি।

জর্ডানে গির্জায় সশস্ত্র হামলা: নিহত ৭, আহত ৪০

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:১৪ পূর্বাহ্ণ
   
জর্ডানে গির্জায় সশস্ত্র হামলা: নিহত ৭, আহত ৪০

জর্ডানের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় কারাক প্রদেশে অবস্থিত হামুদ গির্জায় এক হৃদয়বিদারক সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। একটি শেষকৃত্যানুষ্ঠান চলাকালে অতর্কিতভাবে সশস্ত্র বন্দুকধারীরা সেখানে প্রবেশ করে এলোপাথাড়ি গুলিবর্ষণ শুরু করে। এই মর্মান্তিক আক্রমণে অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও ৪০ জন। জর্ডানের নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও শান্তিশৃঙ্খলার ক্ষেত্রে এমন ঘটনা অত্যন্ত বিরল ও উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

স্থানীয় সময় শুক্রবার ২৩ অক্টোবর এই হামলার ঘটনাটি ঘটে। আল-মুশাইরফেহ এলাকার গির্জাটিতে যখন শোকাহত মানুষ ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে ব্যস্ত ছিলেন, ঠিক তখনই হামলাকারীরা অতর্কিতে তাণ্ডব চালায়। প্রত্যক্ষদর্শী ও উদ্ধারকারী দলের ভাষ্যমতে, নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, কারণ আহতদের অনেকের অবস্থাই আশঙ্কাজনক। আহতদের দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালগুলোতে স্থানান্তর করা হয়েছে এবং জরুরি চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে।

জর্ডান কর্তৃপক্ষ এই ঘটনাকে সাধারণ অপরাধ হিসেবে না দেখে বরং সুপরিকল্পিত সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে অভিহিত করেছে। দেশটির সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীদের উপাসনালয় লক্ষ্য করে চালানো এই হামলা কোনো সাধারণ বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। ধারণা করা হচ্ছে, উগ্রপন্থী কোনো জঙ্গিগোষ্ঠী এই ঘটনার পেছনে জড়িত থাকতে পারে। ঘটনার পরপরই পুরো এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সন্ত্রাসীদের ধরতে চিরুনি অভিযান শুরু করেছেন।

জর্ডানে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যমান। এমতাবস্থায় গির্জার মতো পবিত্র স্থানে এমন সহিংস আক্রমণ সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। দেশটির নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই হামলার মাধ্যমে সমাজে বিভাজন তৈরির একটি অপচেষ্টা চালানো হয়েছে। তবে জর্ডানের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং দায়ীদের বিচারের আওতায় আনতে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। ঘটনার পর গির্জা ও এর আশেপাশের এলাকায় নিরাপত্তা টহল বাড়ানো হয়েছে এবং সন্দেহভাজনদের নজরদারিতে রাখা হয়েছে।

এখন পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠী এই হামলার দায় স্বীকার না করলেও, সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে তদন্তের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। খুব শীঘ্রই হামলাকারীদের পরিচয় ও তাদের নেটওয়ার্ক সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে। এই ভয়াবহ ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোতেও জর্ডানের এই হামলার খবর গুরুত্ব সহকারে প্রচার করা হচ্ছে। শোকাহত পরিবারের সদস্যদের পাশে দাঁড়াতে স্থানীয় প্রশাসন ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন কাজ শুরু করেছে।

জর্ডানের ইতিহাসে গির্জায় এ ধরনের হামলার ঘটনা সাধারণত খুব কমই দেখা যায়। তাই দেশটির সাধারণ নাগরিকরা এই ঘটনায় ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও অনেকে এই হামলার নিন্দা জানিয়ে দোষীদের দ্রুত বিচারের দাবি জানিয়েছেন। প্রশাসন থেকে সাধারণ মানুষকে গুজব না ছড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে এবং কোনো তথ্য জানার থাকলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতার অনুরোধ করা হয়েছে। পুরো বিষয়টি এখন নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

অবিশ্বাস্য প্রাণশক্তি: পায়ে ক্ষত নিয়ে নিজেই অস্ত্রোপচার, ড্রোন ব্যবহার করে মৃত্যুপুরী থেকে ফেরা ইউক্রেনীয় সেনা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:১৪ পূর্বাহ্ণ
   
অবিশ্বাস্য প্রাণশক্তি: পায়ে ক্ষত নিয়ে নিজেই অস্ত্রোপচার, ড্রোন ব্যবহার করে মৃত্যুপুরী থেকে ফেরা ইউক্রেনীয় সেনা

ইউক্রেন-রাশিয়া চলমান যুদ্ধের দীর্ঘ ইতিহাসে বহু বীরত্বগাথা ও করুণ পরিণতির গল্প ছড়িয়ে আছে। তবে সম্প্রতি যে ঘটনার কথা সামনে এসেছে, তা যেন হার মানায় সিনেমার চিত্রনাট্যকেও। এক ইউক্রেনীয় সেনা তার অসীম সাহস ও টিকে থাকার ইচ্ছাশক্তির মাধ্যমে মৃত্যুপুরী থেকে কেবল ফিরে আসাই নয়, বরং চিকিৎসার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। প্রবল প্রতিকূলতার মাঝে নিজের আঘাতপ্রাপ্ত পা নিজেই অস্ত্রোপচার করে শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করার মতো দুঃসাহসী সিদ্ধান্ত নেন এই যোদ্ধা। এরপর প্রযুক্তির আধুনিক ব্যবহারে একটি ড্রোনকে বাহন বানিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে পৌঁছান তিনি।

যুদ্ধক্ষেত্রে আহত হওয়ার পর দীর্ঘ আট মাস চরম বিপর্যয়ের মধ্যে কাটিয়েছেন এই সেনা। জানা গেছে, তিনি একটি বয়লারের ভেতরে অত্যন্ত গোপনে অবস্থান করছিলেন। বাইরের জগত থেকে বিচ্ছিন্ন এই আট মাস তার জন্য ছিল এক দীর্ঘ লড়াই। সেই গর্তের অন্ধকারে বসেই নিজের ক্ষতবিক্ষত পা নিজেই অস্ত্রোপচার করেন তিনি। সাধারণ কোনো সরঞ্জাম দিয়ে এই কাজ করা যে কতটা যন্ত্রণাদায়ক ও ঝুঁকিপূর্ণ, তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। কিন্তু বাঁচার তীব্র আকাঙ্ক্ষা তাকে সেই কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছিল। চিকিৎসাবিজ্ঞানের প্রাথমিক ধারণাটুকু কাজে লাগিয়ে নিজের অঙ্গহানি করতেও তিনি পিছপা হননি।

নিজের পা অস্ত্রোপচার করে বিচ্ছিন্ন করার পর তার প্রয়োজন ছিল দ্রুত নিরাপদ স্থানে পৌঁছানো, কারণ ওই অবস্থায় দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়া তার পক্ষে অসম্ভব ছিল। সেই সংকটময় মুহূর্তে আধুনিক ড্রোন প্রযুক্তি তার জন্য এক নতুন আশার আলো হয়ে দাঁড়ায়। ছয় পাখার একটি বিশাল ড্রোনের সাথে নিজেকে যুক্ত করে আকাশপথকে বেছে নেন তিনি। প্রায় ১৫ কিলোমিটারের আকাশপথ পাড়ি দিয়ে তিনি অবশেষে পৌঁছান নিরাপদ আশ্রয়ে। ড্রোনটির নিখুঁত পরিচালনার মাধ্যমে তাকে উদ্ধার করে আনা হয় ধ্বংসস্তূপ আর মৃত্যুর হাতছানি থেকে।

ইউক্রেনীয় এই সেনার এই অসাধ্য সাধনের ঘটনাটি আধুনিক সামরিক ইতিহাসের একটি আলোচিত বিষয়ে পরিণত হয়েছে। প্রযুক্তি এবং মানুষের অদম্য ইচ্ছাশক্তি কীভাবে চরম বিপদের দিনে রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করতে পারে, তা এই ঘটনা থেকে স্পষ্ট। তার এই কাহিনি যেমন একদিকে যুদ্ধের ভয়াবহতাকে তুলে ধরছে, তেমনি অন্যদিকে মানুষের বেঁচে থাকার অদম্য জেদকেও সামনে নিয়ে এসেছে। সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ড্রোন শুধু নজরদারি বা আক্রমণের জন্য নয়, বরং এই ধরনের জীবন রক্ষাকারী অপারেশনেও যে দারুণ কার্যকর হতে পারে, তা আবারও প্রমাণিত হলো।

দীর্ঘ আট মাস বয়লারের গর্তে লুকিয়ে থাকার দিনগুলোতে তিনি কী পরিমাণ মানসিক ও শারীরিক যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে গেছেন, তা কল্পনা করাও দুষ্কর। খাবার ও পানির অভাব, নিয়মিত চিকিৎসা না পাওয়া এবং সব সময় শত্রুসৈন্যের আক্রমণের আতঙ্ক—এই সবকিছুর ঊর্ধ্বে উঠে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখা ছিল এক মহাকাব্যিক লড়াই। এই সেনা বর্তমানে নিরাপদে আছেন এবং তাকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে। তার এই ফেরার পথ ছিল কন্টকাকীর্ণ, কিন্তু প্রযুক্তি আর সাহসের মেলবন্ধনে তিনি আজ এক জীবন্ত কিংবদন্তি। তার এই ঘটনা সারা বিশ্বে যুদ্ধের ভয়াবহতা এবং প্রতিকূলতায় টিকে থাকার নজির হিসেবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।

সর্বশেষ
বগুড়ার শিশু আবু বক্করের চিকিৎসার দায়িত্ব নিলেন প্রধানমন্ত্রী টিভির পর্দায় আজকের খেলা: ২৪ অক্টোবর ২০২৬ জর্ডানে গির্জায় সশস্ত্র হামলা: নিহত ৭, আহত ৪০ অবিশ্বাস্য প্রাণশক্তি: পায়ে ক্ষত নিয়ে নিজেই অস্ত্রোপচার, ড্রোন ব্যবহার করে মৃত্যুপুরী থেকে ফেরা ইউক্রেনীয় সেনা ফ্রান্সে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে হামলা ও লুটপাট ভালো বন্ধু নির্বাচনে সচেতনতা এবং ইসলামি দৃষ্টিভঙ্গি অনলাইন বিনিয়োগের নামে ১১ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে চীনা নাগরিকসহ চারজন রিমান্ডে রিকশাচালক হত্যা মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের পর কারাগারে দীপু মনি চট্টগ্রামে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল বাবা-মেয়ের, দাউদাউ করে জ্বলে উঠল বাস ৩১ দিনে অপ্রতীম হত্যা মামলার চার্জশিট দাখিল, অভিযুক্ত চারজনের দুইজন কিশোর
Advertisement